জীবনমঞ্চের ওপারে বনানীতে চিরনিদ্রায় কবরী
jugantor
জীবনমঞ্চের ওপারে বনানীতে চিরনিদ্রায় কবরী

  আনন্দনগর প্রতিবেদক  

১৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সারাহ বেগম কবরী। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শনিবার বাদ জোহর তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পীর ছেলে শাকের চিশতীসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, সহকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীরা। জোহর নামাজের আগেই হাসপাতাল থেকে তার লাশ বনানী কবরস্থান এলাকায় নেওয়া হয়।

নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য সাবেক এই সংসদ সদস্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মহামারির কারণে তার মরদেহ দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল এফডিসি বা শহিদ মিনারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কবরীর ছেলে শাকের চিশতী। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছেন আম্মাকে এফডিসিতে নিয়ে যেতে। কিন্তু যেহেতু তিনি করোনাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাই অন্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে নিয়ে যেতে পারিনি। শহিদ মিনারেও নেওয়া সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল থেকে সরাসরি বনানী কবরস্থানে নিয়ে গেছি আমরা।’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১২ট ২০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন দেশবরেণ্য এই অভিনয়শিল্পী। এর আগে ৫ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেদিন রাতেই তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ এপ্রিল শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। কিন্তু তার পরিবার কোথাও আইসিইউ খালি পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুরোধ জানালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ৮ এপ্রিল দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে আইসিইউর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। এরপর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় ১৪ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তার আসল নাম মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণদাস পাল এবং মা লাবণ্য প্রভা পাল। ছোটবেলা থেকে নাচ করতেন তিনি। নৃত্যশিল্পী হিসাবে মঞ্চেও পারফর্ম করেছেন। মাত্র তের বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল তার। চলচ্চিত্রের নাম ‘সুতরাং’। সুভাষ দত্ত পরিচালিত এ চলচ্চিত্রটি ১৯৬৪ সালের ২৪ এপ্রিল মুক্তি পায়। এরপর ‘জলছবি’, ‘বাহানা’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’, ‘আগন্তুক’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সারেং বৌ’, ‘দেবদাস’, ‘হীরামন’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘রংবাজ’, ‘সুজন সখী’সহ আরও অনেক ছবি দিয়ে দীর্ঘ ৫০ বছর দর্শক মাতিয়ে রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান তিনি। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণও করতেন কবরী। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। সর্বশেষ সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘এই তুমি সেই তুমি’ নামে একটি ছবি পরিচালনা করছিলেন। বর্তমানে ছবিটি সম্পাদনার টেবিলে রয়েছে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠেও ছিল কবরীর পদচারণা। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

কিংবদন্তি এ অভিনয়শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, কবরী ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলা চলচ্চিত্রের বিকাশে তার অবদান মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ কবরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমদ শোক জানিয়েছেন।

এছড়া শোক জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ।

জীবনমঞ্চের ওপারে বনানীতে চিরনিদ্রায় কবরী

 আনন্দনগর প্রতিবেদক 
১৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সারাহ বেগম কবরী। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শনিবার বাদ জোহর তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পীর ছেলে শাকের চিশতীসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, সহকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীরা। জোহর নামাজের আগেই হাসপাতাল থেকে তার লাশ বনানী কবরস্থান এলাকায় নেওয়া হয়।

নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য সাবেক এই সংসদ সদস্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মহামারির কারণে তার মরদেহ দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল এফডিসি বা শহিদ মিনারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কবরীর ছেলে শাকের চিশতী। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছেন আম্মাকে এফডিসিতে নিয়ে যেতে। কিন্তু যেহেতু তিনি করোনাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাই অন্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে নিয়ে যেতে পারিনি। শহিদ মিনারেও নেওয়া সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল থেকে সরাসরি বনানী কবরস্থানে নিয়ে গেছি আমরা।’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১২ট ২০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন দেশবরেণ্য এই অভিনয়শিল্পী। এর আগে ৫ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেদিন রাতেই তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ এপ্রিল শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। কিন্তু তার পরিবার কোথাও আইসিইউ খালি পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুরোধ জানালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ৮ এপ্রিল দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে আইসিইউর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। এরপর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় ১৪ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তার আসল নাম মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণদাস পাল এবং মা লাবণ্য প্রভা পাল। ছোটবেলা থেকে নাচ করতেন তিনি। নৃত্যশিল্পী হিসাবে মঞ্চেও পারফর্ম করেছেন। মাত্র তের বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল তার। চলচ্চিত্রের নাম ‘সুতরাং’। সুভাষ দত্ত পরিচালিত এ চলচ্চিত্রটি ১৯৬৪ সালের ২৪ এপ্রিল মুক্তি পায়। এরপর ‘জলছবি’, ‘বাহানা’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’, ‘আগন্তুক’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সারেং বৌ’, ‘দেবদাস’, ‘হীরামন’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘রংবাজ’, ‘সুজন সখী’সহ আরও অনেক ছবি দিয়ে দীর্ঘ ৫০ বছর দর্শক মাতিয়ে রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান তিনি। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণও করতেন কবরী। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। সর্বশেষ সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘এই তুমি সেই তুমি’ নামে একটি ছবি পরিচালনা করছিলেন। বর্তমানে ছবিটি সম্পাদনার টেবিলে রয়েছে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠেও ছিল কবরীর পদচারণা। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

কিংবদন্তি এ অভিনয়শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, কবরী ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলা চলচ্চিত্রের বিকাশে তার অবদান মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ কবরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমদ শোক জানিয়েছেন।

এছড়া শোক জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন