লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব চাইলেন ক্ষমা
jugantor
লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব চাইলেন ক্ষমা
শাস্তির জন্য আম্পায়ারের রিপোর্টের অপেক্ষা

  ক্রীড়া প্রতিবেদক  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লঙ্কাকাণ্ড

জৈব সুরক্ষাবলয় ভাঙার অভিযোগ থেকে সবে নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই সাকিব আল হাসান এবার মেজাজ হারিয়ে লঙ্কাকাণ্ড বাঁধালেন মাঠে। ঘটনাটি শুক্রবারের।

মিরপুরে বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট টি ২০ লিগে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙেই ক্ষান্ত হননি তিনি। পরে তিনটি স্টাম্পই তুলে নিয়ে মাটিতে আছড়ে মারেন।

এখানেই শেষ নয়। আবাহনীর সাজঘরের দিকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে তাদের কোচ খালেদ মাহমুদের দিকে তেড়ে যান সাকিব। পরে নিজের এহেন কাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম পরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে মুহূর্তের উত্তেজনায় এমন কাণ্ড ঘটে যায়। আশা করি, খেলোয়াড়রা আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।’ আম্পায়ারদের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি আজ (শুক্রবার) তাদের রিপোর্ট পাব। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেব।’

টস জিতে আগে ব্যাট করে মোহামেডান ১৪৫ রান করে ছয় উইকেটে। বৃষ্টিভেজা ম্যাচে নয় ওভারে ৭৬ রানের নতুন লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আবাহনী তখন ৫.৫ ওভারে ৩১/৩।

আবাহনী অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে মোহামেডান অধিনায়ক সাকিবের একটি লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার ইমরান পারভেজ। এতে ক্ষুব্ধ সাকিবকে দেখা যায় রাগান্বিত হয়ে আম্পায়ারকে কিছু বলতে।

বৃষ্টি নামলে ষষ্ঠ ওভারের এক বল বাকি থাকতে আম্পায়াররা পিচ ঢাকার জন্য কাভার আনতে বললে সাকিব আবারও রাগে ফেটে পড়েন।

বৃষ্টির মধ্যে খেলোয়াড়রা সাজঘরে ফেরার সময় সাকিবকে দেখা যায় আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়েছে।

তাতে দেখা যাচ্ছে, খালেদ মাহমুদকে একজন ধরে রেখেছেন আর সাকিব তার দিকে আঙুল উঁচিয়ে কিছু একটা বলছেন। মাঠ ছাড়ার সময় আবাহনীর ড্রেসিংরুমের দিকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন সাকিব।

তার এমন কাণ্ড দেখে আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ তেড়ে আসেন। সাকিবও এগিয়ে যান। এই সময়ে মোহামেডানের কয়েকজন থামান সাকিবকে। মোহামেডানের ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান দৌড়ে গিয়ে থামান খালেদ মাহমুদকে।

সাকিব-কাণ্ডে আড়ালে চলে যায় ম্যাচের ফলাফল। বৃষ্টির আগে আবাহনীর রান ছিল ৫.৫ ওভারে তিন উইকেটে ৩১। পরে বৃষ্টি-আইনে ম্যাচে ৩১ রানে জিতেছে মোহামেডান।

প্রথমে ব্যাট করে মোহামেডান ছয় উইকেটে ১৪৫ রান করে ২০ ওভারে। টানা তিন হারের পর মোহামেডান দেখল জয়ের মুখ। সেই ম্যাচটিই কি না কলঙ্কিত হলো সাকিব-কাণ্ডে!

অনুতপ্ত সাকিব পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার জন্য ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। নিজের ফেসবুক পেজে সাকিব লিখেছেন, ‘মেজাজ হারিয়ে ম্যাচের সৌন্দর্য নষ্ট করার জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত। বিশেষ করে যারা ঘরে বসে খেলা দেখেছেন। আমার মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের এভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোটা ঠিক হয়নি। কিন্তু কখনো কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এরকম ঘটনা দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঘটে যায়। নিজের এই ভুলের জন্য আমি দুই দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, টুর্নামেন্ট ও সাংগঠনিক কমিটির সব কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা চাইছি।’

অতীতে একাধিবার বিতর্কের জন্ম দেওয়া সাকিব আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ‘আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাব না আমি।’

এরআগেও একাধিকবার বিতর্কিত সব কাণ্ডের জেরে শাস্তি পেতে হয়েছে বিশ্বের একনম্বর অলরাউন্ডার সাকিবকে।

লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙলেন সাকিব চাইলেন ক্ষমা

শাস্তির জন্য আম্পায়ারের রিপোর্টের অপেক্ষা
 ক্রীড়া প্রতিবেদক 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
লঙ্কাকাণ্ড
এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া না পেয়ে মেজাজ হারিয়ে লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙছেন মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শুক্রবার মিরপুরে আবাহনীর বিপক্ষে ঢাকা লিগের ম্যাচে -সংগৃহীত

জৈব সুরক্ষাবলয় ভাঙার অভিযোগ থেকে সবে নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই সাকিব আল হাসান এবার মেজাজ হারিয়ে লঙ্কাকাণ্ড বাঁধালেন মাঠে। ঘটনাটি শুক্রবারের।

মিরপুরে বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট টি ২০ লিগে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙেই ক্ষান্ত হননি তিনি। পরে তিনটি স্টাম্পই তুলে নিয়ে মাটিতে আছড়ে মারেন।

এখানেই শেষ নয়। আবাহনীর সাজঘরের দিকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে তাদের কোচ খালেদ মাহমুদের দিকে তেড়ে যান সাকিব। পরে নিজের এহেন কাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম পরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে মুহূর্তের উত্তেজনায় এমন কাণ্ড ঘটে যায়। আশা করি, খেলোয়াড়রা আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।’ আম্পায়ারদের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি আজ (শুক্রবার) তাদের রিপোর্ট পাব। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেব।’

টস জিতে আগে ব্যাট করে মোহামেডান ১৪৫ রান করে ছয় উইকেটে। বৃষ্টিভেজা ম্যাচে নয় ওভারে ৭৬ রানের নতুন লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আবাহনী তখন ৫.৫ ওভারে ৩১/৩।

আবাহনী অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে মোহামেডান অধিনায়ক সাকিবের একটি লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার ইমরান পারভেজ। এতে ক্ষুব্ধ সাকিবকে দেখা যায় রাগান্বিত হয়ে আম্পায়ারকে কিছু বলতে।

বৃষ্টি নামলে ষষ্ঠ ওভারের এক বল বাকি থাকতে আম্পায়াররা পিচ ঢাকার জন্য কাভার আনতে বললে সাকিব আবারও রাগে ফেটে পড়েন।

বৃষ্টির মধ্যে খেলোয়াড়রা সাজঘরে ফেরার সময় সাকিবকে দেখা যায় আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়েছে।

তাতে দেখা যাচ্ছে, খালেদ মাহমুদকে একজন ধরে রেখেছেন আর সাকিব তার দিকে আঙুল উঁচিয়ে কিছু একটা বলছেন। মাঠ ছাড়ার সময় আবাহনীর ড্রেসিংরুমের দিকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন সাকিব।

তার এমন কাণ্ড দেখে আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ তেড়ে আসেন। সাকিবও এগিয়ে যান। এই সময়ে মোহামেডানের কয়েকজন থামান সাকিবকে। মোহামেডানের ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান দৌড়ে গিয়ে থামান খালেদ মাহমুদকে।

সাকিব-কাণ্ডে আড়ালে চলে যায় ম্যাচের ফলাফল। বৃষ্টির আগে আবাহনীর রান ছিল ৫.৫ ওভারে তিন উইকেটে ৩১। পরে বৃষ্টি-আইনে ম্যাচে ৩১ রানে জিতেছে মোহামেডান।

প্রথমে ব্যাট করে মোহামেডান ছয় উইকেটে ১৪৫ রান করে ২০ ওভারে। টানা তিন হারের পর মোহামেডান দেখল জয়ের মুখ। সেই ম্যাচটিই কি না কলঙ্কিত হলো সাকিব-কাণ্ডে!

অনুতপ্ত সাকিব পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার জন্য ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। নিজের ফেসবুক পেজে সাকিব লিখেছেন, ‘মেজাজ হারিয়ে ম্যাচের সৌন্দর্য নষ্ট করার জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত। বিশেষ করে যারা ঘরে বসে খেলা দেখেছেন। আমার মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের এভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোটা ঠিক হয়নি। কিন্তু কখনো কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এরকম ঘটনা দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঘটে যায়। নিজের এই ভুলের জন্য আমি দুই দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, টুর্নামেন্ট ও সাংগঠনিক কমিটির সব কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা চাইছি।’

অতীতে একাধিবার বিতর্কের জন্ম দেওয়া সাকিব আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ‘আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাব না আমি।’

এরআগেও একাধিকবার বিতর্কিত সব কাণ্ডের জেরে শাস্তি পেতে হয়েছে বিশ্বের একনম্বর অলরাউন্ডার সাকিবকে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন