রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট
jugantor
ঢিলেঢালা ‘লকডাউন’
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে চলমান ‘লকডাউন’ ঢিলেঢালা ভাবে চলছে। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য মহানগর ও শহরে পুলিশের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। অধিকাংশ চেকপোস্টে পুলিশের উপস্থিতি ছিল না। তবে কোথাও কোথাও ট্রাফিক পুলিশকে রুটিন দায়িত্বপালন করতে দেখা গেছে। এ সুযোগে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের আধিক্য ছিল নগরজুড়ে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়।

শুধু মহানগর নয়, আন্তঃজেলা সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল বেড়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন চেকপোস্টে থাকা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শত শত মানুষ পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় উপস্থিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া তিন নম্বর ঘাট এলাকায় বেশ কিছু ছোট গাড়ি ও লাশবাহী গাড়িকে পারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘লকডাউন’ পরিস্থিতিতে সকাল হলেই পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ছোট গাড়ির চাপ বাড়ে। এখন প্রশ্ন, গাড়িগুলো কীভাবে মহাসড়ক পার হয়ে ঘাটে আসছে? সকাল থেকে তিন চারটি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি নৌপথ পারের অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু নৌপথ পার হতে আসা যাত্রীদের চাপে পার করতে পারিনি ওই জরুরি সেবার যানবাহনগুলো। গাড়িগুলোকে ফেরিতে ওঠানোর আগেই পার হওয়ায় অপেক্ষায় থাকা মানুষজন হুমড়ি খেয়ে ফেরিতে উঠে পড়ে। এতে জরুরি সেবার কাজে নিয়োজিত যানবাহন পরিবহণে ফেরি কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ বাসস্ট্যান্ডে শত শত মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত রিকশা যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এসব যানবাহন ব্যবহার করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে- মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, গুলশান, নতুন বাজার, প্রগতি সরণি এলাকায়। বিকাল ৪টায় প্রগতি সরণি সড়কে দীর্ঘ যানজট লক্ষ্য করা গেছে।

পল্টন মোড়ে মো. আবু নাছের বলেন, ভাই এটার নাম ‘লকডাউন’? সড়কে দেখেন এত গাড়ি, নির্বিঘ্নে চলছে। পুলিশের কোনো বাধা নেই। গুলশান এলাকার বাসিন্দা হায়দার মুর্তজা বলেন, এসব ‘লকডাউন’র কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা না করে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। কষ্টে পড়ে মানুষগুলো সড়কে নামছে। তাই পুলিশ কিছুই করতে পারছে না।

সরেজমিন মিরপুরে দেখা যায়, কারণে-অকারণে মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়েছেন। কোথাও কোথাও সড়কের চিত্র দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ‘লকডাউন’ চলছে। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস থামিয়ে ভেতরে থাকা লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশ সদস্যরা। সন্তোষজনক কারণ বলতে না পারলে সেইসব যানবাহন ফিরিয়েও দেওয়া হচ্ছে।

শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী, দোলাইরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপও দেখা গেছে। মানুষ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশায় যাতায়াত করছেন। যাত্রাবাড়ীর মূল সড়কে যানজট দেখা গেছে। পুরো সড়কজুড়েই রিকশা আর সিএনজির আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও প্রতিদিনই হাজারো মানুষ প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল বা ট্রাক কিংবা পিকআপে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।

ঢিলেঢালা ‘লকডাউন’

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে চলমান ‘লকডাউন’ ঢিলেঢালা ভাবে চলছে। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য মহানগর ও শহরে পুলিশের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। অধিকাংশ চেকপোস্টে পুলিশের উপস্থিতি ছিল না। তবে কোথাও কোথাও ট্রাফিক পুলিশকে রুটিন দায়িত্বপালন করতে দেখা গেছে। এ সুযোগে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের আধিক্য ছিল নগরজুড়ে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়।

শুধু মহানগর নয়, আন্তঃজেলা সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল বেড়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন চেকপোস্টে থাকা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শত শত মানুষ পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় উপস্থিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া তিন নম্বর ঘাট এলাকায় বেশ কিছু ছোট গাড়ি ও লাশবাহী গাড়িকে পারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘লকডাউন’ পরিস্থিতিতে সকাল হলেই পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ছোট গাড়ির চাপ বাড়ে। এখন প্রশ্ন, গাড়িগুলো কীভাবে মহাসড়ক পার হয়ে ঘাটে আসছে? সকাল থেকে তিন চারটি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি নৌপথ পারের অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু নৌপথ পার হতে আসা যাত্রীদের চাপে পার করতে পারিনি ওই জরুরি সেবার যানবাহনগুলো। গাড়িগুলোকে ফেরিতে ওঠানোর আগেই পার হওয়ায় অপেক্ষায় থাকা মানুষজন হুমড়ি খেয়ে ফেরিতে উঠে পড়ে। এতে জরুরি সেবার কাজে নিয়োজিত যানবাহন পরিবহণে ফেরি কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ বাসস্ট্যান্ডে শত শত মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত রিকশা যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এসব যানবাহন ব্যবহার করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে- মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, গুলশান, নতুন বাজার, প্রগতি সরণি এলাকায়। বিকাল ৪টায় প্রগতি সরণি সড়কে দীর্ঘ যানজট লক্ষ্য করা গেছে।

পল্টন মোড়ে মো. আবু নাছের বলেন, ভাই এটার নাম ‘লকডাউন’? সড়কে দেখেন এত গাড়ি, নির্বিঘ্নে চলছে। পুলিশের কোনো বাধা নেই। গুলশান এলাকার বাসিন্দা হায়দার মুর্তজা বলেন, এসব ‘লকডাউন’র কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা না করে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। কষ্টে পড়ে মানুষগুলো সড়কে নামছে। তাই পুলিশ কিছুই করতে পারছে না।

সরেজমিন মিরপুরে দেখা যায়, কারণে-অকারণে মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়েছেন। কোথাও কোথাও সড়কের চিত্র দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ‘লকডাউন’ চলছে। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস থামিয়ে ভেতরে থাকা লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশ সদস্যরা। সন্তোষজনক কারণ বলতে না পারলে সেইসব যানবাহন ফিরিয়েও দেওয়া হচ্ছে।

শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী, দোলাইরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপও দেখা গেছে। মানুষ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশায় যাতায়াত করছেন। যাত্রাবাড়ীর মূল সড়কে যানজট দেখা গেছে। পুরো সড়কজুড়েই রিকশা আর সিএনজির আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও প্রতিদিনই হাজারো মানুষ প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল বা ট্রাক কিংবা পিকআপে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন