করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
jugantor
২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৩ মৃত্যু
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
ঢাকার চেয়ে রাজশাহীতে শনাক্ত রোগী বেশি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাস মহামারি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যু। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ সীমান্ত জেলায় বাড়ছে নতুন রোগী। ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার চেয়ে রাজশাহীতে রোগী শনাক্ত বেশি হয়েছে। একদিনে ঢাকায় (মহানগরসহ) রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৮৫ জন। একই সময়ে রাজশাহীতে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৩৯ জন। সেখানকার হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। এই যখন পরিস্থিতি তখন দেশে করোনায় মৃত্যু ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। একদিনে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩২ জন। ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ হাজার ৪৫৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ জন হয়েছে। সরকারি হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে একদিনে আরও ২ হাজার ২৮৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯১৬ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আড়াই মাস পর গত বছরের ১০ জুন মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ আগস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ছাড়ায় মৃতের সংখ্যা। এরপর কমে আসে দৈনিক মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই এক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটে, ১৫ এপ্রিল মৃতের মোট সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায় ২৫ এপ্রিল। এর ১৬ দিন পর ১১ মে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার সঙ্গে আরও এক হাজার নাম যুক্ত হতে সময় লাগল ১ মাস।

মাঝে কিছুদিন দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও জুনের শুরু থেকে তা ৩০ থেকে ৪০ এর ঘরে ঘোরাফেরা করছে। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃত্যু হয়। সে সময় টানা ৪ দিন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল একশর উপরে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫১০টি ল্যাবে ১৮ হাজার ৭৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৩টি নমুনা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২৯২টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮১টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩০ জন পুরুষ আর নারী ১৩ জন। তাদের ৩৬ জন সরকারি হাসপাতালে, ছয়জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং বাসায় মারা গেছেন একজন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, চারজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, দুজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং দুজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে আটজন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১১ জন রাজশাহী বিভাগের, সাতজন খুলনা বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের, চারজন রংপুর বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এ পর্যন্ত মৃত ১৩ হাজার ৩২ জনের মধ্যে ৯ হাজার ৩৮০ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৬৫২ জন নারী।

২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৩ মৃত্যু

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার

ঢাকার চেয়ে রাজশাহীতে শনাক্ত রোগী বেশি
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাস মহামারি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যু। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ সীমান্ত জেলায় বাড়ছে নতুন রোগী। ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার চেয়ে রাজশাহীতে রোগী শনাক্ত বেশি হয়েছে। একদিনে ঢাকায় (মহানগরসহ) রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৮৫ জন। একই সময়ে রাজশাহীতে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৩৯ জন। সেখানকার হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। এই যখন পরিস্থিতি তখন দেশে করোনায় মৃত্যু ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। একদিনে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩২ জন। ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ হাজার ৪৫৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ জন হয়েছে। সরকারি হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে একদিনে আরও ২ হাজার ২৮৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯১৬ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আড়াই মাস পর গত বছরের ১০ জুন মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ আগস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ছাড়ায় মৃতের সংখ্যা। এরপর কমে আসে দৈনিক মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই এক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটে, ১৫ এপ্রিল মৃতের মোট সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায় ২৫ এপ্রিল। এর ১৬ দিন পর ১১ মে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার সঙ্গে আরও এক হাজার নাম যুক্ত হতে সময় লাগল ১ মাস।

মাঝে কিছুদিন দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও জুনের শুরু থেকে তা ৩০ থেকে ৪০ এর ঘরে ঘোরাফেরা করছে। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃত্যু হয়। সে সময় টানা ৪ দিন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল একশর উপরে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫১০টি ল্যাবে ১৮ হাজার ৭৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৩টি নমুনা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২৯২টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮১টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩০ জন পুরুষ আর নারী ১৩ জন। তাদের ৩৬ জন সরকারি হাসপাতালে, ছয়জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং বাসায় মারা গেছেন একজন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, চারজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, দুজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং দুজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে আটজন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১১ জন রাজশাহী বিভাগের, সাতজন খুলনা বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের, চারজন রংপুর বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এ পর্যন্ত মৃত ১৩ হাজার ৩২ জনের মধ্যে ৯ হাজার ৩৮০ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৬৫২ জন নারী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন