উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না

-ইউএস-বাংলা সিইও

  বিশেষ সংবাদদাতা ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
ফাইল ছবি

নেপালে দুর্ঘটনা কবলিত উড়োজাহাজের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। নেপাল ও বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এমনটি জানিয়েছে। নেপাল সরকারের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন ও ইউএস-বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদনেও কোনো কারিগরি ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

রোববার রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ একথা বলেন। নেপাল সিভিল এভিয়েশনের তদন্ত কমিটির দেয়া প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে মত জানাতে এ আয়োজন করা হয়।

আসিফ বলেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে কিছু অসঙ্গতি আছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের এ বিষয়টি আমাদের অড (বেমানান) লেগেছে। আমরা রিপোর্টটি অগ্রাহ্য করছি না। কিন্তু ৩০ দিন অনেক সময়, প্রতিবেদন আরও যথাযথ হতে পারত।

ইউএস-বাংলার সিইও বলেন, প্রতিটি এয়ারক্রাফট নিখুঁতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ইউরোপীয়, কানাডিয়ান ও আমেরিকানসহ ১৭ বিদেশি প্রকৌশলী নিয়োজিত আছেন।

বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরে কোনো এয়ারলাইন্সে মেইনটেন্যান্সের ক্ষেত্রে এত অধিক সংখ্যক বিদেশি প্রকৌশলী নেই। এছাড়া ইউএস-বাংলায় ৬২ জন দেশীয় অভিজ্ঞ প্রকৌশলী কাজ করেন। প্রকৌশলীদের অনেককেই আমরা ৩ বছর আগে ইংল্যান্ড থেকে দীর্ঘমেয়াদি থিয়োরিটিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ দিয়ে এনেছি। আমরা নিজেদের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্সের পাশাপাশি শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রানজিটকালীন ভারতের ‘স্পাইস জেট’ এয়ারলাইন্সের ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফটের ইঞ্জিনিয়ারিং চেকও করছি।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার ২ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমরান আসিফ বলেন, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত বিমান যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা যা জেনেছি, তাতে আমাদের ধারণা যে প্রকৃতভাবেই ২ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা নিয়োজিত হয়ে থাকলে হতাহতের সংখ্যা অনেক কম হতো।

তিনি বলেন, ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার স্টাফরা উড়োজাহাজটি অবতরণের অপেক্ষা করছিলেন। সে সব স্টাফ এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা বলেছেন, ২ মিনিটে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাননি। উদ্ধারকাজ শুরু করতে সময় লেগেছে। আর যে জায়গায় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সেখানে ২ মিনিটের মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব বলেও মনে হয়নি।

আসিফ বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে আপনারা জেনেছেন দুর্ঘটনার আগে নেপালের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলটকে বিভ্রান্তিকর নির্দেশনাবলী দেয়া হয়েছিল। কাঠমান্ডুর কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ইউএস-বাংলার পাইলটদের ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স দেয়ার পর তা বাতিল না করেই এয়ারক্রাফটিকে অন্য জায়গায় হোল্ডিং করতে বলা হয় এবং একই সময় অন্য এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অবতরণ করতেও দেয়া হয়। কিন্তু প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে কন্ট্রোল টাওয়ারের কোনো কর্মীর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

তিনি বলেন, একটি ফ্লাইটকে দেয়া অবতরণের অনুমতি বাতিল না করেই অন্য ফ্লাইটকে অবতরণ বা উড্ডয়ন করতে দেয়া আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যত্যয়।

সিইও বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিমানটির অবতরণের সময় অ্যালাইনমেন্ট ঠিক ছিল না বলে যে কথা বলা হয়েছে তাও সঠিক নয়। কারণ নেপালের তদন্ত রিপোর্টে এ ধরনের কথা বলা হয়নি। দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বরত ছয়জন কন্ট্রোলারকে তড়িঘড়ি করে পর দিনই নেপাল এয়ারপোর্ট অথরিটি বদলির আদেশ দেয় জানিয়ে আসিফ বলেন, তাদের কেন বদলি করা হয়েছে তা আমরা জানি না। তবে গাফিলতি ছাড়া এমন পদক্ষেপ নেয়া স্বাভাবিক নয় বলেই আমরা মনে করি। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে এ ছয়জনের বিষয়ে কোনো কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।

সিইও বলেন, ইউএস-বাংলার এয়ারক্রাফট উড্ডয়নের আগে তিন ধাপে টেকনিক্যাল চেকিং হয়। দেশি-বিদেশী প্রকৌশলীরা প্রতি রাতে এয়ারক্রাফটগুলো রুটিন মাফিক চেক করেন। উড্ডয়নের আগে ইঞ্জিনিয়ার আবার তা পরীক্ষা করেন। তারা ফ্লাইট উড্ডয়ন উপযোগী সার্টিফিকেট প্রদানের পর সংশ্লিষ্ট বৈমানিক (ক্যাপ্টেন) আবার এয়ারক্রাফটটির সক্ষমতা রি-চেক করেন। চেক-ক্রস চেকিংয়ের পরই একটি ফ্লাইট ডিপার্চারের অনুমতি পায়।

ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ টার্বোপ্রপ এয়ারক্রাফট প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, এ ধরনের উড়োজাহাজ বিশ্বের সর্বাধুনিক এয়ারক্রাফটগুলোর মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে ৪০ দেশে প্রায় ৬০০টি এ মডেলের এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এ এয়ারক্রাফট দিয়ে আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহন করছে। এ মডেলের এয়ারক্রাফট আজ পর্যন্ত টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনায় পতিত হয়নি।

আসিফ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একজন পাইলট দৈনিক ১৪ ঘণ্টা ডিউটিতে থাকতে পারেন। রুলস অনুযায়ী এর মধ্যে ১১ ঘণ্টা তিনি ফ্লাই করতে পারেন। ক্যাপ্টেন আবিদ ওইদিন কাঠমান্ডু থেকে ফিরে এলে তার ফ্লাইং আওয়ার হতো ৭ ঘণ্টারও কম। আর যে কোনো বিমানের ফ্লাইং অপারেশনের ক্ষেত্রে ক্যাপ্টেনের ইচ্ছাই চূড়ান্ত। একজন পাইলট মাঝ আকাশেও উড্ডয়ন নিয়ে সন্দেহের মধ্যে পড়লে তিনি বিমান ফিরিয়ে আনতে পারেন। অহরহ এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী শেষ ৭ দিনে ক্যাপ্টেন আবিদ ১৫ ঘণ্টা ফ্লাই করেছেন। ক্যাপ্টেন আবিদ শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। তার অবসাদগ্রস্ত হওয়া কিংবা জোর করে পাঠানোর প্রশ্নটি অবান্তর। ক্যাপ্টেন আবিদের দুর্ঘটনা পূর্ববর্তী সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্টটিতে তিনি ফ্লাইংয়ের জন্য ফিট ছিলেন। তার মেডিকেল রিপোর্ট ছিল ক্লাস ওয়ান। বাংলাদেশের পাইলটদের মধ্যে ১২ জন ডিসিপি পাইলট আছেন, আবিদ তাদের অন্যতম ছিলেন।

১২ মার্চ ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানটিতে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জনই নিহত হন। এর মধ্যে বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান ও কো-ক্যাপ্টেন পৃথুলা রশিদসহ ২৬ বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.