মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন
jugantor
ডি-৮ নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন

  বাসস  

০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ডি-৮ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের জন্য আপনাদের (ডি-৮ নেতাদের) প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। যদি সংকটের অবসান না-হয়, এটি এ অঞ্চল এবং এর বাইরেও নিরাপত্তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’ বৃহস্পতিবার ১০ম ডি-৮ সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়েছে তবে শুরু থেকে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, তাদের (রোহিঙ্গাদের) নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং টেকসই ব্যবস্থায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের তিন বছরের বেশি পরও এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারেনি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বৈশ্বিক রূপান্তরের জন্য অংশীদারিত্ব : যুব সম্প্রদায় ও প্রযুক্তি শক্তির মুক্তি’। সম্মেলনে ডি-৮-এর সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, ডি-৮ মহাসচিবরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

সম্মেলনে শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি প্রশমন ও অভিযোজনে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার জন্য নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ডি-৮-এর মধ্যে কার্যকর ও টেকসই উন্নয়ন এখন অপরিহার্য যাতে আমরা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত বছর বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জিডিপির ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান অবস্থার যদি পরিবর্তন না-হয়; আসছে দশকগুলোয় এই ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে রূপান্তরকারী প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। এর ফলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এ পরিণত হয়েছে। ছয় লাখেরও বেশি তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, ২৮টি উচ্চ হাই-টেক পার্ক ও প্রযুক্তিবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ যুব ও প্রযুক্তির শক্তি ব্যবহার করে সর্বোত্তমভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের তথ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বাণিজ্য শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাত দ্বারা চালিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদস্য ব্যবসায়ীদের ভ্রমণের সুবিধা প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়বস্তু বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ, দেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ। ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত এই যুবকরা কোভিড-১৯ মহামারির সময় আমাদের অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রেখেছে।’ চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে তিনি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কার্যকর অংশীদারত্ব এবং বৃহত্তর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম ওয়েভে বিস্তার হ্রাস করতে তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংক্ষেপে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সরকার ৯৫ লাখেও বেশি মানুষকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা প্রদান করছে এবং দেশের প্রতিটি গৃহহীন পরিবারকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি বাড়ি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ডি-৮-এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ : সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী দুবছরের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও সংস্থার বর্তমান চেয়ার রিসেপ তায়েপ এরদোগানের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় শেখ হাসিনা আরও বলেন, ডি-৮-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে এই সংগঠনের জন্য তার সব সময়ই একটি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ডি-৮ প্রতিষ্ঠার সময় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইস্তাম্বুলে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় সভাপতিত্ব করেছিলেন তিনি।

৮টি উন্নয়নশীল মুসলিম-প্রধান দেশ বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত হয় ডি-৮।

কর্মকর্তাদের কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী-জীবন বাঁচাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আভাস দিয়ে বলেছেন, ‘এটি বৈশ্বিক মহামারি হিসাবে দেখা দিয়েছে এবং তার সরকারও সেই ধাক্কাটা দেখতে পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ বাঁচানোর জন্য আমরা প্রাথমিক কিছু ব্যবস্থা নিলেও ভবিষ্যতে হয়তো আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমরা সেটা নেব।’

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বিসিএস কর্মকর্তাগণের ছয় মাসব্যাপী ৭১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। গণভবন থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) সাভারে মূল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। অন্যরাও যেন সুরক্ষিত থাকে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। কর্মস্থলে যেন সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিকে দৃষ্টি দেবেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশবাসী সবাইকে বলব প্রত্যেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি যাতে মেনে চলে সে ব্যবস্থা নেবেন। মানুষের জীবন-জীবিকা চলতে হবে। মানুষকে আমরা কষ্ট দিতে পারি না। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একান্তভাবে অপরিহার্য। সবাই আস্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি বলেন, মাস্ক পরাটা একান্তভাবে দরকার, অফিস-আদালত বা কাজ থেকে ঘরে ফিরে সবাই গরম পানির ভাপ নেবেন। কারণ, এই ভাইরাস সাইনাসে গিয়ে বাসা বাঁধে। সেটা যেন না পারে সেজন্য একটু গরম পানির ভাপ নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ৭১তম বুনিয়াদি কোর্সে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। প্রতিষ্ঠানে রেক্টর রকিব হোসেন ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং শপথবাক্য পাঠ করান। এবারের কোর্সে ৩০৭ জন কর্মকর্তা সবাই কৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে ২২৮ জন পুরুষ এবং ৭৯ জন নারী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলব’ কাজেই যারা সিভিল সার্ভিসে কাজ করেন তাদের মনে রাখতে হবে-‘দেশের মানুষের জন্যই আপনাদের কাজ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান মুক্তির সংগ্রামে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। কাজেই ধনী-গরিব, ধর্মবর্ণ দলমত নির্বিশেষে মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখে তাদের সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সেই মানসিকতা নিয়েই আপনারা জনগণের সেবা করবেন, সেটাই আমি চাই। কেউ ইচ্ছে করে দরিদ্র হয় না, কেউ দরিদ্র বা প্রতিবন্ধী হলেই আমরা তাদের অপবাদ দিতে পারি না, তাদের সাহায্য করা দরকার, যাতে তারা সমাজে দাঁড়াতে পারে এবং মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সেভাবেই আমরা কাজ করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে জাতির পিতার বক্তব্য উদ্ধৃত করেন-জাতির পিতা বলেন, ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় এ গরিব কৃষক! আপনার মাইনে দেয় ওই গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ওই টাকায়। আমি গাড়ি চড়ি ওই টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন, ইজ্জত করে কথা বলুন। ওরাই মালিক।’

তিনি বলেন, লোক-প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিভিন্ন জ্ঞান এবং জনদরদি মনোভাব উন্নয়নে ছয় মাস মেয়াদি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে আপনাদের সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করব, কর্মজীবনের বৃহত্তর পরিসরে ফিরে গিয়ে আপনারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান এবং দক্ষতার যথার্থ প্রয়োগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০০৯ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের উন্নয়ন কাজগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ২০২১-২০৪১ মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ সুবিধা আজ প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা মোতাবেক তার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। তবে, দুর্ভাগ্য করোনাভাইরাস আজ সারাবিশ্বকেই তছনছ করে দিয়েছে।

করোনার কারণে কিছুটা থমকে গেলেও তার সরকার ’৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে এবং সে সময়ে তিনি জীবিত না থাকলেও বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে সেভাবেই সরকার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমার এখন যে বয়স তাতে অবশ্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার বা বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে, আজকে যারা নবীন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে যোগদান করবেন আপনাদের ওপরই এই দায়িত্ব পড়বে।’

তিনি বলেন,‘আত্মবিশ্বাস নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সবসময় একটা কথা মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি, আমরা বাঙালি এবং যুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি এবং বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গেই আমরা চলব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় এক হাজার ১০৭.০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিপিএটিসিতে ‘ভৌত অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিপিএটিসির সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজ সমাপ্ত হলে, সিভিল সার্ভিসের দুই হাজার সদস্যকে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে এখানে। তিনি বলেন, ১০ মাসের মধ্যে দেশকে একটি বিশ্বসেরা সংবিধান প্রদান, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্য ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন ও ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস রি-অর্গানাইজেশন কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কারসহ আরও অনেক সাফল্য জাতির পিতা অর্জন করেন এবং ১৯৭৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ অতিক্রম করে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

দেশের মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যাপক কর্মসূচি তার সরকার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না, বিনা চিকিৎসায় মরবে না, প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হবে। এজন্য স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নটাকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

ডি-৮ নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন

 বাসস 
০৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ডি-৮ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের জন্য আপনাদের (ডি-৮ নেতাদের) প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। যদি সংকটের অবসান না-হয়, এটি এ অঞ্চল এবং এর বাইরেও নিরাপত্তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’ বৃহস্পতিবার ১০ম ডি-৮ সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়েছে তবে শুরু থেকে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, তাদের (রোহিঙ্গাদের) নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং টেকসই ব্যবস্থায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের তিন বছরের বেশি পরও এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারেনি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বৈশ্বিক রূপান্তরের জন্য অংশীদারিত্ব : যুব সম্প্রদায় ও প্রযুক্তি শক্তির মুক্তি’। সম্মেলনে ডি-৮-এর সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, ডি-৮ মহাসচিবরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

সম্মেলনে শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি প্রশমন ও অভিযোজনে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার জন্য নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ডি-৮-এর মধ্যে কার্যকর ও টেকসই উন্নয়ন এখন অপরিহার্য যাতে আমরা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত বছর বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জিডিপির ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান অবস্থার যদি পরিবর্তন না-হয়; আসছে দশকগুলোয় এই ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে রূপান্তরকারী প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। এর ফলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এ পরিণত হয়েছে। ছয় লাখেরও বেশি তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, ২৮টি উচ্চ হাই-টেক পার্ক ও প্রযুক্তিবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ যুব ও প্রযুক্তির শক্তি ব্যবহার করে সর্বোত্তমভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের তথ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বাণিজ্য শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাত দ্বারা চালিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদস্য ব্যবসায়ীদের ভ্রমণের সুবিধা প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়বস্তু বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ, দেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ। ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত এই যুবকরা কোভিড-১৯ মহামারির সময় আমাদের অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রেখেছে।’ চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে তিনি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কার্যকর অংশীদারত্ব এবং বৃহত্তর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম ওয়েভে বিস্তার হ্রাস করতে তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংক্ষেপে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সরকার ৯৫ লাখেও বেশি মানুষকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা প্রদান করছে এবং দেশের প্রতিটি গৃহহীন পরিবারকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি বাড়ি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ডি-৮-এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ : সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী দুবছরের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও সংস্থার বর্তমান চেয়ার রিসেপ তায়েপ এরদোগানের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় শেখ হাসিনা আরও বলেন, ডি-৮-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে এই সংগঠনের জন্য তার সব সময়ই একটি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ডি-৮ প্রতিষ্ঠার সময় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইস্তাম্বুলে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় সভাপতিত্ব করেছিলেন তিনি।

৮টি উন্নয়নশীল মুসলিম-প্রধান দেশ বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত হয় ডি-৮।

কর্মকর্তাদের কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী-জীবন বাঁচাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আভাস দিয়ে বলেছেন, ‘এটি বৈশ্বিক মহামারি হিসাবে দেখা দিয়েছে এবং তার সরকারও সেই ধাক্কাটা দেখতে পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ বাঁচানোর জন্য আমরা প্রাথমিক কিছু ব্যবস্থা নিলেও ভবিষ্যতে হয়তো আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমরা সেটা নেব।’

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বিসিএস কর্মকর্তাগণের ছয় মাসব্যাপী ৭১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। গণভবন থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) সাভারে মূল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। অন্যরাও যেন সুরক্ষিত থাকে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। কর্মস্থলে যেন সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিকে দৃষ্টি দেবেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশবাসী সবাইকে বলব প্রত্যেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি যাতে মেনে চলে সে ব্যবস্থা নেবেন। মানুষের জীবন-জীবিকা চলতে হবে। মানুষকে আমরা কষ্ট দিতে পারি না। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একান্তভাবে অপরিহার্য। সবাই আস্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি বলেন, মাস্ক পরাটা একান্তভাবে দরকার, অফিস-আদালত বা কাজ থেকে ঘরে ফিরে সবাই গরম পানির ভাপ নেবেন। কারণ, এই ভাইরাস সাইনাসে গিয়ে বাসা বাঁধে। সেটা যেন না পারে সেজন্য একটু গরম পানির ভাপ নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ৭১তম বুনিয়াদি কোর্সে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। প্রতিষ্ঠানে রেক্টর রকিব হোসেন ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং শপথবাক্য পাঠ করান। এবারের কোর্সে ৩০৭ জন কর্মকর্তা সবাই কৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে ২২৮ জন পুরুষ এবং ৭৯ জন নারী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলব’ কাজেই যারা সিভিল সার্ভিসে কাজ করেন তাদের মনে রাখতে হবে-‘দেশের মানুষের জন্যই আপনাদের কাজ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান মুক্তির সংগ্রামে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। কাজেই ধনী-গরিব, ধর্মবর্ণ দলমত নির্বিশেষে মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখে তাদের সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সেই মানসিকতা নিয়েই আপনারা জনগণের সেবা করবেন, সেটাই আমি চাই। কেউ ইচ্ছে করে দরিদ্র হয় না, কেউ দরিদ্র বা প্রতিবন্ধী হলেই আমরা তাদের অপবাদ দিতে পারি না, তাদের সাহায্য করা দরকার, যাতে তারা সমাজে দাঁড়াতে পারে এবং মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সেভাবেই আমরা কাজ করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে জাতির পিতার বক্তব্য উদ্ধৃত করেন-জাতির পিতা বলেন, ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় এ গরিব কৃষক! আপনার মাইনে দেয় ওই গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ওই টাকায়। আমি গাড়ি চড়ি ওই টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন, ইজ্জত করে কথা বলুন। ওরাই মালিক।’

তিনি বলেন, লোক-প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিভিন্ন জ্ঞান এবং জনদরদি মনোভাব উন্নয়নে ছয় মাস মেয়াদি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে আপনাদের সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করব, কর্মজীবনের বৃহত্তর পরিসরে ফিরে গিয়ে আপনারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান এবং দক্ষতার যথার্থ প্রয়োগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০০৯ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের উন্নয়ন কাজগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ২০২১-২০৪১ মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ সুবিধা আজ প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা মোতাবেক তার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। তবে, দুর্ভাগ্য করোনাভাইরাস আজ সারাবিশ্বকেই তছনছ করে দিয়েছে।

করোনার কারণে কিছুটা থমকে গেলেও তার সরকার ’৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে এবং সে সময়ে তিনি জীবিত না থাকলেও বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে সেভাবেই সরকার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমার এখন যে বয়স তাতে অবশ্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার বা বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে, আজকে যারা নবীন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে যোগদান করবেন আপনাদের ওপরই এই দায়িত্ব পড়বে।’

তিনি বলেন,‘আত্মবিশ্বাস নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সবসময় একটা কথা মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি, আমরা বাঙালি এবং যুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি এবং বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গেই আমরা চলব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় এক হাজার ১০৭.০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিপিএটিসিতে ‘ভৌত অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিপিএটিসির সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজ সমাপ্ত হলে, সিভিল সার্ভিসের দুই হাজার সদস্যকে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে এখানে। তিনি বলেন, ১০ মাসের মধ্যে দেশকে একটি বিশ্বসেরা সংবিধান প্রদান, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্য ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন ও ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস রি-অর্গানাইজেশন কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কারসহ আরও অনেক সাফল্য জাতির পিতা অর্জন করেন এবং ১৯৭৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ অতিক্রম করে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

দেশের মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যাপক কর্মসূচি তার সরকার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না, বিনা চিকিৎসায় মরবে না, প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হবে। এজন্য স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নটাকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন