মজুত টিকায় সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ চলবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
jugantor
মজুত টিকায় সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ চলবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ঘরে ফেরাদের ১৪ দিন পরে রাজধানীতে আসার অনুরোধ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাস টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার (কোভিশিল্ড) টিকার যে মজুত রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ আর এক সপ্তাহ চলবে। তবে হাসপাতালগুলোর মজুতের ওপর দু’একদিন কম-বেশি হতে পারে। এদিকে, ঈদ উপলক্ষ্যে যারা রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন তাদের কমপক্ষে ৭ থেকে ১৪ দিন পর ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে এ অনুরোধ জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, যারা বাড়িতে গেছেন। নিজের ও দেশবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা আগামী ৭ থেকে ১৪ দিন পরে ঢাকায় ফিরবেন। কোভিড-১৯ এর সেকেন্ড ওয়েভের মাঝখানে থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অধ্যাপক নাজমুল আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে মজুত টিকায় প্রথম ডোজ পাওয়া শতভাগ গ্রহীতাকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সম্ভব হবে না। বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমসহ অন্য সব চ্যানেলে যোগাযোগ চলছে। আমরা আশা করছি, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ঘাটতি আমরা ভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করতে পারব। আমরা ৮ সপ্তাহের ব্যবধানে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেটি কোনো কোনো দেশে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। কাজেই সে ক্ষেত্রে কিছু সময় আমরা পাচ্ছি। তবে যারা প্রথম ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন তারা দ্বিতীয় ডোজও এ টিকাই নেবেন। অন্য টিকা নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে সিনোফার্ম টিকা নিয়ে-এ মাসের শেষে অথবা সামনের মাসের শুরুতে আশার খবর শোনাতে পারব।

টিকা কার্যক্রম বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক নাজমুল বলেন, হাসপাতালগুলোতে কী পরিমাণ মজুত আছে সেটার ওপর নির্ভর করে। আমাদের কাছে যে পরিমাণ মজুত আছে তাতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ চলতে পারে বলে ধারণা। তবে এটি প্রতিষ্ঠানভেদে এক-দুই দিন কম বেশি হতে পারে। কোনো হাসপাতালে যদি আজ মজুত শেষ হয়ে যায়, তাহলে কাল থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া বন্ধ থাকবে। মজুত শেষ হলে কোভিশিল্ড টিকা দেওয়া বন্ধ থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নতুন করে সংগ্রহ করতে না পারি।

অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে যারা ফিরে আসছেন তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কিছু রোগী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন। এভাবে পালানোর চেষ্টা করলে তারা নিজেদের পরিবার এবং পুরো দেশবাসীকে ঝুঁকিতে ফেলবেন। তাই দেশের আইনের প্রতি এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্ধারিত সময় কোয়ারেন্টিনে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল জানান, বিভিন্ন দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেরা উপায়টি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও সেটির ব্যতিক্রম হয়নি। তাই আগামী ২৩ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এটি সবাইকে মেনে চলতে হবে। বর্তমানে শনাক্তের হার খুব কম। হাসপাতালের শয্যা ফাঁকা। তবে এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গেলে আমরা দ্বিতীয় সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাব।

মজুত টিকায় সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ চলবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ঘরে ফেরাদের ১৪ দিন পরে রাজধানীতে আসার অনুরোধ
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাস টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার (কোভিশিল্ড) টিকার যে মজুত রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ আর এক সপ্তাহ চলবে। তবে হাসপাতালগুলোর মজুতের ওপর দু’একদিন কম-বেশি হতে পারে। এদিকে, ঈদ উপলক্ষ্যে যারা রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন তাদের কমপক্ষে ৭ থেকে ১৪ দিন পর ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে এ অনুরোধ জানানো হয়। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, যারা বাড়িতে গেছেন। নিজের ও দেশবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা আগামী ৭ থেকে ১৪ দিন পরে ঢাকায় ফিরবেন। কোভিড-১৯ এর সেকেন্ড ওয়েভের মাঝখানে থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। 

অধ্যাপক নাজমুল আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে মজুত টিকায় প্রথম ডোজ পাওয়া শতভাগ গ্রহীতাকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সম্ভব হবে না। বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমসহ অন্য সব চ্যানেলে যোগাযোগ চলছে। আমরা আশা করছি, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ঘাটতি আমরা ভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করতে পারব। আমরা ৮ সপ্তাহের ব্যবধানে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেটি কোনো কোনো দেশে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। কাজেই সে ক্ষেত্রে কিছু সময় আমরা পাচ্ছি। তবে যারা প্রথম ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন তারা দ্বিতীয় ডোজও এ টিকাই নেবেন। অন্য টিকা নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে সিনোফার্ম টিকা নিয়ে-এ মাসের শেষে অথবা সামনের মাসের শুরুতে আশার খবর শোনাতে পারব। 

টিকা কার্যক্রম বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক নাজমুল বলেন, হাসপাতালগুলোতে কী পরিমাণ মজুত আছে সেটার ওপর নির্ভর করে। আমাদের কাছে যে পরিমাণ মজুত আছে তাতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ চলতে পারে বলে ধারণা। তবে এটি প্রতিষ্ঠানভেদে এক-দুই দিন কম বেশি হতে পারে। কোনো হাসপাতালে যদি আজ মজুত শেষ হয়ে যায়, তাহলে কাল থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া বন্ধ থাকবে। মজুত শেষ হলে কোভিশিল্ড টিকা দেওয়া বন্ধ থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নতুন করে সংগ্রহ করতে না পারি। 

অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে যারা ফিরে আসছেন তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কিছু রোগী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন। এভাবে পালানোর চেষ্টা করলে তারা নিজেদের পরিবার এবং পুরো দেশবাসীকে ঝুঁকিতে ফেলবেন। তাই দেশের আইনের প্রতি এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্ধারিত সময় কোয়ারেন্টিনে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল জানান, বিভিন্ন দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেরা উপায়টি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও সেটির ব্যতিক্রম হয়নি। তাই আগামী ২৩ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এটি সবাইকে মেনে চলতে হবে। বর্তমানে শনাক্তের হার খুব কম। হাসপাতালের শয্যা ফাঁকা। তবে এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গেলে আমরা দ্বিতীয় সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাব। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন