কারিকুলাম হাঁটছে দুই পথে
jugantor
অভিন্ন রূপরেখা বাস্তবায়ন সুদূরপরাহত
কারিকুলাম হাঁটছে দুই পথে
প্রাথমিকে আগের ধাঁচেই, মাধ্যমিকে আসছে নতুন * চার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা * কর্তৃপক্ষই এটা কীভাবে মেনে নিচ্ছে -ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

  মুসতাক আহমদ  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অভিন্ন রূপরেখার আলোকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। রূপকল্প-২০৪১ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজটি হাতে নেয়া হয়। কিন্তু দুই কারণে এ প্রয়াস ভেস্তে যাচ্ছে। পুরোনো ধাচেই প্রাথমিকের কারিকুলামের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন ধারায় তৈরি হচ্ছে মাধ্যমিক স্তরেরটি।

অথচ দুই ধাপেই নতুন ও আধুনিক কারিকুলাম হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হওয়ায় মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে বর্তমানে যা হচ্ছে তাতে দুই পথে হাঁটছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর।

করোনার দোহাই দিয়ে নতুন উদ্যোগের বাস্তবায়ন পেছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। করোনার কথা বলা হলেও নেপথ্যে আছে অন্য দুটি কারণ। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) থেকে টাকা খরচ করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত খসড়া কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছিল। যা বাতিল হলে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আর এ আশঙ্কায় নানা যুক্তিতে এটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এছাড়া জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার কর্মকর্তাদের মধ্যে বিষয়টি তৈরির নেতৃত্ব নিয়ে মানসিক দ্বন্দ্ব চলছে। ফলে উভয় শাখার শীর্ষ কর্মকর্তারা আলাদা মেরুতে অবস্থান করছেন। এর প্রভাবও পড়েছে যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রবর্তনে। এই দ্বন্দ্বের প্রভাব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তবে দ্বন্দ্বের কথা কেউই সরাসরি স্বীকার করেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নির্দেশনায় যখন এনসিটিবির দুই উইংয়ের (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) যৌথভাবে ‘জাতীয় কারিকুলামের রূপরেখা’ তৈরি করে। একই সময়ে প্রাথমিক উইং আলাদাভাবে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তারিত খসড়া কারিকুলাম তৈরি করে। পিইডিপি-৪-এর অধীনে করা ওই কাজটি নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। প্রাথমিক উইং এটি বহাল রাখতে চাচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে পঞ্চম শ্রেণির সঙ্গে মিল রেখে ষষ্ঠ শ্রেণির কারিকুলাম সাজানো হচ্ছে। মাধ্যমিকের পরের শ্রেণির পাঠ্যবইগুলো রূপরেখা অনুযায়ী হবে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন পঞ্চম শ্রেণির কারিকুলামের সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণির কারিকুলামের যোগসূত্র স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

আর এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, করোনার কারণে কারিকুলামের রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখনো অনুমোদন লাভ করেনি। তবে নতুন রূপরেখা অনুযায়ীই বিস্তারিত কারিকুলাম ও পাঠ্যবই হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ ও উন্নত বিশ্বের ক্লাবে দেশকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দুই বছর আগে নতুন কারিকুলাম তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। সেই অনুযায়ী চলতি বছর হালনাগাদ কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই দেওয়ার কথা ছিল। গত বছরের জুনের ঘোষণায় প্রথমে এর বাস্তবায়ন এক বছর পেছানো হয়। ফলে ২০২২ সালে নতুন কারিকুলামে পাঠ্যবই প্রবর্তনের কথা। কিন্তু করোনার দোহাই দিয়ে ২৫ এপ্রিল আরও দুই বছরের জন্য পেছানো হয়েছে। এ বৈঠকেই এনসিটিবির প্রাথমিক উইংয়ের সঙ্গে সায় দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও আলাদাভাবে কারিকুলাম ও পাঠ্যবই প্রণয়নের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে।

জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। জেনে অবাক হচ্ছি, প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্বে যারা আছেন, তারা নিজেদের কেন আলাদা ভাবছেন এবং কর্তৃপক্ষইবা কীভাবে তা মেনে নিচ্ছে!

তিনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সমন্বিত শিক্ষাক্রম যদি একটা পর্যায়ের কর্তাব্যক্তির কারণে হোঁচট খায়, তাহলে যে বিরূপ প্রভাব শিক্ষা ক্ষেত্রে পড়বে, তা কি ভেবে দেখা হচ্ছে? আমি সরকারকে অনুরোধ করব, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। কেননা এমনিতে আমরা ঘুণে ধরা শিক্ষাক্রম নিয়ে চলছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের ভাষাশিক্ষা নিচুমানের, গণিত ও বিজ্ঞানে তারা দুর্বল। এক্ষুণি যদি আমরা এই শিক্ষা কার্যক্রমকে ঢেলে না সাজাই, তাহলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ২০৪১ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাছে পৌঁছানো দূরের কথা, ছিটেফোঁটা ফলও আমরা ভোগ করতে পারব না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, চারটি অগ্রাধিকার সামনে রেখে বাংলাদেশের কারিকুলাম প্রণয়ন খুব জরুরি। এগুলো হচ্ছে- ভিশন-২০৪১ বা উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য, এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা), ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট (কোনো দেশে অধিকসংখ্যক তরুণ জনসংখ্যা বসবাসের ফলে তাদের কর্মদ্যোগ থেকে যে লাভ আসে) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ। এজন্য উপযুক্ত কারিকুলাম ও পাঠ্যবই দরকার।

আর এই লক্ষ্য সামনে রেখেই তৈরি করা হয়েছে রূপরেখা। যার আলোকে প্রস্তাবিত কারিকুলাম করা প্রয়োজন। এসব বিষয় সামনে রেখেই প্রস্তাবিত কারিকুলামের ‘রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছিল। এতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্তরগুলোকে একটা চলন্ত সিঁড়ি বিবেচনা করা হয়। এতে শিখনের লক্ষ্য একটিই ধরা হয়। আর সেটি হচ্ছে-শিক্ষার্থীর মাঝে যোগ্যতার উন্নয়ন। কিন্তু এই রূপরেখার বাইরে গিয়ে প্রাথমিক স্তরের বিস্তারিত কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে।

আর মাধ্যমিক স্তর অনুসরণ করছে প্রস্তাবিত রূপরেখা। শুধু উভয় ধারার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের জন্য শুধু পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে সেতুবন্ধ করা হচ্ছে। যাতে পঞ্চম শ্রেণিতে যে ধারার কারিকুলাম পড়ে আসবে শিশুরা, ষষ্ঠ শ্রেণিতে এসে তারা যেন হঠাৎ ভিন্ন রকমের কারিকুলামের মুখোমুখি না হয়।

এনসিটিবির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরের প্রস্তাবিত কারিকুলাম কোনোভাবেই অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা রূপরেখার সঙ্গে মিলবে না। কেননা প্রাথমিকের কারিকুলাম যোগ্যতাভিত্তিক হলেও অনেকটাই আগের মতোই মুখস্থভিত্তিক রয়ে গেছে। এটা অভিজ্ঞতা ও প্রজেক্টভিত্তিক কারিকুলাম নয়।

তারা জানান, শিক্ষার্থীদের ‘দক্ষতা’ প্রদান বা দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত রূপরেখায় সাধারণ পদ্ধতির শিক্ষাদানের জীবন থেকে এবং হাতে-কলমে শিক্ষাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আলাদা কারিকুলাম হলে উল্লিখিত ‘হাই-প্রায়োরিটি’ (ভিশন-২০৪১-সহ উল্লিখিত চারটি) ধাক্কা খাবে। এছাড়া আরও বেশকিছু সমস্যা তৈরি হবে। এগুলোর মধ্যে আছে-শিক্ষার্থীর যোগ্যতার (পড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে যা দেওয়া হবে) ধারাবাহিক বিন্যাস, বিষয়ের (যা পড়ানো হবে; যেমন: বাংলা, গণিত ইত্যাদি) ধারাবাহিক বিন্যাস এবং কারিকুলামের আন্তঃসম্পর্ক নষ্ট হবে। প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী কারিকুলামে দুই ধরনের শৃঙ্খলা বা আন্তঃসম্পর্ক প্রস্তাব করা হয়েছে।

একটি হচ্ছে, আনুভূমিক (হরিজেন্টাল), অপরটি ঊর্ধ্বমুখী (ভার্টিক্যাল)। প্রথমটির মধ্যে একশ্রেণির সঙ্গে আরেক শ্রেণির সম্পর্ক নির্দেশ করে। দ্বিতীয়টি পঠিত বিভিন্ন বিষয়ের সম্পর্ককে বোঝায়। কিন্তু কারিকুলামের ‘আলাদা চলো নীতির’ কারণে এখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যেসব ক্ষতি হতে পারে, এর মধ্যে আছে-দক্ষতা তৈরি বিঘ্নিত হবে; কারিকুলাম বিন্যাস ও প্রয়োগের পরিবেশ নষ্ট হবে; শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্তরে গিয়ে নতুন পরিস্থিতিতে পড়ার কারণে ঝরে পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে; আর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত অর্জন হোঁচট খাবে।

এনসিটিবি সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার ফাউন্ডেশন হচ্ছে প্রাথমিক স্তর। ফাউন্ডেশন যেমন হবে, ভবন তেমন হবে। প্রস্তাবিত রূপরেখায় কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। উভয় স্তরের কারিকুলাম একরকম হলে ভাল হতো। হয়তো প্রাথমিক স্তর ভালোটাই চিন্তা করবে। তবে এটা ঠিক যে, এক সময়ে দুধে পানি মেশানোর অঙ্ক শিখিয়ে আমরা এর ফল ভোগ করছি। ৩০-৩৫ বছর আগে যখন এ অঙ্ক শিখিয়েছি, তখন এর প্রভাব বুঝিনি। তাই আজকের ভুল সিদ্ধান্তের নেতিবাচক দিকও অনেক পরে হবে। বিশেষ করে এ শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর। আর প্রভাব প্রকাশের পর থেকে জাতিকে ভোগতে হবে ৩০-৪০ বছর ধরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পঞ্চাশ বছরে প্রথমবারের মতো একটি অভিন্ন ধারার এবং একই উদ্দেশ্যমুখী কারিকুলাম তৈরির সুযোগ হয়েছিল। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে যে লাভ হতো, এর মধ্যে -শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রমে শিক্ষক নির্ভরতা কমবে। এই কারিকুলামে শিক্ষক হবেন শুধু একজন সহায়ক (গাইড)। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে শিখবে। আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হতো। বর্তমানে শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী শিখল কিনা, তা মূল্যায়ন করা হয়। এর পরিবর্তে চার ধরনের মূল্যায়ন ব্যবস্থা আসত। এগুলো হচ্ছে-প্রচলিত শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন, যা পরীক্ষার মাধ্যমে হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন, শিক্ষার্থী-অভিভাবক মূল্যায়ন এবং কমিউনিটি বা সমাজের অংশীজনের মাধ্যমে শিখন ও মূল্যায়ন। বহুমাত্রিক ধারায় মূল্যায়নে শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিখন পর্যায় নিরূপণ সম্ভব হতো। ফলে সার্বিকভাবে শিক্ষার্থী মুখস্থনির্ভর লেখাপড়া থেকে বেরিয়ে আসবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞতা থেকে আত্মস্থ করার কারণে লেখাপড়ার প্রতি শিক্ষার্থীর আগ্রহ বেড়ে যেত। দৈনিকই শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়নের ফলে বার্ষিক বা পাবলিক পরীক্ষায় মূল্যায়নের চাপ কমে যেত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না।

প্রস্তাবিত কারিকুলাম তৈরিতে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসান যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উন্নত বাংলাদেশের জন্য কারিকুলামের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। তার আলোকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিস্তারিত কারিকুলাম তৈরি হওয়া প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ‘কারিকুলামের রূপরেখা’ বিভিন্ন স্তরে সমাদৃত হয়েছে। তাই সেটির আলোকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য একই ধারার কারিকুলাম হওয়া বাঞ্ছনীয়। দুই স্তরে আলাদা কারিকুলাম প্রণয়ন ও প্রয়োগ হলে কমপক্ষে তিনটি পর্যায়ে ক্ষতি হতে পারে; যার প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে গোটা জাতিকে ভোগ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে-দুই স্তরে শিক্ষার্থীরা দুইভাবে বেড়ে উঠবে। এক স্তর থেকে আরেক স্তরে উত্তরণ কঠিন হবে ও ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাবে। শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা নষ্ট হবে। শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে অর্জিত হবে না। বিষয়বিন্যাস ব্যাহত হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসাবে উন্নত দেশে উত্তরণ এবং এসডিজির লক্ষ্য অর্জন ধাক্কা খাবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা আমরা নিতে পারব না।

অভিন্ন রূপরেখা বাস্তবায়ন সুদূরপরাহত

কারিকুলাম হাঁটছে দুই পথে

প্রাথমিকে আগের ধাঁচেই, মাধ্যমিকে আসছে নতুন * চার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা * কর্তৃপক্ষই এটা কীভাবে মেনে নিচ্ছে -ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
 মুসতাক আহমদ 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অভিন্ন রূপরেখার আলোকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। রূপকল্প-২০৪১ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজটি হাতে নেয়া হয়। কিন্তু দুই কারণে এ প্রয়াস ভেস্তে যাচ্ছে। পুরোনো ধাচেই প্রাথমিকের কারিকুলামের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন ধারায় তৈরি হচ্ছে মাধ্যমিক স্তরেরটি।

অথচ দুই ধাপেই নতুন ও আধুনিক কারিকুলাম হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হওয়ায় মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে বর্তমানে যা হচ্ছে তাতে দুই পথে হাঁটছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর। 

করোনার দোহাই দিয়ে নতুন উদ্যোগের বাস্তবায়ন পেছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। করোনার কথা বলা হলেও নেপথ্যে আছে অন্য দুটি কারণ। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) থেকে টাকা খরচ করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত খসড়া কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছিল। যা বাতিল হলে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আর এ আশঙ্কায় নানা যুক্তিতে এটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এছাড়া জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার কর্মকর্তাদের মধ্যে বিষয়টি তৈরির নেতৃত্ব নিয়ে মানসিক দ্বন্দ্ব চলছে। ফলে উভয় শাখার শীর্ষ কর্মকর্তারা আলাদা মেরুতে অবস্থান করছেন। এর প্রভাবও পড়েছে যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রবর্তনে। এই দ্বন্দ্বের প্রভাব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তবে দ্বন্দ্বের কথা কেউই সরাসরি স্বীকার করেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নির্দেশনায় যখন এনসিটিবির দুই উইংয়ের (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) যৌথভাবে ‘জাতীয় কারিকুলামের রূপরেখা’ তৈরি করে। একই সময়ে প্রাথমিক উইং আলাদাভাবে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তারিত খসড়া কারিকুলাম তৈরি করে। পিইডিপি-৪-এর অধীনে করা ওই কাজটি নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। প্রাথমিক উইং এটি বহাল রাখতে চাচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে পঞ্চম শ্রেণির সঙ্গে মিল রেখে ষষ্ঠ শ্রেণির কারিকুলাম সাজানো হচ্ছে। মাধ্যমিকের পরের শ্রেণির পাঠ্যবইগুলো রূপরেখা অনুযায়ী হবে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন পঞ্চম শ্রেণির কারিকুলামের সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণির কারিকুলামের যোগসূত্র স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

আর এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, করোনার কারণে কারিকুলামের রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখনো অনুমোদন লাভ করেনি। তবে নতুন রূপরেখা অনুযায়ীই বিস্তারিত কারিকুলাম ও পাঠ্যবই হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ ও উন্নত বিশ্বের ক্লাবে দেশকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দুই বছর আগে নতুন কারিকুলাম তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। সেই অনুযায়ী চলতি বছর হালনাগাদ কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই দেওয়ার কথা ছিল। গত বছরের জুনের ঘোষণায় প্রথমে এর বাস্তবায়ন এক বছর পেছানো হয়। ফলে ২০২২ সালে নতুন কারিকুলামে পাঠ্যবই প্রবর্তনের কথা। কিন্তু করোনার দোহাই দিয়ে ২৫ এপ্রিল আরও দুই বছরের জন্য পেছানো হয়েছে। এ বৈঠকেই এনসিটিবির প্রাথমিক উইংয়ের সঙ্গে সায় দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও আলাদাভাবে কারিকুলাম ও পাঠ্যবই প্রণয়নের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে।

জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। জেনে অবাক হচ্ছি, প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্বে যারা আছেন, তারা নিজেদের কেন আলাদা ভাবছেন এবং কর্তৃপক্ষইবা কীভাবে তা মেনে নিচ্ছে!

তিনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সমন্বিত শিক্ষাক্রম যদি একটা পর্যায়ের কর্তাব্যক্তির কারণে হোঁচট খায়, তাহলে যে বিরূপ প্রভাব শিক্ষা ক্ষেত্রে পড়বে, তা কি ভেবে দেখা হচ্ছে? আমি সরকারকে অনুরোধ করব, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। কেননা এমনিতে আমরা ঘুণে ধরা শিক্ষাক্রম নিয়ে চলছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের ভাষাশিক্ষা নিচুমানের, গণিত ও বিজ্ঞানে তারা দুর্বল। এক্ষুণি যদি আমরা এই শিক্ষা কার্যক্রমকে ঢেলে না সাজাই, তাহলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ২০৪১ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাছে পৌঁছানো দূরের কথা, ছিটেফোঁটা ফলও আমরা ভোগ করতে পারব না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, চারটি অগ্রাধিকার সামনে রেখে বাংলাদেশের কারিকুলাম প্রণয়ন খুব জরুরি। এগুলো হচ্ছে- ভিশন-২০৪১ বা উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য, এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা), ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট (কোনো দেশে অধিকসংখ্যক তরুণ জনসংখ্যা বসবাসের ফলে তাদের কর্মদ্যোগ থেকে যে লাভ আসে) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ। এজন্য উপযুক্ত কারিকুলাম ও পাঠ্যবই দরকার।

আর এই লক্ষ্য সামনে রেখেই তৈরি করা হয়েছে রূপরেখা। যার আলোকে প্রস্তাবিত কারিকুলাম করা প্রয়োজন। এসব বিষয় সামনে রেখেই প্রস্তাবিত কারিকুলামের ‘রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছিল। এতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্তরগুলোকে একটা চলন্ত সিঁড়ি বিবেচনা করা হয়। এতে শিখনের লক্ষ্য একটিই ধরা হয়। আর সেটি হচ্ছে-শিক্ষার্থীর মাঝে যোগ্যতার উন্নয়ন। কিন্তু এই রূপরেখার বাইরে গিয়ে প্রাথমিক স্তরের বিস্তারিত কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে।

আর মাধ্যমিক স্তর অনুসরণ করছে প্রস্তাবিত রূপরেখা। শুধু উভয় ধারার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের জন্য শুধু পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে সেতুবন্ধ করা হচ্ছে। যাতে পঞ্চম শ্রেণিতে যে ধারার কারিকুলাম পড়ে আসবে শিশুরা, ষষ্ঠ শ্রেণিতে এসে তারা যেন হঠাৎ ভিন্ন রকমের কারিকুলামের মুখোমুখি না হয়।

এনসিটিবির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরের প্রস্তাবিত কারিকুলাম কোনোভাবেই অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা রূপরেখার সঙ্গে মিলবে না। কেননা প্রাথমিকের কারিকুলাম যোগ্যতাভিত্তিক হলেও অনেকটাই আগের মতোই মুখস্থভিত্তিক রয়ে গেছে। এটা অভিজ্ঞতা ও প্রজেক্টভিত্তিক কারিকুলাম নয়।

তারা জানান, শিক্ষার্থীদের ‘দক্ষতা’ প্রদান বা দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত রূপরেখায় সাধারণ পদ্ধতির শিক্ষাদানের জীবন থেকে এবং হাতে-কলমে শিক্ষাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আলাদা কারিকুলাম হলে উল্লিখিত ‘হাই-প্রায়োরিটি’ (ভিশন-২০৪১-সহ উল্লিখিত চারটি) ধাক্কা খাবে। এছাড়া আরও বেশকিছু সমস্যা তৈরি হবে। এগুলোর মধ্যে আছে-শিক্ষার্থীর যোগ্যতার (পড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে যা দেওয়া হবে) ধারাবাহিক বিন্যাস, বিষয়ের (যা পড়ানো হবে; যেমন: বাংলা, গণিত ইত্যাদি) ধারাবাহিক বিন্যাস এবং কারিকুলামের আন্তঃসম্পর্ক নষ্ট হবে। প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী কারিকুলামে দুই ধরনের শৃঙ্খলা বা আন্তঃসম্পর্ক প্রস্তাব করা হয়েছে।

একটি হচ্ছে, আনুভূমিক (হরিজেন্টাল), অপরটি ঊর্ধ্বমুখী (ভার্টিক্যাল)। প্রথমটির মধ্যে একশ্রেণির সঙ্গে আরেক শ্রেণির সম্পর্ক নির্দেশ করে। দ্বিতীয়টি পঠিত বিভিন্ন বিষয়ের সম্পর্ককে বোঝায়। কিন্তু কারিকুলামের ‘আলাদা চলো নীতির’ কারণে এখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যেসব ক্ষতি হতে পারে, এর মধ্যে আছে-দক্ষতা তৈরি বিঘ্নিত হবে; কারিকুলাম বিন্যাস ও প্রয়োগের পরিবেশ নষ্ট হবে; শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্তরে গিয়ে নতুন পরিস্থিতিতে পড়ার কারণে ঝরে পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে; আর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত অর্জন হোঁচট খাবে। 

এনসিটিবি সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার ফাউন্ডেশন হচ্ছে প্রাথমিক স্তর। ফাউন্ডেশন যেমন হবে, ভবন তেমন হবে। প্রস্তাবিত রূপরেখায় কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। উভয় স্তরের কারিকুলাম একরকম হলে ভাল হতো। হয়তো প্রাথমিক স্তর ভালোটাই চিন্তা করবে। তবে এটা ঠিক যে, এক সময়ে দুধে পানি মেশানোর অঙ্ক শিখিয়ে আমরা এর ফল ভোগ করছি। ৩০-৩৫ বছর আগে যখন এ অঙ্ক শিখিয়েছি, তখন এর প্রভাব বুঝিনি। তাই আজকের ভুল সিদ্ধান্তের নেতিবাচক দিকও অনেক পরে হবে। বিশেষ করে এ শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর। আর প্রভাব প্রকাশের পর থেকে জাতিকে ভোগতে হবে ৩০-৪০ বছর ধরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পঞ্চাশ বছরে প্রথমবারের মতো একটি অভিন্ন ধারার এবং একই উদ্দেশ্যমুখী কারিকুলাম তৈরির সুযোগ হয়েছিল। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে যে লাভ হতো, এর মধ্যে -শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রমে শিক্ষক নির্ভরতা কমবে। এই কারিকুলামে শিক্ষক হবেন শুধু একজন সহায়ক (গাইড)। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে শিখবে। আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হতো। বর্তমানে শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী শিখল কিনা, তা মূল্যায়ন করা হয়। এর পরিবর্তে চার ধরনের মূল্যায়ন ব্যবস্থা আসত। এগুলো হচ্ছে-প্রচলিত শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন, যা পরীক্ষার মাধ্যমে হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন, শিক্ষার্থী-অভিভাবক মূল্যায়ন এবং কমিউনিটি বা সমাজের অংশীজনের মাধ্যমে শিখন ও মূল্যায়ন। বহুমাত্রিক ধারায় মূল্যায়নে শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিখন পর্যায় নিরূপণ সম্ভব হতো। ফলে সার্বিকভাবে শিক্ষার্থী মুখস্থনির্ভর লেখাপড়া থেকে বেরিয়ে আসবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞতা থেকে আত্মস্থ করার কারণে লেখাপড়ার প্রতি শিক্ষার্থীর আগ্রহ বেড়ে যেত। দৈনিকই শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়নের ফলে বার্ষিক বা পাবলিক পরীক্ষায় মূল্যায়নের চাপ কমে যেত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। 

প্রস্তাবিত কারিকুলাম তৈরিতে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসান যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উন্নত বাংলাদেশের জন্য কারিকুলামের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। তার আলোকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিস্তারিত কারিকুলাম তৈরি হওয়া প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ‘কারিকুলামের রূপরেখা’ বিভিন্ন স্তরে সমাদৃত হয়েছে। তাই সেটির আলোকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য একই ধারার কারিকুলাম হওয়া বাঞ্ছনীয়। দুই স্তরে আলাদা কারিকুলাম প্রণয়ন ও প্রয়োগ হলে কমপক্ষে তিনটি পর্যায়ে ক্ষতি হতে পারে; যার প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে গোটা জাতিকে ভোগ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে-দুই স্তরে শিক্ষার্থীরা দুইভাবে বেড়ে উঠবে। এক স্তর থেকে আরেক স্তরে উত্তরণ কঠিন হবে ও ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাবে। শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা নষ্ট হবে। শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে অর্জিত হবে না। বিষয়বিন্যাস ব্যাহত হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসাবে উন্নত দেশে উত্তরণ এবং এসডিজির লক্ষ্য অর্জন ধাক্কা খাবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা আমরা নিতে পারব না।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন