ফতুল্লায় ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ ১১
jugantor
ফতুল্লায় ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ ১১

  যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা প্রতিনিধি  

২৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ ১১ জন দগ্ধ হয়েছে। বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুনে ফ্ল্যাটের মালামাল পুড়ে গেছে। ফ্ল্যাটটির দুটি দেওয়াল ধসে পাশের ভবনের ছাদে পড়েছে। এ বিস্ফোরণের পর ভবনটি সিলগালা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া বিস্ফোরণের কারণ উদঘাটনে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ফতুল্লার তল্লা জামাই বাজার এলাকায় মফিজুল ইসলামের তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুনে ফ্ল্যাটের দুই পরিবারের ১১ জন দগ্ধ হয়। তারা হলো- হাবিবুর রহমান (৫৬), তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৪২), তাদের ছেলে লিমন (২০) ও মেয়ে সাথী (২৫), মিম আক্তার (২২), দুই মাসের শিশুপুত্র মাহির আহমেদ, আলেয়া বেগমের মা সমেত্তা বেগম (৬৫), সোনাহার (৫৫), তার স্ত্রী শান্তা বেগম (৪০), তাদের ছেলে সামিউল (২৬) ও সামিউলের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার (১৬)। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অপর ছয়জনকে সদরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধদের মধ্যে আলেয়ার শরীরের ৯৫ ভাগ, হাবিবের ২৫, সমেত্তার ১৩, মাহিরের ১২, মিমের ৫ ও লিমনের শরীরের ৪ ভাগ পুড়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, তৃতীয় তলায় কয়েকটি গার্মেন্ট শ্রমিক সপরিবার বাস করে। রাতে চুলার বার্নার বন্ধ না করায় অথবা চুলার চাবি ঢিলা থাকায় গ্যাস বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরে চুলা ধরানোর সময় গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় দুই মাস বয়সের একটি শিশুসহ ছয় নারী ও চার পুরুষ আগুনে দগ্ধ হন।

শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বাড়িটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। দুপুরের মধ্যে ভবনের অন্য বাসিন্দাদের মালামাল সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তারকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের চিকিৎসায় উপজেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ফতুল্লা অঞ্চলের ম্যানজার প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম জানান, আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি গ্যাসের পাইপে কোনো লিকেজ বা রাইজারে কোনো সমস্যা নেই। চুলার চাবি ঢিলা অথবা চুলা বন্ধ না করায় গ্যাস নির্গত হয়ে ঘরে জমাট বেঁধে ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরও তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, গ্যাসের লিকেজের কোনো অভিযোগ পেলে তৎাক্ষণিক তা মেরামত করা হয়। সচেতনতার অভাবে অনেকে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখে বা চুলা বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়ে। এ সব কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিস্ফোরণে ফ্ল্যাটটির রান্নাঘরের পাশের দুটি রুমের দরজা-জানালা ও দেওয়াল ভেঙে গেছে। নিচে ও পাশের ভবনের ছাদে ইট গিয়ে পড়েছে। ঘরের আসবাবপত্র, তোশক ও বালিশসহ বিছানাপত্র পুড়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিন জানান, ভোর ৬টার দিকে বিকট শব্দে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। লোকজন বালির বস্তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, শুধু সচেতনতার অভাবে নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্যও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি জানান, সম্প্রতি ফতুল্লার মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরি এলাকায় গ্যাসের লিকেজে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়ে পাঁচজন মারা গেছেন। এছাড়া তল্লা মসজিদে গ্যাসের লিকেজে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ৩৪ জন মুসল্লি মারা গেছেন।

ফতুল্লায় ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ ১১

 যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা প্রতিনিধি 
২৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ ১১ জন দগ্ধ হয়েছে। বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুনে ফ্ল্যাটের মালামাল পুড়ে গেছে। ফ্ল্যাটটির দুটি দেওয়াল ধসে পাশের ভবনের ছাদে পড়েছে। এ বিস্ফোরণের পর ভবনটি সিলগালা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া বিস্ফোরণের কারণ উদঘাটনে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ফতুল্লার তল্লা জামাই বাজার এলাকায় মফিজুল ইসলামের তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুনে ফ্ল্যাটের দুই পরিবারের ১১ জন দগ্ধ হয়। তারা হলো- হাবিবুর রহমান (৫৬), তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৪২), তাদের ছেলে লিমন (২০) ও মেয়ে সাথী (২৫), মিম আক্তার (২২), দুই মাসের শিশুপুত্র মাহির আহমেদ, আলেয়া বেগমের মা সমেত্তা বেগম (৬৫), সোনাহার (৫৫), তার স্ত্রী শান্তা বেগম (৪০), তাদের ছেলে সামিউল (২৬) ও সামিউলের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার (১৬)। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অপর ছয়জনকে সদরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধদের মধ্যে আলেয়ার শরীরের ৯৫ ভাগ, হাবিবের ২৫, সমেত্তার ১৩, মাহিরের ১২, মিমের ৫ ও লিমনের শরীরের ৪ ভাগ পুড়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, তৃতীয় তলায় কয়েকটি গার্মেন্ট শ্রমিক সপরিবার বাস করে। রাতে চুলার বার্নার বন্ধ না করায় অথবা চুলার চাবি ঢিলা থাকায় গ্যাস বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরে চুলা ধরানোর সময় গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় দুই মাস বয়সের একটি শিশুসহ ছয় নারী ও চার পুরুষ আগুনে দগ্ধ হন।

শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বাড়িটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। দুপুরের মধ্যে ভবনের অন্য বাসিন্দাদের মালামাল সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তারকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের চিকিৎসায় উপজেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ফতুল্লা অঞ্চলের ম্যানজার প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম জানান, আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি গ্যাসের পাইপে কোনো লিকেজ বা রাইজারে কোনো সমস্যা নেই। চুলার চাবি ঢিলা অথবা চুলা বন্ধ না করায় গ্যাস নির্গত হয়ে ঘরে জমাট বেঁধে ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরও তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, গ্যাসের লিকেজের কোনো অভিযোগ পেলে তৎাক্ষণিক তা মেরামত করা হয়। সচেতনতার অভাবে অনেকে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখে বা চুলা বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়ে। এ সব কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিস্ফোরণে ফ্ল্যাটটির রান্নাঘরের পাশের দুটি রুমের দরজা-জানালা ও দেওয়াল ভেঙে গেছে। নিচে ও পাশের ভবনের ছাদে ইট গিয়ে পড়েছে। ঘরের আসবাবপত্র, তোশক ও বালিশসহ বিছানাপত্র পুড়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিন জানান, ভোর ৬টার দিকে বিকট শব্দে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। লোকজন বালির বস্তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, শুধু সচেতনতার অভাবে নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্যও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি জানান, সম্প্রতি ফতুল্লার মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরি এলাকায় গ্যাসের লিকেজে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়ে পাঁচজন মারা গেছেন। এছাড়া তল্লা মসজিদে গ্যাসের লিকেজে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ৩৪ জন মুসল্লি মারা গেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন