করোনার প্রভাবে এক বছরে কর্মহীন দেড় কোটি মানুষ
jugantor
করোনার প্রভাবে এক বছরে কর্মহীন দেড় কোটি মানুষ
প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানে গুরুত্বারোপ

  মিজান চৌধুরী  

১৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি একটি বিনোদন পার্কে (প্লে-পার্ক) চাকরি করতেন মাহফুজুর রহমান। করোনায় এটি বন্ধ হয়ে গেলে তার চাকরি চলে যায়। পুরোনো ঢাকার বাসিন্দা মাহফুজ পরে আর ওই প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারেননি।

মাহফুজের মতো সারা দেশে (প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের) ১ কোটি ৪৪ লাখ কর্মী কাজ হারিয়েছেন অর্থাৎ এখনও কাজে ফিরতে পারেননি। করোনায় কর্মহীন জনগোষ্ঠী নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ৮ দিনের দ্বিতীয় দফার ‘কঠোর লকডাউন’। ফলে অনেকে নতুন করে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। এতে বেকারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

করোনায় কর্মহীন জনগোষ্ঠী নিয়ে গবেষণা করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত। তার গবেষণায় দেখানো হয়- দেশে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে ৬ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার মানুষ কর্মে নিয়োজিত ছিলেন।

শুধু লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়েছেন ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৭১ জন। অর্থাৎ মোট কর্মগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ মানুষই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেকার হয়েছে সেবা খাতে।

এ প্রসঙ্গে ড. আবুল বারকাত যুগান্তরকে জানান, কাজ হারানো মানুষের মধ্যে ৪০ শতাংশ সামনে কোনো কাজ ফিরে পাবে না। তাদের জন্য তিনি সরকারের কাছে বেকারদের ভাতা চালুর সুপারিশ করেছেন।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সাময়িক ভাতা দেওয়ার চেয়ে শ্রেয় হবে তাদের কাজ দেওয়া। এ ব্যাপারে সরকারকে ভাবতে হবে। এই অর্থনীতিবিদের মতে, করোনার প্রভাবে আগামীতে কর্মসংস্থানের প্যাটার্নও পালটে যাবে।

যেখানে গুরুত্ব বাড়বে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের। সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।

বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, করোনার প্রভাব দীর্ঘদিন হওয়ায় গরিব মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। অনেকে বেকার হয়ে নতুন করে কাজে ফিরতে পারছেন না।

এরই মধ্যে আরও বড় আকারে ধাক্কা দিয়েছে করোনার প্রভাব। সরকারকে এখন বেকার ও দরিদ্র মানুষের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। আগামী বাজেটে বেকারদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি রাখার সুপারিশ করেন এ অর্থনীতিবিদ।

আবুল বারকাতের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় কৃষি খাতে কাজ হারিয়েছেন ১ কোটি ১৪ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ পুনরায় কাজে ফিরতে পারেননি। এছাড়া শিল্প খাতে প্রায় ৯৩ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

যার ৩৭ লাখ শ্রমিকের তাদের কাজ হারানোর শিল্পে ফেরার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সেবা খাতে ১ কোটি ৫৩ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এদের মধ্যে ৬১ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। নতুন করে আগের কাজে ফিরতে পারেননি।

ওই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, কাজে ফিরতে না পারা এসব মানুষ দরিদ্রতার শিকার হচ্ছেন। বেঁচে থাকার তাগিদে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অর্থনীতিতে এক ধরনের দুষ্টচক্র সৃষ্টি হবে।

যেখানে একজনের স্বল্প ব্যয়ের কারণে অন্যের আয় হবে স্বল্প। এটি মানুষের জীবন-জীবিকা উভয়কে অনিশ্চিত করবে। এর ফলে সঞ্চয় হবে না, হলেও হবে অতি স্বল্প।

এতে সৃষ্টি হবে বিনিয়োগহীন পরিবেশ অথবা বিনিয়োগ হবে অতি স্বল্প। এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারও কমে আসবে।

এর মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এক পর্যবেক্ষণে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, চলমান করোনায় নতুন করে কর্মহীন হয়ে পড়বে প্রায় চার কোটি মানুষ।

তৈরি পোশাক, রেস্তোরাঁ ও শিল্পকারখানা চালু রাখার সুযোগ থাকলেও নির্মাণ, পরিবহণ, পোলট্রিসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত অসংখ্য মানুষের জীবিকা পড়ছে সংকটে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের হিসাবে সারা দেশে পরিবহণ শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। কঠোর লকডাউনে সব ধরনের গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে।

এর আগে এক সপ্তাহের শিথিল লকডাউনেও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে এরই মধ্যে কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছেন এ খাতের কয়েক লাখ কর্মী। পরিবহণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ খাতের শ্রমিকরা সবাই দিনভিত্তিক মজুরি পান।

লকডাউনের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক নিু আয়ের মানুষ কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় এরই মধ্যে ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন। মানিকনগরের সিএনজিচালক বিমল মাঝি (৩৪) বাড়ি ফিরে গেছেন।

যাওয়ার আগে শনিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ঢাকাতে কর্মহীন থাকলে খরচ বেশি। লকডাউনের সময় যাত্রীও পাওয়া যায় না, অন্যদিকে খাবারের দামও বেশি। তাই এবার ঘর ছেড়ে দিয়ে আপাতত বাড়ি ফরিদপুরে ফিরে যাচ্ছি।’

রাজধানীর আরকে মিশন রোডের টিউলিপ ভবনে কাজ করতেন শাহিদা বেগম (৩২)। বুধবার তাকে চলতি মাসের বেতন দিয়ে একেবারে বিদায় করে দিয়েছেন তার গৃহকর্তা। তিনি যুগান্তরকে জানান, এ টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে বাড়ি চলে যাবেন।

এবারও লকডাউন দীর্ঘ হলে সাধারণ মানুষ বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কোভিড-১৯ ধাক্কায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এখন আগামীতে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হবে কর্মসংস্থানকে। এমন কিছু পদক্ষেপ থাকবে যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকনির্দেশনা থাকবে।

বেকার সমস্যা ও কর্মসংস্থান প্রধান চ্যালেঞ্জ এটি অর্থমন্ত্রীর একটি বক্তব্য থেকে বেরিয়ে আসছে। সম্প্রতি এডিবির প্রেসিডেন্টকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, অর্থনীতির অবস্থা ভালো ছিল।

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। কিন্তু করোনার কারণে প্রবৃদ্ধি কমিয়ে আনা হয় ৫ দশমিক ২ শতাংশে। তিনি আরও বলেন, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমেছে।

এতে বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ মহামারি দেশের শিল্প ও সেবা খাতের সরবরাহ এবং উৎপাদন পরিস্থিতিকে আঘাত করেছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

অনেকে কর্মচ্যুত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত দশকের তুলনায় এবার দারিদ্র্য বিমোচনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করোনার প্রভাবে এক বছরে কর্মহীন দেড় কোটি মানুষ

প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানে গুরুত্বারোপ
 মিজান চৌধুরী 
১৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি একটি বিনোদন পার্কে (প্লে-পার্ক) চাকরি করতেন মাহফুজুর রহমান। করোনায় এটি বন্ধ হয়ে গেলে তার চাকরি চলে যায়। পুরোনো ঢাকার বাসিন্দা মাহফুজ পরে আর ওই প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারেননি।

মাহফুজের মতো সারা দেশে (প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের) ১ কোটি ৪৪ লাখ কর্মী কাজ হারিয়েছেন অর্থাৎ এখনও কাজে ফিরতে পারেননি। করোনায় কর্মহীন জনগোষ্ঠী নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। 

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ৮ দিনের দ্বিতীয় দফার ‘কঠোর লকডাউন’। ফলে অনেকে নতুন করে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। এতে বেকারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। 

করোনায় কর্মহীন জনগোষ্ঠী নিয়ে গবেষণা করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত। তার গবেষণায় দেখানো হয়- দেশে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে ৬ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার মানুষ কর্মে নিয়োজিত ছিলেন।

শুধু লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়েছেন ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৭১ জন। অর্থাৎ মোট কর্মগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ মানুষই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেকার হয়েছে সেবা খাতে।

এ প্রসঙ্গে ড. আবুল বারকাত যুগান্তরকে জানান, কাজ হারানো মানুষের মধ্যে ৪০ শতাংশ সামনে কোনো কাজ ফিরে পাবে না। তাদের জন্য তিনি সরকারের কাছে বেকারদের ভাতা চালুর সুপারিশ করেছেন।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সাময়িক ভাতা দেওয়ার চেয়ে শ্রেয় হবে তাদের কাজ দেওয়া। এ ব্যাপারে সরকারকে ভাবতে হবে। এই অর্থনীতিবিদের মতে, করোনার প্রভাবে আগামীতে কর্মসংস্থানের প্যাটার্নও পালটে যাবে।

যেখানে গুরুত্ব বাড়বে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের। সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।

বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, করোনার প্রভাব দীর্ঘদিন হওয়ায় গরিব মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। অনেকে বেকার হয়ে নতুন করে কাজে ফিরতে পারছেন না।

এরই মধ্যে আরও বড় আকারে ধাক্কা দিয়েছে করোনার প্রভাব। সরকারকে এখন বেকার ও দরিদ্র মানুষের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। আগামী বাজেটে বেকারদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি রাখার সুপারিশ করেন এ অর্থনীতিবিদ।

আবুল বারকাতের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় কৃষি খাতে কাজ হারিয়েছেন ১ কোটি ১৪ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ পুনরায় কাজে ফিরতে পারেননি। এছাড়া শিল্প খাতে প্রায় ৯৩ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

যার ৩৭ লাখ শ্রমিকের তাদের কাজ হারানোর শিল্পে ফেরার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সেবা খাতে ১ কোটি ৫৩ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এদের মধ্যে ৬১ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। নতুন করে আগের কাজে ফিরতে পারেননি।

ওই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, কাজে ফিরতে না পারা এসব মানুষ দরিদ্রতার শিকার হচ্ছেন। বেঁচে থাকার তাগিদে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অর্থনীতিতে এক ধরনের দুষ্টচক্র সৃষ্টি হবে।

যেখানে একজনের স্বল্প ব্যয়ের কারণে অন্যের আয় হবে স্বল্প। এটি মানুষের জীবন-জীবিকা উভয়কে অনিশ্চিত করবে। এর ফলে সঞ্চয় হবে না, হলেও হবে অতি স্বল্প।

এতে সৃষ্টি হবে বিনিয়োগহীন পরিবেশ অথবা বিনিয়োগ হবে অতি স্বল্প। এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারও কমে আসবে। 

এর মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এক পর্যবেক্ষণে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, চলমান করোনায় নতুন করে কর্মহীন হয়ে পড়বে প্রায় চার কোটি মানুষ।

তৈরি পোশাক, রেস্তোরাঁ ও শিল্পকারখানা চালু রাখার সুযোগ থাকলেও নির্মাণ, পরিবহণ, পোলট্রিসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত অসংখ্য মানুষের জীবিকা পড়ছে সংকটে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের হিসাবে সারা দেশে পরিবহণ শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। কঠোর লকডাউনে সব ধরনের গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে।

এর আগে এক সপ্তাহের শিথিল লকডাউনেও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে এরই মধ্যে কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছেন এ খাতের কয়েক লাখ কর্মী। পরিবহণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ খাতের শ্রমিকরা সবাই দিনভিত্তিক মজুরি পান।

লকডাউনের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক নিু আয়ের মানুষ কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় এরই মধ্যে ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন। মানিকনগরের সিএনজিচালক বিমল মাঝি (৩৪) বাড়ি ফিরে গেছেন।

যাওয়ার আগে শনিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ঢাকাতে কর্মহীন থাকলে খরচ বেশি। লকডাউনের সময় যাত্রীও পাওয়া যায় না, অন্যদিকে খাবারের দামও বেশি। তাই এবার ঘর ছেড়ে দিয়ে আপাতত বাড়ি ফরিদপুরে ফিরে যাচ্ছি।’

রাজধানীর আরকে মিশন রোডের টিউলিপ ভবনে কাজ করতেন শাহিদা বেগম (৩২)। বুধবার তাকে চলতি মাসের বেতন দিয়ে একেবারে বিদায় করে দিয়েছেন তার গৃহকর্তা। তিনি যুগান্তরকে জানান, এ টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে বাড়ি চলে যাবেন।

এবারও লকডাউন দীর্ঘ হলে সাধারণ মানুষ বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কোভিড-১৯ ধাক্কায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এখন আগামীতে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হবে কর্মসংস্থানকে। এমন কিছু পদক্ষেপ থাকবে যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকনির্দেশনা থাকবে।

বেকার সমস্যা ও কর্মসংস্থান প্রধান চ্যালেঞ্জ এটি অর্থমন্ত্রীর একটি বক্তব্য থেকে বেরিয়ে আসছে। সম্প্রতি এডিবির প্রেসিডেন্টকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, অর্থনীতির অবস্থা ভালো ছিল।

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। কিন্তু করোনার কারণে প্রবৃদ্ধি কমিয়ে আনা হয় ৫ দশমিক ২ শতাংশে। তিনি আরও বলেন, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমেছে।

এতে বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ মহামারি দেশের শিল্প ও সেবা খাতের সরবরাহ এবং উৎপাদন পরিস্থিতিকে আঘাত করেছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

অনেকে কর্মচ্যুত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত দশকের তুলনায় এবার দারিদ্র্য বিমোচনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস