বসতবাড়ি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
jugantor
সরেজমিন ঢাকা বিভাগ
বসতবাড়ি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা। দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার কারণে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বসত-বাড়ির মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ হয়েছে রান্নাঘর। শ্রেণিকক্ষ হয়েছে গোয়াল ঘর। স্কুল মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের মাঠে যানবাহন রাখা হচ্ছে। গরু-ছাগলের চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের মাঠ। স্থানীয়রা বিদ্যালয় মাঠে ধানসহ বিভিন্ন শস্য শুকাচ্ছেন। মাঠে যন্ত্র বসিয়ে ধান মাড়াই করার খবরও পাওয়া গেছে। আর স্কুল কক্ষের চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চে জমেছে ধুলার আস্তরণ।

যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানান, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার চতলবাইদ শাখার ইউরেকা কিন্ডারগার্টেনের শ্রেণিকক্ষের ভেতরে কাঁঠাল ধরেছে। বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা ও মাঠে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা জমেছে। জেলার মধুপুর উপজেলার লাউফুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। ঘাটাইলের লক্ষিন্দর ইউনিয়নের বেইলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেঝেতে ছাগল রাখ হয়। আর নাগরপুরের গোপালপুর সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের এক-তৃতীয়াংশ জায়গা জুড়ে ঠিকাদার নির্মাণ রাখেছেন। বাকি জায়গা ঘোড়ার গাড়ি ও মাইক্রোবাসের অস্থায়ী গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। বাসাইল পৌর এলাকার ৩৭ নং মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বড় বড় খড়ের স্তূপ। এই বিদ্যালয়ের মাঠ গরুর চারণভূমি হয়ে উঠেছে। একই চিত্র বাদিয়াজান ও গিলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও।

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার কাদির জঙ্গল ইউনিয়নের আমেনা বেগম স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা ও শ্রেণিকক্ষেও ধান ও ধানের খড় রাখা হয়েছে। এছাড়া বারান্দায় গরুও রাখা হয়। এক কথায় এ বিদ্যালয়টি ব্যক্তিগত কৃষি খামারে পরিণত হয়েছে। ভৈরবে রয়েল ইউনিভার্সিটি মাঠে তৈরি করা হয়েছে গরুর খোঁয়াড়। জেড রহমান ব্যাংক স্কুল এন্ড কলেজে মাঠে গরু চরানো হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধূলট সরকারি প্রামিক বিদ্যালয়ের মাঠে ধান আর ভুট্টা শোকানো হয়। এছাড়া মাঠের চারপাশে আগাছা আর ঘাসের স্তূপ। ভবনের বারান্দায় গরু-ছাগলের মলমূত্র।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সতুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চোরমর্দ্দন বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,লতব্দী গয়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যন্ত্র বসিয়ে ধান মাড়াই করা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পাঁচুড়িয়া এলাকায় অবস্থিত ১২৬ নং পশ্চিম গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোপালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ৪নং ভাটিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বারান্দায় রাখা হচ্ছে গরু-ছাগল। কোটালীপাড়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বারান্দায় ও মাঠে গোখাদ্যের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বেঞ্চগুলোতে ধুলাবালির আস্তরণ।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৫১নং জেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। দুটি ক্লাসরুম দখল করে বসবাস করছেন শ্রমিকরা। শোয়ার জন্য তারা বিদ্যালয়ের বেঞ্চ, টেবিল বিছিয়ে খাট তৈরি করেছেন।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার ডিকে আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। রাখা হয়েছে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। বিদ্যালয়ের সিঁড়ির মেঝেতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বেঞ্চ-টেবিল-চেয়ারে ধুলাবালির আস্তরণ।

ফরিদপুর সদরের সাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে চুলা বসিয়ে রান্না করা হচ্ছে। বেঞ্চের ওপর সিলিন্ডার, রান্নার চুলা, কলসিসহ সংসারের বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কুশাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ধান শোকানো হচ্ছে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া সিদ্দিক মিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও পুনসহি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে থাকছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

সরেজমিন ঢাকা বিভাগ

বসতবাড়ি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
গাজীপুরের কালীগঞ্জে জাংগালিয়া সিদ্দিক মিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে শ্রমিকদের বিছানাপত্র। ছবিটি সোমবার তোলা -যুগান্তর

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা। দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার কারণে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বসত-বাড়ির মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ হয়েছে রান্নাঘর। শ্রেণিকক্ষ হয়েছে গোয়াল ঘর। স্কুল মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের মাঠে যানবাহন রাখা হচ্ছে। গরু-ছাগলের চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের মাঠ। স্থানীয়রা বিদ্যালয় মাঠে ধানসহ বিভিন্ন শস্য শুকাচ্ছেন। মাঠে যন্ত্র বসিয়ে ধান মাড়াই করার খবরও পাওয়া গেছে। আর স্কুল কক্ষের চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চে জমেছে ধুলার আস্তরণ।

যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানান, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার চতলবাইদ শাখার ইউরেকা কিন্ডারগার্টেনের শ্রেণিকক্ষের ভেতরে কাঁঠাল ধরেছে। বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা ও মাঠে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা জমেছে। জেলার মধুপুর উপজেলার লাউফুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। ঘাটাইলের লক্ষিন্দর ইউনিয়নের বেইলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেঝেতে ছাগল রাখ হয়। আর নাগরপুরের গোপালপুর সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের এক-তৃতীয়াংশ জায়গা জুড়ে ঠিকাদার নির্মাণ রাখেছেন। বাকি জায়গা ঘোড়ার গাড়ি ও মাইক্রোবাসের অস্থায়ী গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। বাসাইল পৌর এলাকার ৩৭ নং মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বড় বড় খড়ের স্তূপ। এই বিদ্যালয়ের মাঠ গরুর চারণভূমি হয়ে উঠেছে। একই চিত্র বাদিয়াজান ও গিলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও।

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার কাদির জঙ্গল ইউনিয়নের আমেনা বেগম স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা ও শ্রেণিকক্ষেও ধান ও ধানের খড় রাখা হয়েছে। এছাড়া বারান্দায় গরুও রাখা হয়। এক কথায় এ বিদ্যালয়টি ব্যক্তিগত কৃষি খামারে পরিণত হয়েছে। ভৈরবে রয়েল ইউনিভার্সিটি মাঠে তৈরি করা হয়েছে গরুর খোঁয়াড়। জেড রহমান ব্যাংক স্কুল এন্ড কলেজে মাঠে গরু চরানো হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধূলট সরকারি প্রামিক বিদ্যালয়ের মাঠে ধান আর ভুট্টা শোকানো হয়। এছাড়া মাঠের চারপাশে আগাছা আর ঘাসের স্তূপ। ভবনের বারান্দায় গরু-ছাগলের মলমূত্র।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সতুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চোরমর্দ্দন বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,লতব্দী গয়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যন্ত্র বসিয়ে ধান মাড়াই করা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পাঁচুড়িয়া এলাকায় অবস্থিত ১২৬ নং পশ্চিম গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোপালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ৪নং ভাটিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বারান্দায় রাখা হচ্ছে গরু-ছাগল। কোটালীপাড়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বারান্দায় ও মাঠে গোখাদ্যের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বেঞ্চগুলোতে ধুলাবালির আস্তরণ।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৫১নং জেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। দুটি ক্লাসরুম দখল করে বসবাস করছেন শ্রমিকরা। শোয়ার জন্য তারা বিদ্যালয়ের বেঞ্চ, টেবিল বিছিয়ে খাট তৈরি করেছেন।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার ডিকে আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। রাখা হয়েছে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। বিদ্যালয়ের সিঁড়ির মেঝেতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বেঞ্চ-টেবিল-চেয়ারে ধুলাবালির আস্তরণ।

ফরিদপুর সদরের সাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে চুলা বসিয়ে রান্না করা হচ্ছে। বেঞ্চের ওপর সিলিন্ডার, রান্নার চুলা, কলসিসহ সংসারের বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কুশাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ধান শোকানো হচ্ছে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া সিদ্দিক মিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও পুনসহি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে থাকছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন