প্রণোদনার অর্ধেক অনুদানে রূপান্তর চান ব্যবসায়ীরা
jugantor
বাজেটবিষয়ক পরামর্শক সভা
প্রণোদনার অর্ধেক অনুদানে রূপান্তর চান ব্যবসায়ীরা
ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো মানে দেশকে শক্তিশালী করা, এতে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান বাড়বে -অর্থমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার ধাক্কা মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া প্রণোদনার ঋণের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক অনুদান হিসাবে রূপান্তরের ঘোষণা দাবি করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

তারা বলেছেন, করোনার ধাক্কা যদি আরও তিন মাস চলে তবে দেশের সব উদ্যোক্তা আরও বড় বিপাকে পড়বেন। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও আগাম ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বার্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাজেট সংক্রান্ত পরামর্শক সভায় ব্যবসায়ীরা এসব প্রস্তাব করেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। কেউ অযৌক্তিক প্রস্তাব দেননি। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে। ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো দরকার। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো মানে দেশকে শক্তিশালী করা। এটা দেশের স্বার্থে করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিলে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে।

বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া বাংলাদেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি দেশকে উজাড় করে দেন, তাহলে ঠকবেন না। এই দেশকে ২০৩০ সালের মধ্যেই ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।’

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এতে বক্তব্য দেন এফবিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রথম সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুব আলম, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, উত্তরা মোটর্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, ই-ক্যাবের এসএম সালাহউদ্দিন, বাংলাদেশ ফার্নিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেলিম এইচ রহমান প্রমুখ।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, করোনার ধাক্কা যদি আরেক প্রান্তিক অব্যাহত থাকে, তাহলে এ দেশের ছোট-বড় শিল্পমালিকরা আরও বড় বিপাকে পড়তে পারেন। করোনার ধাক্কা সামাল দিতে বড় শিল্পমালিকদের দেওয়া প্রণোদনার ঋণের মধ্যে ৫০ শতাংশ অনুদানে রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়ার দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণের ৫০ শতাংশ এবং কৃষিখাতে দেওয়া প্রণোদনার ঋণের ৫০ শতাংশ অনুদান হিসাবে রূপান্তর করার ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আরও বলেন, আগামী দুবছরের মধ্যে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ও আগাম ভ্যাট প্রত্যাহার করা জরুরি। করোনার সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে।

এই সময়ে অগ্রিম আয়কর ও আগাম ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়বে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করপোরেট কর কমানোর সুপারিশ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

উল্লেখ্য, গত বছর করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার জন্য ২৩টি প্যাকেজে মোট এক লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এ অর্থের সিংহভাগই ঋণ হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান আগামী পাঁচ বছর রপ্তানি খাতে উৎসে কর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করে বলেন, বর্তমানে এ খাতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। এ ছাড়া পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী বলেন, আগামী বাজেটে মুড়ির ভ্যাট মওকুফ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে মুড়ির ওপর ভ্যাট দিতে হচ্ছে। করোনার সময়ে মুড়ির ওপর ভ্যাট শুনতেও খারাপ লাগে। র-সুগার আমদানিতে এখন প্রতি কেজিতে ২৭ টাকা ব্যয় করতে হয়। এটি কমানো জরুরি। এ ছাড়া করপোরেট কর কমানোরও দাবি জানান তিনি।

ই-কমার্স খাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির দাবি জানিয়ে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, উদীয়মান এই খাতের বিকাশে ভ্যাট প্রত্যাহার করা অত্যন্ত জরুরি।

এ ছাড়া ডিজিটাল লেনদেন ভ্যাটমুক্ত, সাইবার সিকিউরিটির ডিভাইস ও সফটওয়্যার আমদানি শুল্ক ন্যূনতম পর্যায়ে আনার দাবি করেন। পাশাপাশি আইটি খাতের সফটওয়্যার রপ্তানি বাড়াতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছে বেসিস।

বাজেটবিষয়ক পরামর্শক সভা

প্রণোদনার অর্ধেক অনুদানে রূপান্তর চান ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো মানে দেশকে শক্তিশালী করা, এতে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান বাড়বে -অর্থমন্ত্রী
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার ধাক্কা মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া প্রণোদনার ঋণের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক অনুদান হিসাবে রূপান্তরের ঘোষণা দাবি করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

তারা বলেছেন, করোনার ধাক্কা যদি আরও তিন মাস চলে তবে দেশের সব উদ্যোক্তা আরও বড় বিপাকে পড়বেন। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও আগাম ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বার্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাজেট সংক্রান্ত পরামর্শক সভায় ব্যবসায়ীরা এসব প্রস্তাব করেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। কেউ অযৌক্তিক প্রস্তাব দেননি। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে। ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো দরকার। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো মানে দেশকে শক্তিশালী করা। এটা দেশের স্বার্থে করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিলে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে।

বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া বাংলাদেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি দেশকে উজাড় করে দেন, তাহলে ঠকবেন না। এই দেশকে ২০৩০ সালের মধ্যেই ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।’

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এতে বক্তব্য দেন এফবিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রথম সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুব আলম, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, উত্তরা মোটর্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, ই-ক্যাবের এসএম সালাহউদ্দিন, বাংলাদেশ ফার্নিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেলিম এইচ রহমান প্রমুখ।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, করোনার ধাক্কা যদি আরেক প্রান্তিক অব্যাহত থাকে, তাহলে এ দেশের ছোট-বড় শিল্পমালিকরা আরও বড় বিপাকে পড়তে পারেন। করোনার ধাক্কা সামাল দিতে বড় শিল্পমালিকদের দেওয়া প্রণোদনার ঋণের মধ্যে ৫০ শতাংশ অনুদানে রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়ার দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণের ৫০ শতাংশ এবং কৃষিখাতে দেওয়া প্রণোদনার ঋণের ৫০ শতাংশ অনুদান হিসাবে রূপান্তর করার ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আরও বলেন, আগামী দুবছরের মধ্যে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ও আগাম ভ্যাট প্রত্যাহার করা জরুরি। করোনার সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে।

এই সময়ে অগ্রিম আয়কর ও আগাম ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়বে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করপোরেট কর কমানোর সুপারিশ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

উল্লেখ্য, গত বছর করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার জন্য ২৩টি প্যাকেজে মোট এক লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এ অর্থের সিংহভাগই ঋণ হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান আগামী পাঁচ বছর রপ্তানি খাতে উৎসে কর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করে বলেন, বর্তমানে এ খাতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। এ ছাড়া পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী বলেন, আগামী বাজেটে মুড়ির ভ্যাট মওকুফ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে মুড়ির ওপর ভ্যাট দিতে হচ্ছে। করোনার সময়ে মুড়ির ওপর ভ্যাট শুনতেও খারাপ লাগে। র-সুগার আমদানিতে এখন প্রতি কেজিতে ২৭ টাকা ব্যয় করতে হয়। এটি কমানো জরুরি। এ ছাড়া করপোরেট কর কমানোরও দাবি জানান তিনি।

ই-কমার্স খাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির দাবি জানিয়ে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, উদীয়মান এই খাতের বিকাশে ভ্যাট প্রত্যাহার করা অত্যন্ত জরুরি।

এ ছাড়া ডিজিটাল লেনদেন ভ্যাটমুক্ত, সাইবার সিকিউরিটির ডিভাইস ও সফটওয়্যার আমদানি শুল্ক ন্যূনতম পর্যায়ে আনার দাবি করেন। পাশাপাশি আইটি খাতের সফটওয়্যার রপ্তানি বাড়াতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছে বেসিস।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস