কর্মস্থলে ফেরার পথেও চরম দুর্ভোগ
jugantor
ট্রেন, লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ
কর্মস্থলে ফেরার পথেও চরম দুর্ভোগ
বারবার যানবাহন পরিবর্তন করায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে * স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফেরার পথেও দুর্ভোগের শিকার কর্মজীবী সাধারণ মানুষ। যাত্রীবাহী ট্রেন, লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায়ে ছোট যানবাহনে ফিরতে হচ্ছে তাদের। আর বারবার যানবাহন পরিবর্তন করায় ভাড়াও গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। বাড়তি ভাড়া দিয়েও যাত্রা আরামদায়ক হচ্ছে না। গাদাগাদি করেই তাদের পরিবহণে চড়তে হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে থেকে ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম রুট বাংলাবাজার-শিমুলিয়া এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় নৌরুটে রোববার প্রচণ্ড যাত্রী চাপ ছিল। ফেরি কিংবা ছোট যানবাহন কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না।

যশোর থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরতে ট্রাকে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছেন রোকেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ঈদে বাড়ি ফিরতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি। এবার ঢাকায় ফিরছি ট্রাকে চড়ে। ট্রাকের গায়ে লেখা ‘সাধারণ পরিবহণ’। তবে আমি আজ থেকে বলব, এটা সাধারণ না অসাধারণ পরিবহণ। কেননা দূরপাল্লার পরিবহণ যখন বন্ধ, তখন সাধারণ মানুষের কর্মস্থলে ফেরার অন্যতম মাধ্যম হয়েছে এ ট্রাক।

শেরপুর থেকে গাজীপুর আসা গার্মেন্টকর্মী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছি। ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত অটোরিকশায় ভাড়া নিয়েছে ৪০০ টাকা। সিএনজি অটোরিকশাগুলো টাকাতো বেশি নিচ্ছেই। যাত্রীও তুলছে বেশি।

সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা রোববার খুলতে শুরু করেছে। এ কারণেই কর্মজীবীরা ফিরছেন। তারা জানান, ঈদ করতে বাড়ি যাওয়ার সময় পথে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, গার্মেন্টগুলোতে লম্বা ছুটি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান খোলার আগে ফিরতি মানুষের চাপ আরও বাড়বে।

দুর্ভোগকে সঙ্গী করে বরিশাল থেকে রাজধানীমুখী মানুষ : বরিশাল ব্যুরো জানায়, ঈদ শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে বরিশালের বাস টার্মিনালগুলোতে। দুর্ভোগকে সঙ্গী করে আন্তঃজেলায় চলাচলরত বাস, থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন পরিবহণে ভেঙে ভেঙে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। লঞ্চ বন্ধ থাকায় সড়ক পথে যাত্রীচাপ বেড়েছে। এ সুযোগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করছে যান চালকরা। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে চলাচলরত এসব পরিবহণে ঢাকামুখী মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ঢাকামুখী যাত্রী আবদুর রাজ্জাক জানান, আগে বরিশাল থেকে মাওয়া হয়ে ঢাকায় যেতে ৫ থেকে ৭শ টাকা খরচ হতো। এখন খরচ হচ্ছে প্রায় ১৪শ টাকা। এছাড়া একাধিকবার যানবাহন বদল করায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার পাশাপাশি ভোগান্তি বেড়েছে।

ঝালকাঠির বাসিন্দা নিয়াজ উদ্দিন জানান, ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বরিশালের নথুল্লাবাদে এসেছেন। যানবাহন কম চলার সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন যান চালকরা। কিন্তু কোনো যানেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। প্রত্যেক সিটে যাত্রী বসিয়ে গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে সড়ক যানবাহন।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিদ্যুৎ চন্দ্র জানান, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুই ফেরিঘাটে ভিড় : দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম ফেরি রুট বাংলাবাজার-শিমুলিয়া এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় মানুষের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রচুরসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে।

যুগান্তরের গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। রোববার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কর্মজীবী মানুষ ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ দেখা গেছে। তবে ১৬টি ফেরি চলাচল করায় ঘাটে বেশি সময় আটকে থাকতে হচ্ছে না। তারপরও ঘাটে প্রতিটি ফেরি ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ গাদাগাদি করে উঠে পড়ছেন। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। এখন ঢাকায় ফিরতেও পথে বারবার গাড়ি পাল্টে ফেরি ঘাটে এসেছি। জানি না ঢাকা পর্যন্ত যেতে কপালে কত দুর্ভোগ বাকি আছে!

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, ঈদের ছুটি শেষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ রাজধানীর দিকে ছুটতে শুরু করেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীমুখী মানুষ ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়ছে। আগামী কয়েকদিন এ চাপ অব্যাহত থাকবে। যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন করতে নৌরুটে ১৬টি ফেরি সচল রাখা হয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকামুখী যাত্রী চাপ বাড়ছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে। রোববার এ রুটে ১৫টি ফেরিতে যাত্রী ও গাড়ি পারাপার করা হয়। শুধু ঢাকামুখী যাত্রী নয়, এদিন ঢাকা থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় গেছেন হাজার হাজার মানুষ।

চাপ সামাল দিতে খালি ফেরি বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া ঘাটে পাঠানো হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ফেরিতে অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বাংলাবাজার ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি ম্যানেজার সালাউদ্দিন জানান, এখনো কর্মস্থলমুখী যাত্রীর চেয়ে ঘরে ফেরা যাত্রীর চাপই বেশি। তাই সামাল দিতে দ্রুত বাংলাবাজার ঘাট থেকে পরিবহণ ও যাত্রী বোঝাই করে ফেরি শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছাড়া হচ্ছে।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, লকডাউন উপেক্ষা করে ভোলা থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকা ও চট্টগ্রামে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। যাত্রী চাপে রোববার ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ৪টি ফেরিতে যানবাহন তোলা যায়নি। ফেরিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় নিষিদ্ধ ট্রলার ও স্পিডবোটে পাড়ি জমান অনেকে। কিন্তু কোথাও ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল থাকলেও যাত্রীরা বাধা মানতে নারাজ।

ট্রেন, লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ

কর্মস্থলে ফেরার পথেও চরম দুর্ভোগ

বারবার যানবাহন পরিবর্তন করায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে * স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফেরার পথেও দুর্ভোগের শিকার কর্মজীবী সাধারণ মানুষ। যাত্রীবাহী ট্রেন, লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায়ে ছোট যানবাহনে ফিরতে হচ্ছে তাদের। আর বারবার যানবাহন পরিবর্তন করায় ভাড়াও গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। বাড়তি ভাড়া দিয়েও যাত্রা আরামদায়ক হচ্ছে না। গাদাগাদি করেই তাদের পরিবহণে চড়তে হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে থেকে ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম রুট বাংলাবাজার-শিমুলিয়া এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় নৌরুটে রোববার প্রচণ্ড যাত্রী চাপ ছিল। ফেরি কিংবা ছোট যানবাহন কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না।

যশোর থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরতে ট্রাকে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছেন রোকেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ঈদে বাড়ি ফিরতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি। এবার ঢাকায় ফিরছি ট্রাকে চড়ে। ট্রাকের গায়ে লেখা ‘সাধারণ পরিবহণ’। তবে আমি আজ থেকে বলব, এটা সাধারণ না অসাধারণ পরিবহণ। কেননা দূরপাল্লার পরিবহণ যখন বন্ধ, তখন সাধারণ মানুষের কর্মস্থলে ফেরার অন্যতম মাধ্যম হয়েছে এ ট্রাক।

শেরপুর থেকে গাজীপুর আসা গার্মেন্টকর্মী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছি। ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত অটোরিকশায় ভাড়া নিয়েছে ৪০০ টাকা। সিএনজি অটোরিকশাগুলো টাকাতো বেশি নিচ্ছেই। যাত্রীও তুলছে বেশি।

সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা রোববার খুলতে শুরু করেছে। এ কারণেই কর্মজীবীরা ফিরছেন। তারা জানান, ঈদ করতে বাড়ি যাওয়ার সময় পথে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, গার্মেন্টগুলোতে লম্বা ছুটি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান খোলার আগে ফিরতি মানুষের চাপ আরও বাড়বে।

দুর্ভোগকে সঙ্গী করে বরিশাল থেকে রাজধানীমুখী মানুষ : বরিশাল ব্যুরো জানায়, ঈদ শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে বরিশালের বাস টার্মিনালগুলোতে। দুর্ভোগকে সঙ্গী করে আন্তঃজেলায় চলাচলরত বাস, থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন পরিবহণে ভেঙে ভেঙে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। লঞ্চ বন্ধ থাকায় সড়ক পথে যাত্রীচাপ বেড়েছে। এ সুযোগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করছে যান চালকরা। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে চলাচলরত এসব পরিবহণে ঢাকামুখী মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ঢাকামুখী যাত্রী আবদুর রাজ্জাক জানান, আগে বরিশাল থেকে মাওয়া হয়ে ঢাকায় যেতে ৫ থেকে ৭শ টাকা খরচ হতো। এখন খরচ হচ্ছে প্রায় ১৪শ টাকা। এছাড়া একাধিকবার যানবাহন বদল করায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার পাশাপাশি ভোগান্তি বেড়েছে।

ঝালকাঠির বাসিন্দা নিয়াজ উদ্দিন জানান, ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বরিশালের নথুল্লাবাদে এসেছেন। যানবাহন কম চলার সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন যান চালকরা। কিন্তু কোনো যানেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। প্রত্যেক সিটে যাত্রী বসিয়ে গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে সড়ক যানবাহন।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিদ্যুৎ চন্দ্র জানান, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুই ফেরিঘাটে ভিড় : দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম ফেরি রুট বাংলাবাজার-শিমুলিয়া এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় মানুষের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রচুরসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে।

যুগান্তরের গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। রোববার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কর্মজীবী মানুষ ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ দেখা গেছে। তবে ১৬টি ফেরি চলাচল করায় ঘাটে বেশি সময় আটকে থাকতে হচ্ছে না। তারপরও ঘাটে প্রতিটি ফেরি ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ গাদাগাদি করে উঠে পড়ছেন। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। এখন ঢাকায় ফিরতেও পথে বারবার গাড়ি পাল্টে ফেরি ঘাটে এসেছি। জানি না ঢাকা পর্যন্ত যেতে কপালে কত দুর্ভোগ বাকি আছে!

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, ঈদের ছুটি শেষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ রাজধানীর দিকে ছুটতে শুরু করেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীমুখী মানুষ ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়ছে। আগামী কয়েকদিন এ চাপ অব্যাহত থাকবে। যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন করতে নৌরুটে ১৬টি ফেরি সচল রাখা হয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকামুখী যাত্রী চাপ বাড়ছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে। রোববার এ রুটে ১৫টি ফেরিতে যাত্রী ও গাড়ি পারাপার করা হয়। শুধু ঢাকামুখী যাত্রী নয়, এদিন ঢাকা থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় গেছেন হাজার হাজার মানুষ।

চাপ সামাল দিতে খালি ফেরি বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া ঘাটে পাঠানো হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ফেরিতে অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বাংলাবাজার ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি ম্যানেজার সালাউদ্দিন জানান, এখনো কর্মস্থলমুখী যাত্রীর চেয়ে ঘরে ফেরা যাত্রীর চাপই বেশি। তাই সামাল দিতে দ্রুত বাংলাবাজার ঘাট থেকে পরিবহণ ও যাত্রী বোঝাই করে ফেরি শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছাড়া হচ্ছে।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, লকডাউন উপেক্ষা করে ভোলা থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকা ও চট্টগ্রামে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। যাত্রী চাপে রোববার ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ৪টি ফেরিতে যানবাহন তোলা যায়নি। ফেরিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় নিষিদ্ধ ট্রলার ও স্পিডবোটে পাড়ি জমান অনেকে। কিন্তু কোথাও ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল থাকলেও যাত্রীরা বাধা মানতে নারাজ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন