কর কাঠামো সংস্কার চান ব্যবসায়ীরা
jugantor
এফবিসিসিআই-এর সংবাদ সম্মেলন
কর কাঠামো সংস্কার চান ব্যবসায়ীরা
নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দাবি * অগ্রিম আয়কর ২০% প্রত্যাহার করতে হবে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুল্ক ও কর কাঠামো সংস্কার করে একটি জন ও বিনিয়োগবান্ধব এবং উৎপাদনশীল রাজস্বব্যবস্থা প্রবর্তন করা জরুরি বলে মনে করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। বাজেটে প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার চায় সংগঠনটি।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর কার্যকর হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বাড়বে বহুগুণ। এছাড়া নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কালোটাকা সাদা করার সুযোগ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীর মতিঝিলে শনিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এফবিসিসিআই-এর সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান মাহমুদ, এফবিসিসিআই সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি এমএ মোমেন, আমিন হেলালী, হাবিব উল্যাহ ডন প্রমুখ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, একটা মার্কেটে ১০০টি দোকান থাকলে মাত্র ১০টিতে ভ্যাট আদায়ের মেশিন দেওয়া হয়, বাকি ৯০টিতে নেই। ভ্যাট আদায় করলে সব দোকানে মেশিন দেওয়া দরকার। আর না করলে কারও কাছ থেকে আদায় করার দরকার নেই। এখানে (ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া) এক টাকা বিনিয়োগ করলে একশ টাকা পাবে, তাহলে কেন বিনিয়োগ করছে না সরকার।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে চায়; কিন্তু পদ্ধতিটা সহজ করতে হবে। সরকার এত বড় বাজেট দিচ্ছে, এতকিছু করছে; কিন্তু আসল জায়গায় বিনিয়োগ নেই। তাই ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ আরও বাড়ানো উচিত। মূল্য সংযোজন কর আইন সহজ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং এফবিসিসিআই-এর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর ৪ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

কালোটাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জসিম উদ্দিন বলেন, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা সব সময়ের জন্য দেওয়া হলে যারা নিয়মিত ভ্যাট-কর দেন, তারা নিরুৎসাহিত হবেন।

তিনি বলেন, কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ২৮ শতাংশ এখনো বিতরণ হয়নি। বাকি অংশ বিতরণ ও নতুন আরেকটা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিদ্যমান মন্দা পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক আর্থসামাজিক পরিবেশের তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদি, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনবিআরের পলিসি উইং এবং বাজেট বাস্তবায়ন উইংকে আলাদা করতে হবে। রাজস্ব বাড়ানো এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাট ও আয়কর অফিস স্থাপন করলে করের আওতা বাড়বে। টিআইএন নম্বর ব্যবহারের পাশাপাশি ট্যাক্স পেমেন্টের প্রমাণ বা ডকুমেন্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে সক্ষম কর প্রদানকারীরা রাজস্ব দিতে এগিয়ে আসবে এবং নিয়মিত করদাতাদের ওপর চাপ কমবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের পাশাপাশি ড্রেজার ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি শুল্ক এক শতাংশ করতে হবে, যা গত বছর থেকে ৩১ শতাংশ করা হয়েছে। আগে ১ শতাংশই ছিল।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি আয়করদাতাদের ন্যূনতম করহার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ কর ন্যূনতম শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করতে হবে। জসিম উদ্দিন বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশের ব্যাংকব্যবস্থার বদলে বিশেষ স্থানীয় বন্ড ও বিদেশ থেকে স্বল্পসুদে অর্থায়ন নেওয়া যেতে পারে। এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকা করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

এফবিসিসিআই-এর সংবাদ সম্মেলন

কর কাঠামো সংস্কার চান ব্যবসায়ীরা

নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দাবি * অগ্রিম আয়কর ২০% প্রত্যাহার করতে হবে
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুল্ক ও কর কাঠামো সংস্কার করে একটি জন ও বিনিয়োগবান্ধব এবং উৎপাদনশীল রাজস্বব্যবস্থা প্রবর্তন করা জরুরি বলে মনে করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। বাজেটে প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার চায় সংগঠনটি।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর কার্যকর হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বাড়বে বহুগুণ। এছাড়া নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কালোটাকা সাদা করার সুযোগ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীর মতিঝিলে শনিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এফবিসিসিআই-এর সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান মাহমুদ, এফবিসিসিআই সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি এমএ মোমেন, আমিন হেলালী, হাবিব উল্যাহ ডন প্রমুখ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, একটা মার্কেটে ১০০টি দোকান থাকলে মাত্র ১০টিতে ভ্যাট আদায়ের মেশিন দেওয়া হয়, বাকি ৯০টিতে নেই। ভ্যাট আদায় করলে সব দোকানে মেশিন দেওয়া দরকার। আর না করলে কারও কাছ থেকে আদায় করার দরকার নেই। এখানে (ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া) এক টাকা বিনিয়োগ করলে একশ টাকা পাবে, তাহলে কেন বিনিয়োগ করছে না সরকার।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে চায়; কিন্তু পদ্ধতিটা সহজ করতে হবে। সরকার এত বড় বাজেট দিচ্ছে, এতকিছু করছে; কিন্তু আসল জায়গায় বিনিয়োগ নেই। তাই ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ আরও বাড়ানো উচিত। মূল্য সংযোজন কর আইন সহজ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং এফবিসিসিআই-এর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর ৪ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

কালোটাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জসিম উদ্দিন বলেন, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা সব সময়ের জন্য দেওয়া হলে যারা নিয়মিত ভ্যাট-কর দেন, তারা নিরুৎসাহিত হবেন।

তিনি বলেন, কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ২৮ শতাংশ এখনো বিতরণ হয়নি। বাকি অংশ বিতরণ ও নতুন আরেকটা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিদ্যমান মন্দা পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক আর্থসামাজিক পরিবেশের তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদি, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনবিআরের পলিসি উইং এবং বাজেট বাস্তবায়ন উইংকে আলাদা করতে হবে। রাজস্ব বাড়ানো এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাট ও আয়কর অফিস স্থাপন করলে করের আওতা বাড়বে। টিআইএন নম্বর ব্যবহারের পাশাপাশি ট্যাক্স পেমেন্টের প্রমাণ বা ডকুমেন্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে সক্ষম কর প্রদানকারীরা রাজস্ব দিতে এগিয়ে আসবে এবং নিয়মিত করদাতাদের ওপর চাপ কমবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের পাশাপাশি ড্রেজার ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি শুল্ক এক শতাংশ করতে হবে, যা গত বছর থেকে ৩১ শতাংশ করা হয়েছে। আগে ১ শতাংশই ছিল।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি আয়করদাতাদের ন্যূনতম করহার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ কর ন্যূনতম শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করতে হবে। জসিম উদ্দিন বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশের ব্যাংকব্যবস্থার বদলে বিশেষ স্থানীয় বন্ড ও বিদেশ থেকে স্বল্পসুদে অর্থায়ন নেওয়া যেতে পারে। এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকা করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন