খুন করতে মুসাকে বাধ্য করে বাবুল আকতার
jugantor
চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যাকাণ্ড
খুন করতে মুসাকে বাধ্য করে বাবুল আকতার
রিমান্ডে স্বীকার সোর্স মুসাকে চেনেন বাবুল আকতার

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করতে সোর্স কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসাকে বাধ্য করেছিলেন বাবুল আকতার। নইলে তার ক্ষতি হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। এই ভয়ে মুসা মিতু হত্যায় নেতৃত্ব দেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে খুনি। এক পর্যায়ে ঘটনা ফাঁস করার হুমকি দিলে তাকে আটক করে নিয়ে যায় ‘প্রশাসনের’ লোকজন। সেই থেকে মুসা এখনো নিখোঁজ। তার স্ত্রী পান্না আকতার সোমবার যুগান্তরকে এসব কথা বলেন। তার স্বামীর সঙ্গে বাবুল আকতারের কথোপকথনসহ আরও বেশকিছু বিষয়ে কথা বলেন পান্না আকতার। তবে মিতুর কিলিং মিশনের প্রধান মুসা এখনো জীবিত, নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে-সে বিষয়ে তার স্ত্রী বা প্রশাসনের কেউ নিশ্চিত কিছু বলতে পারছেন না।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাহমুদা খানম মিতু তার ছেলে আকতার মাহমুদ মাহীরকে (৭) স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন জিইসি মোড় যাচ্ছিলেন। মোড়ের একটু আগে ওআর নিজাম রোডে ওত পেতে থাকা তিন সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত ও গুলি করে মিতুকে হত্যা করে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা গেছে মুসা নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে এই তিন সন্ত্রাসীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যম ঘাগড়া এলাকার মৃত শাহ আলম সিকদারের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা (৪০)। এক সময় সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডার ছিল। সে রাঙ্গুনিয়া থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি থাকার সময় এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে বাবুল আকতারের সম্পর্ক হয়। ধীরে ধীরে সে বাবুল আকতারের বিশ্বস্ত সোর্স হয়ে ওঠে। এ সার্কেলের আওতায় ছিল রাঙ্গুনিয়া থানাও। নিজের স্ত্রী হত্যায় তাই বিশ্বস্ত সোর্স রাঙ্গুনিয়ার মুসার ওপরই আস্থা রেখেছিলেন বাবুল আকতার!

মুসা সিকদারের স্ত্রী পান্না আকতার যুগান্তরকে বলেন, তিনি মুসাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে তার নাম আসছে আসলেই তিনি জড়িত ছিলেন কি না। তখন তাকে মুসা বলেছিলেন, বাবুল আকতার তাকে বাধ্য করেছেন। না-হলে তার সমস্যা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। কারণ, মুসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ছিল। এ কারণে তাকে সব সময় গ্রেফতারের ভয়, নতুন মামলা দেওয়ার হুমকিসহ নানা চাপে রাখতেন বাবুল আকতার। তিনি আরও জানান, মিতুর হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আকতার ল্যান্ডফোন থেকে বিভিন্ন সময় মুসার সঙ্গে কথা বলতেন। তখন পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েন মুসা। মুসার পরিবারের কোনো সমস্যা হবে না, তাদের সব ধরনের শেল্টার দেওয়া হবে-এমন আশ্বাসও দিতেন বাবুল আকতার। পান্না আকতার আরও বলেন, পরিবারের কোনো সমস্যা হলে মুসা সব কথা ফাঁস করে দেবেন বলে বাবুল আকতারকে হুমকি দেন। আর সেই হুমকির কিছুদিন পরই অর্থাৎ ২০১৬ সালের ২২ জুন তার স্বামীকে (মুসা) বন্দর থানাধীন এক আত্মীয়ের বাসা থেকে প্রশাসনের লোকজন তুলে নিয়ে যায়। তার সামনেই এ ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে মুসা সিকদারের ভাই সাকুকেও তুলে নিয়ে যায়। সাকুকে পরে মিতু হত্যা মামলায় আদালতে চালান দেওয়া হলেও মুসাকে আর চালান দেওয়া হয়নি। সাকু ছিল মোটরসাইকেল চোর সর্দার ও সন্ত্রাসী। সেই সাকুর দেওয়া মোটারসাইকেল নিয়েই মিতুকে হত্যা করতে যায় মুসা।

স্বামীকে ফেরত পেতে পান্না আকতার সেই সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। স্বামীর খোঁজে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন। যদি তাকে মেরে ফেলা হয়, তবে লাশটি হলেও ফেরত দিতে বলেন। ওই সময় তিনি ডিবির দুই পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন। তাদের হুমকিতে পান্না আকতার শহরের বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে যান। মুসাকে ফেরত চেয়ে বন্দর থানা ও কোতোয়ালি থানায় মামলা করতে গেলেও তখন তার মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। শুরুতে মামলাটি তদন্ত করছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. কামরুজ্জামান। মূলত তিনিই মামলাটি তদন্তের নামে মূল আসামিকে বাঁচাতে চার বছর ধরে নানা ছল-চাতুরী ও গড়িমসির আশ্রয় নেন বলে ইতোমধ্যে মিতুর পিতা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেছেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার তদন্তে কোনো গতি করতে না-পারায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এ মামলাটি তদন্তভার পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার হাতে মামলার তদন্তভার আসার পরই নতুন মোড় নেয়। স্বামী বাবুল আকতারই যে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং পরকীয়ার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এটি নিশ্চিত হয় পিবিআই। এ কারণেই আগের মামলায় গত ১১ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। গত ১২ মে নতুন মামলায় বাবুল আকতারকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় নতুন করে মামলা করেন মিতুর বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। মামলার বাদী হয়ে যান প্রধান আসামি।

পিবিআই সূত্র জানায়, তাদের তদন্তে ইতোমধ্যে উঠে এসেছে, মুসা সিকদারই সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। এজন্য বাবুল আকতার তার এক ব্যবসায়িক বন্ধু সাইফুলের মাধ্যমে বিকাশে মুসা সিকদারকে তিন লাখ টাকা দেয়। ওই টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পিস্তল কিনেছিলেন মুসা। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আকতারকে প্রথম ফোনটি করেছিলেন মুসা। বলেছিলেন, ‘কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন সহযোগী নিয়ে মুসার ঘটনাস্থলে আসা, কয়েক মিনিটের মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার বিষয়টিও নিশ্চিত হন তারা।

পিবিআই সূত্র বলছে, মিতু হত্যার মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া মুসার ভিডিও ফুটেজ বাবুল আকতারকে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাবুল আকতার তাকে (মুসাকে) না-চেনার ভান করেছিলেন। নতুন মামলায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে বাবুল আকতার বলেছেন, মুসা তার সোর্স ছিল এবং তাকে চেনেন। তবে স্ত্রী মিতুকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তিন লাখ টাকা মুসাকে দিয়েছিলেন কি না-এসব বিষয়ে এড়িয়ে যান। অবশ্য মিতুর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ ও গায়ত্রী অমর সিং নামে এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন বাবুল আকতার।

চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যাকাণ্ড

খুন করতে মুসাকে বাধ্য করে বাবুল আকতার

রিমান্ডে স্বীকার সোর্স মুসাকে চেনেন বাবুল আকতার
 শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করতে সোর্স কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসাকে বাধ্য করেছিলেন বাবুল আকতার। নইলে তার ক্ষতি হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। এই ভয়ে মুসা মিতু হত্যায় নেতৃত্ব দেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে খুনি। এক পর্যায়ে ঘটনা ফাঁস করার হুমকি দিলে তাকে আটক করে নিয়ে যায় ‘প্রশাসনের’ লোকজন। সেই থেকে মুসা এখনো নিখোঁজ। তার স্ত্রী পান্না আকতার সোমবার যুগান্তরকে এসব কথা বলেন। তার স্বামীর সঙ্গে বাবুল আকতারের কথোপকথনসহ আরও বেশকিছু বিষয়ে কথা বলেন পান্না আকতার। তবে মিতুর কিলিং মিশনের প্রধান মুসা এখনো জীবিত, নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে-সে বিষয়ে তার স্ত্রী বা প্রশাসনের কেউ নিশ্চিত কিছু বলতে পারছেন না।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাহমুদা খানম মিতু তার ছেলে আকতার মাহমুদ মাহীরকে (৭) স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন জিইসি মোড় যাচ্ছিলেন। মোড়ের একটু আগে ওআর নিজাম রোডে ওত পেতে থাকা তিন সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত ও গুলি করে মিতুকে হত্যা করে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা গেছে মুসা নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে এই তিন সন্ত্রাসীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যম ঘাগড়া এলাকার মৃত শাহ আলম সিকদারের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা (৪০)। এক সময় সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডার ছিল। সে রাঙ্গুনিয়া থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি থাকার সময় এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে বাবুল আকতারের সম্পর্ক হয়। ধীরে ধীরে সে বাবুল আকতারের বিশ্বস্ত সোর্স হয়ে ওঠে। এ সার্কেলের আওতায় ছিল রাঙ্গুনিয়া থানাও। নিজের স্ত্রী হত্যায় তাই বিশ্বস্ত সোর্স রাঙ্গুনিয়ার মুসার ওপরই আস্থা রেখেছিলেন বাবুল আকতার!

মুসা সিকদারের স্ত্রী পান্না আকতার যুগান্তরকে বলেন, তিনি মুসাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে তার নাম আসছে আসলেই তিনি জড়িত ছিলেন কি না। তখন তাকে মুসা বলেছিলেন, বাবুল আকতার তাকে বাধ্য করেছেন। না-হলে তার সমস্যা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। কারণ, মুসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ছিল। এ কারণে তাকে সব সময় গ্রেফতারের ভয়, নতুন মামলা দেওয়ার হুমকিসহ নানা চাপে রাখতেন বাবুল আকতার। তিনি আরও জানান, মিতুর হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আকতার ল্যান্ডফোন থেকে বিভিন্ন সময় মুসার সঙ্গে কথা বলতেন। তখন পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েন মুসা। মুসার পরিবারের কোনো সমস্যা হবে না, তাদের সব ধরনের শেল্টার দেওয়া হবে-এমন আশ্বাসও দিতেন বাবুল আকতার। পান্না আকতার আরও বলেন, পরিবারের কোনো সমস্যা হলে মুসা সব কথা ফাঁস করে দেবেন বলে বাবুল আকতারকে হুমকি দেন। আর সেই হুমকির কিছুদিন পরই অর্থাৎ ২০১৬ সালের ২২ জুন তার স্বামীকে (মুসা) বন্দর থানাধীন এক আত্মীয়ের বাসা থেকে প্রশাসনের লোকজন তুলে নিয়ে যায়। তার সামনেই এ ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে মুসা সিকদারের ভাই সাকুকেও তুলে নিয়ে যায়। সাকুকে পরে মিতু হত্যা মামলায় আদালতে চালান দেওয়া হলেও মুসাকে আর চালান দেওয়া হয়নি। সাকু ছিল মোটরসাইকেল চোর সর্দার ও সন্ত্রাসী। সেই সাকুর দেওয়া মোটারসাইকেল নিয়েই মিতুকে হত্যা করতে যায় মুসা।

স্বামীকে ফেরত পেতে পান্না আকতার সেই সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। স্বামীর খোঁজে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন। যদি তাকে মেরে ফেলা হয়, তবে লাশটি হলেও ফেরত দিতে বলেন। ওই সময় তিনি ডিবির দুই পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন। তাদের হুমকিতে পান্না আকতার শহরের বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে যান। মুসাকে ফেরত চেয়ে বন্দর থানা ও কোতোয়ালি থানায় মামলা করতে গেলেও তখন তার মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। শুরুতে মামলাটি তদন্ত করছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. কামরুজ্জামান। মূলত তিনিই মামলাটি তদন্তের নামে মূল আসামিকে বাঁচাতে চার বছর ধরে নানা ছল-চাতুরী ও গড়িমসির আশ্রয় নেন বলে ইতোমধ্যে মিতুর পিতা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেছেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার তদন্তে কোনো গতি করতে না-পারায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এ মামলাটি তদন্তভার পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার হাতে মামলার তদন্তভার আসার পরই নতুন মোড় নেয়। স্বামী বাবুল আকতারই যে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং পরকীয়ার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এটি নিশ্চিত হয় পিবিআই। এ কারণেই আগের মামলায় গত ১১ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। গত ১২ মে নতুন মামলায় বাবুল আকতারকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় নতুন করে মামলা করেন মিতুর বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। মামলার বাদী হয়ে যান প্রধান আসামি।

পিবিআই সূত্র জানায়, তাদের তদন্তে ইতোমধ্যে উঠে এসেছে, মুসা সিকদারই সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। এজন্য বাবুল আকতার তার এক ব্যবসায়িক বন্ধু সাইফুলের মাধ্যমে বিকাশে মুসা সিকদারকে তিন লাখ টাকা দেয়। ওই টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পিস্তল কিনেছিলেন মুসা। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আকতারকে প্রথম ফোনটি করেছিলেন মুসা। বলেছিলেন, ‘কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন সহযোগী নিয়ে মুসার ঘটনাস্থলে আসা, কয়েক মিনিটের মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার বিষয়টিও নিশ্চিত হন তারা।

পিবিআই সূত্র বলছে, মিতু হত্যার মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া মুসার ভিডিও ফুটেজ বাবুল আকতারকে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাবুল আকতার তাকে (মুসাকে) না-চেনার ভান করেছিলেন। নতুন মামলায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে বাবুল আকতার বলেছেন, মুসা তার সোর্স ছিল এবং তাকে চেনেন। তবে স্ত্রী মিতুকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তিন লাখ টাকা মুসাকে দিয়েছিলেন কি না-এসব বিষয়ে এড়িয়ে যান। অবশ্য মিতুর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ ও গায়ত্রী অমর সিং নামে এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন বাবুল আকতার।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মিতু হত্যার নতুন মোড়