ঢাকায় যানজট সর্বত্র উপেক্ষিত ‘বিধিনিষেধ’
jugantor
‘লকডাউন’র ষষ্ঠ দিন
ঢাকায় যানজট সর্বত্র উপেক্ষিত ‘বিধিনিষেধ’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত সোমবার থেকে সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন’ শিথিল করার পর রাজধানীসহ সারা দেশে মানুষের চলাচল বেড়েছে। এতে সড়কে যানজট ও মার্কেটগুলোয় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে চরম উদাসীনতা দেখা গেছে। আর ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ আসতে পারে-এমন খবর শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর পরপরই শনিবার অনেক মানুষকে রাজধানীসহ দেশের মহানগর ও শিল্প এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকার উদ্দেশে রওয়ানা হতে দেখা গেছে।

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে সরকারের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বক্তব্য, বিবৃতি, প্রচারণা এবং গণমাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিক সচেতনতামূলক সংবাদ প্রচারের পরও বেখেয়াল থাকছে মানুষ। সচেতন লোকজন নিজে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব মেনে চললেও অন্যকে উৎসাহী করছে না। এজন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার জনসচেতনতা বাড়াতে যথেষ্ট কাজ করলেও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারছে না। করোনা সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সেটা না-হলে কোনোভাবেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোজাহেরুল হক যুগান্তরকে বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বৈজ্ঞানিক কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। এর বাইরে গিয়ে নিজেদের মনমতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না। এখন পর্যন্ত সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখতে পেরেছে, তবে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সচেতন লোকজন নিজেরা বিধিবিধান মানলেও অন্যকে মানতে উৎসাহী করছে না। এখানে এখন কৌশল অবলম্বন করে সরকারকে কাজ করতে হবে। তাহলে একটা কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এটাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে সব দলকে নিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে উদারতার পরিচয় দিতে হবে। আর সরকারকে সাড়ে ১২ কোটি মানুষকে ২৫ কোটি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৭০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আর লকডাউনের নানারকম সংজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। এর কোনো প্রয়োজন নেই। লকডাউন বললেই পরিষ্কার হয়ে যায়। কেননা, ঘরে তালা দেওয়ার পর আর কোনো বিশেষণ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, নগরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নানাভাবে সচেতন করার চেষ্টা করছে ডিএনসিসি। একইসঙ্গে দৈনিক ১২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না-হলে আমাদের কী করার আছে। মানুষ কোনোকিছু মানতে চাচ্ছে না। আমরা শাস্তি দিচ্ছি, তারপরও জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক উন্নতিও হয়েছে। সবাই মিলে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে।

সরেজমিন ঘুরে এবং খোঁজখবরে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর টেকনিক্যাল থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কে শত শত মোটরবাইক ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে রওয়ানা দিতে দেখা গেছে। এ স্পটে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ট্রাকে চড়ে হাজার হাজার মানুষকে ঢাকা ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এমন মানুষের অভিমত, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রথমে এক সপ্তাহের লকডাউন দিলেও পর্যায়ক্রমে এটা বাড়বে। এজন্য গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন তারা। কেননা, লকডাউনের সময় ঢাকায় থাকাসহ সার্বিক খরচ পরিচালনা করা তাদের জন্য খুবই দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

গাবতলী গরুর হাট সংলগ্ন প্রধান সড়কে কথা হয় পাবনার বেড়ার বাসিন্দা লালন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, মিরপুরে একটি করপোরেট অফিসের সহকারী হিসাবে কর্মরত আছেন। সোমবারের বিধিনিষেধের পর হোম অফিস করেছি। আর গত দুদিন অফিসে আসা-যাওয়া হয়েছে। মেসে থাকার কারণে লকডাউন ঘোষণা হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য বাড়িতে চলে যাচ্ছি। গণপরিবহণ চালু নেই, এজন্য এখান প্রাইভেট কার বা অন্য কোনোভাবে বাড়ি যেতে চাই। অনেক লোক দেখছি প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপে করে চলে যাচ্ছেন। আমি এই মাত্র এসেছি। আশা করি, যাওয়ার একটি ব্যবস্থা করতে পারব।

আরও জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে টেকনিক্যাল, গাবতলী ও আমিনবাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও পিকআপে করে যারা গেছেন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিন গুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে।

কুড়িলের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী এমাদ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, শনিবার সকালে ব্যক্তিগত যানবাহনে বিশেষ কাজে মগবাজার থেকে সাভার গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি দেখেছেন, টেকনিক্যাল থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত শত শত মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং করছে। এ তালিকায় দেখা গেছে, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক, পিকআপে হাজার হাজার মানুষকে ঢাকা ছেড়ে যেতে দেখেছেন। এ সময় পরিবহণ এবং যানবাহনে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে চরম উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে।

রাজধানীর সায়েদাবাদ ও টঙ্গী এলাকা দিয়েও হাজার হাজার মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ি, ভাড়ায়চালিত প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলে চড়ে ঢাকা ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া এসব মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই শ্রমজীবী মানুষ। যাদের দীর্ঘ লকডাউনে ঢাকায় টিকে থাকা কঠিন হবে। এজন্য তারা গ্রামে আপনজনের সঙ্গে কাটানোর জন্য রাজধানী শহর ছেড়ে যাচ্ছেন। আজ রোববার, সোম ও মঙ্গলবার আরও বহু মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাবেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গ্রিনরোড, কাওরানবাজার, কাপ্তানবাজার, মহাখালী, গুলশান, বনানী, উত্তরা, সায়েদাবাদ এলাকার দোকানপাটগুলোয় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এ সময় দোকানদাররা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সক্রিয় থাকলেও ক্রেতাদের এসব ব্যাপারে বেখেয়াল থাকতে দেখা গেছে। শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর করে জানা গেছে, গণপরিবহণ, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনাসহ সব পরিবহণের আধিক্য ছিল নগরজুড়ে। লকডাউন ভীতি, রমজানের কেনাকাটাসহ নানাবিধ প্রয়োজনে মানুষের ব্যস্ততা লক্ষ করা গেছে চোখে পড়ার মতো। খোলা ছিল টাইলস, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, স্টেশনারির দোকান। এসব দোকানে হরহামেশা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষের চলাচল লক্ষ করা গেছে। হোটেল-রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার নিয়ম না-থাকলেও অনেক মানুষকে বসে খাবার খেতে দেখা গেছে। শনিবার বাংলামোটর আলম হোটেল থেকে খাবার খেয়ে কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বের হন ইমন হাসান। হোটেলে খাবার খাওয়ার নিয়ম না-থাকলেও কারণ জানতে চাইলে বলেন, ভাই ঢাকা একা থাকি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সব সময় বাসায় রান্না করে খেতে পারি না। এখন অফিসের কাজে বাইরে রয়েছি। হোটেল থেকে খাবার কিনে কোথায় বসে খাব-এজন্য হোটেলে বসে খেলাম। জানি এক্ষেত্রে সরকারের বিধিনিষেধের ব্যতয় ঘটেছে। কিন্তু কী করার আছে বলেন।

‘লকডাউন’র ষষ্ঠ দিন

ঢাকায় যানজট সর্বত্র উপেক্ষিত ‘বিধিনিষেধ’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত সোমবার থেকে সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন’ শিথিল করার পর রাজধানীসহ সারা দেশে মানুষের চলাচল বেড়েছে। এতে সড়কে যানজট ও মার্কেটগুলোয় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে চরম উদাসীনতা দেখা গেছে। আর ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ আসতে পারে-এমন খবর শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর পরপরই শনিবার অনেক মানুষকে রাজধানীসহ দেশের মহানগর ও শিল্প এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকার উদ্দেশে রওয়ানা হতে দেখা গেছে।

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে সরকারের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বক্তব্য, বিবৃতি, প্রচারণা এবং গণমাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিক সচেতনতামূলক সংবাদ প্রচারের পরও বেখেয়াল থাকছে মানুষ। সচেতন লোকজন নিজে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব মেনে চললেও অন্যকে উৎসাহী করছে না। এজন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার জনসচেতনতা বাড়াতে যথেষ্ট কাজ করলেও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারছে না। করোনা সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সেটা না-হলে কোনোভাবেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোজাহেরুল হক যুগান্তরকে বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বৈজ্ঞানিক কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। এর বাইরে গিয়ে নিজেদের মনমতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না। এখন পর্যন্ত সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখতে পেরেছে, তবে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সচেতন লোকজন নিজেরা বিধিবিধান মানলেও অন্যকে মানতে উৎসাহী করছে না। এখানে এখন কৌশল অবলম্বন করে সরকারকে কাজ করতে হবে। তাহলে একটা কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এটাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে সব দলকে নিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে উদারতার পরিচয় দিতে হবে। আর সরকারকে সাড়ে ১২ কোটি মানুষকে ২৫ কোটি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৭০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আর লকডাউনের নানারকম সংজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। এর কোনো প্রয়োজন নেই। লকডাউন বললেই পরিষ্কার হয়ে যায়। কেননা, ঘরে তালা দেওয়ার পর আর কোনো বিশেষণ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, নগরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নানাভাবে সচেতন করার চেষ্টা করছে ডিএনসিসি। একইসঙ্গে দৈনিক ১২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না-হলে আমাদের কী করার আছে। মানুষ কোনোকিছু মানতে চাচ্ছে না। আমরা শাস্তি দিচ্ছি, তারপরও জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক উন্নতিও হয়েছে। সবাই মিলে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে।

সরেজমিন ঘুরে এবং খোঁজখবরে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর টেকনিক্যাল থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কে শত শত মোটরবাইক ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে রওয়ানা দিতে দেখা গেছে। এ স্পটে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ট্রাকে চড়ে হাজার হাজার মানুষকে ঢাকা ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এমন মানুষের অভিমত, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রথমে এক সপ্তাহের লকডাউন দিলেও পর্যায়ক্রমে এটা বাড়বে। এজন্য গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন তারা। কেননা, লকডাউনের সময় ঢাকায় থাকাসহ সার্বিক খরচ পরিচালনা করা তাদের জন্য খুবই দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

গাবতলী গরুর হাট সংলগ্ন প্রধান সড়কে কথা হয় পাবনার বেড়ার বাসিন্দা লালন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, মিরপুরে একটি করপোরেট অফিসের সহকারী হিসাবে কর্মরত আছেন। সোমবারের বিধিনিষেধের পর হোম অফিস করেছি। আর গত দুদিন অফিসে আসা-যাওয়া হয়েছে। মেসে থাকার কারণে লকডাউন ঘোষণা হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য বাড়িতে চলে যাচ্ছি। গণপরিবহণ চালু নেই, এজন্য এখান প্রাইভেট কার বা অন্য কোনোভাবে বাড়ি যেতে চাই। অনেক লোক দেখছি প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপে করে চলে যাচ্ছেন। আমি এই মাত্র এসেছি। আশা করি, যাওয়ার একটি ব্যবস্থা করতে পারব।

আরও জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে টেকনিক্যাল, গাবতলী ও আমিনবাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও পিকআপে করে যারা গেছেন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিন গুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে।

কুড়িলের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী এমাদ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, শনিবার সকালে ব্যক্তিগত যানবাহনে বিশেষ কাজে মগবাজার থেকে সাভার গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি দেখেছেন, টেকনিক্যাল থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত শত শত মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং করছে। এ তালিকায় দেখা গেছে, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক, পিকআপে হাজার হাজার মানুষকে ঢাকা ছেড়ে যেতে দেখেছেন। এ সময় পরিবহণ এবং যানবাহনে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে চরম উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে।

রাজধানীর সায়েদাবাদ ও টঙ্গী এলাকা দিয়েও হাজার হাজার মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ি, ভাড়ায়চালিত প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলে চড়ে ঢাকা ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া এসব মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই শ্রমজীবী মানুষ। যাদের দীর্ঘ লকডাউনে ঢাকায় টিকে থাকা কঠিন হবে। এজন্য তারা গ্রামে আপনজনের সঙ্গে কাটানোর জন্য রাজধানী শহর ছেড়ে যাচ্ছেন। আজ রোববার, সোম ও মঙ্গলবার আরও বহু মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাবেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গ্রিনরোড, কাওরানবাজার, কাপ্তানবাজার, মহাখালী, গুলশান, বনানী, উত্তরা, সায়েদাবাদ এলাকার দোকানপাটগুলোয় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এ সময় দোকানদাররা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সক্রিয় থাকলেও ক্রেতাদের এসব ব্যাপারে বেখেয়াল থাকতে দেখা গেছে। শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর করে জানা গেছে, গণপরিবহণ, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনাসহ সব পরিবহণের আধিক্য ছিল নগরজুড়ে। লকডাউন ভীতি, রমজানের কেনাকাটাসহ নানাবিধ প্রয়োজনে মানুষের ব্যস্ততা লক্ষ করা গেছে চোখে পড়ার মতো। খোলা ছিল টাইলস, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, স্টেশনারির দোকান। এসব দোকানে হরহামেশা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষের চলাচল লক্ষ করা গেছে। হোটেল-রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার নিয়ম না-থাকলেও অনেক মানুষকে বসে খাবার খেতে দেখা গেছে। শনিবার বাংলামোটর আলম হোটেল থেকে খাবার খেয়ে কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বের হন ইমন হাসান। হোটেলে খাবার খাওয়ার নিয়ম না-থাকলেও কারণ জানতে চাইলে বলেন, ভাই ঢাকা একা থাকি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সব সময় বাসায় রান্না করে খেতে পারি না। এখন অফিসের কাজে বাইরে রয়েছি। হোটেল থেকে খাবার কিনে কোথায় বসে খাব-এজন্য হোটেলে বসে খেলাম। জানি এক্ষেত্রে সরকারের বিধিনিষেধের ব্যতয় ঘটেছে। কিন্তু কী করার আছে বলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন