ঢাকায় ৪ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত
jugantor
করোনা সনদ জালিয়াতি
ঢাকায় ৪ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত

  রাশেদ রাব্বি  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দেওয়ায় রাজধানীর চার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মহাখালীতে নমুনা সংগ্রহের বুথগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান চারটি হলো-রাজধানীর পুরানা পল্টনের আল জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাংলামোটরের রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত স্টিমজ হেলথ কেয়ার (বিডি), বিজয় সরণির সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার এবং মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারের মিরপুর ব্রাঞ্চ। এ শাখার বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি নীতিমালা না মেনে কোভিড পরীক্ষা করার অভিযোগ ছিল। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং মাইক্রোবায়োলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি কোভিড পরীক্ষা করে আসছিল।

অর্থের লোভে এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশগামী যাত্রীদের ভুয়া করোনা নেগেটিভ সনদ দিচ্ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশগামী করোনা পজিটিভ যাত্রীকে নেগেটিভ সনদ দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। এছাড়া নমুনা সংগ্রহের নামে বুথে দালাল নিয়োগের মতো অনৈতিক কর্মে যুক্ত হয়েছে এ চার প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিএইচআইএস-২ এর ডাটাবেজ যাচাইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ চার প্রতিষ্ঠানের এসব অপকর্মের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নমুনা সংগ্রহ বুথ বন্ধ : ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুথটি হাসপাতাল শাখা থেকে ৬ জুন পরিদর্শন করা হয়। বুথের আইপিসিসহ সার্বিক ব্যবস্থা সন্তোষজনক পাওয়া যায়নি। এ ধরনের বুথ দালালদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। তাই এ বুথে নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা।

বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষায় ৮ নতুন নির্দেশনা : অনেক বিদেশগামী যাত্রী দালালদের খপ্পরে পড়ে ভুয়া করোনা সনদ সংগ্রহ করছেন। এতে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। বিদেশগামীদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে করোনা টেস্ট করার ক্ষেত্রে আটটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো- ১. পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবসমূহের নিজস্ব ভবনের বাইরে স্থাপিত সব ধরনের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ২. বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা কোনো অবস্থাতেই বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। ৩. বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহের সময় মূল পাসপোর্ট যাচাই করে পাসপোর্ট নাম্বার উল্লেখপূর্বক নমুনা সংগ্রহ ফরম পূরণ করতে হবে। কোনোক্রমেই পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। ৪. বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ, পাসপোর্ট নাম্বার দ্বারা যাচাই করা হবে। শুধু টেলিফোন-মোবাইল নাম্বার প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে। ৫. ৭ দিনের মধ্যে কোনো পজিটিভ রিপোর্ট থাকলে ওই যাত্রীকে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া যাবে না। ৬. কোনো বিদেশগামী যাত্রী কোভিড-১৯ পজিটিভি হলে, সে কমপক্ষে ৭ দিন পর শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করাবেন এবং পরবর্তী সময় যদি নেগেটিভ সনদপ্রাপ্ত হন, সে ক্ষেত্রে দেশত্যাগ করতে পারবেন। ৭. কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলে ল্যাবটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ৮. কোনো বিদেশগামী যাত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উভয় স্থানে প্রথমে পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে যে, সে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোথাও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করেছে কিনা। করে থাকলে এবং পজিটিভ হলে তাকে ৭ দিন পর্যন্ত পুনরায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং দেশের ভাবমূর্তি ভয়ংকররূপে ক্ষুণ্ন করেছে। এমতাবস্থায় করোনা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার অনুমোদন পাওয়া দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবগুলোকে আটটি নির্দেশনা মানতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে বা এর ব্যত্যয় ঘটলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম যুগান্তরকে বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মানুষের সুবিধার্থে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদন নিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

করোনা সনদ জালিয়াতি

ঢাকায় ৪ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত

 রাশেদ রাব্বি 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দেওয়ায় রাজধানীর চার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মহাখালীতে নমুনা সংগ্রহের বুথগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান চারটি হলো-রাজধানীর পুরানা পল্টনের আল জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাংলামোটরের রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত স্টিমজ হেলথ কেয়ার (বিডি), বিজয় সরণির সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার এবং মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারের মিরপুর ব্রাঞ্চ। এ শাখার বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি নীতিমালা না মেনে কোভিড পরীক্ষা করার অভিযোগ ছিল। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং মাইক্রোবায়োলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি কোভিড পরীক্ষা করে আসছিল।

অর্থের লোভে এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশগামী যাত্রীদের ভুয়া করোনা নেগেটিভ সনদ দিচ্ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশগামী করোনা পজিটিভ যাত্রীকে নেগেটিভ সনদ দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। এছাড়া নমুনা সংগ্রহের নামে বুথে দালাল নিয়োগের মতো অনৈতিক কর্মে যুক্ত হয়েছে এ চার প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিএইচআইএস-২ এর ডাটাবেজ যাচাইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ চার প্রতিষ্ঠানের এসব অপকর্মের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নমুনা সংগ্রহ বুথ বন্ধ : ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুথটি হাসপাতাল শাখা থেকে ৬ জুন পরিদর্শন করা হয়। বুথের আইপিসিসহ সার্বিক ব্যবস্থা সন্তোষজনক পাওয়া যায়নি। এ ধরনের বুথ দালালদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। তাই এ বুথে নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা।

বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষায় ৮ নতুন নির্দেশনা : অনেক বিদেশগামী যাত্রী দালালদের খপ্পরে পড়ে ভুয়া করোনা সনদ সংগ্রহ করছেন। এতে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। বিদেশগামীদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে করোনা টেস্ট করার ক্ষেত্রে আটটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো- ১. পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবসমূহের নিজস্ব ভবনের বাইরে স্থাপিত সব ধরনের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ২. বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা কোনো অবস্থাতেই বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। ৩. বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহের সময় মূল পাসপোর্ট যাচাই করে পাসপোর্ট নাম্বার উল্লেখপূর্বক নমুনা সংগ্রহ ফরম পূরণ করতে হবে। কোনোক্রমেই পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। ৪. বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ, পাসপোর্ট নাম্বার দ্বারা যাচাই করা হবে। শুধু টেলিফোন-মোবাইল নাম্বার প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে। ৫. ৭ দিনের মধ্যে কোনো পজিটিভ রিপোর্ট থাকলে ওই যাত্রীকে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া যাবে না। ৬. কোনো বিদেশগামী যাত্রী কোভিড-১৯ পজিটিভি হলে, সে কমপক্ষে ৭ দিন পর শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করাবেন এবং পরবর্তী সময় যদি নেগেটিভ সনদপ্রাপ্ত হন, সে ক্ষেত্রে দেশত্যাগ করতে পারবেন। ৭. কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলে ল্যাবটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ৮. কোনো বিদেশগামী যাত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উভয় স্থানে প্রথমে পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে যে, সে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোথাও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করেছে কিনা। করে থাকলে এবং পজিটিভ হলে তাকে ৭ দিন পর্যন্ত পুনরায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং দেশের ভাবমূর্তি ভয়ংকররূপে ক্ষুণ্ন করেছে। এমতাবস্থায় করোনা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার অনুমোদন পাওয়া দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবগুলোকে আটটি নির্দেশনা মানতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে বা এর ব্যত্যয় ঘটলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম যুগান্তরকে বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মানুষের সুবিধার্থে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদন নিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন