ছেলে মাহীরকে আগামী সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদ
jugantor
মিতু হত্যাকাণ্ড
ছেলে মাহীরকে আগামী সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদ

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৯ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারকে কারাগারে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে তাকে পাঠানো হবে ওয়ার্ডে।

এদিকে এ মামলায় এবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ও বাবুল আকতারের ছেলে আকতার মাহমুদ মাহীরকে। মিতু হত্যা মামলায় আগে থেকে গ্রেফতার শাহজাহান মিয়াকে মঙ্গলবার নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে মুসার বড় ভাই সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকুকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা গেছে।

আগামী সপ্তাহে মিতু-বাবুল দম্পতির বড় ছেলে আকতার মাহমুদ মাহীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। এজন্য মাহীরকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে নিয়ে আসার জন্য স্বজনদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

মিতু হত্যাকাণ্ডে একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছেলে মাহীর। বর্তমানে তার বয়স ১২ বছর। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ৭ বছর। মাহীর বর্তমানে বাবুল আকতারের তৃতীয় স্ত্রী ইসমত জাহান মুক্তার কাছে রয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল সাড়ে ৬টায় মাহমুদা খানম মিতু তার ছেলে মাহীরকে স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন জিইসি মোড়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওতপেতে থাকা তিন সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত ও গুলি করে মিতুকে হত্যার পর মোটরসাইকেলে করে গোল পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।

গত ১৩ মে মিতু হত্যা মামলার আসামি সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকুকে আদালতে তোলার পর চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাকু মিতু হত্যা মামলার মাস্টারমাইন্ডখ্যাত কামরুল ইসলাম মুসার বড় ভাই। ১২ মে রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট এলাকা থেকে সাকুকে র‌্যাব গ্রেফতার করে।

মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইনস্পেকটর সন্তোষ কুমার চাকমা যুগান্তরকে বলেন, ‘আজ-কালের মধ্যে সাকুকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই কার্যালয়ে আনা হবে। বাবুল আক্তারের ছেলে মাহীরকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বজনদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে তাকে পিবিআই কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।’

মিতু হত্যা মামলায় আগে থেকে গ্রেফতার শাহজাহান মিয়াকে নতুন মামলায় মঙ্গলবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছে পিবিআই।

ঘটনার ৫ বছর পর ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মিতুর পিতা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলায় শাহজাহানকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। নতুন এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে বর্তমানে বাবুল আকতারসহ কারাগারে আছেন ছয়জন। অন্যরা হলো-মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান মিয়া।

পাঁচদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মিতু হত্যার কথা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে স্বীকার করার পর তাকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে নেওয়া হয়। কিন্তু চার ঘণ্টা নাটকীয়তার পর জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে তাকে সাধারণ বন্দিদের মতো কোয়ারেন্টিন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানে ১৪ দিন রাখা হবে।

এরপর কারাগারের যে কোনো একটি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে। বাবুল আক্তারকে ডিভিশন সুবিধা দেওয়ার জন্য সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে কারাবিধি অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ডিভিশন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষ হাতে পেয়েছে বলেও জানান।

কারাগার সূত্র জানায়, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর নতুন বন্দিদের হালদা ভবনে তৈরি ১৪টি কক্ষে কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিনই বন্দিদের একটি করে কক্ষ বদল করে রাখা হয়। সে সঙ্গে প্রতিদিনই বন্দিদের তাপমাত্রা মাপাসহ শরীর চেকআপ করা হয়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান তারিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘বাবুল আক্তারকে কোয়ারেন্টিন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানে ১৪ দিন রাখার পর কোন ওয়ার্ডে পাঠানো হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাকে রাতে অন্য বন্দিদের মতো ডালের খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। তিনি চাইলে কারাগারে উন্নত খাবার টাকা দিয়ে কিনে খেতে পারবেন।’

মিতু হত্যাকাণ্ড

ছেলে মাহীরকে আগামী সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদ

 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৯ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারকে কারাগারে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে তাকে পাঠানো হবে ওয়ার্ডে।

এদিকে এ মামলায় এবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ও বাবুল আকতারের ছেলে আকতার মাহমুদ মাহীরকে। মিতু হত্যা মামলায় আগে থেকে গ্রেফতার শাহজাহান মিয়াকে মঙ্গলবার নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে মুসার বড় ভাই সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকুকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা গেছে।

আগামী সপ্তাহে মিতু-বাবুল দম্পতির বড় ছেলে আকতার মাহমুদ মাহীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। এজন্য মাহীরকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে নিয়ে আসার জন্য স্বজনদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

মিতু হত্যাকাণ্ডে একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছেলে মাহীর। বর্তমানে তার বয়স ১২ বছর। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ৭ বছর। মাহীর বর্তমানে বাবুল আকতারের তৃতীয় স্ত্রী ইসমত জাহান মুক্তার কাছে রয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল সাড়ে ৬টায় মাহমুদা খানম মিতু তার ছেলে মাহীরকে স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন জিইসি মোড়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওতপেতে থাকা তিন সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত ও গুলি করে মিতুকে হত্যার পর মোটরসাইকেলে করে গোল পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।

গত ১৩ মে মিতু হত্যা মামলার আসামি সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকুকে আদালতে তোলার পর চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাকু মিতু হত্যা মামলার মাস্টারমাইন্ডখ্যাত কামরুল ইসলাম মুসার বড় ভাই। ১২ মে রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট এলাকা থেকে সাকুকে র‌্যাব গ্রেফতার করে।

মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইনস্পেকটর সন্তোষ কুমার চাকমা যুগান্তরকে বলেন, ‘আজ-কালের মধ্যে সাকুকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই কার্যালয়ে আনা হবে। বাবুল আক্তারের ছেলে মাহীরকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বজনদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে তাকে পিবিআই কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।’

মিতু হত্যা মামলায় আগে থেকে গ্রেফতার শাহজাহান মিয়াকে নতুন মামলায় মঙ্গলবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছে পিবিআই।

ঘটনার ৫ বছর পর ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মিতুর পিতা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলায় শাহজাহানকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। নতুন এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে বর্তমানে বাবুল আকতারসহ কারাগারে আছেন ছয়জন। অন্যরা হলো-মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান মিয়া।

পাঁচদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মিতু হত্যার কথা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে স্বীকার করার পর তাকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে নেওয়া হয়। কিন্তু চার ঘণ্টা নাটকীয়তার পর জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে তাকে সাধারণ বন্দিদের মতো কোয়ারেন্টিন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানে ১৪ দিন রাখা হবে।

এরপর কারাগারের যে কোনো একটি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে। বাবুল আক্তারকে ডিভিশন সুবিধা দেওয়ার জন্য সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে কারাবিধি অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ডিভিশন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষ হাতে পেয়েছে বলেও জানান।

কারাগার সূত্র জানায়, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর নতুন বন্দিদের হালদা ভবনে তৈরি ১৪টি কক্ষে কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিনই বন্দিদের একটি করে কক্ষ বদল করে রাখা হয়। সে সঙ্গে প্রতিদিনই বন্দিদের তাপমাত্রা মাপাসহ শরীর চেকআপ করা হয়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান তারিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘বাবুল আক্তারকে কোয়ারেন্টিন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানে ১৪ দিন রাখার পর কোন ওয়ার্ডে পাঠানো হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাকে রাতে অন্য বন্দিদের মতো ডালের খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। তিনি চাইলে কারাগারে উন্নত খাবার টাকা দিয়ে কিনে খেতে পারবেন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মিতু হত্যার নতুন মোড়