মানব পাচার মামলায় সাজার নজির নেই
jugantor
মানব পাচার মামলায় সাজার নজির নেই
৯৬ ভাগ মামলা বিচারাধীন * মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা দুঃখজনক -ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ

  হাসিব বিন শহিদ  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৫ সালের ১ মে থাইল্যান্ডের গহিন অরণ্যে অভিবাসীদের গণকবরের সন্ধান মেলে। সেখানে অন্তত ১০ জন বাংলাদেশির লাশ ছিল। ওই বছর থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে মানব পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার ১৭৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনে সরকার।

দেশে ফিরে তারা বিমানবন্দর থানায় তিনটি মামলা করেন। থাইল্যান্ডে মামলার বিচারে পাচারকারী চক্রের সাজা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে বিচার এখনও ঝুলে আছে।

গত বছরের ২৮ মে লিবিয়ায় ৩০ জন অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি। এ ঘটনায় গত বছরের ২ জুন রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি। চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি।

শুধু এ দুটি ক্ষেত্রেই নয়, মানব পাচারের অধিকাংশ মামলার বিচার কার্যক্রমই চলছে ধীরগতিতে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যেসব মামলা আলোর মুখ দেখেছে (চার্জশিট দেওয়া হয়েছে) সেগুলোর ৯৬ ভাগই বিচারাধীন আছে। মামলা নিষ্পত্তির হার ৩ দশমিক ৯১ ভাগ।

সম্প্রতি ভারতে পাচারের শিকার এক বাংলাদেশি তরুণীকে বীভৎস কায়দায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে ২৭ মে ছয়জনকে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুর পুলিশ।

এরপর ভারতে পাচার হওয়ার ৭৭ দিন পর পালিয়ে দেশে ফিরে ১ জুন রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন আরেক তরুণী। পরপর এ দুটি ঘটনায় মানব পাচারে ভিকটিমের ওপর হিংস্রতার বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে। অবিলম্বে পাচারকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মানব পাচারের মামলাগুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সত্যিই দুঃখজনক। মামলাগুলো দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। নয়তো বিচারপ্রার্থীদের মনে ন্যায় বিচার নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হবে। কোনো অপরাধীই যেন আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায়- সে ব্যাপারে আদালত, প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া মানব পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে বর্ডার অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপরতা বাড়াতে হবে। এসব করা গেলে মানব পাচার কমে আসবে।

মানব পাচারের বিভিন্ন মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুর্বল তদন্ত ও আদালতে সাক্ষী হাজির করতে না পারায় অধিকাংশ অপরাধীদের শাস্তি হয়নি। আইনে জামিন অযোগ্য হলেও অধিকাংশই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। ফলে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

উচ্চ আদালতের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মানব পাচারের মোট মামলা পাঁচ হাজার ৯৯টি। এরমধ্যে চার হাজার ৮৫১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯০টি। আর ৫৮টি মামলা বদলি করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৩টির বিচার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

এছাড়া ১৯০টি মামলা পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে। তথ্যানুসারে ৯৬ ভাগ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নিষ্পত্তি হয়েছে তিন দশমিক ৯১ ভাগ মামলা।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ সংক্রান্ত (মামলার পরিসংখ্যান) তথ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্যানুসারে, ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে মানব পাচারের ছয় হাজার ১৩৪টি মামলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিভিন্ন আদালতে ২৩৩টির নিস্পত্তি হয়েছে। বিচারাধীন আছে ৫ হাজার ৯০১টি। এরমধ্যে ৩৩টি মামলায় ৫৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। ২০১২ সালের ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে’ সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্যূন পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইনে বিচারের জন্য আলাদা করে বিশেষ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান থাকলেও আট বছর পর তা গঠনের আদেশ হয়। গত বছর ৯ মার্চ সাত বিভাগে সাতটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের আদেশ দেওয়া হয়। সে অনুসারে বিচারক নিয়োগও দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল যুগান্তরকে বলেন, আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানব পাচার আইনের মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। ফলে একজন বিচারকের নানা ধরনের মামলা পরিচালনা করতে হতো। এখন পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ফলে মামলা নিষ্পত্তির হার অনেকটা বাড়বে।

ঢাকার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর) সাজ্জাদুল হক শিহাব যুগান্তরকে বলেন, গত বছর থেকেই এ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৬ মাসেই অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে সাজার পরিমাণ খুবই কম। এর প্রধান কারণ সাক্ষী আসে না। এছাড়া তদন্তের ত্রুটিও অন্যতম কারণ। সাক্ষীরা কোর্টে এসে আপসের কথা বলেন। কোর্টে এসে মামলায় উল্টো সাক্ষী দেন। সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হলে কোনো আসামির সাজা হয় না। আর এসব নানা করণে মামলায় আসামিরা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের দুর্বলতা দূর করতে চাইলে প্রসিকিউশন টিমের সহায়তা লাগবে। কারণ বিচার ফেস করতে হয় আমাদেরই (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী)। তদন্তকারী কর্মকর্তারা যদি প্রসিকিউশনের সহায়তা নেন, তাহলে মামলায় কাকে সাক্ষী করা যাবে আর কাকে সাক্ষী করা যাবে না- সে বিষয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। সর্বদাই এমন লোকদের সাক্ষী করতে হবে, যাদের ডাক দিলে পাওয়া যাবে। যারা কোর্টে এসে সাক্ষী দিতে প্রস্তুত তাদেরই সাক্ষী করতে হবে। এছাড়া নানা আইনি বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রসিকিউশনের সহায়তায় নির্ভুলভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া সম্ভব।

মামলার তদন্তে ধীরগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অনেক সময় সত্যতা নিরূপণের জন্য সময় লেগে যায়। অনেক আসামিই তাদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেয়। সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে সময় লেগে যায়। আবার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলোও যাচাই-বাছাই করতে হয়। মামলার চার্জশিট আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানাসহ তদন্তের বিস্তারিত উল্লেখ করতে হয়। ফলে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লেগে যায়।

মানব পাচার মামলায় সাজার নজির নেই

৯৬ ভাগ মামলা বিচারাধীন * মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা দুঃখজনক -ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ
 হাসিব বিন শহিদ 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৫ সালের ১ মে থাইল্যান্ডের গহিন অরণ্যে অভিবাসীদের গণকবরের সন্ধান মেলে। সেখানে অন্তত ১০ জন বাংলাদেশির লাশ ছিল। ওই বছর থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে মানব পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার ১৭৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনে সরকার।

দেশে ফিরে তারা বিমানবন্দর থানায় তিনটি মামলা করেন। থাইল্যান্ডে মামলার বিচারে পাচারকারী চক্রের সাজা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে বিচার এখনও ঝুলে আছে।

গত বছরের ২৮ মে লিবিয়ায় ৩০ জন অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি। এ ঘটনায় গত বছরের ২ জুন রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি। চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি।

শুধু এ দুটি ক্ষেত্রেই নয়, মানব পাচারের অধিকাংশ মামলার বিচার কার্যক্রমই চলছে ধীরগতিতে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যেসব মামলা আলোর মুখ দেখেছে (চার্জশিট দেওয়া হয়েছে) সেগুলোর ৯৬ ভাগই বিচারাধীন আছে। মামলা নিষ্পত্তির হার ৩ দশমিক ৯১ ভাগ।

সম্প্রতি ভারতে পাচারের শিকার এক বাংলাদেশি তরুণীকে বীভৎস কায়দায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে ২৭ মে ছয়জনকে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুর পুলিশ।

এরপর ভারতে পাচার হওয়ার ৭৭ দিন পর পালিয়ে দেশে ফিরে ১ জুন রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন আরেক তরুণী। পরপর এ দুটি ঘটনায় মানব পাচারে ভিকটিমের ওপর হিংস্রতার বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে। অবিলম্বে পাচারকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মানব পাচারের মামলাগুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সত্যিই দুঃখজনক। মামলাগুলো দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। নয়তো বিচারপ্রার্থীদের মনে ন্যায় বিচার নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হবে। কোনো অপরাধীই যেন আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায়- সে ব্যাপারে আদালত, প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া মানব পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে বর্ডার অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপরতা বাড়াতে হবে। এসব করা গেলে মানব পাচার কমে আসবে।

মানব পাচারের বিভিন্ন মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুর্বল তদন্ত ও আদালতে সাক্ষী হাজির করতে না পারায় অধিকাংশ অপরাধীদের শাস্তি হয়নি। আইনে জামিন অযোগ্য হলেও অধিকাংশই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। ফলে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

উচ্চ আদালতের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মানব পাচারের মোট মামলা পাঁচ হাজার ৯৯টি। এরমধ্যে চার হাজার ৮৫১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯০টি। আর ৫৮টি মামলা বদলি করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৩টির বিচার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

এছাড়া ১৯০টি মামলা পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে। তথ্যানুসারে ৯৬ ভাগ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নিষ্পত্তি হয়েছে তিন দশমিক ৯১ ভাগ মামলা।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ সংক্রান্ত (মামলার পরিসংখ্যান) তথ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্যানুসারে, ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে মানব পাচারের ছয় হাজার ১৩৪টি মামলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিভিন্ন আদালতে ২৩৩টির নিস্পত্তি হয়েছে। বিচারাধীন আছে ৫ হাজার ৯০১টি। এরমধ্যে ৩৩টি মামলায় ৫৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। ২০১২ সালের ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে’ সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্যূন পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইনে বিচারের জন্য আলাদা করে বিশেষ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান থাকলেও আট বছর পর তা গঠনের আদেশ হয়। গত বছর ৯ মার্চ সাত বিভাগে সাতটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের আদেশ দেওয়া হয়। সে অনুসারে বিচারক নিয়োগও দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল যুগান্তরকে বলেন, আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানব পাচার আইনের মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। ফলে একজন বিচারকের নানা ধরনের মামলা পরিচালনা করতে হতো। এখন পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ফলে মামলা নিষ্পত্তির হার অনেকটা বাড়বে।

ঢাকার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর) সাজ্জাদুল হক শিহাব যুগান্তরকে বলেন, গত বছর থেকেই এ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৬ মাসেই অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে সাজার পরিমাণ খুবই কম। এর প্রধান কারণ সাক্ষী আসে না। এছাড়া তদন্তের ত্রুটিও অন্যতম কারণ। সাক্ষীরা কোর্টে এসে আপসের কথা বলেন। কোর্টে এসে মামলায় উল্টো সাক্ষী দেন। সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হলে কোনো আসামির সাজা হয় না। আর এসব নানা করণে মামলায় আসামিরা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের দুর্বলতা দূর করতে চাইলে প্রসিকিউশন টিমের সহায়তা লাগবে। কারণ বিচার ফেস করতে হয় আমাদেরই (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী)। তদন্তকারী কর্মকর্তারা যদি প্রসিকিউশনের সহায়তা নেন, তাহলে মামলায় কাকে সাক্ষী করা যাবে আর কাকে সাক্ষী করা যাবে না- সে বিষয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। সর্বদাই এমন লোকদের সাক্ষী করতে হবে, যাদের ডাক দিলে পাওয়া যাবে। যারা কোর্টে এসে সাক্ষী দিতে প্রস্তুত তাদেরই সাক্ষী করতে হবে। এছাড়া নানা আইনি বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রসিকিউশনের সহায়তায় নির্ভুলভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া সম্ভব।

মামলার তদন্তে ধীরগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অনেক সময় সত্যতা নিরূপণের জন্য সময় লেগে যায়। অনেক আসামিই তাদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেয়। সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে সময় লেগে যায়। আবার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলোও যাচাই-বাছাই করতে হয়। মামলার চার্জশিট আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানাসহ তদন্তের বিস্তারিত উল্লেখ করতে হয়। ফলে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লেগে যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন