আল কুরআনের মাস রমজান
jugantor
রমজানুল মোবারক
আল কুরআনের মাস রমজান

  মাওলানা মুহাম্মদ সালমান  

২২ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘রমজান মাস হলো সে মাস, যাতে আল কুরআন নাজিল করা হয়েছে। যা মানুষের জন্য হেদায়েত ও সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটি পায়, সে যেন তাতে রোজা পালন করে। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৮৩)।

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। আল কুরআন পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। বিদায় হজের ভাষণে প্রিয় নবি (সা.) লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের উপস্থিতিতে কোরআনের শাশ্বত বাণী ঘোষণা করেন-আজ আমি তোমাদের জন্য আমার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করলাম এবং আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে জীবন বিধান হিসাবে মনোনীত করলাম।’ [সূরা আল মায়িদাহ : ৪]।

পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা বিশ্বমানবতার হেদায়াত ও মুক্তির আলোকবর্তিকা হিসাবে পবিত্র কুরআনুল কারিম অবতীর্ণ করেছেন। কুরআন শরিফ রমজানুল মোবারকে নাজিল করে এ মাসটিকে গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ আসনে আসীন করেছেন। সুতরাং প্রত্যেক রোজাদারের উচিত মোবারক এ মাসে আল কুরআনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা নিজের জীবনে বাস্তবায়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতি রমজানে হজরত জিবরাইল (আ.)কে অবতীর্ণ পূর্ণ কুরআন একবার শোনাতেন এবং হজরত জিবরাইল (আ.)ও নবি কারিম (সা.)কে অবতীর্ণ পূর্ণ কুরআন একবার শোনাতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষ রমজানে (দশম হিজরি) জিবরাইল (আ.)কে পূর্ণ কুরআন মজিদ দুবার শোনান এবং হজরত জিবরাইল (আ.)ও মহানবী (সা.) কে পূর্ণ কুরআন শরিফ দুবার শোনান।

সাহাবায়ে কিরাম সারা বছর প্রতি সপ্তাহে পূর্ণ কুরআন শরিফ একবার তিলাওয়াত করতেন। প্রতি সাত দিনে এক খতম পড়তেন বলেই কুরআন মজিদ সাত মঞ্জিলে বিভক্ত হয়েছে। তারা রমজান মাসে আরও বেশি বেশি তিলাওয়াত করতেন। যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দারাও মহানবি ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণে আল কুরআনের তিলাওয়াতে নিজের ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো কাটাতেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর তিলাওয়াত করল তার বিনিময়ে সে একটি নেকি পাবে, আর একটি নেকির বদলা হবে দশগুণ, এ কথা বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম, একটি অক্ষর বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর, মীম একটি অক্ষর। (সুনান আত তিরমিযী, হাদিস : ২৯১০)। অন্য হাদিসে হজরত আবু মূসা আল আশ’আরী (রা.) বলেন, নবি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে তার উদাহরণ হলো লেবুর মতো তার স্বাদও ভালো আবার ঘ্রাণও ভালো। মুমিনের উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, তার স্বাদ ভালো কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই, আর কুরআন তিলাওয়াতকারী পাপী ব্যক্তির উদাহরণ হলো ফুলের মতো ঘ্রাণ ভালো কিন্তু স্বাদ তিক্ত, আর যে হাফেজে কুরআন তিলাওয়াত করে না তার উদাহরণ হলো মাকাল ফলের মতো যার স্বাদ তিক্ত এবং সুগন্ধ নেই।’ (সহিহুল বুখারি, হাদিস : ৭৫৬০)।

অতএব, আসুন রমজানের এ গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে অযথা বিনষ্ট না করে কুরআনের মহান ফজিলত লাভের জন্য যথাসম্ভব নিজেকে আল কুরআনের তিলাওয়াতে নিয়োজিত রাখি। তিলাওয়াতের পাশাপাশি সময় করে কুরআন বোঝার চেষ্টা করি। এ মাসে আর না হোক অন্তত নামাজের ছোট ছোট সূরাগুলোর অর্থ জেনে নিই। তাহলে নামাজে খোদার প্রেম জেগে উঠবে। ধ্যান আসবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য মিলবে। এটা কত বড় আফসোসের কথা-সারা জীবন কুরআন পড়লাম অথচ আমার আল্লাহ আমাকে কুরআনে কী বললেন তার কিছুই বুঝলাম না। সিয়াম সাধনার এ মাসে আল্লাহতায়ালা আমাদের কুরআনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : ইমাম, আমির উদ্দিন দারোগা ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

রমজানুল মোবারক

আল কুরআনের মাস রমজান

 মাওলানা মুহাম্মদ সালমান 
২২ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘রমজান মাস হলো সে মাস, যাতে আল কুরআন নাজিল করা হয়েছে। যা মানুষের জন্য হেদায়েত ও সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটি পায়, সে যেন তাতে রোজা পালন করে। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৮৩)।

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। আল কুরআন পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। বিদায় হজের ভাষণে প্রিয় নবি (সা.) লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের উপস্থিতিতে কোরআনের শাশ্বত বাণী ঘোষণা করেন-আজ আমি তোমাদের জন্য আমার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করলাম এবং আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে জীবন বিধান হিসাবে মনোনীত করলাম।’ [সূরা আল মায়িদাহ : ৪]।

পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা বিশ্বমানবতার হেদায়াত ও মুক্তির আলোকবর্তিকা হিসাবে পবিত্র কুরআনুল কারিম অবতীর্ণ করেছেন। কুরআন শরিফ রমজানুল মোবারকে নাজিল করে এ মাসটিকে গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ আসনে আসীন করেছেন। সুতরাং প্রত্যেক রোজাদারের উচিত মোবারক এ মাসে আল কুরআনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা নিজের জীবনে বাস্তবায়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতি রমজানে হজরত জিবরাইল (আ.)কে অবতীর্ণ পূর্ণ কুরআন একবার শোনাতেন এবং হজরত জিবরাইল (আ.)ও নবি কারিম (সা.)কে অবতীর্ণ পূর্ণ কুরআন একবার শোনাতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষ রমজানে (দশম হিজরি) জিবরাইল (আ.)কে পূর্ণ কুরআন মজিদ দুবার শোনান এবং হজরত জিবরাইল (আ.)ও মহানবী (সা.) কে পূর্ণ কুরআন শরিফ দুবার শোনান।

সাহাবায়ে কিরাম সারা বছর প্রতি সপ্তাহে পূর্ণ কুরআন শরিফ একবার তিলাওয়াত করতেন। প্রতি সাত দিনে এক খতম পড়তেন বলেই কুরআন মজিদ সাত মঞ্জিলে বিভক্ত হয়েছে। তারা রমজান মাসে আরও বেশি বেশি তিলাওয়াত করতেন। যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দারাও মহানবি ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণে আল কুরআনের তিলাওয়াতে নিজের ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো কাটাতেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর তিলাওয়াত করল তার বিনিময়ে সে একটি নেকি পাবে, আর একটি নেকির বদলা হবে দশগুণ, এ কথা বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম, একটি অক্ষর বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর, মীম একটি অক্ষর। (সুনান আত তিরমিযী, হাদিস : ২৯১০)। অন্য হাদিসে হজরত আবু মূসা আল আশ’আরী (রা.) বলেন, নবি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে তার উদাহরণ হলো লেবুর মতো তার স্বাদও ভালো আবার ঘ্রাণও ভালো। মুমিনের উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, তার স্বাদ ভালো কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই, আর কুরআন তিলাওয়াতকারী পাপী ব্যক্তির উদাহরণ হলো ফুলের মতো ঘ্রাণ ভালো কিন্তু স্বাদ তিক্ত, আর যে হাফেজে কুরআন তিলাওয়াত করে না তার উদাহরণ হলো মাকাল ফলের মতো যার স্বাদ তিক্ত এবং সুগন্ধ নেই।’ (সহিহুল বুখারি, হাদিস : ৭৫৬০)।

অতএব, আসুন রমজানের এ গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে অযথা বিনষ্ট না করে কুরআনের মহান ফজিলত লাভের জন্য যথাসম্ভব নিজেকে আল কুরআনের তিলাওয়াতে নিয়োজিত রাখি। তিলাওয়াতের পাশাপাশি সময় করে কুরআন বোঝার চেষ্টা করি। এ মাসে আর না হোক অন্তত নামাজের ছোট ছোট সূরাগুলোর অর্থ জেনে নিই। তাহলে নামাজে খোদার প্রেম জেগে উঠবে। ধ্যান আসবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য মিলবে। এটা কত বড় আফসোসের কথা-সারা জীবন কুরআন পড়লাম অথচ আমার আল্লাহ আমাকে কুরআনে কী বললেন তার কিছুই বুঝলাম না। সিয়াম সাধনার এ মাসে আল্লাহতায়ালা আমাদের কুরআনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : ইমাম, আমির উদ্দিন দারোগা ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন