বিধিনিষেধ লকডাউনে কমছে না সংক্রমণ
jugantor
রামেকে আরও ১২ মৃত্যু
বিধিনিষেধ লকডাউনে কমছে না সংক্রমণ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন ও বিধিনিষেধেও কমছে না করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু। বরং, অনেক স্থানেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব-এসবের তোয়াক্কা করছেন না। লকডাউন বা বিধিনিষেধ জারির পরও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন মানুষ। কেউ কেউ মাস্ক পর্যন্ত পরছেন না। মানুষকে সচেতন করতে শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মাইক হাতে রাস্তায় নামেন একজন ওসি। গোপালগঞ্জে নতুন করে চার এলাকায় সাত দিনের বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় লকডাউনের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় দুই ভারতীয়সহ ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

দিনাজপুর ও বীরগঞ্জ : জেলায় শুক্রবার করোনা শনাক্তের হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ২৪ ঘণ্টায় ১৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনাবিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. শাহ মো. এজাজ-উল হক জানান, শুক্রবার পর্যন্ত জুনের ১৮ দিনে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ১৪৭ জনের। সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে দিনাজপুর সদর উপজেলায় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা মারা যান। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১২ জনের মধ্যে ছয়জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আর পাঁচজন ভর্তি ছিলেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। অন্য একজনের নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও তিনিও করোনা ইউনিটে শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। করোনা পজিটিভ ছয়জনের মধ্যে রাজশাহীর তিনজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁর একজন করে। উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে নাটোরের একজন এবং রাজশাহী ও নওগাঁর দুজন করে রোগী ছিলেন। করোনা নেগেটিভ অবস্থায় মারা যাওয়া অন্য একজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সাতক্ষীরা : জেলাব্যাপী লকডাউনের মধ্যে ভারত থেকে বিনা পাসপোর্টে বাংলাদেশে আসার সময় তলুইগাছা ও কুশখালী সীমান্তে ১১ জনকে আটক করেছে বিজিবি। এদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক আফতাব মোল্লা ও তার শিশু সন্তান রুহিনীকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক অন্যরা হলেন-সাতক্ষীরার কলারোয়ার সুমন মিয়া, চুয়াডাঙ্গার ঝর্না বেগম, খুলনার রিজিয়া খাতুন, কৃষ্ণা শীল, ইয়াসিন সানা ও লাভলী বেগম, কিশোরগঞ্জের খাদিজা খাতুন। তাদের সঙ্গে রয়েছে নাইমা ইসলাম ও ইয়াসমিন জাহান নামের দুটি শিশু।

গোপালগঞ্জ : করোনার বিস্তার রোধে ২টি পৌরসভা ও দুটি উপজেলা সদরের ২টি ইউনিয়নে বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। এলাকাগুলো হলো-গোপালগঞ্জ পৌরসভা ও সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়ন, মুকসুদপুর পৌরসভা ও কাশিয়নী উপজেলার কাশিয়ানী ইউনিয়ন। এসব এলাকার সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকান, শপিংমল সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। রেস্তোরাঁ রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে, তবে রেস্তোরায় বসে খাওয়া যাবে না। ফুটপাতে কোনো ধরনের দোকান বসানো যাবে না।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : ‘মাস্ক পকেটে বা থুতনিতে নয়, মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন। নিজে মাস্ক পরুন, অপরকে পরতে বলুন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন।’ শুক্রবার রাস্তার মোড়ে মোড়ে গাড়ি থেকে নেমে মাইকে এভাবেই মানুষকে সচেতন করেন শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ হোসেন। তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। মানুষ সচেতন হলে লকডাউনেরও প্রয়োজন নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মানতে তেমন আগ্রহী নয়। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের চেয়ে সচেতনতার গুরুত্ব অনেক। তাই মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করার পরিকল্পনা মাথায় আসে।

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) : উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল আটজনে।

যশোর : শুক্রবার করোনায় দুজন মারা গেছেন, উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও দুজন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা শত ছাড়াল। বর্তমানে মোট মৃত্যু ১০১ জন। যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে যশোর জেলায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকাভিত্তিক লকডাউন চলছে। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। কারণ সবার আগে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা : ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ জনই সদর উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৭ জন। বৃহস্পতিবার রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন সদর হাসপাতালে ও অপরজন নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ দিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়াল।

নাটোর : নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মন্তাজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে মুনসুরি বেগম ও রতন ভর্তি হন। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার আগেই রাতে তাদের মৃত্যু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৬ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

টাঙ্গাইল ও ঘাটাইল : জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৮২ জন, কালিহাতীতে ৩৪ জন, মির্জাপুরে ৯ জন, দেলদুয়ারে ৪ জন, ধনবাড়ীতে ১৪ জন ও ভূঞাপুরে ২ জন রয়েছেন। এ নিয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৭০ জন। শুক্রবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঘাটাইল উপজেলার দীঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৬ জন।

শেরপুর : শেরপুরে চীনের তৈরি করোনাভাইারসের ১২ হাজার টিকা পৌঁছেছে। শুক্রবার জেলার সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ জানান, সারা দেশের মতো শেরপুর এ টিকা পেয়েছে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় অফিসে ৪ জেলার জন্য এসব টিকা আসে। এরপর ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যালয় থেকে টিকাগুলো শেরপুরে পাঠানো হয়।

রামেকে আরও ১২ মৃত্যু

বিধিনিষেধ লকডাউনে কমছে না সংক্রমণ

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন ও বিধিনিষেধেও কমছে না করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু। বরং, অনেক স্থানেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব-এসবের তোয়াক্কা করছেন না। লকডাউন বা বিধিনিষেধ জারির পরও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন মানুষ। কেউ কেউ মাস্ক পর্যন্ত পরছেন না। মানুষকে সচেতন করতে শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মাইক হাতে রাস্তায় নামেন একজন ওসি। গোপালগঞ্জে নতুন করে চার এলাকায় সাত দিনের বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় লকডাউনের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় দুই ভারতীয়সহ ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

দিনাজপুর ও বীরগঞ্জ : জেলায় শুক্রবার করোনা শনাক্তের হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ২৪ ঘণ্টায় ১৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনাবিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. শাহ মো. এজাজ-উল হক জানান, শুক্রবার পর্যন্ত জুনের ১৮ দিনে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ১৪৭ জনের। সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে দিনাজপুর সদর উপজেলায় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা মারা যান। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১২ জনের মধ্যে ছয়জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আর পাঁচজন ভর্তি ছিলেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। অন্য একজনের নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও তিনিও করোনা ইউনিটে শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। করোনা পজিটিভ ছয়জনের মধ্যে রাজশাহীর তিনজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁর একজন করে। উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে নাটোরের একজন এবং রাজশাহী ও নওগাঁর দুজন করে রোগী ছিলেন। করোনা নেগেটিভ অবস্থায় মারা যাওয়া অন্য একজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সাতক্ষীরা : জেলাব্যাপী লকডাউনের মধ্যে ভারত থেকে বিনা পাসপোর্টে বাংলাদেশে আসার সময় তলুইগাছা ও কুশখালী সীমান্তে ১১ জনকে আটক করেছে বিজিবি। এদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক আফতাব মোল্লা ও তার শিশু সন্তান রুহিনীকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক অন্যরা হলেন-সাতক্ষীরার কলারোয়ার সুমন মিয়া, চুয়াডাঙ্গার ঝর্না বেগম, খুলনার রিজিয়া খাতুন, কৃষ্ণা শীল, ইয়াসিন সানা ও লাভলী বেগম, কিশোরগঞ্জের খাদিজা খাতুন। তাদের সঙ্গে রয়েছে নাইমা ইসলাম ও ইয়াসমিন জাহান নামের দুটি শিশু।

গোপালগঞ্জ : করোনার বিস্তার রোধে ২টি পৌরসভা ও দুটি উপজেলা সদরের ২টি ইউনিয়নে বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। এলাকাগুলো হলো-গোপালগঞ্জ পৌরসভা ও সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়ন, মুকসুদপুর পৌরসভা ও কাশিয়নী উপজেলার কাশিয়ানী ইউনিয়ন। এসব এলাকার সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকান, শপিংমল সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। রেস্তোরাঁ রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে, তবে রেস্তোরায় বসে খাওয়া যাবে না। ফুটপাতে কোনো ধরনের দোকান বসানো যাবে না।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : ‘মাস্ক পকেটে বা থুতনিতে নয়, মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন। নিজে মাস্ক পরুন, অপরকে পরতে বলুন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন।’ শুক্রবার রাস্তার মোড়ে মোড়ে গাড়ি থেকে নেমে মাইকে এভাবেই মানুষকে সচেতন করেন শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ হোসেন। তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। মানুষ সচেতন হলে লকডাউনেরও প্রয়োজন নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মানতে তেমন আগ্রহী নয়। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের চেয়ে সচেতনতার গুরুত্ব অনেক। তাই মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করার পরিকল্পনা মাথায় আসে।

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) : উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল আটজনে।

যশোর : শুক্রবার করোনায় দুজন মারা গেছেন, উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও দুজন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা শত ছাড়াল। বর্তমানে মোট মৃত্যু ১০১ জন। যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে যশোর জেলায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকাভিত্তিক লকডাউন চলছে। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। কারণ সবার আগে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা : ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ জনই সদর উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৭ জন। বৃহস্পতিবার রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন সদর হাসপাতালে ও অপরজন নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ দিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়াল।

নাটোর : নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মন্তাজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে মুনসুরি বেগম ও রতন ভর্তি হন। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার আগেই রাতে তাদের মৃত্যু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৬ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

টাঙ্গাইল ও ঘাটাইল : জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৮২ জন, কালিহাতীতে ৩৪ জন, মির্জাপুরে ৯ জন, দেলদুয়ারে ৪ জন, ধনবাড়ীতে ১৪ জন ও ভূঞাপুরে ২ জন রয়েছেন। এ নিয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৭০ জন। শুক্রবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঘাটাইল উপজেলার দীঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৬ জন।

শেরপুর : শেরপুরে চীনের তৈরি করোনাভাইারসের ১২ হাজার টিকা পৌঁছেছে। শুক্রবার জেলার সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ জানান, সারা দেশের মতো শেরপুর এ টিকা পেয়েছে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় অফিসে ৪ জেলার জন্য এসব টিকা আসে। এরপর ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যালয় থেকে টিকাগুলো শেরপুরে পাঠানো হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন