খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেডে ভর্তির দাবি বিএনপির

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শে ব্যবস্থা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * খালেদা জিয়ার হাঁটুর এমআরআই করা জরুরি -নজরুল ইসলাম খান * কে দেখা করবেন তার সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়াই নেন

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাকে আবারও ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আধা ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে এ দাবি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা জেলকোড অনুযায়ী হচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সব করা হবে।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে ভীষণ অসুস্থ। তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা দলের পক্ষ থেকে উদ্বিগ্ন। তার সুচিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নিতে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। তার হাঁটুর জরুরি এমআরআই করা প্রয়োজন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আপনারা সবাই জানেন, ম্যাডামের হাঁটুতে বিশেষ ধাতব বস্তু বসানো রয়েছে। বাইরের সাধারণ এমআরআই যন্ত্র দিয়ে এর ভালো রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির অনুরোধ করেছি। সেখানে এ বিশেষ মেশিনটি রয়েছে। এছাড়া আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ যাতে বাধা না দেয় সে জন্যও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছি।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যারা এসব প্রশ্ন করেন, তারা বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, আমরা দু’দিন আগে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম সরকারের অনুমতিক্রমেই। কিন্তু জেলগেট থেকে আমরা ফেরত এসেছি। পরদিন তার (খালেদা জিয়া) আত্মীয়স্বজনরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। তারাও দেখা করতে পারেননি, ফিরে এসেছেন জেলগেট থেকে। প্রথম দিন বলা হয়েছিল অন্য কথা, পরের দিন জানানো হয়েছে, উনি হাঁটতেই পারছেন না, দোতলা থেকে নিচে নামতে পারছেন না, এজন্য দেখা হবে না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, চাইলেই তারা সেখানে চিকিৎসা করাতে পারেন। এতে অন্য কারও অনুমতির দরকার হয় না। এজন্য কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই যথেষ্ট। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য পজিটিভ। তিনি আইজি প্রিজন সাহেবকে ডেকে নিয়ে এসেছিলেন। ওনার সামনেই কথা হয়েছে। যেখানে তার (খালেদা জিয়া) ভালো চিকিৎসা বা পরীক্ষা করা সম্ভব সেখানে তা করার বিষয়ে তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সম্মতির কথা জানিয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষা করব আইজি প্রিজন সাহেব কী ব্যবস্থা নেন।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, আরও আলোচনা করেছি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমরা যে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছি তাতে যাতে কোথাও বাধা সৃষ্টি করা না হয়। উনি বলেছেন, এটা উনি সংশ্লিষ্টদের বলবেন। আমরা ২৫ এপ্রিল প্রেস ক্লাব কিংবা বিএনপি অফিসের সামনে মানববন্ধন করতে চাই। আমরা বলেছি, সেটা আমরা যাতে করতে পারি, কোনো বাধা যেন সৃষ্টি না হয়। এছাড়া আমরা শ্রমিক দলের উদ্যোগে মে দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক জনসভা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অনুমতি চেয়েছি। আমরা বলেছি, আপনারা তাদের বলে দেবেন যাতে অনুমতি আমরা পাই। এটি একটি আন্তর্জাতিক দিবস, এ দিবস পালনে কাউকে বাধা দেয়া উচিত হবে না।

আপনারা কতদিন অপেক্ষা করবেন জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা তো আশা করি আজই সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। চিকিৎসার জন্য তার (খালেদা জিয়া) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। একজন অসুস্থ মানুষকে যত দ্রুত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব সেটা করা উচিত।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি আরেকটা কথা বলেছি উনাদের, উনি (খালেদা জিয়া) যদি দোতলা থেকে নিচে নামতে না পারেন, তাহলে তার মহিলা আত্মীয়স্বজনদের দোতলায় উঠে তার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা উচিত। আশা করছি তারা সেটা করবেন। কারণ মানুষ অসুস্থ হলে আত্মীয়স্বজনদের দেখলে খুশি হন, রোগ উপশম হয়। কাজেই সেই অনুরোধটাও তাদের করেছি।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, তারা এসেছিলেন। তিনটি পয়েন্ট নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের দলীয় চেয়ারপারসন কারান্তরীণ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা বলেছি, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যা কিছু ব্যবস্থা দরকার জেল কোড অনুযায়ী করব। এজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সব করা হবে। এছাড়া তারা ২৫ এপ্রিল একটি মানববন্ধন কর্মসূচি ও ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের কর্মসূচি করতে চান। এ দুটো কর্মসূচিতে যাতে সরকার কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে সেজন্য তারা দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তাদের জানিয়েছি, বিষয়টি পুলিশ কমিশনার দেখেন। তার কাছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে আবেদন করলে তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটলে তো কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জেনেছি ও দেখেছি, উনি তো আগে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিয়েছেন। কাজেই উনাকে প্যারোলে বিদেশে পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্যে জেল কোড অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক সাংবাদিক জানতে চান, জেলখানায় খালেদা জিয়াকে দোতলায় রাখা হয়েছে, তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাউকে দোতলায় গিয়ে দেখা করার অনুমতি দেবেন কিনা। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেই ওখানে তার সঙ্গে দেখা করতে যান। উনার দলের লোক যান, আত্মীয়রা যান। তবে উনি তো সবার সঙ্গে দেখা করতে চান না। তার সঙ্গে কারা কারা দেখা করতে চান সে তালিকা জেল কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়েছেন খালেদা জিয়া। তালিকা অনুযায়ী তিনিই সিদ্ধান্ত নেন কার সঙ্গে দেখা করবেন আর কার সঙ্গে করবেন না।