শপিংমল দোকানপাট আজ থেকে খোলা
jugantor
শপিংমল দোকানপাট আজ থেকে খোলা
বেচাকেনা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত * স্বাস্থ্যবিধি মানতে হুঁশিয়ারি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় কঠোর নিষেধাজ্ঞার (লকডাউন) মধ্যে এবার শপিংমল ও দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসাপেক্ষে আজ শুক্রবার থেকে আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আগে সীমিত আকারে গণপরিবহণ চালু করে সরকার।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বৃহস্পতিবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখা যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না-করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম যথারীতি চলমান থাকবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় জানানো হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিদ্যমান ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। করোনার বিস্তার রোধে শর্তসাপেক্ষে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আগের নির্দেশনার আলোকে নতুন নতুন নির্দেশনা জারি করে।

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে সাত দিনের ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ জারি করে সরকার। ১১ এপ্রিল রাত ১২টায় এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে। এ বিধিনিষেধ পালনের জন্য ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১১টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়: শপিংমলসহ অন্য দোকানপাট বন্ধ থাকবে। তবে পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে কেনাবেচা করা যাবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কোনো ক্রেতা সশরীরে যেতে পারবেন না।

তবে নিত্যপণ্যের দোকান ও জরুরি সেবার যানবাহন চলবে। গণপরিবহণও বন্ধ রাখা হয়। কঠোর নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে গণপরিবহণ না-পেয়ে যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হন। বিভিন্ন স্থানে তারা বিক্ষোভ করেন।

একইসঙ্গে দোকানপাট ও মার্কেট খুলে দিতেও আন্দোলন শুরু করেন মালিক-শ্রমিকরা। বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে গণপরিবহণ চলার ঘোষণা দেওয়া হলেও শপিংমল ও দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত না-হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আন্দোলন চলছিল।

বৃহস্পতিবারও আন্দোলন করেন তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বৃহস্পতিবারও রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরা।

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে, উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল ও দোকানপাট খোলার সরকারি নির্দেশনায় চট্টগ্রামে দোকান মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণকালে স্বাস্থ্যবিধি না-মানলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

দিনে ৮ ঘণ্টা ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, এমন সিদ্ধান্তে দোকান-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা শুক্রবার থেকে ব্যবসা পরিচালনা করবেন।

চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী শাহ তামরাজ উল আলম বলেন, দোকানপাট ও শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি মানা না-হলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষ সচেতন হলে শঙ্কার কিছু নেই।

শপিংমল দোকানপাট আজ থেকে খোলা

বেচাকেনা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত * স্বাস্থ্যবিধি মানতে হুঁশিয়ারি
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় কঠোর নিষেধাজ্ঞার (লকডাউন) মধ্যে এবার শপিংমল ও দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসাপেক্ষে আজ শুক্রবার থেকে আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আগে সীমিত আকারে গণপরিবহণ চালু করে সরকার।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বৃহস্পতিবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখা যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না-করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম যথারীতি চলমান থাকবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় জানানো হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিদ্যমান ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। করোনার বিস্তার রোধে শর্তসাপেক্ষে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আগের নির্দেশনার আলোকে নতুন নতুন নির্দেশনা জারি করে।

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে সাত দিনের ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ জারি করে সরকার। ১১ এপ্রিল রাত ১২টায় এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে। এ বিধিনিষেধ পালনের জন্য ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১১টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়: শপিংমলসহ অন্য দোকানপাট বন্ধ থাকবে। তবে পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে কেনাবেচা করা যাবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কোনো ক্রেতা সশরীরে যেতে পারবেন না।

তবে নিত্যপণ্যের দোকান ও জরুরি সেবার যানবাহন চলবে। গণপরিবহণও বন্ধ রাখা হয়। কঠোর নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে গণপরিবহণ না-পেয়ে যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হন। বিভিন্ন স্থানে তারা বিক্ষোভ করেন।

একইসঙ্গে দোকানপাট ও মার্কেট খুলে দিতেও আন্দোলন শুরু করেন মালিক-শ্রমিকরা। বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে গণপরিবহণ চলার ঘোষণা দেওয়া হলেও শপিংমল ও দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত না-হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আন্দোলন চলছিল।

বৃহস্পতিবারও আন্দোলন করেন তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বৃহস্পতিবারও রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরা।

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে, উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল ও দোকানপাট খোলার সরকারি নির্দেশনায় চট্টগ্রামে দোকান মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণকালে স্বাস্থ্যবিধি না-মানলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

দিনে ৮ ঘণ্টা ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, এমন সিদ্ধান্তে দোকান-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা শুক্রবার থেকে ব্যবসা পরিচালনা করবেন।

চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী শাহ তামরাজ উল আলম বলেন, দোকানপাট ও শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি মানা না-হলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষ সচেতন হলে শঙ্কার কিছু নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন