রাবির ভিসি পদে আলোচনার শীর্ষে তিন নাম
jugantor
রাবির ভিসি পদে আলোচনার শীর্ষে তিন নাম

  রাজশাহী ব্যুরো  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি পদ পূরণ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। আগামী চার বছরের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা দেখার অপেক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ভিসি পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করবেন। সেই পদ পেতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক ডজন শিক্ষক। আলোচনার শীর্ষে আছে তিনটি নাম। তবে এবার শিক্ষাবান্ধব সৎ, যোগ্য ও দক্ষ একজন কাউকে রাবির ভিসি করার দাবি সর্বমহল থেকেই উঠেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও চাইছেন একজন সৎ ও দক্ষ কাউকে ভিসি করা হউক।

রাবির ভিসি পদ শূন্য হয়েছে ৬ মে। নিয়মানুযায়ী সিনেট সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত তিনজনের প্যানেল থেকে একজনকে ভিসির শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রীতির আর প্রচলন নেই। সিনেট প্যানেল থেকে সর্বশেষ ভিসি হয়েছিলেন প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান ১৯৯৯ সালে। এরপর থেকে সবাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ভিসি হয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ পদে কাউকে মনোনীত করার আগে এবার চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। গত মেয়াদে ২০১৭ সালের ৫ মে দ্বিতীয়বারের মতো ভিসি হন প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান। কিন্তু তার কর্মকাণ্ড পদটিকে বিতর্কিত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, বিদায়ের কয়েক ঘণ্টা আগেও গণনিয়োগ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। প্রফেসর সোবহানের মতো আরেকজন কাউকে রাবিতে ভিসি হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এদিকে জানা গেছে, পরবর্তী ভিসি আলোচনায় থাকা শীর্ষে নাম আছে সাবেক প্রোভিসি চৌধুরী সারওয়ার জাহানের। তিনি এর আগে প্রোভিসির দায়িত্বে ছিলেন ২০১০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ ছাড়াও তার বড় সফলতা বলে মনে করা হয়, নিয়োগে স্বচ্ছতা। যেহেতু বর্তমানে নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে রাবি সমালোচনার শীর্ষে আছে। এর রেষ কাটাতেই চৌধুরী মো. সারওয়ার জাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

আলোচনার শীর্ষে থাকা অপরজন হচ্ছেন ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর ড. আবুল কাশেম। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়াও রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তার সততা ও দক্ষতা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বিমত নেই। অন্যদিকে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. সাইয়েদুজ্জামানের নামও শীর্ষ তিনে আছে। তিনি বর্তমানে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্যানেল থেকে শিক্ষক সমিতির সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন। শিক্ষক-ছাত্র সমাজে তার ভালো গ্রহণযোগ্যতা থাকায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন ড. সাইয়েদুজ্জামান।

অন্যদিকে বর্তমান প্রোভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা, বর্তমান প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক এবং প্রাণরসায়ন ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমানের নামও আলোচনায় আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রান্তিকালেও প্রগতিশীল শিক্ষকদের মধ্যে কনভেনার নির্বাচিত হয়েছেন। ভিসি হিসাবে আলোচিত অন্যদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর জিনাত আরা, সাবেক লাইব্রেরি প্রশাসক প্রফেসর ড. সফিকুন্নবী সামাদীরও রয়েছে।

বর্তমানে ভিসিরা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। এই সময়ে কেমন ভিসি দরকার জানতে চাইলে রাবির সাবেক ভিসি ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার তিনটি মানদণ্ডকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পাণ্ডিত্য, নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব। সব প্রফেসরই পণ্ডিত, আর নেতৃত্ব বলতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন, সিন্ডকেট, শিক্ষক সমিতি, দলীয় স্টিয়ারিংয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক, আর ব্যক্তিত্ব হচ্ছে ব্যক্তির সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য, যা তার সততার মাধ্যমে পরিস্ফুটিত হবে। এককথায় এসব গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান, তিনি এ পদের জন্য যোগ্য হবেন। তিনি বলেন, এত যোগ্য শিক্ষক থাকার পরও পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুফল বয়ে আনে না। এমনটা হলে রাবির মতো একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় আবারও সংকটে পড়বে।

রাবির ভিসি পদে আলোচনার শীর্ষে তিন নাম

 রাজশাহী ব্যুরো 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি পদ পূরণ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। আগামী চার বছরের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা দেখার অপেক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ভিসি পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করবেন। সেই পদ পেতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক ডজন শিক্ষক। আলোচনার শীর্ষে আছে তিনটি নাম। তবে এবার শিক্ষাবান্ধব সৎ, যোগ্য ও দক্ষ একজন কাউকে রাবির ভিসি করার দাবি সর্বমহল থেকেই উঠেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও চাইছেন একজন সৎ ও দক্ষ কাউকে ভিসি করা হউক।

রাবির ভিসি পদ শূন্য হয়েছে ৬ মে। নিয়মানুযায়ী সিনেট সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত তিনজনের প্যানেল থেকে একজনকে ভিসির শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রীতির আর প্রচলন নেই। সিনেট প্যানেল থেকে সর্বশেষ ভিসি হয়েছিলেন প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান ১৯৯৯ সালে। এরপর থেকে সবাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ভিসি হয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ পদে কাউকে মনোনীত করার আগে এবার চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। গত মেয়াদে ২০১৭ সালের ৫ মে দ্বিতীয়বারের মতো ভিসি হন প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান। কিন্তু তার কর্মকাণ্ড পদটিকে বিতর্কিত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, বিদায়ের কয়েক ঘণ্টা আগেও গণনিয়োগ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। প্রফেসর সোবহানের মতো আরেকজন কাউকে রাবিতে ভিসি হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এদিকে জানা গেছে, পরবর্তী ভিসি আলোচনায় থাকা শীর্ষে নাম আছে সাবেক প্রোভিসি চৌধুরী সারওয়ার জাহানের। তিনি এর আগে প্রোভিসির দায়িত্বে ছিলেন ২০১০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ ছাড়াও তার বড় সফলতা বলে মনে করা হয়, নিয়োগে স্বচ্ছতা। যেহেতু বর্তমানে নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে রাবি সমালোচনার শীর্ষে আছে। এর রেষ কাটাতেই চৌধুরী মো. সারওয়ার জাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

আলোচনার শীর্ষে থাকা অপরজন হচ্ছেন ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর ড. আবুল কাশেম। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়াও রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তার সততা ও দক্ষতা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বিমত নেই। অন্যদিকে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. সাইয়েদুজ্জামানের নামও শীর্ষ তিনে আছে। তিনি বর্তমানে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্যানেল থেকে শিক্ষক সমিতির সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন। শিক্ষক-ছাত্র সমাজে তার ভালো গ্রহণযোগ্যতা থাকায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন ড. সাইয়েদুজ্জামান।

অন্যদিকে বর্তমান প্রোভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা, বর্তমান প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক এবং প্রাণরসায়ন ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমানের নামও আলোচনায় আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রান্তিকালেও প্রগতিশীল শিক্ষকদের মধ্যে কনভেনার নির্বাচিত হয়েছেন। ভিসি হিসাবে আলোচিত অন্যদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর জিনাত আরা, সাবেক লাইব্রেরি প্রশাসক প্রফেসর ড. সফিকুন্নবী সামাদীরও রয়েছে।

বর্তমানে ভিসিরা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। এই সময়ে কেমন ভিসি দরকার জানতে চাইলে রাবির সাবেক ভিসি ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার তিনটি মানদণ্ডকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পাণ্ডিত্য, নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব। সব প্রফেসরই পণ্ডিত, আর নেতৃত্ব বলতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন, সিন্ডকেট, শিক্ষক সমিতি, দলীয় স্টিয়ারিংয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক, আর ব্যক্তিত্ব হচ্ছে ব্যক্তির সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য, যা তার সততার মাধ্যমে পরিস্ফুটিত হবে। এককথায় এসব গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান, তিনি এ পদের জন্য যোগ্য হবেন। তিনি বলেন, এত যোগ্য শিক্ষক থাকার পরও পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুফল বয়ে আনে না। এমনটা হলে রাবির মতো একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় আবারও সংকটে পড়বে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন