ছোট মেয়ের মৃত্যু নববিবাহিত মেয়ে আইসিইউতে
jugantor
ইব্রাহিম পরিবারে বিপর্যয় 
ছোট মেয়ের মৃত্যু নববিবাহিত মেয়ে আইসিইউতে

  শিপন হাবীব      

২৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার আরমানিটোলার বাসিন্দা ইব্রাহিম সরকারের পরিবার হঠাৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। ছোট মেয়ে সুমাইয়া সরকারকে (২০) হারিয়েছেন। নববিবাহিত মেয়ে ইসরাত জাহান মুনা সরকার ও জামাতা আশিকুজ্জামান খান আশিক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। স্ত্রী সুফিয়া সরকার ও ছেলে জুনায়েদ সরকারও হাসপাতালে ভর্তি। শুক্রবার ভোরে আরমানিটোলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইব্রাহিমের জীবনে এ মহাদুর্যোগ নেমে এসেছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের শয্যায় ইব্রাহিমসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য কাতরাচ্ছেন।

চিকিৎসকরা জানান, আশিকের শ্বাসনালী বেশি ক্ষতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। মুনার শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। মা সুফিয়া ও ভাই জুনায়েদ বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের শরীর দগ্ধ না হলেও শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

মুনার আত্মীয় আমেনা বেগম জানান, ইব্রাহিম সরকারের পুরো পরিবার হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। সুমাইয়ার লাশ তার বাবা ইব্রাহিমসহ পরিবারের কেউ দেখতে পাননি। ইডেন মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়ার লাশ ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে সোনারগাঁয়ের গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করা হবে। তিনি জানান, আইসিইউতে থাকা মুনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর আশিক বুয়েটে পড়াশোনা করেছেন।

আশিকের বাবা আবুল কাশেম খান জানান, ছেলেকে দেড় মাস আগে বিয়ে দিয়েছেন। এখনো পুত্রবধূকে তুলে নেওয়া হয়নি। ছেলে ও পুত্রবধূ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ঢাকায় খালার বাসায় থাকত ছেলে। পরশু রাতে শ্বশুরের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। দুর্ঘটনার কথা শুনে সকালেই ময়মনসিংহ থেকে তিনি ছুটে এসেছেন।

আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ফাবিহার (২৬) শাশুড়ি নাঈমা বেগম বার্ন ইউনিটের পঞ্চম তলার বারান্দায় হা-হুতাশ করছিলেন। বারবার তিনি বলছিলেন, আল্লাহ যেন পুত্রবধূ ফাবিহাকে বাঁচিয়ে রাখেন। সুস্থ করে দেন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোরে ফাবিহার কাছে ফোন দিয়েছিলেন। কল রিসিভ করেই, ফাবিহা বলছিল- ‘আম্মা আমাদের বিপদ, আমাদের ভবনে আগুন লেগেছে। আগুন ও ধোঁয়ায় প্রচণ্ড গরম লাগছে। আম্মা আর কথা বলতে পারছি না।’ এখন এখানে (বার্ন ইউনিটে) ভর্তি। সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদানে আবেদন করেন তিনি।

সূত্রাপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের বোন লায়লা বেগম, দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন, দুই ভাগ্নে সাফায়েত হোসেন ও শাকিল হোসেন, সাফায়েতের স্ত্রী মিলি ও দুই বছরের মেয়ে ইয়াশফা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলেন, আইসিইউতে ভর্তি সাফায়েত শঙ্কামুক্ত নন। বাকিদের শরীর দগ্ধ না হলেও শ্বাসনালী পুড়েছে। শ্বাসনালী পোড়া রোগী শঙ্কামুক্ত নন।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল যুগান্তরকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২১ জন দগ্ধ ব্যক্তিকে বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইসিইউতে ভর্তি চারজনের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন। পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে ১৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের কারও শরীর দগ্ধ হয়নি। কিন্তু কমবেশি সবার শ্বাসনালী পুড়েছে। শ্বাসনালী পোড়া ব্যক্তিদের শঙ্কামুক্ত বলা যায় না। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছি। এখানে বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার ভোররাতে আরমানিটোলা খেলার মাঠসংলগ্ন হাজি মুসা ম্যানশনের ছয়তলা ভবনের নিচতলায় কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লেগে এক নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে দগ্ধ ও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া ২০ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ইব্রাহিম পরিবারে বিপর্যয় 

ছোট মেয়ের মৃত্যু নববিবাহিত মেয়ে আইসিইউতে

 শিপন হাবীব     
২৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার আরমানিটোলার বাসিন্দা ইব্রাহিম সরকারের পরিবার হঠাৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। ছোট মেয়ে সুমাইয়া সরকারকে (২০) হারিয়েছেন। নববিবাহিত মেয়ে ইসরাত জাহান মুনা সরকার ও জামাতা আশিকুজ্জামান খান আশিক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। স্ত্রী সুফিয়া সরকার ও ছেলে জুনায়েদ সরকারও হাসপাতালে ভর্তি। শুক্রবার ভোরে আরমানিটোলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইব্রাহিমের জীবনে এ মহাদুর্যোগ নেমে এসেছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের শয্যায় ইব্রাহিমসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য কাতরাচ্ছেন।

চিকিৎসকরা জানান, আশিকের শ্বাসনালী বেশি ক্ষতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। মুনার শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। মা সুফিয়া ও ভাই জুনায়েদ বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের শরীর দগ্ধ না হলেও শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। 

মুনার আত্মীয় আমেনা বেগম জানান, ইব্রাহিম সরকারের পুরো পরিবার হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। সুমাইয়ার লাশ তার বাবা ইব্রাহিমসহ পরিবারের কেউ দেখতে পাননি। ইডেন মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়ার লাশ ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে সোনারগাঁয়ের গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করা হবে। তিনি জানান, আইসিইউতে থাকা মুনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর আশিক বুয়েটে পড়াশোনা করেছেন। 

আশিকের বাবা আবুল কাশেম খান জানান, ছেলেকে দেড় মাস আগে বিয়ে দিয়েছেন। এখনো পুত্রবধূকে তুলে নেওয়া হয়নি। ছেলে ও পুত্রবধূ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ঢাকায় খালার বাসায় থাকত ছেলে। পরশু রাতে শ্বশুরের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। দুর্ঘটনার কথা শুনে সকালেই ময়মনসিংহ থেকে তিনি ছুটে এসেছেন। 

আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ফাবিহার (২৬) শাশুড়ি নাঈমা বেগম বার্ন ইউনিটের পঞ্চম তলার বারান্দায় হা-হুতাশ করছিলেন। বারবার তিনি বলছিলেন, আল্লাহ যেন পুত্রবধূ ফাবিহাকে বাঁচিয়ে রাখেন। সুস্থ করে দেন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোরে ফাবিহার কাছে ফোন দিয়েছিলেন। কল রিসিভ করেই, ফাবিহা বলছিল- ‘আম্মা আমাদের বিপদ, আমাদের ভবনে আগুন লেগেছে। আগুন ও ধোঁয়ায় প্রচণ্ড গরম লাগছে। আম্মা আর কথা বলতে পারছি না।’ এখন এখানে (বার্ন ইউনিটে) ভর্তি। সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদানে আবেদন করেন তিনি। 

সূত্রাপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের বোন লায়লা বেগম, দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন, দুই ভাগ্নে সাফায়েত হোসেন ও শাকিল হোসেন, সাফায়েতের স্ত্রী মিলি ও দুই বছরের মেয়ে ইয়াশফা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলেন, আইসিইউতে ভর্তি সাফায়েত শঙ্কামুক্ত নন। বাকিদের শরীর দগ্ধ না হলেও শ্বাসনালী পুড়েছে। শ্বাসনালী পোড়া রোগী শঙ্কামুক্ত নন। 

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল যুগান্তরকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২১ জন দগ্ধ ব্যক্তিকে বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইসিইউতে ভর্তি চারজনের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন। পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে ১৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের কারও শরীর দগ্ধ হয়নি। কিন্তু কমবেশি সবার শ্বাসনালী পুড়েছে। শ্বাসনালী পোড়া ব্যক্তিদের শঙ্কামুক্ত বলা যায় না। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছি। এখানে বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

শুক্রবার ভোররাতে আরমানিটোলা খেলার মাঠসংলগ্ন হাজি মুসা ম্যানশনের ছয়তলা ভবনের নিচতলায় কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লেগে এক নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে দগ্ধ ও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া ২০ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন