ভিসির শেষদিনে অবৈধভাবে ১২৫ জনকে নিয়োগ
jugantor
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ভিসির শেষদিনে অবৈধভাবে ১২৫ জনকে নিয়োগ
নিয়োগ নিয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও রাজশাহী ব্যুরো  

০৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুপক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা অনিয়ম নিয়ে ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অস্থায়ী ভিত্তিতে (অ্যাডহক) ১২৫ জনকে বুধবার নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য।

নিষেধজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূতভাবে এ নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরকে প্রধান করে গঠিত চার সদস্যের এ কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব শামিমা বেগম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- ইউজিসির আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জাকির হোসেন ও ইউজিসির পরিচালক (পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়) মোহাম্মদ জামিনুর রহমান।

কমিটির কার্যপরিধি হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্যের (ভিসি) অবৈধ নিয়োগ ও অনিয়ম প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলকরণ; কমিটির দায়-দায়িত্ব নিরূপণপূর্বক প্রতিবেদন পেশ করা।

এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ আনীত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এ জন্য গত বছরের ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে উপাচার্যকে অনুরোধ করা হয়েছিল।

কিন্তু বৃহস্পতিবার উপাচার্যের শেষ কর্মদিবসের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন পদে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূতভাবে জনবল নিয়োগ দিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় অবহিত হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত একটা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। বিদায়ী উপাচার্য অবৈধ জনবল নিয়োগের বৈধতা প্রাপ্তির সুযোগ নেই বিধায় এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশি নিরাপত্তায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ক্যাম্পাস ছেড়েছেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান। পথে সাংবাদিকদের বলেন, যেটুকু দায়িত্ব পেয়েছিলাম যথাযথভাবে পালন করেছি। অ্যাডহক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। শুধু বলেছেন, নিয়োগ হয়ে থাকলে পরে জানতে পারবেন। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন উপাচার্য।

উপাচার্যের বিদায় বেলায় টাকার বিনিময়ে ১২৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রচার শুরু হলে মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তাদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া প্রায় আধা ঘণ্টা চলে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যান। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাখা কর্মকর্তা মাসুদ, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও ক্রীড়া বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান চঞ্চল। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়োগের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে ১২৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান। প্রতিবেদকের কাছে একটি প্রজ্ঞাপন হাতে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ১২(৫) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অস্থায়ী ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

হামলার শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান চঞ্চল যুগান্তরকে বলেন, নিয়োগ নিয়ে মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শাখা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করেন। সেখানে আমি নিবৃত করার চেষ্টা করি। ওই সময় মহানগর ছাত্রলীগ কর্মীরা আমার ওপর হামলা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী ও কর্মকর্তারা একযোগে তাদের ধাওয়া করে ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দেন।

সাবেক রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবৈধ নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। নিয়োগ হয়েছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই। সামগ্রিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালের ৭ মে রাবির উপাচার্য হিসাবে দ্বিতীয়বার চার বছরের জন্য নিয়োগ পান ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা : উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব শামিমা বেগম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে ড. সাহাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসির শেষদিনে অবৈধভাবে ১২৫ জনকে নিয়োগ

নিয়োগ নিয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ
 যুগান্তর প্রতিবেদন ও রাজশাহী ব্যুরো 
০৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুপক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা অনিয়ম নিয়ে ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অস্থায়ী ভিত্তিতে (অ্যাডহক) ১২৫ জনকে বুধবার নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য।

নিষেধজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূতভাবে এ নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরকে প্রধান করে গঠিত চার সদস্যের এ কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব শামিমা বেগম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- ইউজিসির আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জাকির হোসেন ও ইউজিসির পরিচালক (পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়) মোহাম্মদ জামিনুর রহমান।

কমিটির কার্যপরিধি হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্যের (ভিসি) অবৈধ নিয়োগ ও অনিয়ম প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলকরণ; কমিটির দায়-দায়িত্ব নিরূপণপূর্বক প্রতিবেদন পেশ করা।

এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ আনীত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এ জন্য গত বছরের ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে উপাচার্যকে অনুরোধ করা হয়েছিল।

কিন্তু বৃহস্পতিবার উপাচার্যের শেষ কর্মদিবসের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন পদে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূতভাবে জনবল নিয়োগ দিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় অবহিত হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত একটা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। বিদায়ী উপাচার্য অবৈধ জনবল নিয়োগের বৈধতা প্রাপ্তির সুযোগ নেই বিধায় এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশি নিরাপত্তায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ক্যাম্পাস ছেড়েছেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান। পথে সাংবাদিকদের বলেন, যেটুকু দায়িত্ব পেয়েছিলাম যথাযথভাবে পালন করেছি। অ্যাডহক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। শুধু বলেছেন, নিয়োগ হয়ে থাকলে পরে জানতে পারবেন। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন উপাচার্য।

উপাচার্যের বিদায় বেলায় টাকার বিনিময়ে ১২৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রচার শুরু হলে মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তাদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া প্রায় আধা ঘণ্টা চলে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যান। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাখা কর্মকর্তা মাসুদ, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও ক্রীড়া বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান চঞ্চল। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়োগের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে ১২৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান। প্রতিবেদকের কাছে একটি প্রজ্ঞাপন হাতে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ১২(৫) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অস্থায়ী ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

হামলার শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান চঞ্চল যুগান্তরকে বলেন, নিয়োগ নিয়ে মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শাখা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করেন। সেখানে আমি নিবৃত করার চেষ্টা করি। ওই সময় মহানগর ছাত্রলীগ কর্মীরা আমার ওপর হামলা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী ও কর্মকর্তারা একযোগে তাদের ধাওয়া করে ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দেন।

সাবেক রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবৈধ নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। নিয়োগ হয়েছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই। সামগ্রিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালের ৭ মে রাবির উপাচার্য হিসাবে দ্বিতীয়বার চার বছরের জন্য নিয়োগ পান ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা : উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব শামিমা বেগম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে ড. সাহাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন