সহিংসতায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে নজর ভিডিও ফুটেজে
jugantor
সহিংসতায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে নজর ভিডিও ফুটেজে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় উসকানিদাতা ও সরাসরি জড়িতদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ফুটেজে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে তদন্তকারীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা ফুটেজও মামলার আলামত হিসাবে সংগ্রহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সহিংসতার সময়ে করা ভিডিও অনেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। আবার অনেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার করেছেন।

এগুলো এখন শক্ত আলামত হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এরই মধ্যে হেফাজতের ১৫ শীর্ষ নেতাসহ ৮ শতাধিক নেতাকর্মীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন যুগান্তরকে বলেন, সহিংসতায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছে র‌্যাব। সাম্প্রতিক ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

তিনি আরও বলেন, সহিংসতার ঘটনার ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা উসকানি দিচ্ছেন, রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় করা মামলাগুলোর মধ্যে ১৬টি মামলার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাশাপাশি ২৩টি মামলার তদন্ত ভার পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

পিবিআই বলছে, এরই মধ্যে তারা মামলাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে। নাশকতার ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজও এসেছে পিবিআইর হাতে। আরও ফুটেজ সংগ্রহ করার কাজ চলছে। নাশকতা, হত্যাচেষ্টা, ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের জড়িতদের শনাক্ত করতে এসব ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পিবিআইর প্রধান ও ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, হেফাজতের ১৬টি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, সহিংসতার ঘটনাগুলোতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় অনেক নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, হেফাজত ইসলাম মার্চের শেষ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। এসব ঘটনায় হত্যা, বিস্ফোরক, নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ, অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা, সাইবার এক্সপার্টরা এসব মামলার তদন্ত করবে।

ফুটেজ ও স্থিরচিত্র মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত : তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্র মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইউটিউব এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে থাকা এসব আলামত সংগ্রহ করার কাজ চলছে।

কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় কারা সরাসরি জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কারা ইন্ধন দিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের দেয়া বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এরইমধ্যে সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকে কিছু ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে ইউটিউব বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়ালে কেউ না কেউ ডাউনলোড করে থাকে। এসব ভিডিও ডাউনলোড করে আর্কাইভ করে রাখা হচ্ছে। ফলে অপরাধীর ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

সহিংসতায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে নজর ভিডিও ফুটেজে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় উসকানিদাতা ও সরাসরি জড়িতদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ফুটেজে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে তদন্তকারীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা ফুটেজও মামলার আলামত হিসাবে সংগ্রহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সহিংসতার সময়ে করা ভিডিও অনেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। আবার অনেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার করেছেন।

এগুলো এখন শক্ত আলামত হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এরই মধ্যে হেফাজতের ১৫ শীর্ষ নেতাসহ ৮ শতাধিক নেতাকর্মীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন যুগান্তরকে বলেন, সহিংসতায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছে র‌্যাব। সাম্প্রতিক ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

তিনি আরও বলেন, সহিংসতার ঘটনার ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা উসকানি দিচ্ছেন, রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় করা মামলাগুলোর মধ্যে ১৬টি মামলার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাশাপাশি ২৩টি মামলার তদন্ত ভার পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

পিবিআই বলছে, এরই মধ্যে তারা মামলাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে। নাশকতার ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজও এসেছে পিবিআইর হাতে। আরও ফুটেজ সংগ্রহ করার কাজ চলছে। নাশকতা, হত্যাচেষ্টা, ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের জড়িতদের শনাক্ত করতে এসব ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পিবিআইর প্রধান ও ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, হেফাজতের ১৬টি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, সহিংসতার ঘটনাগুলোতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় অনেক নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, হেফাজত ইসলাম মার্চের শেষ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। এসব ঘটনায় হত্যা, বিস্ফোরক, নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ, অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা, সাইবার এক্সপার্টরা এসব মামলার তদন্ত করবে।

ফুটেজ ও স্থিরচিত্র মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত : তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্র মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইউটিউব এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে থাকা এসব আলামত সংগ্রহ করার কাজ চলছে।

কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় কারা সরাসরি জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কারা ইন্ধন দিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের দেয়া বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এরইমধ্যে সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকে কিছু ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে ইউটিউব বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়ালে কেউ না কেউ ডাউনলোড করে থাকে। এসব ভিডিও ডাউনলোড করে আর্কাইভ করে রাখা হচ্ছে। ফলে অপরাধীর ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন