প্রধান আসামি নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেফতার
jugantor
পরীমনি ধর্ষণচেষ্টা মামলা
প্রধান আসামি নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেফতার
নাসিরের বাসায় মিলল বিদেশি মদ ইয়াবা * ‘ধর্ষণচেষ্টায়’ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি সংসদে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষণচেষ্টা

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনির করা মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা ৩টার দিকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নাসির, অমি, লিপি, সুমি ও স্নিগ্ধাকে গ্রেফতার করে। এ সময় বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার নাসিরের অভিযোগ- ক্লাব থেকে দামি মদ নিতে না দেওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পরীমনি বাদী হয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় নাসিরসহ ছয়জনের নামে মামলা করেন। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার ছয় আসামির মধ্যে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বাকিরা অজ্ঞাতনামা। পরীমনির মামলা ঢাকা জেলা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) ছায়াতদন্ত করছে। পুলিশ জানায়, মামলার পর উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের অমির ভাড়া করা বাসায় অভিযান চালানো হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মশিউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানে বেশকিছু মদ জব্দ করা হয়।

এর আগে ঢাকা জেলা পুলিশের একটি দল উত্তরায় নাসিরের বাসায় অভিযান চালায়। কিন্তু সেখানে নাসিরকে পাওয়া যায়নি। উত্তরায় অভিযান শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, নাসিরের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ আছে বলে আমরা জেনেছি।

এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এরপর কেউ কোনো অভিযোগ করলে তাতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তদন্তের জন্য পুলিশ বোট ক্লাবে যাবে এবং অন্য আসামিদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কোনো রাঘববোয়াল জড়িত আছে কিনা, যারা রাতের আঁধারে বিভিন্ন ধরনের ক্লাবে উঠতি বয়সী নারীদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা হারুন আরও বলেন, যাদের আমরা গ্রেফতার করেছি তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছোট মেয়েদের রক্ষিতা হিসাবে রাখেন এবং মদের ব্যবসা করেন। অভিযানে মাদক ও অবৈধ আইটেম পাওয়া গেছে। আমরাও মামলা করব। তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। অন্য কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে সেটারও তদন্ত করা হবে।

রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিনেত্রী পরীমনি জানান, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। তার আশঙ্কা, তাকে মেরে ফেলা হতে পারে। এর আগে একইদিন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে পরীমনি অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি এর বিচার দাবি করেন। পুলিশ জানায়, পরীমনির বাসা ও আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি প্রদানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সরব অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

এজাহারে যা রয়েছে : মামলার এজাহারে পরীমনি বলেন, ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িযোগে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হই। পথে অমি বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে বলে জানায়।

অমির কথামতো সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করাই। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেন। পরে আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে।

বারের কাছের টয়লেট আমরা ব্যবহার করি। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন।

আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমার সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।

এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, এক নম্বর আসামি (নাসির) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন। আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। নাসির উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি তাকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করা হয়।

পরীমনি বলেন, আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে গেলে আমার ফোনটি টান মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় দুই নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন এক নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করেন। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারব।
এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, দুই নম্বর আসামি অমি পরিকল্পিতভাবে আমাকে বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যান।

তিনি অজ্ঞাতনামা চারজন ও নাসির আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আমি আমার গাড়িযোগে প্রায় অচেতন অবস্থায় অপর সঙ্গীদের সহায়তায় বাসায় ফিরে আসি।

গ্রেফতারের আগে যা বলেন নাসির : গ্রেফতারের আগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, দামি মদ নিতে না দেওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার রাতে বোট ক্লাবে মদ্যপ অবস্থায় ঢোকে পরীমনিসহ কয়েকজন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক ছেলে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে।

আর তারা যখন রাতে ক্লাবে প্রবেশ করে তখন সিকিউরিটি অফিসাররাও ছিলেন না। ঘটনার রাতে আমি উপস্থিত ছিলাম। আমি বোট ক্লাবের একজন পরিচালক। আমি যখন রাতে বের হয়ে যাচ্ছিলাম তখন পরীমনিসহ কয়েকজন ক্লাবের ভেতরে ঢোকেন।
নাসির আরও বলেন, আমি ঘটনার শিকার। তারা ক্লাবের ভেতরে ঢুকেই বারের রিসিপশনে চলে যান। সেখানে দামি মদ ছিল। সেসব দামি মদ তারা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। নাসিরের কাছে প্রশ্ন ছিল আপনার বিরুদ্ধেই কেন অভিযোগ- এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তারা মদ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তারা মদ নিয়ে যেতে পারেননি বলে ক্ষোভ থেকে আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি সংসদে : চিত্রনায়িকা পরীমনি যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা অভিযোগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদে দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সদস্য হারুনুর রশীদ। সোমবার জাতীয় সংসদে আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল-২০২১ আইন পাশের সময় জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব ও সংশোধনীর আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুন এ দাবি করেন।

হারুনুর রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব। সত্যিকার অর্থে যে বিষয়গুলো আজকে রাষ্ট্রকে নাড়া দিচ্ছে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেবেন। তিনি বলেন, পরীমনি বাংলাদেশের একজন পরিচিত অভিনেত্রী। তিনি যে ঘটনার শিকার হয়েছেন সে ঘটনার বিচার তিনি চারদিন ধরে চেয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তিনি বিচার পাচ্ছেন না। এটি কী অসত্য? এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে মুনিয়ার ঘটনা ঘটল। এগুলো যারা ঘটাচ্ছে তারা মাফিয়া।

নাসিরকে নিয়ে ঝালকাঠিতে চাঞ্চল্য : ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, চিত্রনায়িকা পরীমনির মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার নাসির উদ্দিন মাহমুদ ওরফে নাসির ইউ মাহমুদের বাড়ি ঝালকাঠিতে। ঝালকাঠি শহরের কলেজ মোড়ে তার পৈতৃক বাড়ি হলেও তার বেড়ে ওঠা বরিশাল শহরে। তার গ্রেফতারের খবরে ঝালকাঠি শহরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়।

জানা গেছে, নাসিরের বাবা হারুন রশীদ পুলিশ বিভাগে চাকরি করতেন। সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে অনেক বছর আগে অবসরে যান। বরিশাল শহরের বগুড়া রোডে তাদের বসবাস ছিল।

পরীমনি ধর্ষণচেষ্টা মামলা

প্রধান আসামি নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেফতার

নাসিরের বাসায় মিলল বিদেশি মদ ইয়াবা * ‘ধর্ষণচেষ্টায়’ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি সংসদে
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ধর্ষণচেষ্টা
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনির করা মামলায় রাজধানীর উত্তরা থেকে বিদেশি মদসহ গ্রেফতার ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও চারজন -যুগান্তর

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনির করা মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা ৩টার দিকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নাসির, অমি, লিপি, সুমি ও স্নিগ্ধাকে গ্রেফতার করে। এ সময় বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার নাসিরের অভিযোগ- ক্লাব থেকে দামি মদ নিতে না দেওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পরীমনি বাদী হয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় নাসিরসহ ছয়জনের নামে মামলা করেন। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার ছয় আসামির মধ্যে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বাকিরা অজ্ঞাতনামা। পরীমনির মামলা ঢাকা জেলা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) ছায়াতদন্ত করছে। পুলিশ জানায়, মামলার পর উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের অমির ভাড়া করা বাসায় অভিযান চালানো হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মশিউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানে বেশকিছু মদ জব্দ করা হয়।

এর আগে ঢাকা জেলা পুলিশের একটি দল উত্তরায় নাসিরের বাসায় অভিযান চালায়। কিন্তু সেখানে নাসিরকে পাওয়া যায়নি। উত্তরায় অভিযান শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, নাসিরের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ আছে বলে আমরা জেনেছি।

এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এরপর কেউ কোনো অভিযোগ করলে তাতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তদন্তের জন্য পুলিশ বোট ক্লাবে যাবে এবং অন্য আসামিদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কোনো রাঘববোয়াল জড়িত আছে কিনা, যারা রাতের আঁধারে বিভিন্ন ধরনের ক্লাবে উঠতি বয়সী নারীদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা হারুন আরও বলেন, যাদের আমরা গ্রেফতার করেছি তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছোট মেয়েদের রক্ষিতা হিসাবে রাখেন এবং মদের ব্যবসা করেন। অভিযানে মাদক ও অবৈধ আইটেম পাওয়া গেছে। আমরাও মামলা করব। তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। অন্য কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে সেটারও তদন্ত করা হবে।

রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিনেত্রী পরীমনি জানান, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। তার আশঙ্কা, তাকে মেরে ফেলা হতে পারে। এর আগে একইদিন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে পরীমনি অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি এর বিচার দাবি করেন। পুলিশ জানায়, পরীমনির বাসা ও আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি প্রদানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সরব অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

এজাহারে যা রয়েছে : মামলার এজাহারে পরীমনি বলেন, ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িযোগে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হই। পথে অমি বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে বলে জানায়।

অমির কথামতো সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করাই। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেন। পরে আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে।

বারের কাছের টয়লেট আমরা ব্যবহার করি। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন।

আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমার সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই। 

এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, এক নম্বর আসামি (নাসির) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন। আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। নাসির উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি তাকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করা হয়।

পরীমনি বলেন, আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে গেলে আমার ফোনটি টান মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় দুই নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন এক নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করেন। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারব।
এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, দুই নম্বর আসামি অমি পরিকল্পিতভাবে আমাকে বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যান।

তিনি অজ্ঞাতনামা চারজন ও নাসির আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আমি আমার গাড়িযোগে প্রায় অচেতন অবস্থায় অপর সঙ্গীদের সহায়তায় বাসায় ফিরে আসি।

গ্রেফতারের আগে যা বলেন নাসির : গ্রেফতারের আগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, দামি মদ নিতে না দেওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার রাতে বোট ক্লাবে মদ্যপ অবস্থায় ঢোকে পরীমনিসহ কয়েকজন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক ছেলে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে।

আর তারা যখন রাতে ক্লাবে প্রবেশ করে তখন সিকিউরিটি অফিসাররাও ছিলেন না। ঘটনার রাতে আমি উপস্থিত ছিলাম। আমি বোট ক্লাবের একজন পরিচালক। আমি যখন রাতে বের হয়ে যাচ্ছিলাম তখন পরীমনিসহ কয়েকজন ক্লাবের ভেতরে ঢোকেন। 
নাসির আরও বলেন, আমি ঘটনার শিকার। তারা ক্লাবের ভেতরে ঢুকেই বারের রিসিপশনে চলে যান। সেখানে দামি মদ ছিল। সেসব দামি মদ তারা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। নাসিরের কাছে প্রশ্ন ছিল আপনার বিরুদ্ধেই কেন অভিযোগ- এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তারা মদ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তারা মদ নিয়ে যেতে পারেননি বলে ক্ষোভ থেকে আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি সংসদে : চিত্রনায়িকা পরীমনি যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা অভিযোগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদে দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সদস্য হারুনুর রশীদ। সোমবার জাতীয় সংসদে আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল-২০২১ আইন পাশের সময় জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব ও সংশোধনীর আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুন এ দাবি করেন।

হারুনুর রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব। সত্যিকার অর্থে যে বিষয়গুলো আজকে রাষ্ট্রকে নাড়া দিচ্ছে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেবেন। তিনি বলেন, পরীমনি বাংলাদেশের একজন পরিচিত অভিনেত্রী। তিনি যে ঘটনার শিকার হয়েছেন সে ঘটনার বিচার তিনি চারদিন ধরে চেয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তিনি বিচার পাচ্ছেন না। এটি কী অসত্য? এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে মুনিয়ার ঘটনা ঘটল। এগুলো যারা ঘটাচ্ছে তারা মাফিয়া।

নাসিরকে নিয়ে ঝালকাঠিতে চাঞ্চল্য : ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, চিত্রনায়িকা পরীমনির মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার নাসির উদ্দিন মাহমুদ ওরফে নাসির ইউ মাহমুদের বাড়ি ঝালকাঠিতে। ঝালকাঠি শহরের কলেজ মোড়ে তার পৈতৃক বাড়ি হলেও তার বেড়ে ওঠা বরিশাল শহরে। তার গ্রেফতারের খবরে ঝালকাঠি শহরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়।

জানা গেছে, নাসিরের বাবা হারুন রশীদ পুলিশ বিভাগে চাকরি করতেন। সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে অনেক বছর আগে অবসরে যান। বরিশাল শহরের বগুড়া রোডে তাদের বসবাস ছিল।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন