করোনায় টানা দ্বিতীয় দিনে শতাধিক মৃত্যু
jugantor
২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩৪৭৩
করোনায় টানা দ্বিতীয় দিনে শতাধিক মৃত্যু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনায় মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। এক বছর আগে করোনা শনাক্তের পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শতাধিক মৃত্যু দেখল দেশ। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১ জন মারা গেছেন। শুক্রবারও সমানসংখ্যক মানুষ মারা যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার ৯৪ ও বুধবার ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এপ্রিলের শুরু থেকে মৃত্যু কখনো অর্ধশতের নিচে নামেনি। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৮৩ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা না হলে ভবিষ্যতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে মৃত্যুর মিছিল বাড়লেও একদিনে করোনা শনাক্ত কিছুটা কমেছে। যদিও আগের চেয়ে নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৭৩ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ২৫২ জন। একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৯০৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ আট হাজার ৮১৫ জন। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় হাসপাতালে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। কয়েক হাসপাতাল ঘুরেও কেউ শয্যা পাচ্ছেন না। আর আইসিইউ শয্যা পাওয়া যেন সোনার হরিণ। শয্যা না থাকার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব রোগীর জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দায়। শুধু শয্যা নয়, হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকটও তীব্র। আর নমুনা পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রেও তীব্র ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ছুটির দিনেও পরীক্ষা করাতে ভিড় ছিল হাসপাতালগুলোতে। কয়েকটি হাসপাতালে অনলাইনে সিরিয়াল নেওয়ায় এ ভোগান্তি বেড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন করেও কেউ সিরিয়াল পাচ্ছেন না। আবার অনেকে সিরিয়াল পেয়ে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও পরীক্ষা করাতে পারছেন না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১২১টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ১০২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ২৫৭টি ল্যাবে ১৬ হাজার ১৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৩টি নমুনা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭১০টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৩টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একদিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ আর নারী ৩২ জন। তাদের ৯৯ জন হাসপাতালে এবং দুজন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৫৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, আটজনের ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিনজনের ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং তিনজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ৬৭ জন ঢাকা বিভাগের, ২৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, তিনজন করে ছয়জন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের, একজন বরিশাল বিভাগের এবং দুজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০ হাজার ২৮৩ জনের মধ্যে সাত হাজার ৬৩৫ জনই পুরুষ এবং দুই হাজার ৬৪৮ জন নারী।

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩৪৭৩

করোনায় টানা দ্বিতীয় দিনে শতাধিক মৃত্যু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনায় মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। এক বছর আগে করোনা শনাক্তের পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শতাধিক মৃত্যু দেখল দেশ। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১ জন মারা গেছেন। শুক্রবারও সমানসংখ্যক মানুষ মারা যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার ৯৪ ও বুধবার ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এপ্রিলের শুরু থেকে মৃত্যু কখনো অর্ধশতের নিচে নামেনি। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৮৩ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা না হলে ভবিষ্যতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে মৃত্যুর মিছিল বাড়লেও একদিনে করোনা শনাক্ত কিছুটা কমেছে। যদিও আগের চেয়ে নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৭৩ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ২৫২ জন। একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৯০৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ আট হাজার ৮১৫ জন। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় হাসপাতালে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। কয়েক হাসপাতাল ঘুরেও কেউ শয্যা পাচ্ছেন না। আর আইসিইউ শয্যা পাওয়া যেন সোনার হরিণ। শয্যা না থাকার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব রোগীর জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দায়। শুধু শয্যা নয়, হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকটও তীব্র। আর নমুনা পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রেও তীব্র ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ছুটির দিনেও পরীক্ষা করাতে ভিড় ছিল হাসপাতালগুলোতে। কয়েকটি হাসপাতালে অনলাইনে সিরিয়াল নেওয়ায় এ ভোগান্তি বেড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন করেও কেউ সিরিয়াল পাচ্ছেন না। আবার অনেকে সিরিয়াল পেয়ে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও পরীক্ষা করাতে পারছেন না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১২১টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ১০২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ২৫৭টি ল্যাবে ১৬ হাজার ১৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৩টি নমুনা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭১০টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৩টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একদিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ আর নারী ৩২ জন। তাদের ৯৯ জন হাসপাতালে এবং দুজন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৫৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, আটজনের ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিনজনের ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং তিনজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ৬৭ জন ঢাকা বিভাগের, ২৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, তিনজন করে ছয়জন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের, একজন বরিশাল বিভাগের এবং দুজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০ হাজার ২৮৩ জনের মধ্যে সাত হাজার ৬৩৫ জনই পুরুষ এবং দুই হাজার ৬৪৮ জন নারী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন