প্রস্তাব থেকে নির্দেশ জারিতে পার ১৫ দিন
jugantor
পিসিআর পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণ
প্রস্তাব থেকে নির্দেশ জারিতে পার ১৫ দিন

  রাশেদ রাব্বি  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা শনাক্তে আরটিপিসিআর (রিয়েলটাইম পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন) পরীক্ষার জন্য গত ১৫ দিনে জনগণকে প্রায় তিন কোটি টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। গত মাসের ২৬ তারিখ পিসিআর পরীক্ষা মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ৬ তারিখ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করে। তবে ১০ মে পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও আজ থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রস্তাব থেকে নির্দেশনা জারি হতে কেটে গেল ১৫ দিন।

জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে আরটি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা ফি পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ৬ মে তারিখে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পুনর্নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশে অবস্থানরত সাধারণ জনগণের জন্য হাসপাতালে বা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষার ক্ষেত্রে ফি ৩০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যা আগে ছিল ৩৫০০ টাকা। বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের নতুন ফি ৩৭০০ টাকা। যা আগে ছিল ৪৫০০ টাকা। এছাড়া বিদেশ গমনেচ্ছু যাত্রীদের জন্য ২৫০০ টাকা ফি ধরা হয়েছে। যা আগে ছিল ৩০০০ টাকা। এই পুনর্নির্ধারিত মূল্য অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ১০ মে পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাব দেওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ হতে প্রায় ১০ দিন সময় লেগেছে। আবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ দিন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিনের একটি সময়ের ফাঁকে পড়ে গেছে সাধারণ মানুষ।

এই সময়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকগুলো হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছুটা আন্তরিক হলে সাধারণ মানুষের এই বিপুল পরিমাণ টাকা রক্ষা করা সম্ভব হতো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ৭৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অনুমোদিতভাবে আরটি পিসিআর পরীক্ষা করে থাকে। অধিদপ্তরের রোববারের তথ্যে দেখা যায়, এসব বেসরকারি পিসিআর ল্যাবের মধ্যে ১৩টিতে পরীক্ষা হয়েছে ৫০টির বেশি, ৯টিতে পরীক্ষা হয়েছে প্রায় দেড়শ করে; ৪টিতে পরীক্ষা হয়েছে দু’শর কাছাকাছি এবং একটিতে দু’শর বেশি।

এছাড়া তিন ল্যাবে তিন শতাধিক, চার ল্যাবে চার শতাধিক, এবং একটি করে ল্যাবে ৬শ ও ৮শ ওপরে পরীক্ষা হয়েছে। বাকি ৪০টি ল্যাবের মধ্যে দু-একটি ল্যাব ছাড়া সবগুলোতেই ৫ থেকে ৪০ বা তদূর্ধ্ব পরীক্ষা হয়ে থাকে। গত ১৫ দিনে চিত্র প্রায় একইরকম।

এক্ষেত্রে যদি ৩৬টি ল্যাবে গড়ে ১০০টি করে পরীক্ষা করা হয় এবং রোগীপ্রতি ৫০০ টাকা বেশি নেওয়া হয় তাহলে প্রতিদিন অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে ১৮ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ১৫ দিনে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর যদি ৭৬টি ল্যাবে গড়ে ৫০ জন করে পরীক্ষা করা হয় এবং ৫০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়, তাহলে দিনে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় করা হয় ১৯ লাখ টাকা। ১৫ দিনে এর পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যদিও প্রকৃত হিসাবে এই টাকার পরিমাণ আরও বেশ হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেসরকারি পর্যায়ে ল্যাবগুলো এমনিতেই সরকার নির্ধারিত মূল্য পরীক্ষা করে না। রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাবে গিয়ে পরীক্ষা করাতে রোগী কাছ থেকে নিয়ে থাকে ৩৮শ টাকা। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩শ টাকা বেশি। রাজধানীর বেশির ভাগ ল্যাবে এভাবে রোগীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে ৬ তারিখে আদেশ করা হলেও আমরা হাতে পেয়েছি ৯ তারিখে। আশা করছি আগামীকাল মঙ্গলবার সব বেসরকারি হাসপাতালে এই নির্দেশনা চিঠি আকারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে তাদের মৌখিকভাবে জানানো হবে। তবে চিঠি পাওয়ার পরে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনা না মানে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, করোনা নির্ণয় পরীক্ষার মূল্য কমাতে গত ২১ তারিখে সুপারিশ করে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। ওইদিন গভীর রাতে আয়োজিত এক সভায় কমিটি এই সুপারিশ করে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লা জানান, কোভিড পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় কিটের দাম ৩০০০ হাজার/২৭০০ টাকা থেকে কমে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় নেমে এসেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে মূল্য পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেয় তারা। এক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার মূল্য ১৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণের পরামর্শ দেয় পরামর্শক কমিটি।

এই প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা গত ২৬ এপ্রিল এ সংক্রান্ত চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সভায় আরটি-পিসিআরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব পর্যায়ের স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

ওই অনলাইন সভায় সংযুক্ত সবার মতামতের ভিত্তিতেই বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি ওই চিঠিতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৩ ধরনের পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। ১. সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে পিসিআর পরীক্ষা করাতে বর্তমানে ব্যয় করতে হয় সাড়ে ৩ হাজার টাকা; এখানে প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা।

বিদেশগামীদের পরীক্ষায় বর্তমানে মূল্য রয়েছে ৩ হাজার টাকা; প্রস্তাবিত মূল্য আড়াই হাজার টাকা। এছাড়া বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে সেবা মূল্য রয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা; প্রস্তাবিত মূল্য করা হয়েছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা।

অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, এর আগেও একবার বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফি কমাতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি। মূলত বেসরকারি পর্যায়ের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিকদের চাপের কারণেই আগেরবার দাম কমানো সম্ভব হয়নি। এবার মূল্য কমানো হয়েছে, কিন্তু এটি সর্বস্তরে বাস্তবায়ন হবে কিনা এ নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ রয়ে গেছে।

এসব বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক করোনা মহামারি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মহামারি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই দেরি না করে জরুরিভাবে করা উচিত। এই যে একটি প্রস্তাব নির্দেশনায় রূপান্তরিত হতে ১৫ দিন কেটে গেলে এতে দেশের মানুষের আর্থিক ক্ষতি হলো।

এ ধরনের বিলম্ব কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাছাড়া আমরা প্রথম থেকেই পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য বলছি। কারণ করোনা নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে মূল্য কমলে পরীক্ষার হার বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

পিসিআর পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণ

প্রস্তাব থেকে নির্দেশ জারিতে পার ১৫ দিন

 রাশেদ রাব্বি 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা শনাক্তে আরটিপিসিআর (রিয়েলটাইম পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন) পরীক্ষার জন্য গত ১৫ দিনে জনগণকে প্রায় তিন কোটি টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। গত মাসের ২৬ তারিখ পিসিআর পরীক্ষা মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ৬ তারিখ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করে। তবে ১০ মে পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও আজ থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রস্তাব থেকে নির্দেশনা জারি হতে কেটে গেল ১৫ দিন।

জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে আরটি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা ফি পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ৬ মে তারিখে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পুনর্নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশে অবস্থানরত সাধারণ জনগণের জন্য হাসপাতালে বা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষার ক্ষেত্রে ফি ৩০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যা আগে ছিল ৩৫০০ টাকা। বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের নতুন ফি ৩৭০০ টাকা। যা আগে ছিল ৪৫০০ টাকা। এছাড়া বিদেশ গমনেচ্ছু যাত্রীদের জন্য ২৫০০ টাকা ফি ধরা হয়েছে। যা আগে ছিল ৩০০০ টাকা। এই পুনর্নির্ধারিত মূল্য অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ১০ মে পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাব দেওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ হতে প্রায় ১০ দিন সময় লেগেছে। আবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ দিন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিনের একটি সময়ের ফাঁকে পড়ে গেছে সাধারণ মানুষ।

এই সময়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকগুলো হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছুটা আন্তরিক হলে সাধারণ মানুষের এই বিপুল পরিমাণ টাকা রক্ষা করা সম্ভব হতো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ৭৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অনুমোদিতভাবে আরটি পিসিআর পরীক্ষা করে থাকে। অধিদপ্তরের রোববারের তথ্যে দেখা যায়, এসব বেসরকারি পিসিআর ল্যাবের মধ্যে ১৩টিতে পরীক্ষা হয়েছে ৫০টির বেশি, ৯টিতে পরীক্ষা হয়েছে প্রায় দেড়শ করে; ৪টিতে পরীক্ষা হয়েছে দু’শর কাছাকাছি এবং একটিতে দু’শর বেশি।

এছাড়া তিন ল্যাবে তিন শতাধিক, চার ল্যাবে চার শতাধিক, এবং একটি করে ল্যাবে ৬শ ও ৮শ ওপরে পরীক্ষা হয়েছে। বাকি ৪০টি ল্যাবের মধ্যে দু-একটি ল্যাব ছাড়া সবগুলোতেই ৫ থেকে ৪০ বা তদূর্ধ্ব পরীক্ষা হয়ে থাকে। গত ১৫ দিনে চিত্র প্রায় একইরকম।

এক্ষেত্রে যদি ৩৬টি ল্যাবে গড়ে ১০০টি করে পরীক্ষা করা হয় এবং রোগীপ্রতি ৫০০ টাকা বেশি নেওয়া হয় তাহলে প্রতিদিন অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে ১৮ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ১৫ দিনে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর যদি ৭৬টি ল্যাবে গড়ে ৫০ জন করে পরীক্ষা করা হয় এবং ৫০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়, তাহলে দিনে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় করা হয় ১৯ লাখ টাকা। ১৫ দিনে এর পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যদিও প্রকৃত হিসাবে এই টাকার পরিমাণ আরও বেশ হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেসরকারি পর্যায়ে ল্যাবগুলো এমনিতেই সরকার নির্ধারিত মূল্য পরীক্ষা করে না। রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাবে গিয়ে পরীক্ষা করাতে রোগী কাছ থেকে নিয়ে থাকে ৩৮শ টাকা। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩শ টাকা বেশি। রাজধানীর বেশির ভাগ ল্যাবে এভাবে রোগীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে ৬ তারিখে আদেশ করা হলেও আমরা হাতে পেয়েছি ৯ তারিখে। আশা করছি আগামীকাল মঙ্গলবার সব বেসরকারি হাসপাতালে এই নির্দেশনা চিঠি আকারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে তাদের মৌখিকভাবে জানানো হবে। তবে চিঠি পাওয়ার পরে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনা না মানে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, করোনা নির্ণয় পরীক্ষার মূল্য কমাতে গত ২১ তারিখে সুপারিশ করে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। ওইদিন গভীর রাতে আয়োজিত এক সভায় কমিটি এই সুপারিশ করে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লা জানান, কোভিড পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় কিটের দাম ৩০০০ হাজার/২৭০০ টাকা থেকে কমে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় নেমে এসেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে মূল্য পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেয় তারা। এক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার মূল্য ১৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণের পরামর্শ দেয় পরামর্শক কমিটি।

এই প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা গত ২৬ এপ্রিল এ সংক্রান্ত চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সভায় আরটি-পিসিআরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব পর্যায়ের স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

ওই অনলাইন সভায় সংযুক্ত সবার মতামতের ভিত্তিতেই বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি ওই চিঠিতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৩ ধরনের পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। ১. সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে পিসিআর পরীক্ষা করাতে বর্তমানে ব্যয় করতে হয় সাড়ে ৩ হাজার টাকা; এখানে প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা।

বিদেশগামীদের পরীক্ষায় বর্তমানে মূল্য রয়েছে ৩ হাজার টাকা; প্রস্তাবিত মূল্য আড়াই হাজার টাকা। এছাড়া বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে সেবা মূল্য রয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা; প্রস্তাবিত মূল্য করা হয়েছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা।

অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, এর আগেও একবার বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফি কমাতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি। মূলত বেসরকারি পর্যায়ের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিকদের চাপের কারণেই আগেরবার দাম কমানো সম্ভব হয়নি। এবার মূল্য কমানো হয়েছে, কিন্তু এটি সর্বস্তরে বাস্তবায়ন হবে কিনা এ নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ রয়ে গেছে।

এসব বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক করোনা মহামারি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মহামারি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই দেরি না করে জরুরিভাবে করা উচিত। এই যে একটি প্রস্তাব নির্দেশনায় রূপান্তরিত হতে ১৫ দিন কেটে গেলে এতে দেশের মানুষের আর্থিক ক্ষতি হলো।

এ ধরনের বিলম্ব কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাছাড়া আমরা প্রথম থেকেই পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য বলছি। কারণ করোনা নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে মূল্য কমলে পরীক্ষার হার বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস