সরকারি সংস্থাকে নিজ খরচে চলতে হবে
jugantor
একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
সরকারি সংস্থাকে নিজ খরচে চলতে হবে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলকে সুপার স্পেশালাইজড করাসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৯০১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৯৯১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ২ হাজার ৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৮০৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পামন্ত্রী এমএ মান্নান।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সরকারি কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব অর্থে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কোম্পানিগুলোতো ব্যবসা করে, তাহলে নিজস্ব অর্থে উন্নয়ন করতে পারে না কেন? আর কতদিন তাদের ভর্তুকি দিতে হবে। একনেক বৈঠকে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর অনুমোদন দিতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

এমএ মান্নান বলেন, বিটিসিএল, ব্যাংক, বীমা, বিমান ও ইন্স্যুরেন্সসহ সরকারি যেসব কোম্পানি রয়েছে সেগুলোকে আয় করা অর্থ থেকে উন্নয়ন কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কেননা তারা তো ব্যবসা করে, লাভও করে, তাহলে কেন সরকারি টাকায় উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে। একেনেকে প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলে যখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসেন তখন প্রথমেই জানতে চান টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন।

তাই বিনিয়োগ আকর্ষণ করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন দিলেও এরপর থেকে নিজস্ব অর্থেই প্রকল্প নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মোডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সুপার স্পেশালাইজড করার সংশোধিত প্রকল্পটি দ্রুত সমাপ্তের নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, অনেক দিনতো হলো আর কত সময় লাগবে। দ্রুত কাজ শেষ করুন।

এছাড়া খাল খনন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যাতে ওপরে ওপরে মাটি কেটে অনিয়ম করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে এসব খাল গভীর করে খনন করতে হবে। যাতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সেচ কাজে ব্যবহার করা যায়। উপজেলা পর্যায়ে যেসব খেলার মাঠ তৈরি হবে সেগুলো যাতে সবাই ব্যবহার করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, একক কোনো ক্লাব বা সংস্থার দখলে যেন এগুলো না যায়। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও খেলাধুলার ব্যবস্থা নিতে হবে নতুন ভাবে তৈরি হতে যাওয়া শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামগুলোতে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকারের কাজ হলো মানুষের জীবন রক্ষা করা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ফাস্ট ট্র্যাক মন্ত্রণালয় হিসাবে দেখা হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের বিকল্প ব্যবস্থা করছে সরকার। ভারতের সঙ্গে চুক্তি ছিল। কিন্তু সেটি মোটামুটি ভেঙে গেছে বলা যায়।

আইনগতভাবে না ভাঙলেও তাদের দেশের অবস্থাতো খুবই খারাপ। তাদের নাগরিকদের বঞ্চিত করে আমাদের ভ্যাকসিন দিতে পারে না। এটা একটা জটিল ব্যাপার। তাছাড়া তাদের ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতাও কম। তবে ভ্যাকসিন মিলছে না, অক্সিজেন মিলছে না আমাদের দেশে এমনটি হবে না।

ভারত থেকে শেখার অনেক কিছুই আছে। আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা সেই তুলনায় ১৬-১৭শ প্রকল্প বাস্তবায়ন ভয়ংকর কিছু নয়। আমরা উন্নয়ন প্রকল্প যে সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারছি তার প্রমাণ হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, স্বাক্ষরতায় উন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের উন্নতি।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তবে আজ (মঙ্গলবার) প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো-অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-রায়েন্দা-শরণখোলা-বগী সড়কের ১৭তম কিলোমিটারে পানগুচি নদীর উপর পানগুচি সেতু নির্মাণ। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ, রাঙ্গামাটি জেলার কারিগরি পাড়া থেকে বিলাইছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা করা সম্ভব না হলে আরও ধ্বংসাত্মক হবে-প্রধানমন্ত্রী : বাসস জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির চেয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) আরও ধ্বংসাত্মক হবে। এটি সঠিকভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে খাদ্য সুরক্ষা এবং উন্নতির পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানসহ প্রতিটি জীবকে বিপন্ন করতে পারে।

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অন ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ’র প্রথম সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

আগে ধারণকৃত ভাষণটি অনুষ্ঠানে সম্প্রচারিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, অ্যান্টি ড্রাগ প্রতিরোধ শুধু মানব, প্রাণী এবং উদ্ভিদের স্বাস্থ্যকেই বিপন্ন করবে না, পাশাপাশি তা খাদ্য সুরক্ষা এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) অর্জনের অগ্রগতির জন্যও হুমকিস্বরূপ।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, অ্যান্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স ভৌগোলিক অবস্থান এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে যে কোনো ব্যক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী এএমআর নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৫ এবং এএমআরেতে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ঘোষণা-২০১৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি সম্ভব।’

এএমআরের গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের সহ-সভাপতি শেখ হাসিনা বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটোলি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে এএমআরের হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আসন্ন এএমআর মহামারি পটভূমির বিরুদ্ধে, প্রধানমন্ত্রী কার্যকরভাবে এটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস কার্যকর করার জন্য বিশ্বের সামনে সাতটি পরামর্শ রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কনটেইনমেন্টের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সমীক্ষা তদারকির পাশাপাশি প্রতিবেদনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রস্তাবে কার্যকর এবং অন্তর্ভুক্ত এএমআর নজরদারি এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালগুলোর যথাযথ ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্তরে নীতি ও নীতি বিকাশের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ প্রস্তাবে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মালিকানা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধাগুলোতে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি পঞ্চম প্রস্তাবে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে এএমআর-নির্দিষ্ট এবং এএমআর-সংবেদনশীল কর্মের জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ষষ্ঠ ও সপ্তম প্রস্তাবে এএমআর প্রতিরোধে বিনিয়োগের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কভারেজের ওপর জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশীয় স্তরে কার্যকর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৬ বছরের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অসংখ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, মানব স্বাস্থ্য, গবাদি পশু, মৎস্য ও কৃষি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে।

ডা. এফতেখাইরুলের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা : বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডা. এফতেখাইরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকালে তিনি করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হন।

মঙ্গলবার ডা. এফতেখাইরুলের স্ত্রী ডা. মাহমুদা আক্তারের কাছে এ আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়। ৩৩তম বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) ডা. এফতেখাইরুল এসএইচএসএমসিএইর একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসাবে কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। ৭ এপ্রিল থেকে তিনি কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট জটিলতায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১২ এপ্রিল থেকে ডা. এফতেখাইরুল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

সরকারি সংস্থাকে নিজ খরচে চলতে হবে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলকে সুপার স্পেশালাইজড করাসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৯০১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৯৯১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ২ হাজার ৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৮০৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পামন্ত্রী এমএ মান্নান।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সরকারি কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব অর্থে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কোম্পানিগুলোতো ব্যবসা করে, তাহলে নিজস্ব অর্থে উন্নয়ন করতে পারে না কেন? আর কতদিন তাদের ভর্তুকি দিতে হবে। একনেক বৈঠকে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর অনুমোদন দিতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

এমএ মান্নান বলেন, বিটিসিএল, ব্যাংক, বীমা, বিমান ও ইন্স্যুরেন্সসহ সরকারি যেসব কোম্পানি রয়েছে সেগুলোকে আয় করা অর্থ থেকে উন্নয়ন কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কেননা তারা তো ব্যবসা করে, লাভও করে, তাহলে কেন সরকারি টাকায় উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে। একেনেকে প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলে যখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসেন তখন প্রথমেই জানতে চান টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন।

তাই বিনিয়োগ আকর্ষণ করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন দিলেও এরপর থেকে নিজস্ব অর্থেই প্রকল্প নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মোডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সুপার স্পেশালাইজড করার সংশোধিত প্রকল্পটি দ্রুত সমাপ্তের নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, অনেক দিনতো হলো আর কত সময় লাগবে। দ্রুত কাজ শেষ করুন।

এছাড়া খাল খনন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যাতে ওপরে ওপরে মাটি কেটে অনিয়ম করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে এসব খাল গভীর করে খনন করতে হবে। যাতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সেচ কাজে ব্যবহার করা যায়। উপজেলা পর্যায়ে যেসব খেলার মাঠ তৈরি হবে সেগুলো যাতে সবাই ব্যবহার করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, একক কোনো ক্লাব বা সংস্থার দখলে যেন এগুলো না যায়। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও খেলাধুলার ব্যবস্থা নিতে হবে নতুন ভাবে তৈরি হতে যাওয়া শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামগুলোতে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকারের কাজ হলো মানুষের জীবন রক্ষা করা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ফাস্ট ট্র্যাক মন্ত্রণালয় হিসাবে দেখা হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের বিকল্প ব্যবস্থা করছে সরকার। ভারতের সঙ্গে চুক্তি ছিল। কিন্তু সেটি মোটামুটি ভেঙে গেছে বলা যায়।

আইনগতভাবে না ভাঙলেও তাদের দেশের অবস্থাতো খুবই খারাপ। তাদের নাগরিকদের বঞ্চিত করে আমাদের ভ্যাকসিন দিতে পারে না। এটা একটা জটিল ব্যাপার। তাছাড়া তাদের ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতাও কম। তবে ভ্যাকসিন মিলছে না, অক্সিজেন মিলছে না আমাদের দেশে এমনটি হবে না।

ভারত থেকে শেখার অনেক কিছুই আছে। আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা সেই তুলনায় ১৬-১৭শ প্রকল্প বাস্তবায়ন ভয়ংকর কিছু নয়। আমরা উন্নয়ন প্রকল্প যে সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারছি তার প্রমাণ হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, স্বাক্ষরতায় উন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের উন্নতি। 

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তবে আজ (মঙ্গলবার) প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। 

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো-অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-রায়েন্দা-শরণখোলা-বগী সড়কের ১৭তম কিলোমিটারে পানগুচি নদীর উপর পানগুচি সেতু নির্মাণ। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ, রাঙ্গামাটি জেলার কারিগরি পাড়া থেকে বিলাইছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা করা সম্ভব না হলে আরও ধ্বংসাত্মক হবে-প্রধানমন্ত্রী : বাসস জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির চেয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) আরও ধ্বংসাত্মক হবে। এটি সঠিকভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে খাদ্য সুরক্ষা এবং উন্নতির পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানসহ প্রতিটি জীবকে বিপন্ন করতে পারে।

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অন ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ’র প্রথম সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

আগে ধারণকৃত ভাষণটি অনুষ্ঠানে সম্প্রচারিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, অ্যান্টি ড্রাগ প্রতিরোধ শুধু মানব, প্রাণী এবং উদ্ভিদের স্বাস্থ্যকেই বিপন্ন করবে না, পাশাপাশি তা খাদ্য সুরক্ষা এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) অর্জনের অগ্রগতির জন্যও হুমকিস্বরূপ।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, অ্যান্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স ভৌগোলিক অবস্থান এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে যে কোনো ব্যক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী এএমআর নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৫ এবং এএমআরেতে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ঘোষণা-২০১৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি সম্ভব।’ 

এএমআরের গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের সহ-সভাপতি শেখ হাসিনা বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটোলি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে এএমআরের হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আসন্ন এএমআর মহামারি পটভূমির বিরুদ্ধে, প্রধানমন্ত্রী কার্যকরভাবে এটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস কার্যকর করার জন্য বিশ্বের সামনে সাতটি পরামর্শ রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কনটেইনমেন্টের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সমীক্ষা তদারকির পাশাপাশি প্রতিবেদনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রস্তাবে কার্যকর এবং অন্তর্ভুক্ত এএমআর নজরদারি এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালগুলোর যথাযথ ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্তরে নীতি ও নীতি বিকাশের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ প্রস্তাবে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মালিকানা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধাগুলোতে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি পঞ্চম প্রস্তাবে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে এএমআর-নির্দিষ্ট এবং এএমআর-সংবেদনশীল কর্মের জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ষষ্ঠ ও সপ্তম প্রস্তাবে এএমআর প্রতিরোধে বিনিয়োগের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কভারেজের ওপর জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশীয় স্তরে কার্যকর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৬ বছরের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অসংখ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, মানব স্বাস্থ্য, গবাদি পশু, মৎস্য ও কৃষি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে।

ডা. এফতেখাইরুলের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা : বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডা. এফতেখাইরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকালে তিনি করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হন।

মঙ্গলবার ডা. এফতেখাইরুলের স্ত্রী ডা. মাহমুদা আক্তারের কাছে এ আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়। ৩৩তম বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) ডা. এফতেখাইরুল এসএইচএসএমসিএইর একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসাবে কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। ৭ এপ্রিল থেকে তিনি কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট জটিলতায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১২ এপ্রিল থেকে ডা. এফতেখাইরুল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন