তফসিলের পক্ষে সিইসি, আপত্তি চার কমিশনারের
jugantor
লকডাউনে ৪ সংসদীয় আসনে ভোট
তফসিলের পক্ষে সিইসি, আপত্তি চার কমিশনারের

  কাজী জেবেল  

২০ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চলমান লকডাউনের মধ্যেই জাতীয় সংসদের শূন্য তিনটি আসনের তফসিল ঘোষণা ও একটির ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ নিয়ে কমিশনারদের মধ্যে ভিন্নমত পাওয়া গেছে।

বুধবার ইসি সচিবালয়ে কমিশনের ৭৯তম সভায় ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ সংসদীয় আসনের তফসিল চূড়ান্ত করার প্রস্তাব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও চলমান লকডাউনের জন্য গতকাল ওই দুই আসনের তফসিল ঘোষণার বিপক্ষে মত দেন বাকি চারজন নির্বাচন কমিশনার।

এ কারণে তফসিল ঘোষণা হয়নি। বর্তমানে শূন্য থাকা চারটি আসনেরই ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৪ মে কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি এসব আসনে ভোটগ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের প্রায় অর্ধেকটা সময়জুড়ে জাতীয় সংসদের চারটি আসনের ভোটগ্রহণ নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হয়। তবে স্থগিত ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১১টি পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন নিয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়নি। এসব নির্বাচনের বিষয়ে আগামী ২৪ মে কমিশন সভায় আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম ইসি থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগে স্থানান্তরে সরকারের নির্দেশনার বিষয়ে আগ থেকে কোনো তথ্য জানতেন না বলে বৈঠকে জানান সিইসি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারের তরফ থেকে ডাকা হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে ইসি সচিবালয়কে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

সিইসির সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় কমিশনের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চার কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলার জন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন ইসি সচিব। পরে তিনি কমিশনের সভার আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করেন।

ব্রিফিংয়ে সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, চারটি আসনে নির্বাচনের বিষয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হয়েছে। লকডাউন চলার কারণে সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ২৪ মে নির্বাচনের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে ভোটের তারিখ ঠিক করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শূন্য আসনে যেহেতু এসব উপনির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই কমিশন এই চারটি আসনে জুলাই মাসে নির্বাচন আয়োজন করবে। ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি, তবে ২৪ মে কমিশন সভায় আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর-২, সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসন শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের তফসিল ঘোষণা করে ১১ এপ্রিল ভোটের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ১ এপ্রিল ওই নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে এ আসনে নির্বাচনের বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে। সিলেট-৩ আসনে ভোটগ্রহণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার সিদ্ধান্ত রয়েছে ইসির। এ হিসাবে ৬ সেপ্টেম্বর এ সময় শেষ হচ্ছে। ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসন ভোটগ্রহণের সময় প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে রয়েছে। এ আসন দুটির প্রথম ৯০ দিনের মেয়াদ যথাক্রমে ২ জুলাই ও ১২ জুলাই শেষ হবে।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, কমিশন সভায় ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ এ দুটি আসনের তফসিল বুধবারই চূড়ান্ত করার পক্ষে একাধিকবার অনুরোধ জানান সিইসি। তার এ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সভায় বলেন, ভারতের করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ভালো না। বাংলাদেশেও করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। আজও (বুধবার) আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েছে।

এ অবস্থান অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসব নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এ সময় শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে অনেকটা একমত পোষণ করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম। পরে সিইসি আবারও একই অনুরোধ জানালে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৩ মে লকডাউন শেষ হবে। আমরা ২৪ মে সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। সভায় চারটি সংসদীয় আসনে একইদিন ভোট করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এনআইডি কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ : এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সিইসি ও চার কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা তোলেন সিইসি। তিনি চার কমিশনারকে স্মারকলিপি দেখার অনুরোধ জানান। এ সময় একজন কমিশনার বৈঠকে বলেন, সরকার এমন একটি সিদ্ধান্ত নিল। অথচ আগ থেকে আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানলাম না। তখন সিইসি নিজেও জানতেন না বলে কমিশন সভায় জানান।

এ সময় আরেকজন নির্বাচন কমিশনার এনআইডি কার্যক্রম নিয়ে তার স্মৃতিচারণ করেন। বৈঠকে সিইসি কমিশন সচিবালয়কে এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সরকার বৈঠকে ডাকলে যাতে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত দেওয়া যায় সেই পদক্ষেপ নিতে বলেন।

এ বিষয়ে বৈঠকের পর ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার সরকারের চিঠির অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টিও কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন। কমিশন বসে বিষয়টি দেখেছেন এবং গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি গভীরভাবে পর্যালোচনা করিনি সে কারণে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। কমিশন সভায় এটি নিয়ে ডিটেইলস কোনো আলোচনা হয়নি।

এদিকে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন, নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান। তারা বলেন, আমরা মাননীয় কমিশনকে স্মারকলিপি দিয়েছি। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত তাদের জানা নেই বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের কোনো আলোচনা হয়নি বলেও আমাদের নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, এনআইডি সেবা ইসির অধীনে আছে, এখানেই থাকুক।

এ সময় সংগঠনের সহ-সভাপতি মনির হোসাইন খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মো. রশিদ মিয়া, দপ্তর সম্পাদক সাব্বির আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লকডাউনে ৪ সংসদীয় আসনে ভোট

তফসিলের পক্ষে সিইসি, আপত্তি চার কমিশনারের

 কাজী জেবেল 
২০ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চলমান লকডাউনের মধ্যেই জাতীয় সংসদের শূন্য তিনটি আসনের তফসিল ঘোষণা ও একটির ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ নিয়ে কমিশনারদের মধ্যে ভিন্নমত পাওয়া গেছে।

বুধবার ইসি সচিবালয়ে কমিশনের ৭৯তম সভায় ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ সংসদীয় আসনের তফসিল চূড়ান্ত করার প্রস্তাব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও চলমান লকডাউনের জন্য গতকাল ওই দুই আসনের তফসিল ঘোষণার বিপক্ষে মত দেন বাকি চারজন নির্বাচন কমিশনার।

এ কারণে তফসিল ঘোষণা হয়নি। বর্তমানে শূন্য থাকা চারটি আসনেরই ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৪ মে কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি এসব আসনে ভোটগ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের প্রায় অর্ধেকটা সময়জুড়ে জাতীয় সংসদের চারটি আসনের ভোটগ্রহণ নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হয়। তবে স্থগিত ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১১টি পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন নিয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়নি। এসব নির্বাচনের বিষয়ে আগামী ২৪ মে কমিশন সভায় আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম ইসি থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগে স্থানান্তরে সরকারের নির্দেশনার বিষয়ে আগ থেকে কোনো তথ্য জানতেন না বলে বৈঠকে জানান সিইসি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারের তরফ থেকে ডাকা হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে ইসি সচিবালয়কে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

সিইসির সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় কমিশনের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চার কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলার জন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন ইসি সচিব। পরে তিনি কমিশনের সভার আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করেন।

ব্রিফিংয়ে সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, চারটি আসনে নির্বাচনের বিষয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হয়েছে। লকডাউন চলার কারণে সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ২৪ মে নির্বাচনের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে ভোটের তারিখ ঠিক করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শূন্য আসনে যেহেতু এসব উপনির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই কমিশন এই চারটি আসনে জুলাই মাসে নির্বাচন আয়োজন করবে। ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি, তবে ২৪ মে কমিশন সভায় আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর-২, সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসন শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের তফসিল ঘোষণা করে ১১ এপ্রিল ভোটের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ১ এপ্রিল ওই নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে এ আসনে নির্বাচনের বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে। সিলেট-৩ আসনে ভোটগ্রহণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার সিদ্ধান্ত রয়েছে ইসির। এ হিসাবে ৬ সেপ্টেম্বর এ সময় শেষ হচ্ছে। ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসন ভোটগ্রহণের সময় প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে রয়েছে। এ আসন দুটির প্রথম ৯০ দিনের মেয়াদ যথাক্রমে ২ জুলাই ও ১২ জুলাই শেষ হবে।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, কমিশন সভায় ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ এ দুটি আসনের তফসিল বুধবারই চূড়ান্ত করার পক্ষে একাধিকবার অনুরোধ জানান সিইসি। তার এ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সভায় বলেন, ভারতের করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ভালো না। বাংলাদেশেও করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। আজও (বুধবার) আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েছে।

এ অবস্থান অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসব নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এ সময় শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে অনেকটা একমত পোষণ করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম। পরে সিইসি আবারও একই অনুরোধ জানালে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৩ মে লকডাউন শেষ হবে। আমরা ২৪ মে সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। সভায় চারটি সংসদীয় আসনে একইদিন ভোট করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এনআইডি কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ : এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সিইসি ও চার কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা তোলেন সিইসি। তিনি চার কমিশনারকে স্মারকলিপি দেখার অনুরোধ জানান। এ সময় একজন কমিশনার বৈঠকে বলেন, সরকার এমন একটি সিদ্ধান্ত নিল। অথচ আগ থেকে আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানলাম না। তখন সিইসি নিজেও জানতেন না বলে কমিশন সভায় জানান।

এ সময় আরেকজন নির্বাচন কমিশনার এনআইডি কার্যক্রম নিয়ে তার স্মৃতিচারণ করেন। বৈঠকে সিইসি কমিশন সচিবালয়কে এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সরকার বৈঠকে ডাকলে যাতে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত দেওয়া যায় সেই পদক্ষেপ নিতে বলেন।

এ বিষয়ে বৈঠকের পর ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার সরকারের চিঠির অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টিও কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন। কমিশন বসে বিষয়টি দেখেছেন এবং গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি গভীরভাবে পর্যালোচনা করিনি সে কারণে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। কমিশন সভায় এটি নিয়ে ডিটেইলস কোনো আলোচনা হয়নি।

এদিকে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন, নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান। তারা বলেন, আমরা মাননীয় কমিশনকে স্মারকলিপি দিয়েছি। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত তাদের জানা নেই বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের কোনো আলোচনা হয়নি বলেও আমাদের নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, এনআইডি সেবা ইসির অধীনে আছে, এখানেই থাকুক।

এ সময় সংগঠনের সহ-সভাপতি মনির হোসাইন খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মো. রশিদ মিয়া, দপ্তর সম্পাদক সাব্বির আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন