শত বাধা উপেক্ষা করে বাড়ি ফিরছে মানুষ
jugantor
শত বাধা উপেক্ষা করে বাড়ি ফিরছে মানুষ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি, বাড়তি ভাড়া ও সব বাধা উপেক্ষা করে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। করোনাভাইরাস মহামারিকালে মানুষের স্রোত ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পথে পথে ব্যারিকেড দেন। যানবাহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বরিশাল ও খুলনা বিভাগের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম দুই ফেরিঘাট শিমুলিয়া ও পাটুরিয়ায় মঙ্গলবারও ঘরমুখো মানুষের স্রোত দেখা গেছে। এ সব ফেরিঘাটে যাত্রী ভোগান্তি কম হলেও গাদাগাদি করে পার হতে দেখা গেছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পণ্যবাহী যান ট্রাক ও মিনি ট্রাকে যাত্রীদের দেখা গেছে। বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের অভিযোগ, দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকায় ছোট ছোট গাড়িতে ভেঙে ভেঙে যেতে হয়েছে তাদের। এতে ভাড়া গুনতে হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। শেষ কর্মদিবস মঙ্গলবার সকালে ফেরি ও সড়কে যাত্রীচাপ কম থাকলেও দুপুর গড়াতে তা বাড়তে থাকে। যাত্রাপথে ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়া অভিযোগ করে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার যাত্রী মো. মোরশেদ আলম বলেন, ঢাকা থেমে শিমুলিয়া ঘাটে আসতে কয়েকবার বাধার মুখে পড়েছি। ঢাকার ওয়ারী থেকে কুচিয়ামোড়া পর্যন্ত মোটরসাইকেলে ২৫০ টাকা ভাড়ায় এসেছি। সেখান থেকে সিএনজিতে ১০০ টাকায় শ্রীনগর পর্যন্ত আসি। সেখানে পুলিশ বাধা দিলে সিএনজি থেকে নেমে অটোরিকশা দিয়ে বারৈপাড়া হয়ে বেজগাঁও ফেরিঘাট আসি। সেখান থেকে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছতে আবারও বিজিবির বাধার মুখে পড়ি। সেখান থেকে হেঁটে ঘাটে এসে পৌঁছাই। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে এভাবে ভেঙে ভেঙে শিমুলিয়া আসতেই খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। তবে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ১৪টি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করায় সেখানে অন্যদিনের মতো যাত্রী ভোগান্তি হয়নি। তবে গাদাগাদি করে যাত্রী পার হতে দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ-বিজিবির আব্দুল্লাহপুর টোল প্লাজায় গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। চেকপোস্ট হেঁটে পার হয়েই আবার দ্বিগুণ ভাড়ায় গাড়িতে চড়ে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে যাচ্ছেন যাত্রীরা।আরও দেখা গেছে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজে যে ডাম্প ট্রাকগুলো ব্যবহৃত হতো সেগুলো এখন যাত্রী বহন করছে। ট্রাকগুলোর চালক ও সহকারীরা ডাকাডাকি করছেন; কেউ চাইছেন ১০০ টাকা কারও দাবি ২০০ টাকা। ২০০ টাকা কেন চাইছেন জানতে চাইলে পিকআপ ট্রাক চালক মোহাম্মদ সোহেল যাত্রীদের বলেন, মহাসড়ক হয়ে গেলে ঘাটের ৫ কিলোমিটার আগেই নামিয়ে দেবে পুলিশ। তিনি গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে একেবারে ঘাট পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। সেজন্যই তিনি ২০০ টাকা দাবি করছেন। একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন পাটুরিয়া ফেরিঘাটগামী যাত্রীরা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শিবালয়ের টেপড়া এলাকায় গাড়ি আটকে দেন স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবির সদস্যরা। যানবাহনগুলো উল্টোপথে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও বিভিন্ন বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছান। সেখানেও বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদের। এ ফেরিঘাটের ৮ কিলোমিটার আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এই দূরত্ব হেঁটে পার হয়ে ফেরিতে উঠেছেন যাত্রীরা।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে সব ফেরি চলাচল করায় সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার যাত্রীদের গাদাগাদি কিছুটা কম ছিল। শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতেই যাত্রী ও যানবাহনে ছিল পরিপূর্ণ। বরিশালগামী রবিউল হাসান জানান, আগে বাংলাবাজার ঘাট থেকে বরিশাল যেতে ভাড়া লাগত মাত্র ৫০০ টাকা। এখন মাইক্রোবাসে ভাড়া নেয় ১২শ থেকে ১৫শ টাকা পর্যন্ত।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার সালাউদ্দিন বলেন, ঈদে ঘরে ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ রয়েছে। সব ফেরি চলাচল করছে। বাংলাবাজার ঘাটে তেমন চাপ নেই।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বৈরী আবহাওয়ার উপেক্ষা করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ঘরমুখো যাত্রীর উপচে পড়া ভিড় ছিল পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও ছিল ঘাট এলাকায়। মানিকগঞ্জের প্রবেশদ্বার বারবারিয়া ব্রিজের পশ্চিম প্রান্ত থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটমুখী ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারসহ অন্য গাড়িগুলো ঘুরিয়ে দেয় বিজিবি। বিজিবি টহল এলাকার দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা ফাতেমা তুজ জহুরা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেরিঘাটমুখী সব যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এরপরও বিকল্পপথে অনেক যাত্রীই ঘাটের দিকে যাচ্ছেন।

এদিকে ঘাট এলাকার প্রায় আট কিলোমিটার আগে যানবাহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন বিজিবির সদস্যরা। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এদিকে, বাধা দেওয়ার পরও যাত্রীদের আটকানো যাচ্ছে না। তারা ঘাটে যাচ্ছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনে বাড়ি যাচ্ছেন ১৮ জেলার অসংখ্য মানুষ। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প যান মোটরসাইকেল, পিকআপভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও লোকাল বাসসহ বিভিন্ন ছোট ছোট যানবাহনে তিনগুণ থেকে পাঁচগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। আবার অনেকে ব্যক্তিগত গাড়িতেও বাড়ি যাচ্ছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, মৌচাক ও শিমরাইল মোড় এলাকায় সরেজমিন একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। ভোর থেকেই বাস স্ট্যান্ডগুলোতে শত শত মানুষকে ভিড় করতে দেখা গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, বাবা-মা, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ঈদ পালন করতে কুমিল্লায় যাচ্ছি। কিন্তু দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় আড়াই ঘণ্টা শিমরাইল মোড় এলাকায় পরিবারের সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বাসে দাউদকান্দি যেতে ৫০-৬০ টাকা ভাড়া লাগত। এখন মাইক্রোবাসে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছেন চালকরা।

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পার কালিহাতী থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। মহাসড়কে ব্যক্তিগত পরিবহণের পাশাপাশি ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপে করে অনেকে বাড়ি গেছেন। তবে আন্তঃজেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচলের নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, মহাসড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও হাইওয়ে পুলিশের ১০টি টিম তৎপর রয়েছে।

শত বাধা উপেক্ষা করে বাড়ি ফিরছে মানুষ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি, বাড়তি ভাড়া ও সব বাধা উপেক্ষা করে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। করোনাভাইরাস মহামারিকালে মানুষের স্রোত ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পথে পথে ব্যারিকেড দেন। যানবাহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বরিশাল ও খুলনা বিভাগের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম দুই ফেরিঘাট শিমুলিয়া ও পাটুরিয়ায় মঙ্গলবারও ঘরমুখো মানুষের স্রোত দেখা গেছে। এ সব ফেরিঘাটে যাত্রী ভোগান্তি কম হলেও গাদাগাদি করে পার হতে দেখা গেছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পণ্যবাহী যান ট্রাক ও মিনি ট্রাকে যাত্রীদের দেখা গেছে। বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের অভিযোগ, দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকায় ছোট ছোট গাড়িতে ভেঙে ভেঙে যেতে হয়েছে তাদের। এতে ভাড়া গুনতে হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। শেষ কর্মদিবস মঙ্গলবার সকালে ফেরি ও সড়কে যাত্রীচাপ কম থাকলেও দুপুর গড়াতে তা বাড়তে থাকে। যাত্রাপথে ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়া অভিযোগ করে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার যাত্রী মো. মোরশেদ আলম বলেন, ঢাকা থেমে শিমুলিয়া ঘাটে আসতে কয়েকবার বাধার মুখে পড়েছি। ঢাকার ওয়ারী থেকে কুচিয়ামোড়া পর্যন্ত মোটরসাইকেলে ২৫০ টাকা ভাড়ায় এসেছি। সেখান থেকে সিএনজিতে ১০০ টাকায় শ্রীনগর পর্যন্ত আসি। সেখানে পুলিশ বাধা দিলে সিএনজি থেকে নেমে অটোরিকশা দিয়ে বারৈপাড়া হয়ে বেজগাঁও ফেরিঘাট আসি। সেখান থেকে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছতে আবারও বিজিবির বাধার মুখে পড়ি। সেখান থেকে হেঁটে ঘাটে এসে পৌঁছাই। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে এভাবে ভেঙে ভেঙে শিমুলিয়া আসতেই খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। তবে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ১৪টি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করায় সেখানে অন্যদিনের মতো যাত্রী ভোগান্তি হয়নি। তবে গাদাগাদি করে যাত্রী পার হতে দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ-বিজিবির আব্দুল্লাহপুর টোল প্লাজায় গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। চেকপোস্ট হেঁটে পার হয়েই আবার দ্বিগুণ ভাড়ায় গাড়িতে চড়ে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে যাচ্ছেন যাত্রীরা।আরও দেখা গেছে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজে যে ডাম্প ট্রাকগুলো ব্যবহৃত হতো সেগুলো এখন যাত্রী বহন করছে। ট্রাকগুলোর চালক ও সহকারীরা ডাকাডাকি করছেন; কেউ চাইছেন ১০০ টাকা কারও দাবি ২০০ টাকা। ২০০ টাকা কেন চাইছেন জানতে চাইলে পিকআপ ট্রাক চালক মোহাম্মদ সোহেল যাত্রীদের বলেন, মহাসড়ক হয়ে গেলে ঘাটের ৫ কিলোমিটার আগেই নামিয়ে দেবে পুলিশ। তিনি গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে একেবারে ঘাট পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। সেজন্যই তিনি ২০০ টাকা দাবি করছেন। একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন পাটুরিয়া ফেরিঘাটগামী যাত্রীরা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শিবালয়ের টেপড়া এলাকায় গাড়ি আটকে দেন স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবির সদস্যরা। যানবাহনগুলো উল্টোপথে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও বিভিন্ন বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছান। সেখানেও বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদের। এ ফেরিঘাটের ৮ কিলোমিটার আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এই দূরত্ব হেঁটে পার হয়ে ফেরিতে উঠেছেন যাত্রীরা।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে সব ফেরি চলাচল করায় সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার যাত্রীদের গাদাগাদি কিছুটা কম ছিল। শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতেই যাত্রী ও যানবাহনে ছিল পরিপূর্ণ। বরিশালগামী রবিউল হাসান জানান, আগে বাংলাবাজার ঘাট থেকে বরিশাল যেতে ভাড়া লাগত মাত্র ৫০০ টাকা। এখন মাইক্রোবাসে ভাড়া নেয় ১২শ থেকে ১৫শ টাকা পর্যন্ত।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার সালাউদ্দিন বলেন, ঈদে ঘরে ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ রয়েছে। সব ফেরি চলাচল করছে। বাংলাবাজার ঘাটে তেমন চাপ নেই।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বৈরী আবহাওয়ার উপেক্ষা করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ঘরমুখো যাত্রীর উপচে পড়া ভিড় ছিল পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও ছিল ঘাট এলাকায়। মানিকগঞ্জের প্রবেশদ্বার বারবারিয়া ব্রিজের পশ্চিম প্রান্ত থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটমুখী ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারসহ অন্য গাড়িগুলো ঘুরিয়ে দেয় বিজিবি। বিজিবি টহল এলাকার দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা ফাতেমা তুজ জহুরা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেরিঘাটমুখী সব যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এরপরও বিকল্পপথে অনেক যাত্রীই ঘাটের দিকে যাচ্ছেন।

এদিকে ঘাট এলাকার প্রায় আট কিলোমিটার আগে যানবাহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন বিজিবির সদস্যরা। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এদিকে, বাধা দেওয়ার পরও যাত্রীদের আটকানো যাচ্ছে না। তারা ঘাটে যাচ্ছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনে বাড়ি যাচ্ছেন ১৮ জেলার অসংখ্য মানুষ। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প যান মোটরসাইকেল, পিকআপভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও লোকাল বাসসহ বিভিন্ন ছোট ছোট যানবাহনে তিনগুণ থেকে পাঁচগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। আবার অনেকে ব্যক্তিগত গাড়িতেও বাড়ি যাচ্ছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, মৌচাক ও শিমরাইল মোড় এলাকায় সরেজমিন একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। ভোর থেকেই বাস স্ট্যান্ডগুলোতে শত শত মানুষকে ভিড় করতে দেখা গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, বাবা-মা, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ঈদ পালন করতে কুমিল্লায় যাচ্ছি। কিন্তু দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় আড়াই ঘণ্টা শিমরাইল মোড় এলাকায় পরিবারের সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বাসে দাউদকান্দি যেতে ৫০-৬০ টাকা ভাড়া লাগত। এখন মাইক্রোবাসে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছেন চালকরা।

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পার কালিহাতী থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। মহাসড়কে ব্যক্তিগত পরিবহণের পাশাপাশি ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপে করে অনেকে বাড়ি গেছেন। তবে আন্তঃজেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচলের নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, মহাসড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও হাইওয়ে পুলিশের ১০টি টিম তৎপর রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন