কোয়াডে যোগ দিলে খারাপ হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
jugantor
ঢাকাকে চীনের রাষ্ট্রদূত
কোয়াডে যোগ দিলে খারাপ হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন চার জাতির নিরাপত্তা জোট কোয়াডে যোগ দিলে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সোমবার ডিকাবের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই সতর্কবার্তা ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ পুনরায় শুরু করতে আরও কয়েক মাস দেরি হতে পারে। এছাড়াও চীনের অর্থায়নে তিস্তা নদীর ওপর এক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে আগে বাংলাদেশকে প্রকল্পটি সম্পর্কে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে বলেও রাষ্ট্রদূত অভিমত ব্যক্ত করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং টিকাসহ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিকাবের সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে ডিকাবের সভাপতি পান্থ রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিনও বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রদূত কোভিড সহযোগিতা, তিস্তা প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফর, চীনের বিআরআইয়ের আওতায় বাংলাদেশের প্রকল্প, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। কোভিড সহযোগিতার আওতায় আগামীকাল চীন থেকে পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসাবে বাংলাদেশে আসছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড্রিলেটারেল সিকিউরিটি ডায়ালগ’ সংক্ষেপে কোয়াড গঠন করা হয়েছে। চীনকে ঠেকাতে জাপানের উদ্যোগে গঠিত কোয়াড একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত সংলাপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাম্প্রতিককালে তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে যোগদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে বোঝানো হচ্ছে। বাংলাদেশকে চীন থেকে দূরে সরাতেও যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার পালটা হিসাবে সম্প্রতি চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশে এক ঝটিকা সফরে আসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের বাইরের কোনো শক্তি যাতে আমাদের অঞ্চলে সামরিক জোট করে হেজিমনি সৃষ্টি করতে না পারে, এর জন্য চীন ও বাংলাদেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জানতে চাইলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা কোনো সামরিক জোটে যোগ দিই না। কোনো দেশের বিরোধী কোনো জোটেও বাংলাদেশ যোগ দেয় না। অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রশ্নে যে কোনো দেশ কিংবা জোটের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করে থাকে। সেই আদলে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে যুক্ত থেকে কাজ করতে বাংলাদেশের আগ্রহ আছে।

রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছিল চীন। বর্তমানে এই সংলাপ বন্ধ আছে। কবে চালু হবে এই সংলাপ জানতে চাইলে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ফলে আমরা মিয়ানমার পক্ষের সঙ্গে কন্টাক্ট হারিয়ে ফেলি। আমরা মিয়ানমারের পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনার ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক কিছু দেখছি না। বাংলাদেশ তিন বছর অপেক্ষা করেছে। আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এ মুহূর্তে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিস্তায় চীনের এক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে চাইলে লি জিমিং বলেন, বাংলাদেশের ইআরডি একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ নিজে কিংবা চীন কিংবা অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করাতে হবে। তারপর চীন প্রকল্পটিতে অর্থায়নে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, তিস্তার প্রকল্পের ব্যাপারে ভারতের আপত্তি থাকার কোনো যুক্তি নেই। বাংলাদেশ ভারতের ভাটিতে অবস্থিত। ভাটির দেশের কোনো প্রকল্প উজানের দেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। ফলে এমন প্রকল্প গ্রহণ করা বাংলাদেশের বৈধ অধিকার। এখানে স্পর্শকাতর কিছু নেই।

তিনি বলেন, চীন অনেক আগেই বাংলাদেশকে টিকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ এপ্রিলের শেষদিনে চীনের টিকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তারপর মে দিবসের ছুটি ছিল। তার মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করে ১২ মে উপহারের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করতে সমর্থ হয়েছি। তবে বাংলাদেশ চীন থেকে টিকা কিনতে চাইলে ওই টিকা পেতে বিলম্ব হতে পারে। কারণ অনেক দেশ আগে টিকা পাওয়ার সিরিয়ালে রয়েছে।

ঢাকাকে চীনের রাষ্ট্রদূত

কোয়াডে যোগ দিলে খারাপ হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

 কূটনৈতিক প্রতিবেদক 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন চার জাতির নিরাপত্তা জোট কোয়াডে যোগ দিলে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সোমবার ডিকাবের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই সতর্কবার্তা ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ পুনরায় শুরু করতে আরও কয়েক মাস দেরি হতে পারে। এছাড়াও চীনের অর্থায়নে তিস্তা নদীর ওপর এক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে আগে বাংলাদেশকে প্রকল্পটি সম্পর্কে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে বলেও রাষ্ট্রদূত অভিমত ব্যক্ত করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং টিকাসহ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিকাবের সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে ডিকাবের সভাপতি পান্থ রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিনও বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রদূত কোভিড সহযোগিতা, তিস্তা প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফর, চীনের বিআরআইয়ের আওতায় বাংলাদেশের প্রকল্প, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। কোভিড সহযোগিতার আওতায় আগামীকাল চীন থেকে পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসাবে বাংলাদেশে আসছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড্রিলেটারেল সিকিউরিটি ডায়ালগ’ সংক্ষেপে কোয়াড গঠন করা হয়েছে। চীনকে ঠেকাতে জাপানের উদ্যোগে গঠিত কোয়াড একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত সংলাপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাম্প্রতিককালে তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে যোগদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে বোঝানো হচ্ছে। বাংলাদেশকে চীন থেকে দূরে সরাতেও যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার পালটা হিসাবে সম্প্রতি চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশে এক ঝটিকা সফরে আসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের বাইরের কোনো শক্তি যাতে আমাদের অঞ্চলে সামরিক জোট করে হেজিমনি সৃষ্টি করতে না পারে, এর জন্য চীন ও বাংলাদেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জানতে চাইলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা কোনো সামরিক জোটে যোগ দিই না। কোনো দেশের বিরোধী কোনো জোটেও বাংলাদেশ যোগ দেয় না। অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রশ্নে যে কোনো দেশ কিংবা জোটের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করে থাকে। সেই আদলে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে যুক্ত থেকে কাজ করতে বাংলাদেশের আগ্রহ আছে।

রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছিল চীন। বর্তমানে এই সংলাপ বন্ধ আছে। কবে চালু হবে এই সংলাপ জানতে চাইলে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ফলে আমরা মিয়ানমার পক্ষের সঙ্গে কন্টাক্ট হারিয়ে ফেলি। আমরা মিয়ানমারের পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনার ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক কিছু দেখছি না। বাংলাদেশ তিন বছর অপেক্ষা করেছে। আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এ মুহূর্তে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিস্তায় চীনের এক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে চাইলে লি জিমিং বলেন, বাংলাদেশের ইআরডি একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ নিজে কিংবা চীন কিংবা অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করাতে হবে। তারপর চীন প্রকল্পটিতে অর্থায়নে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, তিস্তার প্রকল্পের ব্যাপারে ভারতের আপত্তি থাকার কোনো যুক্তি নেই। বাংলাদেশ ভারতের ভাটিতে অবস্থিত। ভাটির দেশের কোনো প্রকল্প উজানের দেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। ফলে এমন প্রকল্প গ্রহণ করা বাংলাদেশের বৈধ অধিকার। এখানে স্পর্শকাতর কিছু নেই।

তিনি বলেন, চীন অনেক আগেই বাংলাদেশকে টিকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ এপ্রিলের শেষদিনে চীনের টিকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তারপর মে দিবসের ছুটি ছিল। তার মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করে ১২ মে উপহারের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করতে সমর্থ হয়েছি। তবে বাংলাদেশ চীন থেকে টিকা কিনতে চাইলে ওই টিকা পেতে বিলম্ব হতে পারে। কারণ অনেক দেশ আগে টিকা পাওয়ার সিরিয়ালে রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন