আমার দেখা সত্যিকার মানুষ কবরী আপা
jugantor
আমার দেখা সত্যিকার মানুষ কবরী আপা

  আলমগীর  

১৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমার দেখা একজন সত্যিকারের মানুষ ছিলেন কবরী আপা। অনেক বড় মনের মানুষ ছিলেন তিনি। নীরবে, গোপনে অনেক মানুষকে সাহায্য করতেন। তার বদমেজাজী মনের কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এটা সত্যি, যিনি আদর করেন তিনিই তো শাসন করার অধিকার রাখেন। সত্যি বলতে কী, কবরী আপার সঙ্গে এত স্মৃতি যা চোখে খুব ভাসছে। ঢাকার বাইরে কোথাও শুটিংয়ে গেলে তিনি সবাইকে আগলে রাখার চেষ্টা করতেন। কে কখন কী করছে, কে কী খেল, কে কোথায় ঘুমাল, সবই তিনি তদারকি করতেন।

আমার প্রথম ছবির নাম ‘আমার জন্মভূমি’। এটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্রে আমার গুরু শ্রদ্ধেয় আলমগীর কুমকুম। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। তবে তার আগে ১৯৭২ সালের ২৪ জুন আমি অভিনয়ের জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই। এ ছবিতে কবরী আপা ছিলেন রাজ্জাক ভাইয়ের নায়িকা, কিন্তু সহশিল্পী হিসাবে আমি তাকে পেয়েছিলাম। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি ‘আমার জন্মভূমি’ মুক্তির আগেই আলমগীর কুমকুমের ‘মমতা’ ছবিতে কাজ শুরু করি। এতে আমার বিপরীতে ছিলেন কবরী আপা। আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে ‘মমতা’ ছবির শুটিংয়ের কথা। শুটিং হয়েছিল চট্টগ্রামে। সিনেমাটোগ্রাফার ছিল আমারই বন্ধু মাহফুজুর রহমান খান।

আমরা আগ্রাবাদ হোটেলে উঠেছিলাম। সেখানে ক্লাবে একটি পার্টি ছিল। সেই পার্টিতে যেতে আমি এবং মাহফুজ প্রস্তুত হয়ে কবরী আপার কাছে যাই। তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, পার্টিতে যাব কী না। আমরা বললাম, ‘হ্যাঁ, রেডি হয়ে এলাম তো।’ তিনি বললেন, ‘এভাবে? এভাবে যাওয়া যাবে না। যান দুটো শার্ট কিনে নিয়ে আসেন, আর বিলের কথা জিজ্ঞেস করলে আমার রুম নাম্বার বলে দিবেন।’ কবরী আপা যেহেতু আমার আগেই এ অঙ্গনে এসেছেন, তাই তাকে আমি বড় বোনের মর্যাদা দিতাম। আমি, কবরী আপা এবং মাহফুজ, আমাদের তিনজনের একটা গ্রুপ ছিল। এটা বলতে দ্বিধা নেই, কবরী আপাই আমাদের শেরাটনে খেতে শিখিয়েছেন। নতুন হিসাবে আমার বা মাহফুজের কতই বা আয় ছিল! তিনিই প্রথম শেরাটনে নিয়ে আমাদের খাওয়ালেন। বয়সে আমরা একদম কাছাকাছিই ছিলাম।

কিন্তু তার পরও সিনিয়র আর্টিস্ট হিসাবে তিনি আমাদের শাসন করতেন, আগলেও রাখতেন। কবরী আপা, কত বড় মাপের শিল্পী তা বলার যোগ্যতা আমার নেই। যেহেতু তার সঙ্গে বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছি, তাই আমার মনে আছে আমার প্রথম ছবি ‘আমার জন্মভূমি’র শুটিং হয়েছিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে। সেখানে আমরা থাকার জন্য দুটো রুম পেয়েছিলাম। আমি এবং মাহফুজুর রহমান রুমের বাইরে ঘুমিয়েছিলাম। পরের দিন কবরী আপা তা জানতে পেরে আমাদের ঘুমানোর জন্য নিজে টাকা দিয়ে চৌকি, তোশক, চাদর কিনে এনে দিয়েছিলেন। এ হলেন কবরী আপা। চলচ্চিত্রে তার মতো প্রাণবন্ত এবং এত বিশাল মনের মানুষ কম দেখেছি। তার সঙ্গে শেষ একটি কাজ করার কথা ছিল তারই পরিচালনায় নির্মিত ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবিতে। কিন্তু করোনার কারণে সেটা আর করা হয়নি। এই করোনাই শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে তাকে কেড়ে নিল।

আজ তিনি নেই। তবে হাজারও স্মৃতির মধ্যে বেঁচে থাকবেন কবরী আপা। মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে পরপারে ভালো রাখুক এ প্রার্থনাই করি।

আমার দেখা সত্যিকার মানুষ কবরী আপা

 আলমগীর 
১৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমার দেখা একজন সত্যিকারের মানুষ ছিলেন কবরী আপা। অনেক বড় মনের মানুষ ছিলেন তিনি। নীরবে, গোপনে অনেক মানুষকে সাহায্য করতেন। তার বদমেজাজী মনের কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এটা সত্যি, যিনি আদর করেন তিনিই তো শাসন করার অধিকার রাখেন। সত্যি বলতে কী, কবরী আপার সঙ্গে এত স্মৃতি যা চোখে খুব ভাসছে। ঢাকার বাইরে কোথাও শুটিংয়ে গেলে তিনি সবাইকে আগলে রাখার চেষ্টা করতেন। কে কখন কী করছে, কে কী খেল, কে কোথায় ঘুমাল, সবই তিনি তদারকি করতেন।

আমার প্রথম ছবির নাম ‘আমার জন্মভূমি’। এটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্রে আমার গুরু শ্রদ্ধেয় আলমগীর কুমকুম। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। তবে তার আগে ১৯৭২ সালের ২৪ জুন আমি অভিনয়ের জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই। এ ছবিতে কবরী আপা ছিলেন রাজ্জাক ভাইয়ের নায়িকা, কিন্তু সহশিল্পী হিসাবে আমি তাকে পেয়েছিলাম। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি ‘আমার জন্মভূমি’ মুক্তির আগেই আলমগীর কুমকুমের ‘মমতা’ ছবিতে কাজ শুরু করি। এতে আমার বিপরীতে ছিলেন কবরী আপা। আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে ‘মমতা’ ছবির শুটিংয়ের কথা। শুটিং হয়েছিল চট্টগ্রামে। সিনেমাটোগ্রাফার ছিল আমারই বন্ধু মাহফুজুর রহমান খান।

আমরা আগ্রাবাদ হোটেলে উঠেছিলাম। সেখানে ক্লাবে একটি পার্টি ছিল। সেই পার্টিতে যেতে আমি এবং মাহফুজ প্রস্তুত হয়ে কবরী আপার কাছে যাই। তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, পার্টিতে যাব কী না। আমরা বললাম, ‘হ্যাঁ, রেডি হয়ে এলাম তো।’ তিনি বললেন, ‘এভাবে? এভাবে যাওয়া যাবে না। যান দুটো শার্ট কিনে নিয়ে আসেন, আর বিলের কথা জিজ্ঞেস করলে আমার রুম নাম্বার বলে দিবেন।’ কবরী আপা যেহেতু আমার আগেই এ অঙ্গনে এসেছেন, তাই তাকে আমি বড় বোনের মর্যাদা দিতাম। আমি, কবরী আপা এবং মাহফুজ, আমাদের তিনজনের একটা গ্রুপ ছিল। এটা বলতে দ্বিধা নেই, কবরী আপাই আমাদের শেরাটনে খেতে শিখিয়েছেন। নতুন হিসাবে আমার বা মাহফুজের কতই বা আয় ছিল! তিনিই প্রথম শেরাটনে নিয়ে আমাদের খাওয়ালেন। বয়সে আমরা একদম কাছাকাছিই ছিলাম।

কিন্তু তার পরও সিনিয়র আর্টিস্ট হিসাবে তিনি আমাদের শাসন করতেন, আগলেও রাখতেন। কবরী আপা, কত বড় মাপের শিল্পী তা বলার যোগ্যতা আমার নেই। যেহেতু তার সঙ্গে বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছি, তাই আমার মনে আছে আমার প্রথম ছবি ‘আমার জন্মভূমি’র শুটিং হয়েছিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে। সেখানে আমরা থাকার জন্য দুটো রুম পেয়েছিলাম। আমি এবং মাহফুজুর রহমান রুমের বাইরে ঘুমিয়েছিলাম। পরের দিন কবরী আপা তা জানতে পেরে আমাদের ঘুমানোর জন্য নিজে টাকা দিয়ে চৌকি, তোশক, চাদর কিনে এনে দিয়েছিলেন। এ হলেন কবরী আপা। চলচ্চিত্রে তার মতো প্রাণবন্ত এবং এত বিশাল মনের মানুষ কম দেখেছি। তার সঙ্গে শেষ একটি কাজ করার কথা ছিল তারই পরিচালনায় নির্মিত ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবিতে। কিন্তু করোনার কারণে সেটা আর করা হয়নি। এই করোনাই শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে তাকে কেড়ে নিল।

আজ তিনি নেই। তবে হাজারও স্মৃতির মধ্যে বেঁচে থাকবেন কবরী আপা। মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে পরপারে ভালো রাখুক এ প্রার্থনাই করি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন