খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল
jugantor
বিদেশ নেওয়ার পরামর্শ মেডিকেল বোর্ডের
খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল। তবে এখনও তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) আছেন। সোমবার ভোরের দিকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বিকালে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে তিনি স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করতে মঙ্গলবার দুপুরে বৈঠক করেন। বোর্ডের একজন চিকিৎসক যুগান্তরকে জানান, খালেদা জিয়াকে আপাতত হাসপাতালের সিসিইউতে রাখা হবে। তাকে এখনও অক্সিজেনের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হচ্ছে। অক্সিজেন ২ লিটার চলছে। আগের চেয়ে তিনি ভালোবোধ করছেন। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেওয়া জরুরি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বোর্ডের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার ব্যাপারে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে চায় পরিবার। বিদেশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কাদার ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম। সেখানে তিনি প্রায় ১ ঘণ্টা ছিলেন। জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। সবুজ সংকেত পেলেই পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে খালেদা জিয়া বা তার পরিবার সরকারের কাছে কোনো আবেদন করেনি। খালেদা জিয়াকে পরবর্তী কোনো সুবিধা নিতে হলে আদালতের মাধ্যমেই আসতে হবে। রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নাজনীন হাই স্কুলের মাঠে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খালেদা জিয়া যে সাজা ভোগ করছিলেন, তা স্থগিত করে তাকে চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তার ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি যাতে উন্নত চিকিৎসা পান সে ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া যদি বিদেশ যেতে আবেদন করেন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি আদালতের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী যে ধারায় সাজা স্থগিত রেখে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, এর বাইরে অন্য কোনো সুযোগ নিতে চাইলে তাকে আদালতে যেতে হবে। আরও কিছু পেতে হলে কোর্টের মাধ্যমে আসতে হবে।

তবে এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিদেশে যেতে বা বিদেশি চিকিৎসা নিতে পারবেন না- সরকারের দেওয়া সেই শর্ত শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। এটা নির্ভর করছে একেবারেই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। কিন্তু এখনও বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের তরফ থেকে এরকম কোনো আবেদন পাইনি।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতির বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ সরকার খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে। সরকারই এই শর্ত শিথিল করতে পারবেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারই বলবে তারা আদালতে যাবেন না কী করবেন।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট হওয়ায় সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখনও সিসিইউতে আছেন। অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এখন উনি স্থিতিশীল আছেন। তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তাররা অত্যন্ত আশাবাদী তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা দোয়া চাইছি খালেদা জিয়া যেন অতি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, চেয়ারপারসনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়া জরুরি। এখন উপায় একটিই তাহলে সরকারের নির্বাহী আদেশ সংশোধন করে বিদেশে যাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা। এখন বিদেশে পাঠাতে হলে আর তো কোনো অপশন নাই। এভাবে দল বা পরিবার বা আইনজীবীদের তো করণীয় কিছু নেই। নির্বাহী আদেশ সংশোধন করলেই তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সরকার তো সাম্প্রতিক সময়ে অনেককে সাজা থেকে ক্ষমাও করে দিয়েছে। সেখানে খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিক। তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দিতে সমস্যা কোথায়।

এদিকে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বেরিয়ে এসে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামও ছিলেন।

১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ই তার চিকিৎসা শুরু হয়। ১৪ দিন পর খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হলে ফলাফল আবারও পজিটিভ আসে। ‘ফিরোজা’র বাসায় আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হন, তবে তারা সবাই এখন করোনামুক্ত।

৭৫ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলে পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও দু’দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়।

বিদেশ নেওয়ার পরামর্শ মেডিকেল বোর্ডের

খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল। তবে এখনও তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) আছেন। সোমবার ভোরের দিকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বিকালে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে তিনি স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করতে মঙ্গলবার দুপুরে বৈঠক করেন। বোর্ডের একজন চিকিৎসক যুগান্তরকে জানান, খালেদা জিয়াকে আপাতত হাসপাতালের সিসিইউতে রাখা হবে। তাকে এখনও অক্সিজেনের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হচ্ছে। অক্সিজেন ২ লিটার চলছে। আগের চেয়ে তিনি ভালোবোধ করছেন। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেওয়া জরুরি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বোর্ডের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার ব্যাপারে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে চায় পরিবার। বিদেশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কাদার ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম। সেখানে তিনি প্রায় ১ ঘণ্টা ছিলেন। জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। সবুজ সংকেত পেলেই পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে খালেদা জিয়া বা তার পরিবার সরকারের কাছে কোনো আবেদন করেনি। খালেদা জিয়াকে পরবর্তী কোনো সুবিধা নিতে হলে আদালতের মাধ্যমেই আসতে হবে। রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নাজনীন হাই স্কুলের মাঠে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খালেদা জিয়া যে সাজা ভোগ করছিলেন, তা স্থগিত করে তাকে চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তার ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি যাতে উন্নত চিকিৎসা পান সে ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া যদি বিদেশ যেতে আবেদন করেন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি আদালতের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী যে ধারায় সাজা স্থগিত রেখে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, এর বাইরে অন্য কোনো সুযোগ নিতে চাইলে তাকে আদালতে যেতে হবে। আরও কিছু পেতে হলে কোর্টের মাধ্যমে আসতে হবে।

তবে এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিদেশে যেতে বা বিদেশি চিকিৎসা নিতে পারবেন না- সরকারের দেওয়া সেই শর্ত শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। এটা নির্ভর করছে একেবারেই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। কিন্তু এখনও বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের তরফ থেকে এরকম কোনো আবেদন পাইনি।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতির বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ সরকার খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে। সরকারই এই শর্ত শিথিল করতে পারবেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারই বলবে তারা আদালতে যাবেন না কী করবেন।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট হওয়ায় সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখনও সিসিইউতে আছেন। অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এখন উনি স্থিতিশীল আছেন। তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তাররা অত্যন্ত আশাবাদী তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা দোয়া চাইছি খালেদা জিয়া যেন অতি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, চেয়ারপারসনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়া জরুরি। এখন উপায় একটিই তাহলে সরকারের নির্বাহী আদেশ সংশোধন করে বিদেশে যাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা। এখন বিদেশে পাঠাতে হলে আর তো কোনো অপশন নাই। এভাবে দল বা পরিবার বা আইনজীবীদের তো করণীয় কিছু নেই। নির্বাহী আদেশ সংশোধন করলেই তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সরকার তো সাম্প্রতিক সময়ে অনেককে সাজা থেকে ক্ষমাও করে দিয়েছে। সেখানে খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিক। তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দিতে সমস্যা কোথায়।

এদিকে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বেরিয়ে এসে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামও ছিলেন।

১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ই তার চিকিৎসা শুরু হয়। ১৪ দিন পর খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হলে ফলাফল আবারও পজিটিভ আসে। ‘ফিরোজা’র বাসায় আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হন, তবে তারা সবাই এখন করোনামুক্ত।

৭৫ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলে পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও দু’দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন