১৬৩ ইউপি ৯ পৌরসভার ভোটগ্রহণ স্থগিত
jugantor
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি
১৬৩ ইউপি ৯ পৌরসভার ভোটগ্রহণ স্থগিত

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় প্রথম ধাপের ১৬৩ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ষষ্ঠ ধাপের ৯টি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। এর মধ্যে খুলনা বিভাগ, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সবকটি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব ইউপিতে আগামী ২১ জুন ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে বরিশালসহ ১৩টি জেলার ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে। এদিকে সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ শূন্য আসনের ভোটের তারিখ ১৪ জুলাই থেকে পিছিয়ে ২৮ জুলাই করা হয়েছে। তবে লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসন ও ২টি পৌরসভায় নির্ধারিত ২১ জুনই ভোট হবে। বৃহস্পতিবার কমিশনের ৮২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার কমিশনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে ইসি সচিবালয়ে কমিশনের জরুরি সভা হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম উপস্থিত ছিলেন। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে ভোটের আয়োজন নিয়ে কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১ এপ্রিল সারা দেশে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। গত ২ জুন স্থগিত নির্বাচনগুলোতে ভোটের তারিখ ২১ জুন ঠিক করে কমিশন। শূন্য তিনটি সংসদীয় আসনেরও তফসিল ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার কমিশনের জরুরি সভায় ১৬৩টি ইউপি ও ৯টি পৌরসভাসহ বেশ কিছু নির্বাচন স্থগিত করল ইসি।

কমিশন সভা শেষে হুমায়ুন কবীর বলেন, কমিশন সভায় সার্বিক প্রস্তুতি এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সুপারিশ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও ইসির আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতামত পর্যালোচনা করা হয়। পরে কমিশন ২১ জুন লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ভোটগ্রহণের ব্যাপারে একমত হয়। সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ শূন্য আসনের ভোটের তারিখ ১৪ জুলাই থেকে পিছিয়ে ২৮ জুলাই ভোট নেওয়া হবে। অন্যান্য কার্যক্রম তফসিল অনুযায়ী হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ইসি সচিব বলেন, করোনা সংক্রমণ বেশি হওয়ায় খুলনা বিভাগের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাগেরহাটের ৬৮টি, খুলনার ৩৪টি, সাতক্ষীরার ২১টি, নোয়াখালীর ১৩টি, চট্টগ্রামের ১২টি ও কক্সবাজারের ১৫টি ইউনিয়ন স্থগিত করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের করোনা সংক্রমণ সহনীয় তাই এ বিভাগের সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদে ২১ জুন নির্ধারিত তারিখে ভোট হবে। তিনি বলেন, আইইডিসিআরের রিপোর্টে যেসব জেলাগুলোকে উচ্চ করোনা আক্রান্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে সেসব জেলার ২১ জুনের সব ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে-চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাজশাহী, কক্সবাজার, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, সাতক্ষীরা, যশোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, বাগেরহাট, ফেনী, গোপালগঞ্জ ও মেহেরপুর।

পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ঝালকাঠি ও সেতাবগঞ্জ পৌরসভায় ২১ জুনই ভোটগ্রহণ হবে। বাকি ৯টি উপজেলায় আক্রান্তের হার বেশি হওয়ায় সেগুলো স্থগিত করা হয়েছে। পিরোজপুরের উচ্চ সংক্রমণ থাকার পরও ভোটগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, বিভাগীয় কমিশনার স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্ধৃত দিয়ে আমাদের জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের হার ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। তিনি বলেন, যেসব ইউনিয়নে ভোট হবে সেখানে আক্রান্তের হার কম তাই ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহামারির মধ্যে নির্বাচন করার যৌক্তিকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। যেহেতু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, এ অঞ্চলগুলোতে করোনার আক্রান্তের হার কম আছে তাই এ সময়ে নির্বাচন উঠিয়ে দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে ইসির অবস্থান জানতে চাইলে সচিব বলেন, যেহেতু সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেড়েছে তাই দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। যেসব ইউপি ও পৌরসভার ভোট স্থগিত করা হলো সেগুলোর মেয়াদ শেষ হলে বর্তমান মেয়র বা চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিষয়। যেসব স্থানে নির্বাচন হবে সেখানে করোনা সংক্রমণ বাড়লে দায় কে নেবে-এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়েই ইসির মিডিয়া সেন্টার ছাড়েন সচিব।

যে ২০৪টি ইউপিতে ২১ জুন ভোট : ১৩টি জেলার ২০৪টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ ২১ জুন বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। সেগুলো হচ্ছে-পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া, আংগারিয়া (ইভিএম) ও মুরাদিয়া। বাউফল উপজেলার ধুলিয়া, কেশবপুর, বগা (ইভিএম), চন্দ্রদ্বীপ, কালিশূরী, কনকদিয়া, আদাবাড়ীয়া, কালাইয়া ও কাছিপাড়া। দশমিনা উপজেলায় আলীপুর, বহরমপুর ও বাঁশবাড়িয়া। গলাচিপা উপজেলায় আমখলা, গোলখালী, চিকনিকান্দি ও রতনদীতালতলী। রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার তালোড়া।

বরিশাল সদরের কাশিপুর, চরবাড়িয়া (ইভিএম), জাগুয়া ও টংগীবাড়িয়া। বাকেরগঞ্জের চরাদি, দাড়িয়াল, দুধল, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, কলসকাঠি, গারুড়িয়া, ভরপাশা, রঙ্গাশ্রী ও পাদ্রীশিবপুর। উজিরপুরের সাতলা, জল্লা, ওটরা, শোলক ও বোরোকোঠা। মুলাদীর নাজিরপুর, সফিপুর, গাছুয়া (ইভিএম), চরকালেখা, মুলাদী ও কাজিরচর। মেহেন্দিগঞ্জের মেহেন্দিগঞ্জ ও ভাষানচর। বাবুগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর (ইভিএম), কেদারপুর, দেহেরগতি ও মাধবপাশা। গৌরনদীর বাটাজোড় (ইভিএম), শরিকল, খানজাপুর, বার্থি, চাদশী, মহিলারা ও নলচিড়া। হিজলার হরিনাথপুর, মেমানিয়া, গুয়াবাড়িয়া ও বড়জালিয়া। বানারীপাড়ার বিশারকান্দি, ইলুহার, চাখার, সালিয়াবাকপুর, বাইশারি, বানারীপাড়া ও উদয়কাঠি।

বরগুনা সদরের বদরখালী, গৌরিচন্না, ফুলঝুড়ি, কেওড়াবুনিয়া, আয়লাপাতাকাটা, বুড়িরচর, ঢলুয়া (ইভিএম), বরগুনা (ইভিএম) ও নলটোনা। আমতলীর গুলিশাখালী, কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া (ইভিএম) ও আরপাঙ্গাশিয়া। বেতাগীর বিবিচিনি, বেতাগী (ইভিএম), হোসনাবাদ, মোকামিয়া, বুড়ামজুমদার, কাজিরাবাদ ও সরিষামুড়ি। বামনার বুকাবুনিয়া, বামনা, রামনা ও ডৌয়াতলা। পাথরঘাটার কালমেঘা, কাঁকচিড়া ও কাঁঠালতলী। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া, নদমুলা-শিয়ালকাঠী, তেলিখালী (ইভিএম), ধাওয়া ও গৌরীপুর। ইন্দুরকানীর বালিপাড়া। পিরোজপুর সদরের কদমতলা (ইভিএম), কলাখালী, টোনা ও শারিকতলা। মঠবাড়িয়ার তুষখালী (ইভিএম), মিরুখালী, বেতমোররাজপাড়া, আমড়াগাছিয়া, সাপলেজা, হলতাগুলিশাখালী। নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানা, বলদিয়া, গুয়ারেখা, দৈহারী, সোহাগদল, সারেংকাঠী, সুটিয়াকাঠী, স্বরূপকাঠি, সমুদয়কাঠি ও জলাবাড়ী। কাউখালীর আমড়াজুড়ি ও কাউখালী। নাজিরপুরের মাটিভাংগা, মালিখালী, নাজিরপুর ও সেখমাটিয়া (ইভিএম)।

ঝালকাঠি সদরের গাভারামচন্দ্রপুর, বিনয়কাঠি (ইভিএম), নবগ্রাম, কীর্তিপাশা, বাসন্ডা, গাবখান, ধানসিঁড়ি, শেখেরহাট, নথুল্লাবাদ (ইভিএম) ও কেওড়া। নলছিটির ভৈরবপাশা (ইভিএম), মগড়, কুলকাঠি, কুশঙ্গল, নাচনমহল, রানপাশা, সুবিদপুর, সিদ্ধকাঠি, দপদপিয়া (ইভিএম) ও মোল্লারহাট। রাজাপুরের সাতুরিয়া, শুক্তগড় (ইভিএম), রাজাপুর, গালুয়া, বড়ইয়া ও মঠবাড়ী। কাঁঠালিয়ার চেচরীরামপুর, পাটিখালঘাটা, আমুয়া, কাঁঠালিয়া, শৌলজালিয়া ও আওরাবুনিয়া।

ভোলার বোরহানউদ্দিনের গঙ্গাপুর ও সাচরা। তজুমদ্দিনের চাঁদপুর, চাচরা ও সম্ভুপুর। চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ, চরকলমি, হাজারীগঞ্জ, এওয়াজপুর ও জাহানপুর। মনপুরার হাজিরহাট ও দক্ষিণ সাকুচিয়া। নরসিংদী পলাশের গজারিয়া ও ডাংগা। গাজীপুরের কালীগঞ্জের তুমুলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, বাহাদুসাদী, জামালপুর ও মোক্তারপুর। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ডাঙ্গা, তুমুলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, বাহাদুসাদী, জামালপুর ও মোক্তারপুর।

মাদারীপুর শিবপুরের শিবচর, পাঁচ্চর, মাদবরেরচর, কুতুবপুর, কাদিরপুর (ইভিএম) দ্বিতীয় খণ্ড, ভান্ডারীকান্দি, বাঁশকান্দি, বহেরাতলা উত্তর, বহেরাতলা দক্ষিণ, নিলখী, শিরুয়াইল ও দত্তপাড়া। সুনামগঞ্জ ছাতকের ভাতগাঁও, নোয়ারাই ও সিংচাপইড়। লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর বাদাম, চর পোড়াগাছা ও চর রমিজ। কমলনগরের চর ফলকন, হাজিরহাট ও তোরাবগঞ্জ।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি

১৬৩ ইউপি ৯ পৌরসভার ভোটগ্রহণ স্থগিত

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় প্রথম ধাপের ১৬৩ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ষষ্ঠ ধাপের ৯টি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। এর মধ্যে খুলনা বিভাগ, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সবকটি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব ইউপিতে আগামী ২১ জুন ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে বরিশালসহ ১৩টি জেলার ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে। এদিকে সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ শূন্য আসনের ভোটের তারিখ ১৪ জুলাই থেকে পিছিয়ে ২৮ জুলাই করা হয়েছে। তবে লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসন ও ২টি পৌরসভায় নির্ধারিত ২১ জুনই ভোট হবে। বৃহস্পতিবার কমিশনের ৮২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার কমিশনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে ইসি সচিবালয়ে কমিশনের জরুরি সভা হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম উপস্থিত ছিলেন। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে ভোটের আয়োজন নিয়ে কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১ এপ্রিল সারা দেশে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। গত ২ জুন স্থগিত নির্বাচনগুলোতে ভোটের তারিখ ২১ জুন ঠিক করে কমিশন। শূন্য তিনটি সংসদীয় আসনেরও তফসিল ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার কমিশনের জরুরি সভায় ১৬৩টি ইউপি ও ৯টি পৌরসভাসহ বেশ কিছু নির্বাচন স্থগিত করল ইসি।

কমিশন সভা শেষে হুমায়ুন কবীর বলেন, কমিশন সভায় সার্বিক প্রস্তুতি এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সুপারিশ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও ইসির আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতামত পর্যালোচনা করা হয়। পরে কমিশন ২১ জুন লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ভোটগ্রহণের ব্যাপারে একমত হয়। সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ শূন্য আসনের ভোটের তারিখ ১৪ জুলাই থেকে পিছিয়ে ২৮ জুলাই ভোট নেওয়া হবে। অন্যান্য কার্যক্রম তফসিল অনুযায়ী হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ইসি সচিব বলেন, করোনা সংক্রমণ বেশি হওয়ায় খুলনা বিভাগের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাগেরহাটের ৬৮টি, খুলনার ৩৪টি, সাতক্ষীরার ২১টি, নোয়াখালীর ১৩টি, চট্টগ্রামের ১২টি ও কক্সবাজারের ১৫টি ইউনিয়ন স্থগিত করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের করোনা সংক্রমণ সহনীয় তাই এ বিভাগের সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদে ২১ জুন নির্ধারিত তারিখে ভোট হবে। তিনি বলেন, আইইডিসিআরের রিপোর্টে যেসব জেলাগুলোকে উচ্চ করোনা আক্রান্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে সেসব জেলার ২১ জুনের সব ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে-চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাজশাহী, কক্সবাজার, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, সাতক্ষীরা, যশোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, বাগেরহাট, ফেনী, গোপালগঞ্জ ও মেহেরপুর।

পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ঝালকাঠি ও সেতাবগঞ্জ পৌরসভায় ২১ জুনই ভোটগ্রহণ হবে। বাকি ৯টি উপজেলায় আক্রান্তের হার বেশি হওয়ায় সেগুলো স্থগিত করা হয়েছে। পিরোজপুরের উচ্চ সংক্রমণ থাকার পরও ভোটগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, বিভাগীয় কমিশনার স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্ধৃত দিয়ে আমাদের জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের হার ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। তিনি বলেন, যেসব ইউনিয়নে ভোট হবে সেখানে আক্রান্তের হার কম তাই ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহামারির মধ্যে নির্বাচন করার যৌক্তিকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। যেহেতু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, এ অঞ্চলগুলোতে করোনার আক্রান্তের হার কম আছে তাই এ সময়ে নির্বাচন উঠিয়ে দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে ইসির অবস্থান জানতে চাইলে সচিব বলেন, যেহেতু সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেড়েছে তাই দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। যেসব ইউপি ও পৌরসভার ভোট স্থগিত করা হলো সেগুলোর মেয়াদ শেষ হলে বর্তমান মেয়র বা চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিষয়। যেসব স্থানে নির্বাচন হবে সেখানে করোনা সংক্রমণ বাড়লে দায় কে নেবে-এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়েই ইসির মিডিয়া সেন্টার ছাড়েন সচিব।

যে ২০৪টি ইউপিতে ২১ জুন ভোট : ১৩টি জেলার ২০৪টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ ২১ জুন বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। সেগুলো হচ্ছে-পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া, আংগারিয়া (ইভিএম) ও মুরাদিয়া। বাউফল উপজেলার ধুলিয়া, কেশবপুর, বগা (ইভিএম), চন্দ্রদ্বীপ, কালিশূরী, কনকদিয়া, আদাবাড়ীয়া, কালাইয়া ও কাছিপাড়া। দশমিনা উপজেলায় আলীপুর, বহরমপুর ও বাঁশবাড়িয়া। গলাচিপা উপজেলায় আমখলা, গোলখালী, চিকনিকান্দি ও রতনদীতালতলী। রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার তালোড়া।

বরিশাল সদরের কাশিপুর, চরবাড়িয়া (ইভিএম), জাগুয়া ও টংগীবাড়িয়া। বাকেরগঞ্জের চরাদি, দাড়িয়াল, দুধল, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, কলসকাঠি, গারুড়িয়া, ভরপাশা, রঙ্গাশ্রী ও পাদ্রীশিবপুর। উজিরপুরের সাতলা, জল্লা, ওটরা, শোলক ও বোরোকোঠা। মুলাদীর নাজিরপুর, সফিপুর, গাছুয়া (ইভিএম), চরকালেখা, মুলাদী ও কাজিরচর। মেহেন্দিগঞ্জের মেহেন্দিগঞ্জ ও ভাষানচর। বাবুগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর (ইভিএম), কেদারপুর, দেহেরগতি ও মাধবপাশা। গৌরনদীর বাটাজোড় (ইভিএম), শরিকল, খানজাপুর, বার্থি, চাদশী, মহিলারা ও নলচিড়া। হিজলার হরিনাথপুর, মেমানিয়া, গুয়াবাড়িয়া ও বড়জালিয়া। বানারীপাড়ার বিশারকান্দি, ইলুহার, চাখার, সালিয়াবাকপুর, বাইশারি, বানারীপাড়া ও উদয়কাঠি।

বরগুনা সদরের বদরখালী, গৌরিচন্না, ফুলঝুড়ি, কেওড়াবুনিয়া, আয়লাপাতাকাটা, বুড়িরচর, ঢলুয়া (ইভিএম), বরগুনা (ইভিএম) ও নলটোনা। আমতলীর গুলিশাখালী, কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া (ইভিএম) ও আরপাঙ্গাশিয়া। বেতাগীর বিবিচিনি, বেতাগী (ইভিএম), হোসনাবাদ, মোকামিয়া, বুড়ামজুমদার, কাজিরাবাদ ও সরিষামুড়ি। বামনার বুকাবুনিয়া, বামনা, রামনা ও ডৌয়াতলা। পাথরঘাটার কালমেঘা, কাঁকচিড়া ও কাঁঠালতলী। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া, নদমুলা-শিয়ালকাঠী, তেলিখালী (ইভিএম), ধাওয়া ও গৌরীপুর। ইন্দুরকানীর বালিপাড়া। পিরোজপুর সদরের কদমতলা (ইভিএম), কলাখালী, টোনা ও শারিকতলা। মঠবাড়িয়ার তুষখালী (ইভিএম), মিরুখালী, বেতমোররাজপাড়া, আমড়াগাছিয়া, সাপলেজা, হলতাগুলিশাখালী। নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানা, বলদিয়া, গুয়ারেখা, দৈহারী, সোহাগদল, সারেংকাঠী, সুটিয়াকাঠী, স্বরূপকাঠি, সমুদয়কাঠি ও জলাবাড়ী। কাউখালীর আমড়াজুড়ি ও কাউখালী। নাজিরপুরের মাটিভাংগা, মালিখালী, নাজিরপুর ও সেখমাটিয়া (ইভিএম)।

ঝালকাঠি সদরের গাভারামচন্দ্রপুর, বিনয়কাঠি (ইভিএম), নবগ্রাম, কীর্তিপাশা, বাসন্ডা, গাবখান, ধানসিঁড়ি, শেখেরহাট, নথুল্লাবাদ (ইভিএম) ও কেওড়া। নলছিটির ভৈরবপাশা (ইভিএম), মগড়, কুলকাঠি, কুশঙ্গল, নাচনমহল, রানপাশা, সুবিদপুর, সিদ্ধকাঠি, দপদপিয়া (ইভিএম) ও মোল্লারহাট। রাজাপুরের সাতুরিয়া, শুক্তগড় (ইভিএম), রাজাপুর, গালুয়া, বড়ইয়া ও মঠবাড়ী। কাঁঠালিয়ার চেচরীরামপুর, পাটিখালঘাটা, আমুয়া, কাঁঠালিয়া, শৌলজালিয়া ও আওরাবুনিয়া।

ভোলার বোরহানউদ্দিনের গঙ্গাপুর ও সাচরা। তজুমদ্দিনের চাঁদপুর, চাচরা ও সম্ভুপুর। চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ, চরকলমি, হাজারীগঞ্জ, এওয়াজপুর ও জাহানপুর। মনপুরার হাজিরহাট ও দক্ষিণ সাকুচিয়া। নরসিংদী পলাশের গজারিয়া ও ডাংগা। গাজীপুরের কালীগঞ্জের তুমুলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, বাহাদুসাদী, জামালপুর ও মোক্তারপুর। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ডাঙ্গা, তুমুলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, বাহাদুসাদী, জামালপুর ও মোক্তারপুর।

মাদারীপুর শিবপুরের শিবচর, পাঁচ্চর, মাদবরেরচর, কুতুবপুর, কাদিরপুর (ইভিএম) দ্বিতীয় খণ্ড, ভান্ডারীকান্দি, বাঁশকান্দি, বহেরাতলা উত্তর, বহেরাতলা দক্ষিণ, নিলখী, শিরুয়াইল ও দত্তপাড়া। সুনামগঞ্জ ছাতকের ভাতগাঁও, নোয়ারাই ও সিংচাপইড়। লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর বাদাম, চর পোড়াগাছা ও চর রমিজ। কমলনগরের চর ফলকন, হাজিরহাট ও তোরাবগঞ্জ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন