রোজা পাপাচার থেকে নিরাপদ রাখে
jugantor
রমজানুল মোবারক
রোজা পাপাচার থেকে নিরাপদ রাখে

  মাওলানা মুহাম্মদ সালমান  

২৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ১০ রমজান। রহমতের দশক শেষ হয়ে গেল। কাল থেকে শুরু হবে মাগফিরাতের দিন। মাগফিরাত-ক্ষমা চাওয়ার সময়গুলো যেন আর হেলায় নষ্ট না হয় সে প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়া উচিত।

হাদিসে কুদসিতে এসেছে ‘আসসাওমু জুন্নাতুন, মা লাম ইয়াখরিকহা-রোজা ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না তার ঢাল ভেঙে ফেলে’। (বুখারি)।

হাদিসে রোজাকে ঢালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ঢাল যেমন মানুষকে শত্রুর আক্রমণ থেকে হেফাজতে রাখে তেমনি রোজা মানুষকে গোনাহ থেকে হেফাজতে রাখে।

শয়তানের আক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখে। কুপ্রবৃত্তির তাড়না থেকে মানুষকে বাঁচায়। হাদিসের শেষাংশে বলা হয়েছে ‘তবে ঢাল যদি ভেঙে না ফেলে।’

অর্থাৎ ভাঙা ঢাল দিয়ে যেমন শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে হেফাজতে রাখা যায় না। তেমনিভাবে শরিয়তের সব রকমের বিধিনিষেধ যে রোজাদার পালন করে না তার রোজা বাহ্যিকভাবে না ভাঙলেও আত্মিকভাবে ভেঙে যায়।

‘তবে ঢাল যদি ভেঙে না ফেলে।’ এ হাদিসের অনেক ব্যখা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ আলেম-ওলামা। তার মধ্যে পরচর্চা, গিবত, মিথ্যা, ধোঁকা, প্রতারণা, কুদৃষ্টি, কুচিন্তা ও কুকথা শোনা ইত্যাদি অন্যতম। মহানবি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা আচরণ থেকে বিরত হলো না, তার ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকা আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’

অন্য এক হাদিসে এসেছে, নবি কারিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ। যতক্ষণ না রোজাদার নিজেই তা বিদীর্ণ করে ফেলে।’ সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঢাল বিদীর্ণ হয় কীভাবে?’ জবাবে মহানবি (সা.) বলেন, ‘মিথ্যা ও গিবতের দ্বারা।’ আরও এক বর্ণনায় আছে যে পানাহারের মতো মিথ্যাচার ও পরনিন্দার দ্বারা রোজা নষ্ট হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! গিবত কি জেনার চেয়ে মারাত্মক?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ! কেননা কোনো ব্যক্তি জেনা করার পর (বিশুদ্ধ) তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। কিন্তু গিবতকারীকে যার গিবত করা হয়েছে, তিনি মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন না।’ (মুসলিম)।

তাই রোজাদারের উচিত সর্বাবস্থায় মিথ্যাচার, পরচর্চাসহ সব রকমের পাপ পরিহার করা। তাহলেই সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য অর্জন করা যাবে। আল্লাহতায়ালাই একমাত্র তাওফিক দাতা।

লেখক : ইমাম, আমির উদ্দিন দারোগা ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

রমজানুল মোবারক

রোজা পাপাচার থেকে নিরাপদ রাখে

 মাওলানা মুহাম্মদ সালমান 
২৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ১০ রমজান। রহমতের দশক শেষ হয়ে গেল। কাল থেকে শুরু হবে মাগফিরাতের দিন। মাগফিরাত-ক্ষমা চাওয়ার সময়গুলো যেন আর হেলায় নষ্ট না হয় সে প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়া উচিত।

হাদিসে কুদসিতে এসেছে ‘আসসাওমু জুন্নাতুন, মা লাম ইয়াখরিকহা-রোজা ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না তার ঢাল ভেঙে ফেলে’। (বুখারি)।

হাদিসে রোজাকে ঢালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ঢাল যেমন মানুষকে শত্রুর আক্রমণ থেকে হেফাজতে রাখে তেমনি রোজা মানুষকে গোনাহ থেকে হেফাজতে রাখে।

শয়তানের আক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখে। কুপ্রবৃত্তির তাড়না থেকে মানুষকে বাঁচায়। হাদিসের শেষাংশে বলা হয়েছে ‘তবে ঢাল যদি ভেঙে না ফেলে।’

অর্থাৎ ভাঙা ঢাল দিয়ে যেমন শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে হেফাজতে রাখা যায় না। তেমনিভাবে শরিয়তের সব রকমের বিধিনিষেধ যে রোজাদার পালন করে না তার রোজা বাহ্যিকভাবে না ভাঙলেও আত্মিকভাবে ভেঙে যায়।

‘তবে ঢাল যদি ভেঙে না ফেলে।’ এ হাদিসের অনেক ব্যখা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ আলেম-ওলামা। তার মধ্যে পরচর্চা, গিবত, মিথ্যা, ধোঁকা, প্রতারণা, কুদৃষ্টি, কুচিন্তা ও কুকথা শোনা ইত্যাদি অন্যতম। মহানবি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা আচরণ থেকে বিরত হলো না, তার ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকা আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’

অন্য এক হাদিসে এসেছে, নবি কারিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ। যতক্ষণ না রোজাদার নিজেই তা বিদীর্ণ করে ফেলে।’ সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঢাল বিদীর্ণ হয় কীভাবে?’ জবাবে মহানবি (সা.) বলেন, ‘মিথ্যা ও গিবতের দ্বারা।’ আরও এক বর্ণনায় আছে যে পানাহারের মতো মিথ্যাচার ও পরনিন্দার দ্বারা রোজা নষ্ট হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! গিবত কি জেনার চেয়ে মারাত্মক?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ! কেননা কোনো ব্যক্তি জেনা করার পর (বিশুদ্ধ) তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। কিন্তু গিবতকারীকে যার গিবত করা হয়েছে, তিনি মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন না।’ (মুসলিম)।

তাই রোজাদারের উচিত সর্বাবস্থায় মিথ্যাচার, পরচর্চাসহ সব রকমের পাপ পরিহার করা। তাহলেই সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য অর্জন করা যাবে। আল্লাহতায়ালাই একমাত্র তাওফিক দাতা।

লেখক : ইমাম, আমির উদ্দিন দারোগা ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন