পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা
jugantor
দেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা
‘এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি’

  রাশেদ রাব্বি  

১০ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট খুবই ভয়ংকর। এর সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুহার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের (ধরন) তুলনায় অনেক বেশি। এটি ছড়ায়ও দ্রুত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড সেটাই প্রমাণ করছে। করোনার এই ধরনটি বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে।

জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ৬ জনের শরীরে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এতে দেশবাসীর মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু সে অনুযায়ী কেউ সাবধান হচ্ছে না। এ পরিস্থিতেও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে রাজধানী ছাড়ছেন, যা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে সহায়ক।

এটা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, দু-একদিনের মধ্যেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে না। ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড যেহেতু ১৪ দিন, তাই দুই সপ্তাহ পরে সেই ভায়বহ পরিণতি আমাদের দেখতে হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে ভারতের মিউটেন্ট ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসারে এ বছর ঈদে বাড়িতে না গিয়ে যে যেখানে আছেন, সেখানেই ঈদ করুন।

ভারতের ভ্যারিয়েন্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এই ভ্যারিয়েন্টে একজন থেকে ৪০০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। দেশে এই ভ্যারিয়েন্টটি ছড়িয়ে পড়লে তা সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় টিকা নেওয়া, প্রয়োজনে দুটি মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

শনিবার বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ধরনটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১৭। মিউটেশনের কারণে এর তিনটি সাব টাইপও পাওয়া গেছে।

মোট ৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ছয়জনের মধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। তবে এর মধ্যে চারটি ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্টের কাছাকাছি আর দুটি নিশ্চিত।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখাপত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শনাক্ত হওয়া ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। ভারত থেকে আগতদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কঠোরভাবে প্রতিপালনে স্থলবন্দরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে। যারা কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। পথে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটি উদ্বেগজনক। এমন চললে ঈদের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

বাংলাদেশের তিনদিকেই ভারতীয় সীমান্ত। এসব সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই কয়েক শ মানুষ দেশে প্রবেশ করছেন। এদের কোয়ারেন্টিন করার নির্দেশনা থাকলেও প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এমনকি সীমান্ত এলাকার হোটেলগুলোর কোনো শয্যা বা কক্ষও ফাঁকা নেই। এজন্য এক জেলার সীমান্ত দিয়ে আসা মানুষদের কোয়ারেন্টিনের জন্য বিভিন্ন জেলায় পাঠনো হচ্ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ৫ অক্টোবরে ভারতে মহারাষ্ট্রে প্রথম এ মিউট্যান্ট ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছিল বলে একে ভারতীয় ধরন বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুই ডজন দেশে করোনাভাইরাসের এ ধরনটি পৌঁছেছে। তাতে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাইরাসবিদ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ভ্যারিয়েন্ট আসছে, আসবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভারত তাদের ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা শিকার করছে না। তিনি বলেন, ভ্যারিয়েন্ট যেটিই আসুক, শতভাগ মানুষকে মাস্ক পরতে হবে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ইউকে, ইউএসএ, ব্রাজিলিয়ান, আফ্রিকান বা ভারতীয় যে ভ্যারিয়েন্টই আসুক না কেন, চিকিৎসাপদ্ধতি একই।

শরীরের এমন কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নেই যেখানে এই ভাইরাস আক্রমণ করে না। তাই প্রিভেনশনের (প্রতিরোধ) দিকে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, হাত ধোয়া নিশ্চিত করতে হবে, দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং টিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে দেশে টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে।

জানা গেছে, ভারতে এই ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে ৫ অক্টোবর শনাক্ত হয় মহারাষ্ট্রে। সম্প্রতি এটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। ভারতের নতুন ধরনের করোনা ভ্যারিয়েন্ট কোনোভাবেই যেন ছড়াতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত ১৪ দিনের বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

গত ২৬ এপ্রিল থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। গত ৮ মে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। তবে যেসব বাংলাদেশির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তারা ভারতে বাংলাদেশি দূতাবাসের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রায় ২৫টি স্থল সীমান্ত হয়ে ভারতে থেকে মোট ৪৫২ জন দেশে প্রবেশ করেছে। এদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হলেও সেটি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শফিউল্লাহ মুন্সি যুগান্তরকে বলেন, এই ভাইরাসের ট্রান্সমিশন ক্যাপাসিটি এবং ভিরুলেন্স সম্পর্কে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এই ভ্যারিয়েন্টের একাধিক রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে, যা ইতঃপূর্বে আফ্রিকান এবং ব্রাজিলিয়ান ভ্যারিয়েন্টর ক্ষেত্রেও ঘটেছে। তবে যে কোনো ভ্যারিয়েন্টই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে যদি স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে প্রতিপালন না করা হয়।

দেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

‘এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি’
 রাশেদ রাব্বি 
১০ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট খুবই ভয়ংকর। এর সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুহার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের (ধরন) তুলনায় অনেক বেশি। এটি ছড়ায়ও দ্রুত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড সেটাই প্রমাণ করছে। করোনার এই ধরনটি বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে।

জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ৬ জনের শরীরে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এতে দেশবাসীর মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু সে অনুযায়ী কেউ সাবধান হচ্ছে না। এ পরিস্থিতেও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে রাজধানী ছাড়ছেন, যা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে সহায়ক।

এটা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, দু-একদিনের মধ্যেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে না। ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড যেহেতু ১৪ দিন, তাই দুই সপ্তাহ পরে সেই ভায়বহ পরিণতি আমাদের দেখতে হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে ভারতের মিউটেন্ট ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসারে এ বছর ঈদে বাড়িতে না গিয়ে যে যেখানে আছেন, সেখানেই ঈদ করুন।

ভারতের ভ্যারিয়েন্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এই ভ্যারিয়েন্টে একজন থেকে ৪০০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। দেশে এই ভ্যারিয়েন্টটি ছড়িয়ে পড়লে তা সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় টিকা নেওয়া, প্রয়োজনে দুটি মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

শনিবার বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ধরনটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১৭। মিউটেশনের কারণে এর তিনটি সাব টাইপও পাওয়া গেছে।

মোট ৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ছয়জনের মধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। তবে এর মধ্যে চারটি ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্টের কাছাকাছি আর দুটি নিশ্চিত। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখাপত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শনাক্ত হওয়া ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। ভারত থেকে আগতদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কঠোরভাবে প্রতিপালনে স্থলবন্দরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে। যারা কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। পথে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটি উদ্বেগজনক। এমন চললে ঈদের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।  

বাংলাদেশের তিনদিকেই ভারতীয় সীমান্ত। এসব সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই কয়েক শ মানুষ দেশে প্রবেশ করছেন। এদের কোয়ারেন্টিন করার নির্দেশনা থাকলেও প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এমনকি সীমান্ত এলাকার হোটেলগুলোর কোনো শয্যা বা কক্ষও ফাঁকা নেই। এজন্য এক জেলার সীমান্ত দিয়ে আসা মানুষদের কোয়ারেন্টিনের জন্য বিভিন্ন জেলায় পাঠনো হচ্ছে। 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ৫ অক্টোবরে ভারতে মহারাষ্ট্রে প্রথম এ মিউট্যান্ট ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছিল বলে একে ভারতীয় ধরন বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুই ডজন দেশে করোনাভাইরাসের এ ধরনটি পৌঁছেছে। তাতে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। 

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাইরাসবিদ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ভ্যারিয়েন্ট আসছে, আসবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভারত তাদের ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা শিকার করছে না। তিনি বলেন, ভ্যারিয়েন্ট যেটিই আসুক, শতভাগ মানুষকে মাস্ক পরতে হবে। 

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ইউকে, ইউএসএ, ব্রাজিলিয়ান, আফ্রিকান বা ভারতীয় যে ভ্যারিয়েন্টই আসুক না কেন, চিকিৎসাপদ্ধতি একই।

শরীরের এমন কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নেই যেখানে এই ভাইরাস আক্রমণ করে না। তাই প্রিভেনশনের (প্রতিরোধ) দিকে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, হাত ধোয়া নিশ্চিত করতে হবে, দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং টিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে দেশে টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। 

জানা গেছে, ভারতে এই ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে ৫ অক্টোবর শনাক্ত হয় মহারাষ্ট্রে। সম্প্রতি এটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। ভারতের নতুন ধরনের করোনা ভ্যারিয়েন্ট কোনোভাবেই যেন ছড়াতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত ১৪ দিনের বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

গত ২৬ এপ্রিল থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। গত ৮ মে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। তবে যেসব বাংলাদেশির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তারা ভারতে বাংলাদেশি দূতাবাসের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রায় ২৫টি স্থল সীমান্ত হয়ে ভারতে থেকে মোট ৪৫২ জন দেশে প্রবেশ করেছে। এদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হলেও সেটি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শফিউল্লাহ মুন্সি যুগান্তরকে বলেন, এই ভাইরাসের ট্রান্সমিশন ক্যাপাসিটি এবং ভিরুলেন্স সম্পর্কে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এই ভ্যারিয়েন্টের একাধিক রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে, যা ইতঃপূর্বে আফ্রিকান এবং ব্রাজিলিয়ান ভ্যারিয়েন্টর ক্ষেত্রেও ঘটেছে। তবে যে কোনো ভ্যারিয়েন্টই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে যদি স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে প্রতিপালন না করা হয়।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস