ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ রোধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
jugantor
৫০ মডেল মসজিদ উদ্বোধন
ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ রোধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
‘সরকার মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে’

  হাসিবুল হাসান, খুলনা থেকে  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুসলিম অধ্যুষিত দেশ আমাদের। এখানে ইসলামের মূল্যবোধ ও চর্চা যেন ভালোভাবে হয়। ইসলামের মর্মবাণী যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়।

আমরা দেখেছি এ ধর্মের নাম নিয়ে কীভাবে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা হয়েছে। শুধু আমাদের দেশে না, সারা বিশ্বেই কিছু লোক, ধর্মের নামে মানুষ খুন করে। মানুষকে খুন করলেই নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। এখানে আমার প্রশ্ন, যারা এতদিন মানুষ খুন করেছেন, তারা কে কে বেহেশতে গেছেন, সেটা কি কেউ বলতে পারবেন? বলতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সারা দেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ওসমানী মিলনায়তনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আয়োজনসহ খুলনা, সিলেট ও রংপুরে মডেল মসজিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছু লোক জঙ্গিবাদ তৈরি করে, মানুষ হত্যা করে। তারা বোমা মেরে, খুন-খারাবি করে আমাদের এ পবিত্র ধর্মের নামে বদনাম সৃষ্টি করেছে। যেটা আমাদের ধর্মের পবিত্রতাকেই শুধু নষ্ট করছে না, এর ইমেজটাও নষ্ট হচ্ছে সারা বিশ্বে। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইসলাম প্রচারের পথিকৃৎ শীর্ষক ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ মডেল মসজিদের মাধ্যমে ইসলামের বাণী প্রচার হবে। ইসলামের মর্মবাণী দেশ-বিদেশের সব ধর্মের মানুষ উপলব্ধি করতে পারেন সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। একমাত্র ইসলাম ধর্মে নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছে। নারীদের সমাধিকার কিন্তু ইসলাম ধর্মই দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ আছে, সেগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করছি। বায়তুল মোকাররমের মিনার নির্মাণ, এগুলো আমরা করেছি। মসজিদভিত্তিক শিক্ষা আমরা করে দিয়েছি। সেখানে আমরা বিশেষ অনুদান দিচ্ছি।

তিনি বলেন, জীবনমান উন্নয়নে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। একটা সময় তারা অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের আর সাহায্য করার কিছু থাকে না। কাজ করতে চাইলেও পারেন না। সেই জন্যই আমি এ ফান্ড গঠন করেছি। আমাদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যেন বিশেষ সুবিধা পান।

ঋণ নিতে পারেন, অনুদান নিতে পারেন। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি ছিল না, আমরা স্বীকৃতির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। ইসলাম প্রচার-প্রসারে যা যা করণীয় আমরা সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাদকের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক আজ আমাদের সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

এর হাত থেকে যেন মানুষকে মুক্ত করতে পারি সেজন্য সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। এ মসজিদটা সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে। যেখানে সব ধরনের শিক্ষা এবং প্রচার হবে। মানুষের মাঝে সচেতনতা, ধর্ম সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি পায় সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এটা করেছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে হজযাত্রীদের নানা সমস্যা একে একে দূর করা হয়েছে।

আমাদের আশকোনা হজ ক্যাম্প রয়েছে। তাদের (হাজিদের) ইমিগ্রেশনের জন্য এয়ারপোর্টের ভেতরে যাওয়ার দরকার নেই। সেখানে বসেই যেন করতে পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা সেই অনুমোদনও নিয়েছি। এখানে বসে সবকিছু হয়ে যাবে। তারপর সহজভাবে বিমানে চলে যাবেন।

মক্কা-মদিনা শরিফ থেকে আসার সময় যেন সুবিধা হয়, মক্কা শরিফেও সে ব্যবস্থা করেছি। সরকারপ্রধান বলেন, এখন আর আমাদের বিমান ভাড়া করা লাগে না। নিজেদের বিমানে আমরা হাজিদের পাঠাতে পারি।

সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের এই প্রথম কোনো দেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এর আগে কোনো মুসলিম শাসক বা সরকারপ্রধান একসঙ্গে এত মসজিদ নির্মাণ করেননি। এটি একটি অনন্য এবং যুগান্তকারী ঘটনা। এজন্য দেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।

এরপর খুলনা শহরের আলিয়া মাদ্র্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। দ্রুততম সময়ে খুলনা মডেল মসজিদের কাজ শেষ করায় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি মসজিদ নিয়ে মুসল্লিদের অনুভূতি জানতে চান।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে খুলনার একজন মুসল্লি বলেন, নজিরবিহীন এ উদ্বেগের জন্য আপনি আজীবন সবার কাছে সম্মানীয় থাকবেন। আমরা আশা করি ও বিশ্বাস করি এ মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মাধ্যমে সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, মদ, জুয়া ও সব প্রকার সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও আলেমা-ওলামারা আছেন সবার কাছে অনুরোধ করব আপনারা এ মসজিদটাকে যত্ন করবেন। আর দোয়া করবেন এ করোনা মহামারি থেকে যেন বিশ্ববাসী মুক্তি পায় এবং আমি যেন আরও বেশি কাজ করতে পারি।

এরপর রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রান্তে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এখানে একজন নারী মুসল্লির কথা শুনতে চান প্রধানমন্ত্রী। অনুভূতি প্রকাশে ওই নারী ইয়াসমিন আরা প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমরা সত্যিই খুব খুশি। আপনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলে মানুষ ইসলামের শান্তির পতাকা তলে আসবে।

এর মধ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিরসন হবে। শেখ হাসিনাকে রংপুরের পুত্রবধূ সম্বোধন করে এ নারী মুসল্লি বলেন, আপনি শুধু নারীর ক্ষমতায়নই করেননি, এমন একটি মসজিদ করেছেন যেখানে নারীদের নামাজ পড়ার জায়গা রয়েছে। যা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়েও ছিল। এরপর সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে সরকার সারা দেশে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিশ্বে এ ধরনের প্রকল্প নজিরবিহীন।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর পর নিজস্ব অর্থায়নে এটা সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প। ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে সরকারের গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এ ৫০টির সঙ্গে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১০০টি মসজিদের কাজ শেষ হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‘সরকার মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ যেন সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে চলতে পারে- সে লক্ষ্যে এ দেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে তাঁর সরকার তৃণমূল মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে চাই, তবে আমাদের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যদি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে চাই, তবে আমাদের নিজস্ব বাজার সৃষ্টি করতে হবে। আর এ জন্যই সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।’ প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ‘বেসরকারি তহবিলের মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণ’ ও ‘করোনাভাইরাস সহায়তা তহবিল’ এর জন্য অনুদান গ্রহণকালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর মুখ্য সচিব বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠন ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে এই অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাঁর দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- তৃণমূল জনসাধারণকে অর্থনৈতিক সক্ষমতায় নিয়ে এসে তাদেরকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেওয়া এবং এভাবে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো।

‘বেসরকারি অর্থে গৃহ নির্মাণ তহবিলে’ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন যে সব প্রতিষ্ঠান অবদান রেখেছে সেগুলো হলো : বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স সেন্টার (বিআইটিএসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম), ডিপার্টমেন্ট অব প্যাটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস (ডিপিডিটি), বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড (বিএবি), ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও), অফিস অব দি চিফ ইন্সপেক্টর অব বয়লার্স এবং এসএমই ফাউন্ডেশন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়; নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এবং থ্রি এঙ্গেল মেরিন লিমিটেড তহবিলে অর্থায়ন করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, আশুগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, বিআর পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এই তহবিলে অবদান রেখেছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ), বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই), মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, ওয়ালটন গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ, পিএইচজি গ্রুপ, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড, বেঙ্গল গ্রুপ, শেলটেক গ্রুপ, লেদার ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, এনভয় গ্রুপ, মিনিস্টার গ্রুপ এবং লাবিব গ্রুপ ‘করোনাভাইরাস সহায়তা তহবিলে’ অবদান রেখেছে। এছাড়াও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড অ্যান্ড এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং হাবিব উল্লাহ দেওয়ান তহবিলে অবদান রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তিবর্গ এর আগে ‘বেসরকারি অর্থে গৃহ নির্মাণ তহবিলে’ ২৬৩ কোটি টাকা এবং ‘করোনাভাইরাস সহায়তা তহবিলে’ ১১০ কোটি টাকা অবদান রেখেছে।

৫০ মডেল মসজিদ উদ্বোধন

ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ রোধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘সরকার মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে’
 হাসিবুল হাসান, খুলনা থেকে 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুসলিম অধ্যুষিত দেশ আমাদের। এখানে ইসলামের মূল্যবোধ ও চর্চা যেন ভালোভাবে হয়। ইসলামের মর্মবাণী যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়।

আমরা দেখেছি এ ধর্মের নাম নিয়ে কীভাবে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা হয়েছে। শুধু আমাদের দেশে না, সারা বিশ্বেই কিছু লোক, ধর্মের নামে মানুষ খুন করে। মানুষকে খুন করলেই নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। এখানে আমার প্রশ্ন, যারা এতদিন মানুষ খুন করেছেন, তারা কে কে বেহেশতে গেছেন, সেটা কি কেউ বলতে পারবেন? বলতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সারা দেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ওসমানী মিলনায়তনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আয়োজনসহ খুলনা, সিলেট ও রংপুরে মডেল মসজিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছু লোক জঙ্গিবাদ তৈরি করে, মানুষ হত্যা করে। তারা বোমা মেরে, খুন-খারাবি করে আমাদের এ পবিত্র ধর্মের নামে বদনাম সৃষ্টি করেছে। যেটা আমাদের ধর্মের পবিত্রতাকেই শুধু নষ্ট করছে না, এর ইমেজটাও নষ্ট হচ্ছে সারা বিশ্বে। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইসলাম প্রচারের পথিকৃৎ শীর্ষক ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ মডেল মসজিদের মাধ্যমে ইসলামের বাণী প্রচার হবে। ইসলামের মর্মবাণী দেশ-বিদেশের সব ধর্মের মানুষ উপলব্ধি করতে পারেন সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। একমাত্র ইসলাম ধর্মে নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছে। নারীদের সমাধিকার কিন্তু ইসলাম ধর্মই দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ আছে, সেগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করছি। বায়তুল মোকাররমের মিনার নির্মাণ, এগুলো আমরা করেছি। মসজিদভিত্তিক শিক্ষা আমরা করে দিয়েছি। সেখানে আমরা বিশেষ অনুদান দিচ্ছি।

তিনি বলেন, জীবনমান উন্নয়নে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। একটা সময় তারা অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের আর সাহায্য করার কিছু থাকে না। কাজ করতে চাইলেও পারেন না। সেই জন্যই আমি এ ফান্ড গঠন করেছি। আমাদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যেন বিশেষ সুবিধা পান।

ঋণ নিতে পারেন, অনুদান নিতে পারেন। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি ছিল না, আমরা স্বীকৃতির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। ইসলাম প্রচার-প্রসারে যা যা করণীয় আমরা সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাদকের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক আজ আমাদের সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

এর হাত থেকে যেন মানুষকে মুক্ত করতে পারি সেজন্য সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। এ মসজিদটা সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে। যেখানে সব ধরনের শিক্ষা এবং প্রচার হবে। মানুষের মাঝে সচেতনতা, ধর্ম সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি পায় সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এটা করেছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে হজযাত্রীদের নানা সমস্যা একে একে দূর করা হয়েছে।

আমাদের আশকোনা হজ ক্যাম্প রয়েছে। তাদের (হাজিদের) ইমিগ্রেশনের জন্য এয়ারপোর্টের ভেতরে যাওয়ার দরকার নেই। সেখানে বসেই যেন করতে পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা সেই অনুমোদনও নিয়েছি। এখানে বসে সবকিছু হয়ে যাবে। তারপর সহজভাবে বিমানে চলে যাবেন।

মক্কা-মদিনা শরিফ থেকে আসার সময় যেন সুবিধা হয়, মক্কা শরিফেও সে ব্যবস্থা করেছি। সরকারপ্রধান বলেন, এখন আর আমাদের বিমান ভাড়া করা লাগে না। নিজেদের বিমানে আমরা হাজিদের পাঠাতে পারি। 

সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের এই প্রথম কোনো দেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এর আগে কোনো মুসলিম শাসক বা সরকারপ্রধান একসঙ্গে এত মসজিদ নির্মাণ করেননি। এটি একটি অনন্য এবং যুগান্তকারী ঘটনা। এজন্য দেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।

এরপর খুলনা শহরের আলিয়া মাদ্র্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। দ্রুততম সময়ে খুলনা মডেল মসজিদের কাজ শেষ করায় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি মসজিদ নিয়ে মুসল্লিদের অনুভূতি জানতে চান।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে খুলনার একজন মুসল্লি বলেন, নজিরবিহীন এ উদ্বেগের জন্য আপনি আজীবন সবার কাছে সম্মানীয় থাকবেন। আমরা আশা করি ও বিশ্বাস করি এ মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মাধ্যমে সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, মদ, জুয়া ও সব প্রকার সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও আলেমা-ওলামারা আছেন সবার কাছে অনুরোধ করব আপনারা এ মসজিদটাকে যত্ন করবেন। আর দোয়া করবেন এ করোনা মহামারি থেকে যেন বিশ্ববাসী মুক্তি পায় এবং আমি যেন আরও বেশি কাজ করতে পারি। 

এরপর রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রান্তে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এখানে একজন নারী মুসল্লির কথা শুনতে চান প্রধানমন্ত্রী। অনুভূতি প্রকাশে ওই নারী ইয়াসমিন আরা প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমরা সত্যিই খুব খুশি। আপনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলে মানুষ ইসলামের শান্তির পতাকা তলে আসবে।

এর মধ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিরসন হবে। শেখ হাসিনাকে রংপুরের পুত্রবধূ সম্বোধন করে এ নারী মুসল্লি বলেন, আপনি শুধু নারীর ক্ষমতায়নই করেননি, এমন একটি মসজিদ করেছেন যেখানে নারীদের নামাজ পড়ার জায়গা রয়েছে। যা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়েও ছিল। এরপর সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। 

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে সরকার সারা দেশে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিশ্বে এ ধরনের প্রকল্প নজিরবিহীন।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর পর নিজস্ব অর্থায়নে এটা সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প। ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে সরকারের গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এ ৫০টির সঙ্গে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১০০টি মসজিদের কাজ শেষ হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‘সরকার মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ যেন সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে চলতে পারে- সে লক্ষ্যে এ দেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে তাঁর সরকার তৃণমূল মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে চাই, তবে আমাদের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যদি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে চাই, তবে আমাদের নিজস্ব বাজার সৃষ্টি করতে হবে। আর এ জন্যই সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।’ প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ‘বেসরকারি তহবিলের মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণ’ ও ‘করোনাভাইরাস সহায়তা তহবিল’ এর জন্য অনুদান গ্রহণকালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর মুখ্য সচিব বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠন ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে এই অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাঁর দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- তৃণমূল জনসাধারণকে অর্থনৈতিক সক্ষমতায় নিয়ে এসে তাদেরকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেওয়া এবং এভাবে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো।

‘বেসরকারি অর্থে গৃহ নির্মাণ তহবিলে’ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন যে সব প্রতিষ্ঠান অবদান রেখেছে সেগুলো হলো : বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স সেন্টার (বিআইটিএসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম), ডিপার্টমেন্ট অব প্যাটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস (ডিপিডিটি), বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড (বিএবি), ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও), অফিস অব দি চিফ ইন্সপেক্টর অব বয়লার্স এবং এসএমই ফাউন্ডেশন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়; নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এবং থ্রি এঙ্গেল মেরিন লিমিটেড তহবিলে অর্থায়ন করেছে। 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, আশুগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, বিআর পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এই তহবিলে অবদান রেখেছে। 

পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ), বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই), মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, ওয়ালটন গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ, পিএইচজি গ্রুপ, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড, বেঙ্গল গ্রুপ, শেলটেক গ্রুপ, লেদার ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, এনভয় গ্রুপ, মিনিস্টার গ্রুপ এবং লাবিব গ্রুপ ‘করোনাভাইরাস সহায়তা তহবিলে’ অবদান রেখেছে। এছাড়াও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড অ্যান্ড এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং হাবিব উল্লাহ দেওয়ান তহবিলে অবদান রেখেছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তিবর্গ এর আগে ‘বেসরকারি অর্থে গৃহ নির্মাণ তহবিলে’ ২৬৩ কোটি টাকা এবং ‘করোনাভাইরাস সহায়তা তহবিলে’ ১১০ কোটি টাকা অবদান রেখেছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন