কোটা আন্দোলনকারীদের হুশিয়ারি

এ মাসে প্র্রজ্ঞাপন না হলে ফের আন্দোলন

  ঢাবি প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোটা বিরোধী আন্দোলন
কোটা বিরোধী আন্দোলন (ফাইল ছবি)

কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা চলতি মাসের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। অন্যথায় আগামী মাস থেকে ফের আন্দোলন শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এই হুশিয়ারি দেয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সামনে রেখে ৩০ এপ্রিল ছাত্র-শিক্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান, ফারুক হাসান, নুরুল হক নূরসহ বিভিন্ন পরিষদের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে কোটা নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি, অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা প্রত্যাহার এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

ফারুক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দুই-তিন দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার উচিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে সেটি দেরি হচ্ছে। তবে চলতি মাসের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামী মাস থেকে সারা বাংলার ছাত্রসমাজ ফের রাজপথে নামবে। আমরা ঘরে বসে থাকব না।

রাশেদ খান বলেন, আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গেজেট আকারে প্রকাশ হোক। আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চাই। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা কোটা সংস্কারের জন্য অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, অল্প কিছু মিডিয়া আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

লিখিত বক্তব্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অজ্ঞাতনামা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে নুরুল হক নূর বলেন, ঢাবি ভিসির বাসভবনে যারা হামলা চালিয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। তারা বহিরাগত। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এ হামলা চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে নুরুল হক বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে ৩০ এপ্রিল সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আলোচনা সভা হবে।

তিনি বলেন, একটি মহল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার করে আসছে। পুলিশ এবং ঢাবি প্রশাসন কোনো রকম প্রমাণ ছাড়াই ৫টি অজ্ঞাতনামা মামলা দেয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছে। ১৬ এপ্রিল ধরে নিয়ে যাওয়া, ১৯ এপ্রিল সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেছে।

নুরুল হক বলেন, ২১ এপ্রিল জনকণ্ঠ পত্রিকা ‘টার্গেট সরকার পতন, গুলি চালিয়ে মৃত্যুর গুজব’ শিরোনামে একটি নিউজ করে। যেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পত্রিকা যদি আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫টার মধ্যে ওই নিউজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করে, তাহলে ছাত্রসমাজ তাদের পত্রিকা বর্জন করবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের আশ্বাসের পর তারা আন্দোলন স্থগিত করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter