গণটিকাদান নিয়ে বিভ্রান্তি
jugantor
কোভিড-১৯ প্রতিরোধ
গণটিকাদান নিয়ে বিভ্রান্তি

  রাশেদ রাব্বি  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ফের গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন ১৯ জুন থেকে শুরু হচ্ছে গণটিকাদান কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেছেন জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারের হাতে টিকা আছে ১১ লাখ। এটা দিয়ে গণটিকাদান শুরু করা সম্ভব নয়। তারা যোগ করেন টিকা কেনার বিষয়ে ভারতের পর এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি।

কাজেই এখন যেটা শুরু হবে সেটাকে গণটিকাদান বলা যায় না। প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন যুগান্তরকে বলেন, এই সামান্য পরিমাণ টিকাদানকে গণটিকা কার্যক্রম বলা যাবে না। এটাকে সিলেকটিভ টিকাদান কার্যক্রম বলা যেতে পারে। কারণ টিকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করোনা প্রতিরোধে দেশের জনগণের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করা। কিন্তু এই সামান্য পরিমাণ টিকা দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করা সম্ভব নয়।

করোনা প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই ১২ বছরের ওপরের বয়সি সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে এক লাখ, পাঁচ লাখ বা দশ লাখ এনে তেমন কাজ হবে না। এক্ষেত্রে দেশেই টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে দ্রুততম সময়ে দেশের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়।

বর্তমানে দেশে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং চীনের উপহার হিসাবে দুই দফায় আসা সিনোফার্মের তৈরি ১১ লাখ ডোজ টিকা আছে। ফাইজারের টিকা কবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৯ জুন থেকে সিনোফার্মের টিকাই দেওয়া শুরু হবে। চীনের ১১ লাখের মধ্যে এক লাখ টিকা পাবে মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা। বাকি দশ লাখ দুই ডোজ করে ৫ লাখ লোককে দেওয়া সম্ভব হবে।

এক্ষেত্রে ৬৪ জেলায় দেওয়া হলে সেখানে মাত্র ৭ হাজার ৮১২ জন এর আওতায় আসবে। আর যদি দেশে প্রত্যেকটি উপজেলা এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয় তবে ভাগে পড়বে ৮১৭ ডোজ। তাই টিকাদান শুরু হলেও একে গণটিকা বলা ঠিক হবে না।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, গ্যাভি এলায়েন্স এর কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকা টিকা আগামী আগস্টেই আরও ১০ লাখ ডোজ দেশে আসবে। এর পাশাপাশি, রাশিয়ার সাথেও ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। চীনের সাথে দেশের পক্ষ থেকে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। চীন থেকে ফিরতি জবাব এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।

ইতোমধ্যেই চীনের কাছ থেকে পাওয়া উপহার ১১ লাখ ভ্যাকসিন থেকে অন্তত ৫ লাখ মানুষকে দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এ সোমবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে গণ টিকাদান কর্মসূচি আগামী ১৯ জুন থেকে আবার শুরু করার আশা করছেন তিনি।

জুলাই মাসে আবারও সারা দেশে গণটিকাদান শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা যোগাযোগ করছি। ইতোমধ্যে কয়েকটা দেশের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যাশা করছি খুব দ্রুত আমরা পাব। আশা করছি জুলাই মাস থেকে হয়তো আবার ম্যাসস্কেলে (টিকাদান) শুরু করতে পারব।

টিকা কেনার জন্য সরকার আগামী বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে জানিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, আমরা কারও দয়া চাই না। বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলছেন, আমাদের ফ্রি দরকার নেই। আমরা টাকা দিয়ে কিনব। যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকে কেনা হবে এবং আমরা কিন্তু অনেক দূর এগিয়েছি। করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়েছিল।

কিন্তু ভারত রপ্তানি বন্ধ রাখায় টিকার সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার মতো অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও সরকারের হাতে নেই।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়েছিল। এরপর থেকে এক কোটি ৮১ হাজার ৮২ ডোজ দেওয়া হয়েছে। এর পুরোটাই অক্সফোর্ডের-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড টিকা। এখন পর্যন্ত দেশে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন এসেছে মোট ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪২ লাখ ৬১ হাজার ৬৭ জন।

প্রথম ডোজ নেওয়া ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জনের মধ্যে ১৪ লাখের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে তৈরি হয়েছ সংকট। এদের সবাইকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকারই দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো দুই কোম্পানির দুই ডোজের টিকা গ্রহণের কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধ

গণটিকাদান নিয়ে বিভ্রান্তি

 রাশেদ রাব্বি 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ফের গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন ১৯ জুন থেকে শুরু হচ্ছে গণটিকাদান কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেছেন জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারের হাতে টিকা আছে ১১ লাখ। এটা দিয়ে গণটিকাদান শুরু করা সম্ভব নয়। তারা যোগ করেন টিকা কেনার বিষয়ে ভারতের পর এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি।

কাজেই এখন যেটা শুরু হবে সেটাকে গণটিকাদান বলা যায় না। প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন যুগান্তরকে বলেন, এই সামান্য পরিমাণ টিকাদানকে গণটিকা কার্যক্রম বলা যাবে না। এটাকে সিলেকটিভ টিকাদান কার্যক্রম বলা যেতে পারে। কারণ টিকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করোনা প্রতিরোধে দেশের জনগণের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করা। কিন্তু এই সামান্য পরিমাণ টিকা দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করা সম্ভব নয়।

করোনা প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই ১২ বছরের ওপরের বয়সি সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে এক লাখ, পাঁচ লাখ বা দশ লাখ এনে তেমন কাজ হবে না। এক্ষেত্রে দেশেই টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে দ্রুততম সময়ে দেশের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়।

বর্তমানে দেশে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং চীনের উপহার হিসাবে দুই দফায় আসা সিনোফার্মের তৈরি ১১ লাখ ডোজ টিকা আছে। ফাইজারের টিকা কবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৯ জুন থেকে সিনোফার্মের টিকাই দেওয়া শুরু হবে। চীনের ১১ লাখের মধ্যে এক লাখ টিকা পাবে মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা। বাকি দশ লাখ দুই ডোজ করে ৫ লাখ লোককে দেওয়া সম্ভব হবে।

এক্ষেত্রে ৬৪ জেলায় দেওয়া হলে সেখানে মাত্র ৭ হাজার ৮১২ জন এর আওতায় আসবে। আর যদি দেশে প্রত্যেকটি উপজেলা এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয় তবে ভাগে পড়বে ৮১৭ ডোজ। তাই টিকাদান শুরু হলেও একে গণটিকা বলা ঠিক হবে না।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, গ্যাভি এলায়েন্স এর কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকা টিকা আগামী আগস্টেই আরও ১০ লাখ ডোজ দেশে আসবে। এর পাশাপাশি, রাশিয়ার সাথেও ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। চীনের সাথে দেশের পক্ষ থেকে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। চীন থেকে ফিরতি জবাব এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।

ইতোমধ্যেই চীনের কাছ থেকে পাওয়া উপহার ১১ লাখ ভ্যাকসিন থেকে অন্তত ৫ লাখ মানুষকে দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এ সোমবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে গণ টিকাদান কর্মসূচি আগামী ১৯ জুন থেকে আবার শুরু করার আশা করছেন তিনি।

জুলাই মাসে আবারও সারা দেশে গণটিকাদান শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা যোগাযোগ করছি। ইতোমধ্যে কয়েকটা দেশের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যাশা করছি খুব দ্রুত আমরা পাব। আশা করছি জুলাই মাস থেকে হয়তো আবার ম্যাসস্কেলে (টিকাদান) শুরু করতে পারব।

টিকা কেনার জন্য সরকার আগামী বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে জানিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, আমরা কারও দয়া চাই না। বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলছেন, আমাদের ফ্রি দরকার নেই। আমরা টাকা দিয়ে কিনব। যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকে কেনা হবে এবং আমরা কিন্তু অনেক দূর এগিয়েছি। করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়েছিল।

কিন্তু ভারত রপ্তানি বন্ধ রাখায় টিকার সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার মতো অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও সরকারের হাতে নেই।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়েছিল। এরপর থেকে এক কোটি ৮১ হাজার ৮২ ডোজ দেওয়া হয়েছে। এর পুরোটাই অক্সফোর্ডের-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড টিকা। এখন পর্যন্ত দেশে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন এসেছে মোট ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪২ লাখ ৬১ হাজার ৬৭ জন।

প্রথম ডোজ নেওয়া ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জনের মধ্যে ১৪ লাখের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে তৈরি হয়েছ সংকট। এদের সবাইকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকারই দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো দুই কোম্পানির দুই ডোজের টিকা গ্রহণের কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস