সাত ঘণ্টা অচল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ
jugantor
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতি
সাত ঘণ্টা অচল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতিতে বৃহস্পতিবার সাত ঘণ্টারও বেশি সময় প্রায় অচল ছিল দেশের সবচেয়ে বড় রাজন্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি সমঝোতার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রত্যাহার করা হলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়নের কাজ স্বাভাবিক হয়।

ঘুস দুর্নীতি ও স্পিডমানির নামে অর্থ আদায়, লাইসেন্স স্থগিত এবং হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করে এজেন্টরা। বিরতি পালনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাস্টম হাউসের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি, ঘুষের টাকা নিয়ে এক রাজস্ব কর্মকর্তা একজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে হয়রানি করেন। তার মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এজেন্টের লাইসেন্সটিও অল্প সময়ের মধ্যে স্থগিত করে দেওয়া হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তবে ওই কাস্টম কর্মকর্তা ঘুষ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অনৈতিক সুবিধা চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু যুগান্তরকে বলেন, ‘বুধবার কাস্টম হাউসের ৮-বি শাখায় একটি পেপার অ্যাসেসমেন্টের সময় প্রাইম ক্লিয়ারিং হাউসের রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন রাজস্ব কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন।

দাবি করা ঘুষের টাকা না দেওয়ায় এ দুর্ব্যবহার করা হয় বলে ওই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানান। শুধু তাই নয়, রাজস্ব কর্মকর্তা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রাইম ক্লিয়ারিং হাউসের লাইসেন্স স্থগিত করাতে সক্ষম হন। এর প্রতিবাদে আমরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করি।’

তিনি বলেন, ‘বিকালে এ নিয়ে কাস্টম হাউস কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে তারা আমাদের ৬ দাবির সব মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করি।’

বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কাস্টম হাউস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলমের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে কাস্টম ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব আদায় নির্বিঘ্ন রাখতে লাইসেন্সটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া তারা অন্য যেসব দাবি দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে মেনে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমাদের একজন রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করেছেন।

ওই কর্মকর্তা আবার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন। এ বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সুরাহা করা হবে।

বৈঠকের পর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাজ শুরু করেছেন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতিদিন কয়েক হাজার বিল অব এন্ট্রি হয়। আর রাজস্ব আদায় হয় ১৫০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকা।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতি

সাত ঘণ্টা অচল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতিতে বৃহস্পতিবার সাত ঘণ্টারও বেশি সময় প্রায় অচল ছিল দেশের সবচেয়ে বড় রাজন্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি সমঝোতার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রত্যাহার করা হলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়নের কাজ স্বাভাবিক হয়।

ঘুস দুর্নীতি ও স্পিডমানির নামে অর্থ আদায়, লাইসেন্স স্থগিত এবং হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করে এজেন্টরা। বিরতি পালনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাস্টম হাউসের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি, ঘুষের টাকা নিয়ে এক রাজস্ব কর্মকর্তা একজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে হয়রানি করেন। তার মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এজেন্টের লাইসেন্সটিও অল্প সময়ের মধ্যে স্থগিত করে দেওয়া হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তবে ওই কাস্টম কর্মকর্তা ঘুষ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অনৈতিক সুবিধা চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু যুগান্তরকে বলেন, ‘বুধবার কাস্টম হাউসের ৮-বি শাখায় একটি পেপার অ্যাসেসমেন্টের সময় প্রাইম ক্লিয়ারিং হাউসের রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন রাজস্ব কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন।

দাবি করা ঘুষের টাকা না দেওয়ায় এ দুর্ব্যবহার করা হয় বলে ওই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানান। শুধু তাই নয়, রাজস্ব কর্মকর্তা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রাইম ক্লিয়ারিং হাউসের লাইসেন্স স্থগিত করাতে সক্ষম হন। এর প্রতিবাদে আমরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করি।’

তিনি বলেন, ‘বিকালে এ নিয়ে কাস্টম হাউস কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে তারা আমাদের ৬ দাবির সব মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করি।’

বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কাস্টম হাউস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলমের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে কাস্টম ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব আদায় নির্বিঘ্ন রাখতে লাইসেন্সটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া তারা অন্য যেসব দাবি দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে মেনে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমাদের একজন রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করেছেন।

ওই কর্মকর্তা আবার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন। এ বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সুরাহা করা হবে।

বৈঠকের পর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাজ শুরু করেছেন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতিদিন কয়েক হাজার বিল অব এন্ট্রি হয়। আর রাজস্ব আদায় হয় ১৫০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন