নানা ছুতোয় বাইরে মানুষ বেড়েছে যান চলাচল
jugantor
‘সর্বাত্মক লকডাউন’র চতুর্থ দিন
নানা ছুতোয় বাইরে মানুষ বেড়েছে যান চলাচল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’র চতুর্থ দিনে শনিবার রাজধানীসহ সারা দেশে মানুষের চলাচল বেড়েছে। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেলের চলাচল গত তিন দিনের তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকায় প্রবেশ ও বহিরাগমন পথে পুলিশের সতর্ক অবস্থা দেখা গেলেও ঢাকার ভেতর কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নমনীয়তার সুযোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি সেবার আওতামুক্ত অনেক দোকানপাট খুলতে দেখা গেছে। তবে দোকানদারদের চোখে-মুখে কিছুটা ভীতির ছাপ ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান বন্ধ থাকলেও দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিল ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করব কিভাবে। বাধ্য হয়ে খুলছি ভাই। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে সতর্কও করেছেন।

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ এলাকার মহল্লা, মার্কেট ও প্রধান সড়কের কিছু কিছু দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার চিত্রও কমবেশি একই ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

মহাখালী, তেজগাঁও, কাওরানবাজার, শাহবাগ, রমনা, নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে গতকাল পুলিশের কোনো চেকপোস্ট দেখা যায়নি। সকাল ৭টায় বাড্ডার গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হন চালক মজনু মিয়া। দুপুর একটার দিকে তিনি যাত্রী নিয়ে কাওরানবাজারে যান। বলেন, এ বিধিনিষেধের মধ্যে রিকশা চালানো বন্ধ করা হয়নি। লকডাউনের প্রথম তিনদিনও বাড্ডার ভেতরের গলি-সড়কে রিকশা চলেছে। তিনি বলেন, রিকশা চলাচল বন্ধ রাখলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আর এ সময়ে কেউ সহযোগিতাও দেয় না। বাধ্য হয়ে রিকশা চালাচ্ছি। যেসব অফিস খোলা রয়েছে, বেশির ভাগ অফিসের সাধারণ কর্মীদের জন্য পরিবহণ সুবিধা নেই। এসব কর্মজীবী মানুষ পায়ে হেঁটে, রিকশা, অটোরিকশায় চলাচল করছে।

তবে ঢাকার প্রধান সড়ক অনেকটা ফাঁকা থাকলেও অলিগলিতে মানুষের ভিড় ছিল বেশি। মোড়ে মোড়ে বসেছে কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের অস্থায়ী দোকান। শনিবার মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পাইকপাড়া, ৬০ ফিট এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।

রাজধানীর সর্বত্রই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে যার যার মতো চলাফেরা করতে দেখা গেছে। মুখে ছিল না মাস্ক ও বালাই ছিল না সামাজিক দূরত্বের। অলিগলিতে জটলা পাকিয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এদের কয়েকজন জানান, সারা দিন বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগে না। তাই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বের হয়েছি। এখন কলেজও বন্ধ। পড়াশোনার চাপ নেই। বিকাল পর্যন্ত সবাই একসঙ্গে ঘুরব। সন্ধ্যায় ইফতারির সময় বাসায় ফিরব। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কাঁচাবাজারে জিনিসপত্র বিক্রির নির্দেশনা আছে। এ সময় কিছু মানুষের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। তবু যেন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত না হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ সচেতন রয়েছে। মাইকিংসহ পুলিশ টহল দিচ্ছে। ঢাকার ব্যবস্ততম মতিঝিল ছিল গতকাল জনশূন্য। প্রায় এক ঘণ্টা মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, পুরো এলাকাই জনমানবশূন্য। ছিল না গণপরিবহণ, সেভাবে ছিল না ব্যক্তিগত গাড়িও। পিচঢালা পথে চলছিল গুটিকয়েক রিকশা। দোকানপাট সবই ছিল বন্ধ। কিছু খাবারের দোকান খোলা ছিল, শুধু পার্সেল সরবরাহ করা হয়েছে। মতিঝিলের বিভিন্ন মোড়ে কয়েকটি রিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। কথা হয় রিকশাচালক শামীম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, মেইন রোডে এখন গাড়ি চলে না। তাই সবাই রিকশায় চলাচল করছে। পুরো মতিঝিল এলাকায় শুধু বিমান অফিসের সামনে ভিড় ছিল। সেখানে বিমানের টিকিটের জন্য অপেক্ষায় ছিল হাজারো মানুষ।

সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিটের জন গতকাল কাওরানবাজার সড়ক অবরোধ করেন সৌদি প্রবাসী কর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ অবরোধ চলে। আশপাশের সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি প্রবাসীদের অভিযোগ, তারা লকডাউনের আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। কিন্তু এখন লকডাউনের কারণে নির্ধারিত সময়ে ফিরতে পারছেন না। এর মধ্যে অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

‘সর্বাত্মক লকডাউন’র চতুর্থ দিন

নানা ছুতোয় বাইরে মানুষ বেড়েছে যান চলাচল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’র চতুর্থ দিনে শনিবার রাজধানীসহ সারা দেশে মানুষের চলাচল বেড়েছে। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেলের চলাচল গত তিন দিনের তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকায় প্রবেশ ও বহিরাগমন পথে পুলিশের সতর্ক অবস্থা দেখা গেলেও ঢাকার ভেতর কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নমনীয়তার সুযোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি সেবার আওতামুক্ত অনেক দোকানপাট খুলতে দেখা গেছে। তবে দোকানদারদের চোখে-মুখে কিছুটা ভীতির ছাপ ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান বন্ধ থাকলেও দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিল ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করব কিভাবে। বাধ্য হয়ে খুলছি ভাই। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে সতর্কও করেছেন।

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ এলাকার মহল্লা, মার্কেট ও প্রধান সড়কের কিছু কিছু দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার চিত্রও কমবেশি একই ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

মহাখালী, তেজগাঁও, কাওরানবাজার, শাহবাগ, রমনা, নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে গতকাল পুলিশের কোনো চেকপোস্ট দেখা যায়নি। সকাল ৭টায় বাড্ডার গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হন চালক মজনু মিয়া। দুপুর একটার দিকে তিনি যাত্রী নিয়ে কাওরানবাজারে যান। বলেন, এ বিধিনিষেধের মধ্যে রিকশা চালানো বন্ধ করা হয়নি। লকডাউনের প্রথম তিনদিনও বাড্ডার ভেতরের গলি-সড়কে রিকশা চলেছে। তিনি বলেন, রিকশা চলাচল বন্ধ রাখলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আর এ সময়ে কেউ সহযোগিতাও দেয় না। বাধ্য হয়ে রিকশা চালাচ্ছি। যেসব অফিস খোলা রয়েছে, বেশির ভাগ অফিসের সাধারণ কর্মীদের জন্য পরিবহণ সুবিধা নেই। এসব কর্মজীবী মানুষ পায়ে হেঁটে, রিকশা, অটোরিকশায় চলাচল করছে।

তবে ঢাকার প্রধান সড়ক অনেকটা ফাঁকা থাকলেও অলিগলিতে মানুষের ভিড় ছিল বেশি। মোড়ে মোড়ে বসেছে কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের অস্থায়ী দোকান। শনিবার মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পাইকপাড়া, ৬০ ফিট এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।

রাজধানীর সর্বত্রই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে যার যার মতো চলাফেরা করতে দেখা গেছে। মুখে ছিল না মাস্ক ও বালাই ছিল না সামাজিক দূরত্বের। অলিগলিতে জটলা পাকিয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এদের কয়েকজন জানান, সারা দিন বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগে না। তাই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বের হয়েছি। এখন কলেজও বন্ধ। পড়াশোনার চাপ নেই। বিকাল পর্যন্ত সবাই একসঙ্গে ঘুরব। সন্ধ্যায় ইফতারির সময় বাসায় ফিরব। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কাঁচাবাজারে জিনিসপত্র বিক্রির নির্দেশনা আছে। এ সময় কিছু মানুষের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। তবু যেন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত না হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ সচেতন রয়েছে। মাইকিংসহ পুলিশ টহল দিচ্ছে। ঢাকার ব্যবস্ততম মতিঝিল ছিল গতকাল জনশূন্য। প্রায় এক ঘণ্টা মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, পুরো এলাকাই জনমানবশূন্য। ছিল না গণপরিবহণ, সেভাবে ছিল না ব্যক্তিগত গাড়িও। পিচঢালা পথে চলছিল গুটিকয়েক রিকশা। দোকানপাট সবই ছিল বন্ধ। কিছু খাবারের দোকান খোলা ছিল, শুধু পার্সেল সরবরাহ করা হয়েছে। মতিঝিলের বিভিন্ন মোড়ে কয়েকটি রিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। কথা হয় রিকশাচালক শামীম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, মেইন রোডে এখন গাড়ি চলে না। তাই সবাই রিকশায় চলাচল করছে। পুরো মতিঝিল এলাকায় শুধু বিমান অফিসের সামনে ভিড় ছিল। সেখানে বিমানের টিকিটের জন্য অপেক্ষায় ছিল হাজারো মানুষ।

সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিটের জন গতকাল কাওরানবাজার সড়ক অবরোধ করেন সৌদি প্রবাসী কর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ অবরোধ চলে। আশপাশের সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি প্রবাসীদের অভিযোগ, তারা লকডাউনের আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। কিন্তু এখন লকডাউনের কারণে নির্ধারিত সময়ে ফিরতে পারছেন না। এর মধ্যে অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন