গন্তব্যে ফেরার ভরসা ছোট ছোট যান
jugantor
পথে-ঘাটে ভোগান্তি
গন্তব্যে ফেরার ভরসা ছোট ছোট যান

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রীবাহী লঞ্চ, ট্রেন ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছেই। উপায় না-পেয়ে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টেম্পো, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানে গন্তব্যে পৌঁছছেন। পথে কয়েকবার পালটাতে হচ্ছে যান। এতে ভাড়া গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। সেইসঙ্গে আছে ভোগান্তিও। যাত্রী ও চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। একইভাবে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন মানুষ।

দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ঢাকায় ঢোকার অন্যতম প্রবেশপথ বাংলাবাজার-শিমুলিয়া এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের ফেরিতে সোমবার গাদাগাদি করে যাত্রী পার হতে দেখা গেছে। শুধু এই দুটি ফেরিরুট নয়; পাবনার কাজিরহাট ও পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিতেও যাত্রীচাপ ছিল প্রচণ্ড। কয়েকটি জেলায় কিছুসংখ্যক দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু করলে সেগুলো পুলিশ আটকে দিয়েছে। গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দূরপাল্লার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

পথে পথে দুর্ভোগের কথা জানিয়ে গার্মেন্ট কর্মী নুরজাহান বেগম বলেন, রাস্তাঘাট ও ফেরি পারাপারে ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আরও দুদিন ছুটি থাকার পরও আগেভাগে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছি। ফেরিঘাটে ভোগান্তি না-হলেও বারবার যানবাহন পরিবর্তন করায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বেশি ভাড়াও দিতে হয়েছে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পার হন কর্মজীবী মানুষ। পাটুরিয়া এসে তারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন কাক্সিক্ষত যানবাহনের জন্য। গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও পাটুরিয়া থেকে গাবতলী পর্যন্ত সেলফি, নীলাচল ও যাত্রীসেবা কো¤‹ানির বাস চলাচল করছে। বাসে দুই সিটে একজন বসার নিয়ম থাকলেও সেটা মানছেন না পরিবহণ শ্রমিকরা। প্রতিটি বাসে গাদাগাদি করেই যাত্রী নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানে যাত্রীরা নিজ গন্তব্যে যান। এতে তাদের ভাড়া গুনতে হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ঢাকায় যেতে জনপ্রতি ৫০০ থেকে হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনকে নির্বিকার দেখা গেছে।

আব্দুল্লাহ শেখ নামের একজন শ্রমিক বলেন, পাবনার আতাইকুলা থেকে কাজিরহাট হয়ে ফেরিতে আরিচা ঘাটে আসেন তিনি। ৬০ টাকার ভাড়া দু’শ টাকা দিয়ে আরিচা থেকে নবীনগরের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। কিন্তু বারবারিয়া বাসস্ট্যান্ডের অনেক আগেই বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দেয় পুলিশ। পরে আরেকটি বাসে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা জেলায় গণপরিবহণ চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি জেলা পুলিশ কঠোরভাবে দেখভাল করছে। গণপরিবহণে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়ে শিবালয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম রুহুল আমিন জানান, মহাসড়কের টেপড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন তিনি। এ ছাড়া পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এসি ল্যান্ডের মোবাইল কোর্ট রয়েছে। বিষয়টি কঠোরভাবে দেখভাল করা হচ্ছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, ঘাটে ফেরি ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ওঠার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলোতেও মানুষের ভিড় দেখা যায়। এখনো অনেকে ঈদের ছুটিতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, ঈদ-পরবর্তী যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন করতে এ রুটে ১৬টি ফেরি চালু রয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকামুখী যাত্রীরা সকাল থেকেই বাংলাবাজার ঘাটে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে মানুষের চাপও বাড়তে থাকে। মানুষের চাপ সামাল দিতে ১৭টি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পার করা হয়। ফেরিগুলোতে গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা হয়।

নড়াইল থেকে আসা যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বাস চালু না-থাকায় অনেক কষ্ট করে ফেরি ঘাটে আসতে হয়েছে। যেখানে খরচ হয় ৩০০ টাকা। সেখানে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফেরিতে ওঠার ক্ষেত্রে ভিড় ঠেলতে হচ্ছে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি নেই। বাংলাবাজার ঘাটের ম্যানেজার সালাউদ্দিন জানান, ১৭টি ফেরি দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। যাত্রীচাপ বেশি থাকায় গাড়ি লোড-আনলোড করতে সমস্যা হচ্ছে।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা দুই পথে ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু সেতু। দ্বিতীয়ত, পাবনার নগরবাড়ী (কাজিরহাট) ফেরি। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী কাজিরহাট ফেরি পার হয়ে যাতায়াত করছেন। যাত্রী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ইলিশা ফেরিঘাটে ছিল ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী হাজারো যাত্রী। সকাল ৮টা থেকে একে একে ছেড়ে যায় ফেরি কুসুমকলি, কলমিলতা, কনকচাঁপা ও কিষানি। এ ছাড়া অনেকে স্কিডবোট ও ট্রলারে গন্তব্যে যান। প্রচণ্ড গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফেরি, ট্রলার, স্কিডবোট-কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা ছিল না।

টাঙ্গাইল থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কান্দিলা, ঘারিন্দা, আশেকপুর, করটিয়া, দেলদুয়ার উপজেলার বাঐখোলা, নাটিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দূরপাল্লার বাস চলতে দেখা গেছে। ঢাকাগামী যাত্রী আশরাফ আলী বলেন, স্বাভাবিক সময়ে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার ভাড়া দেড়শ থেকে দু’শ টাকা। ঈদের সময় তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা ভাড়া নিত। অথচ এ বছর ঢাকা যেতে ৫০০ টাকার বেশি লাগছে।

সিরাজগঞ্জ রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসচালক ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রোতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ফিরছেন।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, ঈদের ছুটি শেষে বিভিন্ন পরিবহণে কর্মজীবী মানুষ পরিবার নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে। এ সুযোগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দূরপাল্লার কিছু বাস ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচল করছিল। রোববার বিকাল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৪৫টি বাসের চালক ও মালিকের নামে মামলা হয়। এ ছাড়া রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ১০টি গাড়ি ডা¤ি‹ং করা হয়েছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় চন্দ্রা ও কোনাবাড়ি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দূরপাল্লার ৪৬টি বাসের চালক-মালিকের নামে মামলা এবং প্রয়োজনীয় কাগজ না-থাকায় ৪টি গাড়ি আটক করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি জানান, পর্যাপ্ত যানবাহন না-থাকায় মানুষ সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক এবং মোটরবাইকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এ ছাড়া জেলার বাসগুলো সরাসরি ঢাকার দিকে না-যাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। ফলে করোনার ঝুঁকি নিয়েই ভেঙে ভেঙে বাস-ট্রাক ও পিকআপে গাদাগাদি করে ঢাকা ও গাজীপুরে ফিরছে শ্রমজীবী মানুষ।

পথে-ঘাটে ভোগান্তি

গন্তব্যে ফেরার ভরসা ছোট ছোট যান

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রীবাহী লঞ্চ, ট্রেন ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছেই। উপায় না-পেয়ে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টেম্পো, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানে গন্তব্যে পৌঁছছেন। পথে কয়েকবার পালটাতে হচ্ছে যান। এতে ভাড়া গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। সেইসঙ্গে আছে ভোগান্তিও। যাত্রী ও চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। একইভাবে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন মানুষ।

দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ঢাকায় ঢোকার অন্যতম প্রবেশপথ বাংলাবাজার-শিমুলিয়া এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের ফেরিতে সোমবার গাদাগাদি করে যাত্রী পার হতে দেখা গেছে। শুধু এই দুটি ফেরিরুট নয়; পাবনার কাজিরহাট ও পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিতেও যাত্রীচাপ ছিল প্রচণ্ড। কয়েকটি জেলায় কিছুসংখ্যক দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু করলে সেগুলো পুলিশ আটকে দিয়েছে। গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দূরপাল্লার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

পথে পথে দুর্ভোগের কথা জানিয়ে গার্মেন্ট কর্মী নুরজাহান বেগম বলেন, রাস্তাঘাট ও ফেরি পারাপারে ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আরও দুদিন ছুটি থাকার পরও আগেভাগে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছি। ফেরিঘাটে ভোগান্তি না-হলেও বারবার যানবাহন পরিবর্তন করায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বেশি ভাড়াও দিতে হয়েছে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পার হন কর্মজীবী মানুষ। পাটুরিয়া এসে তারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন কাক্সিক্ষত যানবাহনের জন্য। গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও পাটুরিয়া থেকে গাবতলী পর্যন্ত সেলফি, নীলাচল ও যাত্রীসেবা কো¤‹ানির বাস চলাচল করছে। বাসে দুই সিটে একজন বসার নিয়ম থাকলেও সেটা মানছেন না পরিবহণ শ্রমিকরা। প্রতিটি বাসে গাদাগাদি করেই যাত্রী নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানে যাত্রীরা নিজ গন্তব্যে যান। এতে তাদের ভাড়া গুনতে হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ঢাকায় যেতে জনপ্রতি ৫০০ থেকে হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনকে নির্বিকার দেখা গেছে।

আব্দুল্লাহ শেখ নামের একজন শ্রমিক বলেন, পাবনার আতাইকুলা থেকে কাজিরহাট হয়ে ফেরিতে আরিচা ঘাটে আসেন তিনি। ৬০ টাকার ভাড়া দু’শ টাকা দিয়ে আরিচা থেকে নবীনগরের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। কিন্তু বারবারিয়া বাসস্ট্যান্ডের অনেক আগেই বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দেয় পুলিশ। পরে আরেকটি বাসে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা জেলায় গণপরিবহণ চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি জেলা পুলিশ কঠোরভাবে দেখভাল করছে। গণপরিবহণে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়ে শিবালয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম রুহুল আমিন জানান, মহাসড়কের টেপড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন তিনি। এ ছাড়া পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এসি ল্যান্ডের মোবাইল কোর্ট রয়েছে। বিষয়টি কঠোরভাবে দেখভাল করা হচ্ছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, ঘাটে ফেরি ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ওঠার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলোতেও মানুষের ভিড় দেখা যায়। এখনো অনেকে ঈদের ছুটিতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, ঈদ-পরবর্তী যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন করতে এ রুটে ১৬টি ফেরি চালু রয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকামুখী যাত্রীরা সকাল থেকেই বাংলাবাজার ঘাটে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে মানুষের চাপও বাড়তে থাকে। মানুষের চাপ সামাল দিতে ১৭টি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পার করা হয়। ফেরিগুলোতে গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা হয়।

নড়াইল থেকে আসা যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বাস চালু না-থাকায় অনেক কষ্ট করে ফেরি ঘাটে আসতে হয়েছে। যেখানে খরচ হয় ৩০০ টাকা। সেখানে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফেরিতে ওঠার ক্ষেত্রে ভিড় ঠেলতে হচ্ছে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি নেই। বাংলাবাজার ঘাটের ম্যানেজার সালাউদ্দিন জানান, ১৭টি ফেরি দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। যাত্রীচাপ বেশি থাকায় গাড়ি লোড-আনলোড করতে সমস্যা হচ্ছে।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা দুই পথে ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু সেতু। দ্বিতীয়ত, পাবনার নগরবাড়ী (কাজিরহাট) ফেরি। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী কাজিরহাট ফেরি পার হয়ে যাতায়াত করছেন। যাত্রী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ইলিশা ফেরিঘাটে ছিল ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী হাজারো যাত্রী। সকাল ৮টা থেকে একে একে ছেড়ে যায় ফেরি কুসুমকলি, কলমিলতা, কনকচাঁপা ও কিষানি। এ ছাড়া অনেকে স্কিডবোট ও ট্রলারে গন্তব্যে যান। প্রচণ্ড গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফেরি, ট্রলার, স্কিডবোট-কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা ছিল না।

টাঙ্গাইল থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কান্দিলা, ঘারিন্দা, আশেকপুর, করটিয়া, দেলদুয়ার উপজেলার বাঐখোলা, নাটিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দূরপাল্লার বাস চলতে দেখা গেছে। ঢাকাগামী যাত্রী আশরাফ আলী বলেন, স্বাভাবিক সময়ে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার ভাড়া দেড়শ থেকে দু’শ টাকা। ঈদের সময় তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা ভাড়া নিত। অথচ এ বছর ঢাকা যেতে ৫০০ টাকার বেশি লাগছে।

সিরাজগঞ্জ রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসচালক ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রোতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ফিরছেন।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, ঈদের ছুটি শেষে বিভিন্ন পরিবহণে কর্মজীবী মানুষ পরিবার নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে। এ সুযোগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দূরপাল্লার কিছু বাস ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচল করছিল। রোববার বিকাল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৪৫টি বাসের চালক ও মালিকের নামে মামলা হয়। এ ছাড়া রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ১০টি গাড়ি ডা¤ি‹ং করা হয়েছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় চন্দ্রা ও কোনাবাড়ি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দূরপাল্লার ৪৬টি বাসের চালক-মালিকের নামে মামলা এবং প্রয়োজনীয় কাগজ না-থাকায় ৪টি গাড়ি আটক করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি জানান, পর্যাপ্ত যানবাহন না-থাকায় মানুষ সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক এবং মোটরবাইকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এ ছাড়া জেলার বাসগুলো সরাসরি ঢাকার দিকে না-যাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। ফলে করোনার ঝুঁকি নিয়েই ভেঙে ভেঙে বাস-ট্রাক ও পিকআপে গাদাগাদি করে ঢাকা ও গাজীপুরে ফিরছে শ্রমজীবী মানুষ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন