জলবায়ু মোকাবিলায় দ্রুত কর্মপরিকল্পনা চান শেখ হাসিনা
jugantor
লিডারস সামিট অন ক্লাইমেট শুরু
জলবায়ু মোকাবিলায় দ্রুত কর্মপরিকল্পনা চান শেখ হাসিনা

  বাসস  

২৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার লক্ষ্যে অবিলম্বে উচ্চাভিলাষী কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জলবায়ুর ক্ষতি প্রশমন এবং পুনর্বাসনে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল (ফান্ড) নিশ্চিত করতে তিনি বিশ্ব নেতাদের সামনে চারটি পরামর্শ উপস্থাপন করেন।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত জলবায়ুবিষয়ক দুদিনব্যাপী ভার্চুয়াল ‘লিডারস সামিট অন ক্লাইমেট’-এর উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব পরামর্শ দেন। এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জন বিশ্বনেতাকে জো বাইডেন আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

জলবায়ু ইস্যুগুলো সমাধানে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের শিখিয়ে গেল যে শুধু শক্তিশালী সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে অবিলম্বে উচ্চাভিলাষী কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-সিভিএফ (ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) এবং ভি-২০ (ভালনারেবল টুয়েন্টি) এর সভাপতি হিসাবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো-জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ সমুন্নত রাখা।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে টেকসইভাবে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশ প্রচার করছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ‘সিওপি-এর দায়িত্বশীল সদস্য রাষ্ট্র ও সিভিএফ-এর চেয়ার হিসাবে আরও কিছু পরামর্শ দিতে চাই।

দ্বিতীয় পরামর্শ হিসাবে তিনি বলেন, ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে হবে-যা অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ ভারসাম্য বজায় রাখবে।

এ তহবিলের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলোর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে বিশেষ দৃষ্টি দেবে। তৃতীয় পরামর্শ হলো-‘প্রধান অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উদ্ভাবনের পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের জন্য বিশেষভাবে ছাড় দিতে হবে।

সর্বশেষ পরামর্শে তিনি বলেন, ‘সবুজ অর্থনীতি ও কার্বন প্রশমন প্রযুক্তিগুলোর ওপর দৃষ্টি দিতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তির বিনিময় করতে হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, প্রতি বছর আমরা আমাদের জিডিপির প্রায় ২.৫ শতাংশ বা প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার টেকসই জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যয় করছি।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। এটা আমাদের প্রতিবেশকে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

জলবায়ু সম্মেলন আয়োজন করায় এবং আমন্ত্রণ জানানোয় প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

জলবায়ু সম্মেলনে যেসব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন-রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আরডার্ন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেলেরও ভার্চুয়ালি যোগদানের কথা রয়েছে।

লিডারস সামিট অন ক্লাইমেট শুরু

জলবায়ু মোকাবিলায় দ্রুত কর্মপরিকল্পনা চান শেখ হাসিনা

 বাসস 
২৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার লক্ষ্যে অবিলম্বে উচ্চাভিলাষী কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জলবায়ুর ক্ষতি প্রশমন এবং পুনর্বাসনে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল (ফান্ড) নিশ্চিত করতে তিনি বিশ্ব নেতাদের সামনে চারটি পরামর্শ উপস্থাপন করেন।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত জলবায়ুবিষয়ক দুদিনব্যাপী ভার্চুয়াল ‘লিডারস সামিট অন ক্লাইমেট’-এর উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব পরামর্শ দেন। এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জন বিশ্বনেতাকে জো বাইডেন আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

জলবায়ু ইস্যুগুলো সমাধানে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের শিখিয়ে গেল যে শুধু শক্তিশালী সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে অবিলম্বে উচ্চাভিলাষী কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-সিভিএফ (ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) এবং ভি-২০ (ভালনারেবল টুয়েন্টি) এর সভাপতি হিসাবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো-জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ সমুন্নত রাখা।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে টেকসইভাবে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশ প্রচার করছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ‘সিওপি-এর দায়িত্বশীল সদস্য রাষ্ট্র ও সিভিএফ-এর চেয়ার হিসাবে আরও কিছু পরামর্শ দিতে চাই।

দ্বিতীয় পরামর্শ হিসাবে তিনি বলেন, ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে হবে-যা অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ ভারসাম্য বজায় রাখবে।

এ তহবিলের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলোর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে বিশেষ দৃষ্টি দেবে। তৃতীয় পরামর্শ হলো-‘প্রধান অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উদ্ভাবনের পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের জন্য বিশেষভাবে ছাড় দিতে হবে।

সর্বশেষ পরামর্শে তিনি বলেন, ‘সবুজ অর্থনীতি ও কার্বন প্রশমন প্রযুক্তিগুলোর ওপর দৃষ্টি দিতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তির বিনিময় করতে হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, প্রতি বছর আমরা আমাদের জিডিপির প্রায় ২.৫ শতাংশ বা প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার টেকসই জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যয় করছি।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। এটা আমাদের প্রতিবেশকে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

জলবায়ু সম্মেলন আয়োজন করায় এবং আমন্ত্রণ জানানোয় প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

জলবায়ু সম্মেলনে যেসব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন-রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আরডার্ন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেলেরও ভার্চুয়ালি যোগদানের কথা রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন