অক্সিজেন লাইনে লিকেজ বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা
jugantor
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
অক্সিজেন লাইনে লিকেজ বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

  রাশেদ রাব্বি  

০৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অক্সিজেন লাইনে লিকেজ বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) নতুন ভবনের অক্সিজেন লাইনে লিকেজ ধরা পড়েছে। বেশির ভাগ অক্সিজেন পোর্ট থেকেই লিকেজের মাধ্যমে অক্সিজেন নির্গত হচ্ছে। পোর্ট থেকে অক্সিজেন নির্গত বন্ধ করতে অনেক পোর্টে কাগজ বা টিস্যু দিয়ে বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন লিফটম্যানকে অক্সিজেন লাইনের লিকেজ সারানোর দায়িত্ব দিয়েছে।

এর আগে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে অক্সিজেন লিকেজ থেকে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা মনে করছেন, অক্সিজেনের লিকেজ বন্ধে দ্রুত কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত তিন মাসে কয়েকবার আগুন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রতিবারই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে অক্সিজেন লাইনের লিকেজ থেকে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অবগত। তার পরও লিকেজ বন্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত ১৭ মার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন লেগে তিনজন রোগীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়। পরে মৃত্যু হয় আরও দুজনের। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরদিন পর্যন্ত আইসিইউর অক্সিজেন লাইন সচল ছিল। তবে ১৮ মার্চ সন্ধ্যার পরে সেটি বন্ধ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন লাইন বন্ধ করা জরুরি ছিল।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের বেশির ভাগ অক্সিজেন পোর্টই নষ্ট এবং এগুলো দিয়ে ক্রমাগত অক্সিজেন বের হচ্ছে। ওয়ার্ডগুলোর পাশাপাশি ক্যাথ ল্যাবেরও একই অবস্থা। কোনো কোনো পোর্টের মুখে সাময়িকভাবে কাপড় অথবা টিস্যু কাগজ গুঁজে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে লিকেজ সারানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নতুন ভবন পুরোটাই একটা বিস্ফোরণোন্মুখ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে অচিরেই আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ করেন সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। মূলত তিনি হাসপাতালের লিফটম্যান হিসাবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে অতীতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে বেতন কেটে দেওয়া হয়। এসবের পরেও তাকেই দেওয়া হয়েছে অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, অদৃশ্য কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ দিচ্ছে। যদিও তাকে বেশির ভাগ সময় পাওয়া যায় না।

তারা আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত তিন মাসে কোনো অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়নি। গত সপ্তাহে দুর্ঘটনার পরে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একটি ফায়ার সার্ভিসের, একটি মন্ত্রণালয়ের এবং অপরটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন হাসপাতালের আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) প্রধান অধ্যাপক ডা. মোজাফফর হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ এর গোটা ভবনটি একটা বোমায় পরিণত হয়ে আছে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে যেখানেই অক্সিজেন লাইন আছে, সেখানেই লিকেজ আছে। এগুলো থেকে অনবরত অক্সিজেন নির্গত হচ্ছে। এগুলো সারাতে হলে সাময়িকভাবে অক্সিজেন সংযোগ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে করোনা রোগীর চাপের কারণে লাইন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিকেজ বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তবে সম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। সেটি হলো-একটা হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মেশিনে প্রথম আগুন ধরে। যা রোগীর স্বজন নিভাতে গেলে আগুন অক্সিজেন লাইনে ধরে আরও বিস্তার লাভ করে।

জানা গেছে, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মূলত এক ধরনের অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। যা দিয়ে করোনা রোগীর অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দিলে প্রেশার দিয়ে উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন দেওয়া হয়। এই মেশিনের একটা অংশ হলো সার্কিট। যেটা আসলে একটা প্ল্যাস্টিকের পাইপ, যার মাধ্যমে রোগীকে মেশিন থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। আর একটা হলো হিউমিডিফায়ার। যেটা একটা স্টিলের প্লেটের উপরে বসানো থাকে। হিউমিডিফায়ারে ডিস্টিল ওয়াটার থাকে। স্টিলের প্লেট গরম হয়ে একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি) পৌঁছানোর পর জলীয়বাষ্প অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে যায়। এটা রোগীর নাসাতন্ত্রকে মোলায়েম রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা মেশিন (হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা) একটানা ১৬ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতি ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ পর সার্কিট বদল করতে হবে, না হলে পাইপ ফেটে যায়। হিউমিডিফায়ারের পানির লেভেল ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু এখানে এসব সতর্কতা একটাও অবলম্বন করা হয় না।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, মেশিনটা কয়েক দিন বিরামহীনভাবে চলছিল এবং হিউমিডিফায়ারে পানির পরিমাণ কম ছিল। ফলে সেটি মাত্রাতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যায়। এটা অবশ্যই প্রশাসনের গাফিলতি। কারণ মেশিন স্বল্পতা এবং যন্ত্রাংশের প্রয়োজন নিয়ে সেবিকারা প্রতিদিনই চাহিদার কথা বলেছেন। যারা রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন তারাও বলেছেন। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউর কনসালটেন্ট সহকারী অধ্যাপক ডা. সুব্রত যুগান্তরকে বলেন, প্রতি শয্যায় একটি করে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে। তবে কোনো কোনো রোগী এতটাই মুমূর্ষু থাকেন যে, তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ব্যবহার করতে হয়। সে ক্ষেত্রে রোগী বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক যুগান্তরকে বলেন, গত ১৭ মার্চ আগুন লেগেছিল একটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থেকে। একজন রোগীর স্বজন সেটাকে বন্ধ করতে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে যায়।
অক্সিজেন লাইনের লিকেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অক্সিজেন লাইনে লিকেজ রয়েছে। এটি প্রতিনিয়ত ঠিক করা হয়, আবার লিকেজ হয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

লিফটম্যান সালাউদ্দিনকে অক্সিজেন লাইনের লিকেজ সারানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে লিফটম্যান হিসাবে চাকরি করলেও দীর্ঘদিন ধরেই অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ করে আসছে। এ কারণে সে সবসময় এই কাজ করে থাকে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

অক্সিজেন লাইনে লিকেজ বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

 রাশেদ রাব্বি 
০৫ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অক্সিজেন লাইনে লিকেজ বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা
ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) নতুন ভবনের অক্সিজেন লাইনে লিকেজ ধরা পড়েছে। বেশির ভাগ অক্সিজেন পোর্ট থেকেই লিকেজের মাধ্যমে অক্সিজেন নির্গত হচ্ছে। পোর্ট থেকে অক্সিজেন নির্গত বন্ধ করতে অনেক পোর্টে কাগজ বা টিস্যু দিয়ে বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন লিফটম্যানকে অক্সিজেন লাইনের লিকেজ সারানোর দায়িত্ব দিয়েছে। 

এর আগে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে অক্সিজেন লিকেজ থেকে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা মনে করছেন, অক্সিজেনের লিকেজ বন্ধে দ্রুত কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত তিন মাসে কয়েকবার আগুন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রতিবারই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে অক্সিজেন লাইনের লিকেজ থেকে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অবগত। তার পরও লিকেজ বন্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

গত ১৭ মার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন লেগে তিনজন রোগীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়। পরে মৃত্যু হয় আরও দুজনের। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরদিন পর্যন্ত আইসিইউর অক্সিজেন লাইন সচল ছিল। তবে ১৮ মার্চ সন্ধ্যার পরে সেটি বন্ধ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন লাইন বন্ধ করা জরুরি ছিল। 

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের বেশির ভাগ অক্সিজেন পোর্টই নষ্ট এবং এগুলো দিয়ে ক্রমাগত অক্সিজেন বের হচ্ছে। ওয়ার্ডগুলোর পাশাপাশি ক্যাথ ল্যাবেরও একই অবস্থা। কোনো কোনো পোর্টের মুখে সাময়িকভাবে কাপড় অথবা টিস্যু কাগজ গুঁজে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে লিকেজ সারানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নতুন ভবন পুরোটাই একটা বিস্ফোরণোন্মুখ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে অচিরেই আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ করেন সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। মূলত তিনি হাসপাতালের লিফটম্যান হিসাবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে অতীতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে বেতন কেটে দেওয়া হয়। এসবের পরেও তাকেই দেওয়া হয়েছে অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ। 

তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, অদৃশ্য কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ দিচ্ছে। যদিও তাকে বেশির ভাগ সময় পাওয়া যায় না। 

তারা আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত তিন মাসে কোনো অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়নি। গত সপ্তাহে দুর্ঘটনার পরে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একটি ফায়ার সার্ভিসের, একটি মন্ত্রণালয়ের এবং অপরটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন হাসপাতালের আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) প্রধান অধ্যাপক ডা. মোজাফফর হোসেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ এর গোটা ভবনটি একটা বোমায় পরিণত হয়ে আছে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে যেখানেই অক্সিজেন লাইন আছে, সেখানেই লিকেজ আছে। এগুলো থেকে অনবরত অক্সিজেন নির্গত হচ্ছে। এগুলো সারাতে হলে সাময়িকভাবে অক্সিজেন সংযোগ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে করোনা রোগীর চাপের কারণে লাইন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিকেজ বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। 

তবে সম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। সেটি হলো-একটা হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মেশিনে প্রথম আগুন ধরে। যা রোগীর স্বজন নিভাতে গেলে আগুন অক্সিজেন লাইনে ধরে আরও বিস্তার লাভ করে। 

জানা গেছে, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মূলত এক ধরনের অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। যা দিয়ে করোনা রোগীর অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দিলে প্রেশার দিয়ে উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন দেওয়া হয়। এই মেশিনের একটা অংশ হলো সার্কিট। যেটা আসলে একটা প্ল্যাস্টিকের পাইপ, যার মাধ্যমে রোগীকে মেশিন থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। আর একটা হলো হিউমিডিফায়ার। যেটা একটা স্টিলের প্লেটের উপরে বসানো থাকে। হিউমিডিফায়ারে ডিস্টিল ওয়াটার থাকে। স্টিলের প্লেট গরম হয়ে একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি) পৌঁছানোর পর জলীয়বাষ্প অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে যায়। এটা রোগীর নাসাতন্ত্রকে মোলায়েম রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা মেশিন (হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা) একটানা ১৬ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতি ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ পর সার্কিট বদল করতে হবে, না হলে পাইপ ফেটে যায়। হিউমিডিফায়ারের পানির লেভেল ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু এখানে এসব সতর্কতা একটাও অবলম্বন করা হয় না। 

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, মেশিনটা কয়েক দিন বিরামহীনভাবে চলছিল এবং হিউমিডিফায়ারে পানির পরিমাণ কম ছিল। ফলে সেটি মাত্রাতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যায়। এটা অবশ্যই প্রশাসনের গাফিলতি। কারণ মেশিন স্বল্পতা এবং যন্ত্রাংশের প্রয়োজন নিয়ে সেবিকারা প্রতিদিনই চাহিদার কথা বলেছেন। যারা রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন তারাও বলেছেন। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়নি। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউর কনসালটেন্ট সহকারী অধ্যাপক ডা. সুব্রত যুগান্তরকে বলেন, প্রতি শয্যায় একটি করে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে। তবে কোনো কোনো রোগী এতটাই মুমূর্ষু থাকেন যে, তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ব্যবহার করতে হয়। সে ক্ষেত্রে রোগী বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই। 

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক যুগান্তরকে বলেন, গত ১৭ মার্চ আগুন লেগেছিল একটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থেকে। একজন রোগীর স্বজন সেটাকে বন্ধ করতে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে যায়। 
অক্সিজেন লাইনের লিকেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অক্সিজেন লাইনে লিকেজ রয়েছে। এটি প্রতিনিয়ত ঠিক করা হয়, আবার লিকেজ হয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

লিফটম্যান সালাউদ্দিনকে অক্সিজেন লাইনের লিকেজ সারানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে লিফটম্যান হিসাবে চাকরি করলেও দীর্ঘদিন ধরেই অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ করে আসছে। এ কারণে সে সবসময় এই কাজ করে থাকে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন