প্রণোদনা দিলে সুদিন ফিরবে শিল্পে
jugantor
সাক্ষাৎকার: ফারুক হাসান
প্রণোদনা দিলে সুদিন ফিরবে শিল্পে

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কারখানা চালু রাখাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিদেশি ক্রেতারা কম অর্ডার দিচ্ছেন, আবার অর্ডার দিলেও দাম একেবারেই কম দিচ্ছেন। এখন শুধু কারখানা চালু রাখতে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের দিকে ইউরোপ, আমেরিকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

এ সময়টুকুতে প্রণোদনা দিয়ে পোশাক খাতকে টিকে থাকতে সাহায্য করলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে খাতটি। সম্প্রতি পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন ইমরান

যুগান্তর : করোনা-পরবর্তী পোশাক শিল্পের অবস্থা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

ফারুক হাসান : করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে মানুষের আয় কমে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ পোশাক কিনছে না। ফ্যাশনেবল বা শৌখিন পোশাকের কেনাকাটা এখন অনেক কমে গেছে। বিদেশি ক্রেতারা তাদের পোশাক বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারা রপ্তানির বিল পাঠাতে পারছে না।

এতে একদিকে দেশের পোশাক শিল্প মালিকরা অর্থ সংকটে পড়েছেন, অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতারা ব্যাংকের দেনা শোধ করতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন। ফলে আগের মতো রপ্তানির অর্ডার আসছে না।

যুগান্তর : বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া দরকার বলে আপনি মনে করেন?

ফারুক হাসান : করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় আঘাত এনেছে। এ আঘাত মোকাবিলা করে এখন দেশীয় শিল্প টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত ও টেক্সটাইল শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারকে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। করপোরেট ট্যাক্স, রপ্তানির উৎসে করে ছাড় দিয়ে শিল্পকে সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো দরকার। তাহলে শিল্প টিকে থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে যার সুফল ভোগ করবে রাষ্ট্র।

যুগান্তর : রপ্তানি খাতে উৎসে কর কেমন হওয়া উচিত?

ফারুক হাসান : বর্তমানে রপ্তানিকারকরা শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর দিয়ে থাকেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অনেক বেশি। এ হার কমানো দরকার। কারণ বর্তমানে মুনাফা তো দূরের কথা, শুধু টিকে থাকার জন্যই মালিকরা অর্ডার নিচ্ছে। এত কম মুনাফা থেকে এ উৎসে কর কেটে রাখা হলে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়বে। তাই বাজেটে এ হার অর্ধেক কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

যুগান্তর : রপ্তানি আয়ে স্বাভাবিক গতি ফিরতে আর কতদিন লাগতে পারে?

ফারুক হাসান : রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে উঠেছিল। এখন তা কমে ২ হাজার ৮০০ কোটি নেমে গেছে। রপ্তানি ধরে রাখার জন্য প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এজন্য নতুন পণ্যের দিকে নজর দিতে হবে। নতুন মার্কেটের দিকে যেতে হবে। নতুন মার্কেটের জন্য বর্তমানে চার শতাংশ প্রণোদনা আছে। এটি আরও এক শতাংশ বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করতে হবে।

যে প্রণোদনা দেওয়া হয় তার ওপর আবার সরকার ১০ শতাংশ উৎসে আয়কর কেটে নেয়। এটি আগে তিন শতাংশ ছিল। আগামী বাজেটে সেটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন শতাংশে নিয়ে আসার দাবি করছি। আশার কথা হচ্ছে, আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। অক্টোবর থেকে ব্যবসা করা সহজ হবে। আমেরিকাতে ব্যাপকভাবে টিকা দেওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হয়েছে। ইউরোপের পরিস্থিতিও উন্নতির দিকে। অন্যান্য দেশগুলোর অবস্থাও উন্নতির দিকে। ফলে আগামী অক্টোবর থেকে রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করছি।

যুগান্তর : বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

ফারুক হাসান : করোনার কারণে গত দেড় বছরে নতুন কোনো বড় বিনিয়োগ হয়নি। চলমান শিল্পগুলোই এখন ধরে রাখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে নতুন বিনিয়োগ আনতে হলে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিতে হবে। এর মধ্যে যেসব খাতে রপ্তানির সুযোগ আছে সে খাতে প্রণোদনা দিতে হবে। এর মধ্যে ম্যান মেইড ফাইবার ও নন কটন পোশাকের ক্ষেত্রে কর, অবকাঠামো, প্রণোদনা ও সুদের হার কমালে বিনিয়োগ বাড়বে।

একইসঙ্গে কর্মসংস্থানের ব্যাপক ক্ষেত্র তৈরি হবে। আমরা মনে করি, গার্মেন্ট খাতে সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। আমরা যদি প্রণোদনা পাই তাহলে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে। তখন এর সহায়ক হিসাবে আরও অনেক শিল্প গড়ে উঠবে। বহুমুখী ছোট-বড় বিনিয়োগ বাড়বে। বাড়বে অর্থের প্রবাহ। তখন সরকার বেশি রাজস্ব পাবে। শিল্প বাড়লে দেশে অনেক কর্মকাণ্ড বাড়বে। ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আরও বেশি সক্রিয় হতে পারবে।

যুগান্তর : প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

ফারুক হাসান : সরকার অনেক চিন্তাভাবনা করে প্রণোদনা প্যাকেজগুলো দিয়েছে। এগুলো অনেক কাজে এসেছে। করোনার শুরুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা প্যাকেজ না দিলে শিল্প টিকিয়ে রাখা যেত না। অনেক কারখানা নিমিষেই বন্ধ হয়ে যেত। এজন্য পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই। এখন দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য প্রণোদনা দরকার। কারণ আগামী তিন মাস খুব কঠিন যাবে। এ সময়ে প্রণোদনা পেলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া সহজ হবে। সরকার থেকে প্রণোদনা বাবদ যেসব তহবিল দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো আমরা আগামী অক্টোবর থেকে ফেরত দিতে শুরু করব।

যুগান্তর : শিল্প খাতে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এ সংকট দূর করতে বাজেটে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

ফারুক হাসান : দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বাজেটে দুটি ফান্ড গঠন করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে নতুন দক্ষ জনবল তৈরি এবং অপরটি হচ্ছে এখনকার জনবলকে দক্ষ করে গড়ে তোলা। এখন যারা কাজ করছে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি ফান্ড থাকবে। সেটি দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এ কাজটি এখন আমরাও করছি। বিজিএমইএ’র একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউিট রয়েছে। এখানে সবসময়ই প্রশিক্ষণ চলছে। সরকার থেকে সহায়তা পেলে এ কাজটি আরও দ্রুত এগোবে। আর নতুন যারা কর্মের বাজারে প্রবেশ করবে, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হলে শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির প্রবাহ বাড়বে। ফলে উৎপাদন খরচ কমবে। বাড়বে উৎপাদনশীলতা।

যুগান্তর : তিনটি সংগঠন মিলে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে প্রণোদনা চেয়েছিল, তার অগ্রগতি কী?

ফারুক হাসান : তারল্য সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারের কাছে কম সুদে আগের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে প্রণোদনা চেয়েছিলাম। এটি আমরা অনুদান হিসাবে চাইনি। সহযোগিতা হিসাবে চেয়েছি। আগামী বছর থেকেই এটি পরিশোধ করতে পারব।

যুগান্তর : ব্যাংকিং খাত থেকে আপনারা কী ধরনের প্রণোদনা চান?

ফারুক হাসান : করোনার কারণে ব্যবসা খরচ বেড়ে গেছে। এ খরচ কমাতে ব্যাংকের ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে বহাল রাখতে হবে। করোনার কারণে যারা কিস্তি দিতে পারছে না তাদের খেলাপি না করে নিয়মিত হিসাবে রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন একটি নীতিমালা চালু করেছে। এর নাম ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর)। ঋণ নেওয়ার আগে এ রেটিং করা হয়।

এতে ৬০ রেটিং পেতে হবে। এটি পেতে ঝুঁকি কমাতে হবে। কিন্তু করোনার কারণে তো এখন ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। বরং ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ কারণে ঋণ পেতে এ রেটিং এখন বড় সমস্যা। গত বছর সরকারের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছি। আমরা এ নীতিমালা রহিত করার দাবি জানিয়েছি। সরকার রহিত করেছিল আংশিকভাবে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। নীতিমালাটি আমরা পুরোপুরি সাময়িকভাবে স্থগিত চাচ্ছি।

যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ

ফারুক হাসান : ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকার: ফারুক হাসান

প্রণোদনা দিলে সুদিন ফিরবে শিল্পে

 সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কারখানা চালু রাখাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিদেশি ক্রেতারা কম অর্ডার দিচ্ছেন, আবার অর্ডার দিলেও দাম একেবারেই কম দিচ্ছেন। এখন শুধু কারখানা চালু রাখতে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের দিকে ইউরোপ, আমেরিকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

এ সময়টুকুতে প্রণোদনা দিয়ে পোশাক খাতকে টিকে থাকতে সাহায্য করলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে খাতটি। সম্প্রতি পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন ইমরান

যুগান্তর : করোনা-পরবর্তী পোশাক শিল্পের অবস্থা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

ফারুক হাসান : করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে মানুষের আয় কমে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ পোশাক কিনছে না। ফ্যাশনেবল বা শৌখিন পোশাকের কেনাকাটা এখন অনেক কমে গেছে। বিদেশি ক্রেতারা তাদের পোশাক বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারা রপ্তানির বিল পাঠাতে পারছে না।

এতে একদিকে দেশের পোশাক শিল্প মালিকরা অর্থ সংকটে পড়েছেন, অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতারা ব্যাংকের দেনা শোধ করতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন। ফলে আগের মতো রপ্তানির অর্ডার আসছে না।

যুগান্তর : বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া দরকার বলে আপনি মনে করেন?

ফারুক হাসান : করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় আঘাত এনেছে। এ আঘাত মোকাবিলা করে এখন দেশীয় শিল্প টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত ও টেক্সটাইল শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারকে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। করপোরেট ট্যাক্স, রপ্তানির উৎসে করে ছাড় দিয়ে শিল্পকে সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো দরকার। তাহলে শিল্প টিকে থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে যার সুফল ভোগ করবে রাষ্ট্র।

যুগান্তর : রপ্তানি খাতে উৎসে কর কেমন হওয়া উচিত?

ফারুক হাসান : বর্তমানে রপ্তানিকারকরা শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর দিয়ে থাকেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অনেক বেশি। এ হার কমানো দরকার। কারণ বর্তমানে মুনাফা তো দূরের কথা, শুধু টিকে থাকার জন্যই মালিকরা অর্ডার নিচ্ছে। এত কম মুনাফা থেকে এ উৎসে কর কেটে রাখা হলে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়বে। তাই বাজেটে এ হার অর্ধেক কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

যুগান্তর : রপ্তানি আয়ে স্বাভাবিক গতি ফিরতে আর কতদিন লাগতে পারে?

ফারুক হাসান : রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে উঠেছিল। এখন তা কমে ২ হাজার ৮০০ কোটি নেমে গেছে। রপ্তানি ধরে রাখার জন্য প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এজন্য নতুন পণ্যের দিকে নজর দিতে হবে। নতুন মার্কেটের দিকে যেতে হবে। নতুন মার্কেটের জন্য বর্তমানে চার শতাংশ প্রণোদনা আছে। এটি আরও এক শতাংশ বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করতে হবে।

যে প্রণোদনা দেওয়া হয় তার ওপর আবার সরকার ১০ শতাংশ উৎসে আয়কর কেটে নেয়। এটি আগে তিন শতাংশ ছিল। আগামী বাজেটে সেটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন শতাংশে নিয়ে আসার দাবি করছি। আশার কথা হচ্ছে, আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। অক্টোবর থেকে ব্যবসা করা সহজ হবে। আমেরিকাতে ব্যাপকভাবে টিকা দেওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হয়েছে। ইউরোপের পরিস্থিতিও উন্নতির দিকে। অন্যান্য দেশগুলোর অবস্থাও উন্নতির দিকে। ফলে আগামী অক্টোবর থেকে রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করছি।

যুগান্তর : বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

ফারুক হাসান : করোনার কারণে গত দেড় বছরে নতুন কোনো বড় বিনিয়োগ হয়নি। চলমান শিল্পগুলোই এখন ধরে রাখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে নতুন বিনিয়োগ আনতে হলে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিতে হবে। এর মধ্যে যেসব খাতে রপ্তানির সুযোগ আছে সে খাতে প্রণোদনা দিতে হবে। এর মধ্যে ম্যান মেইড ফাইবার ও নন কটন পোশাকের ক্ষেত্রে কর, অবকাঠামো, প্রণোদনা ও সুদের হার কমালে বিনিয়োগ বাড়বে।

একইসঙ্গে কর্মসংস্থানের ব্যাপক ক্ষেত্র তৈরি হবে। আমরা মনে করি, গার্মেন্ট খাতে সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। আমরা যদি প্রণোদনা পাই তাহলে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে। তখন এর সহায়ক হিসাবে আরও অনেক শিল্প গড়ে উঠবে। বহুমুখী ছোট-বড় বিনিয়োগ বাড়বে। বাড়বে অর্থের প্রবাহ। তখন সরকার বেশি রাজস্ব পাবে। শিল্প বাড়লে দেশে অনেক কর্মকাণ্ড বাড়বে। ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আরও বেশি সক্রিয় হতে পারবে।

যুগান্তর : প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

ফারুক হাসান : সরকার অনেক চিন্তাভাবনা করে প্রণোদনা প্যাকেজগুলো দিয়েছে। এগুলো অনেক কাজে এসেছে। করোনার শুরুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা প্যাকেজ না দিলে শিল্প টিকিয়ে রাখা যেত না। অনেক কারখানা নিমিষেই বন্ধ হয়ে যেত। এজন্য পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই। এখন দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য প্রণোদনা দরকার। কারণ আগামী তিন মাস খুব কঠিন যাবে। এ সময়ে প্রণোদনা পেলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া সহজ হবে। সরকার থেকে প্রণোদনা বাবদ যেসব তহবিল দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো আমরা আগামী অক্টোবর থেকে ফেরত দিতে শুরু করব।

যুগান্তর : শিল্প খাতে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এ সংকট দূর করতে বাজেটে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

ফারুক হাসান : দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বাজেটে দুটি ফান্ড গঠন করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে নতুন দক্ষ জনবল তৈরি এবং অপরটি হচ্ছে এখনকার জনবলকে দক্ষ করে গড়ে তোলা। এখন যারা কাজ করছে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি ফান্ড থাকবে। সেটি দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এ কাজটি এখন আমরাও করছি। বিজিএমইএ’র একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউিট রয়েছে। এখানে সবসময়ই প্রশিক্ষণ চলছে। সরকার থেকে সহায়তা পেলে এ কাজটি আরও দ্রুত এগোবে। আর নতুন যারা কর্মের বাজারে প্রবেশ করবে, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হলে শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির প্রবাহ বাড়বে। ফলে উৎপাদন খরচ কমবে। বাড়বে উৎপাদনশীলতা।

যুগান্তর : তিনটি সংগঠন মিলে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে প্রণোদনা চেয়েছিল, তার অগ্রগতি কী?

ফারুক হাসান : তারল্য সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারের কাছে কম সুদে আগের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে প্রণোদনা চেয়েছিলাম। এটি আমরা অনুদান হিসাবে চাইনি। সহযোগিতা হিসাবে চেয়েছি। আগামী বছর থেকেই এটি পরিশোধ করতে পারব।

যুগান্তর : ব্যাংকিং খাত থেকে আপনারা কী ধরনের প্রণোদনা চান?

ফারুক হাসান : করোনার কারণে ব্যবসা খরচ বেড়ে গেছে। এ খরচ কমাতে ব্যাংকের ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে বহাল রাখতে হবে। করোনার কারণে যারা কিস্তি দিতে পারছে না তাদের খেলাপি না করে নিয়মিত হিসাবে রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন একটি নীতিমালা চালু করেছে। এর নাম ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর)। ঋণ নেওয়ার আগে এ রেটিং করা হয়।

এতে ৬০ রেটিং পেতে হবে। এটি পেতে ঝুঁকি কমাতে হবে। কিন্তু করোনার কারণে তো এখন ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। বরং ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ কারণে ঋণ পেতে এ রেটিং এখন বড় সমস্যা। গত বছর সরকারের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছি। আমরা এ নীতিমালা রহিত করার দাবি জানিয়েছি। সরকার রহিত করেছিল আংশিকভাবে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। নীতিমালাটি আমরা পুরোপুরি সাময়িকভাবে স্থগিত চাচ্ছি।

যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ

ফারুক হাসান : ধন্যবাদ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন