মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ

দুই জোটই চায় একক প্রার্থী

গাজীপুরে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থন বিএনপিকে, জাসদের প্রার্থী প্রত্যাহার করবে আজ * কাউন্সিলর পদের বিদ্রোহীদের আজ ১২টার মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ * সিদ্ধান্ত অমান্য করলে বহিষ্কার

  শেখ মামুনূর রশীদ ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিটি নির্বাচন

আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে রোববার সারা দিনই জোর তৎপরতা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোট। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মেয়র পদে ইতিবাচক ফল এসেছে দুই শিবিরেই।

গাজীপুরের জামায়াত প্রার্থী বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মাঠ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর একই সিটিতে জাসদের মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলটির শীর্ষ নেতাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

জামায়াত ও জাসদের প্রার্থী আজ তাদের মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন দল দুটির নীতিনির্ধারকরা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক হচ্ছে জামায়াত।

গাজীপুর ও খুলনায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটগতভাবে একক প্রার্থী নিশ্চত করলেও কাউন্সিলর পদে দু’দলেরই একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দল দুটির নীতিনির্ধারকরা। শেষ পর্যন্ত যদি বিদ্রোহী প্রার্থী থেকেই যায় সেক্ষেত্রে যারা জয়ী হবেন, তাদের দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া হবে- এমন একটি গোপন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল দুটি। তবে নির্বাচনের ফল নিজেদের ঘরে তুলতে চায় দু’দলই। তাই কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় তারা।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর এমন চিন্তা থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের (দলীয় সমর্থনের বাইরে) আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চূড়ান্তভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করে ভোটের মাঠে থাকলে প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। তারা আরও জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। এ নির্বাচনের ফল দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা দল দুটির হাইকমান্ডের।

১৫ মে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে শাসক দল আওয়ামী লীগ চায় বিজয়ী হয়ে দুটি সিটি কর্পোরেশন করায়ত্ত করতে। অন্যদিকে নিজেদের দখলে থাকা মেয়র পদ ধরে রাখতে মরিয়া বিএনপি। এজন্য জোটগতভাবে নির্বাচনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে দু’দল। তারা শুধু মেয়র পদেই নয়, কাউন্সিলর পদেও জোটগতভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। আজ দুই সিটিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। কাল মঙ্গলবার প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে প্রচার।

জানা গেছে, গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভোট করা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নগর আমীর অধ্যক্ষ সানাউল্লাহ। এর বিনিময়ে গাজীপুরের ছয় ওয়ার্ডে জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ানোর কথা বিএনপি প্রার্থীদের। গাজীপুরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চায়।

ইতিমধ্যে তারা জাতীয় পার্টির সমর্থন আদায় করে নিয়েছে। এখানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মেয়র প্রার্থী রয়েছে। এ দলটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক। জোটের ঐক্য সুসংহত রাখতে এবং জোটগতভাবে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগ চায় জাসদ প্রার্থী ভোট থেকে সরে দাঁড়াক। এ নিয়ে দু’দলের শীর্ষ নেতাদের পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘দুই সিটিতেই আমরা জোটগতভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধু মেয়র পদেই নয়, কাউন্সিলর পদেও একক প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। কেউ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, ‘অতীতেও গাজীপুর এবং খুলনা সিটিতে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে। আমরা চাই এ জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে।’ তিনি আরও বলেন, আমরা ২০ দলীয় জোটগতভাবেই এ নির্বাচন করব। কেন্দ্র থেকে দুই সিটিতে তেমনই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইভাবে দলের ঐক্যও সুসংহত রাখতে বলা হয়েছে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২০১৩ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে দুই সিটিতেই বিএনপি সমর্থক প্রার্থীরা মেয়র পদে বিজয়ী হয়ে সিটি কর্পোরেশন নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হন। বিএনপির এবারও টার্গেট সিটি দুটি নিজেদের দখলে রাখা। এজন্য উভয় সিটিতেই দলটি তাদের প্রার্থী বদল করেছে। আগের প্রার্থীর চেয়ে অপেক্ষাকৃত জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগও চায় নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করে সিটি কর্পোরেশন নিজেদের আয়ত্তে নিতে। এজন্য খুলনায় তারা প্রার্থী বদল না করলেও গাজীপুরে প্রার্থী বদল করে তরুণ নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছে।

এদিকে খুলনা ব্যুরো অফিস জানায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বেকায়দায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তবে দলীয় সমর্থন দেয়া প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দু’দলই কঠোর অবস্থানে। বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে বহিষ্কার করা হবে। রোববার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পৃথক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ দুই দলের মধ্যে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৩৮ এবং বিএনপির ২৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। খুলনায় সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১টি এবং ১০টি সংরক্ষিত কাউন্সিল পদে নির্বাচন হবে।

এ বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান এমপি বলেন, যেসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না তাদের বহিষ্কার করা হবে। আওয়ামী লীগের দলীয় সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নগর বিএনপির সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যেসব প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাদের প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ প্রত্যাহার না করেন সে ব্যাপারে দল সিদ্ধান্ত নেবে।

খুলনা সিটিতে বিএনপি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৯ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৯ জন এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ ওয়ার্ডে ৩০ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১০ জনকে মনোনয়ন দেয়। দলের বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ৩৮ জন এবং বিএনপির ২৮ জন। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোট করার কথা ভাবছে। তবে ১৩, ১৪, ১৫, ১৭, ২১, ২৮ এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছেন। আবার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

আওয়ামী লীগের যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্রের আবরণে রয়েছেন তারা হলেন- ১ নং ওয়ার্ডে শেখ আব্দুর রাজ্জাক, রোজিনা বেগম রাজিয়া, মো. শাহজাহান মিরাজ, মো. জাহাঙ্গীর লস্কর। ২নং ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগে এফএম জাহিদ হাসান জাকির প্রার্থী রয়েছেন। ৩নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মো. শাহা আলম মীর। ৪নং ওয়ার্ড উন্মুক্ত রেখেছে বিএনপি। এ ওয়ার্ডটিতে বর্তমান কাউন্সিলর মো. কবির হোসেন কবু মোল্যা ছাড়াও জামায়াত ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, আওয়ামী লীগে মো. আবু আসলাম মোড়ল, মো. ইকবাল গাজী ও মো. আফজাল হোসেন। ৫নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর এসএম হুমায়ুন কবির বিএনপিপন্থী হলেও মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ সাজ্জাত হোসেন তোতন, আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন-অর রশিদ ছাড়াও রয়েছেন আওয়ামী লীগের শেখ মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও ৬নং ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী শেখ লুৎফর রহমান এবং শেখ আনছার আলী। আর আওয়ামী লীগে মো. মিজানুর রহমান তরফদার। ৭নং ওয়ার্ডে বিএনপির মো. রিয়াজ পারভেজ ও মীর মোকছেদ আলী। ৯নং ওয়ার্ডে বিএনপির কাজী ফজলুল কবির টিটো ও অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী। আওয়ামী লীগে এমডি মাহফুজুর রহমান লিটন ও শেখ শওকাত আলী। ১০নং ওয়ার্ডে বিএনপির শেখ খায়রুজ্জামান বিদ্রোহী। অপরদিকে আওয়ামী লীগে এসএম গিয়াস উদ্দিন ও কাজী তালাত হোসেন বিদ্রোহী। ১১নং ওয়ার্ডে আ’লীগের বিদ্রোহী ফারজানা লিপি, শাহরিয়ার বাবু ও জামান মোল্যা। ১২নং ওয়ার্ডে বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান ও আওয়ামী লীগে চৌধুরী মিরাজুর রহমান।

১৬নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মো. আনিসুর রহমান বিশ্বাস বিদ্রোহী, ১৮নং ওয়ার্ডে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. পারভেজ আহম্মেদ পলাশ ও এসএম রাজুল হাসান রাজু। ২২নং ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন আফজাল হোসেন পিয়াস। অপরদিকে আ’লীগে মো. নূর ইসলাম শেখ। ২৩নং ওয়ার্ডে বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ ও যুবলীগ নেতা মাছুম-উর রশিদ বিদ্রোহী। অপরদিকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মো. ছাব্বির হোসেন সাব্বির ছাড়াও রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপিপন্থী ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না। ২৪নং ওয়ার্ডে এসএম খায়রুল বাসার বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। ২৫নং ওয়ার্ডে শেখ শহীদ আলী আ’লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপির মো. তৈয়েবুর রহমান। ২৬নং ওয়ার্ডে মো. মাহমুদ আলম বাবু মোড়ল বিএনপির বিদ্রোহী। ২৭নং ওয়ার্ডে বিএনপির কেএম হুমায়ুন কবির ও আওয়ামী লীগে শাহ আলম মৃধা বিদ্রোহী প্রার্থী। ৩০নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ আমান উল্লাহকে সমর্থন না দিয়ে উন্মুক্ত রেখেছে বিএনপি। ফলে একই দলের প্রার্থী রয়েছেন চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ ও মো. মেজবাহুল আক্তার। ৩১নং ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের নগর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেলসহ আ’লীগের প্রার্থী রয়েছেন অন্তত পাঁচজন। আর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এইচএম আসলামসহ একই দলের রয়েছেন আরও চারজন প্রার্থী।

সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ১, ২, ৩, ৪ ও ৭ ওয়ার্ডে আ’লীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছেন। তবে সংরক্ষিত ৫নং ওয়ার্ডে মিসেস মনি বিএনপির বিদ্রোহী। সংরক্ষিত ৬নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগে রোজি ইসলাম নদী বিদ্রোহী প্রার্থী। সংরক্ষিত ৮নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কনিকা সাহা ও ইসমত আরা বেগম রয়েছেন বিদ্রোহী। সংরক্ষিত ৯নং ওয়ার্ডে বিএনপির লুৎফুন নাহার লাভলী ও কাওসারী জাহান বিদ্রোহী ও আওয়ামী লীগে শাহানুর বেগম। ১০নং ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী হাসিনা আকরাম ও হোসনেয়ারা বেগম চাঁদনী। অপরদিকে এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লুৎফুন নেছার সঙ্গে একই দলের রয়েছেন আরও দু’জন বিদ্রোহী প্রার্থী। এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল বলেন, মেয়র পদে আবারও বিজয় ছিনিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঠে কাজ করছে। মেয়র প্রার্থীকে নিয়ে কোনো বিভেদ নেই। সবাই একবাক্যে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা সম্মিলিতভাবে আমাদের মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চাই।

খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, বিএনপি ও ধানের শীষের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। অতীতের মতো এবারের নির্বাচনেও জেলা বিএনপি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে।

এদিকে গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলমীর আমীর গাজীপুর মহানগর উন্নয়ন পরিষদের ব্যানারে মেয়র প্রার্থী এসএম সানাউল্লাহ তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর গাজীপুর মহানগর উন্নয়ন পরিষদের ব্যানারে মেয়র প্রার্থী এসএম সানাউল্লাহ। বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসান উদ্দিন সরকারের টঙ্গীর বাসভবনে যান। এ সময় তার সঙ্গে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি খায়রুল হাসানসহ মহানগর ও থানা জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে এসএম সানাউল্লাহ জানান, ঢাকায় ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। দলীয় নেতাকর্মীদের হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে কাজ করারও নির্দেশ দেন তিনি।

এ ব্যাপারে হাসান উদ্দিন সরকার জানান, জামায়াতের সমর্থনে ২০ দলীয় জোটের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হল। ভোটারদের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার ঘোষণা এলেও নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন জাসদ (ইনু) মহানগর শাখার সভাপতি ও দলীয় মেয়র প্রার্থী রাশেদুল হাসান রানা।

রোববার সকালে তিনি নগরীর চান্দনা চৌরাস্তার রওশন সড়ক এলাকায় তার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিজ দলীয় ফোরাম বা ১৪ দলের সমন্বয়কের পক্ষ থেকেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা এখনও আসেনি। তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নিজের জন্য ১৪ দল ও জাসদের সমর্থন তিনি প্রত্যাশা করছেন।

আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৮৭ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter