২৪ বছর পর শেকড়ের সন্ধান পেলেন নাছিমা
jugantor
২৪ বছর পর শেকড়ের সন্ধান পেলেন নাছিমা
মনোয়ারের সহযোগিতায় মাকে খুঁজে পেল নাছিমা

  এসএম শহীদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল)  

১৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় দুই যুগ পর নিজের নাম ও মাকে ফিরে পেলেন টাঙ্গাইলের মধুপুরের হারিয়ে যাওয়া সেই শিশুটি। তার নাম নাছিমা আর মায়ের নাম হাসনা বেগম। স্বামীর নিরলস চেষ্টা এবং মনোয়ার হোসেন নামের এক তরুণের সহযোগিতায় নাছিমা ফিরে পান নিজের পরিচয়।

মনোয়ার হোসেন জানান, জীবনের সবচেয়ে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ পেয়ে স্রষ্টার কাছে হাজারো শুকরিয়া।

প্রায় দুই যুগ আগে পরিচয় হারানো ২৬ বছরের মেয়েটিকে তার স্বজনদের মুখোমুখি করে দিতে পারার যে কী আনন্দ তা আমি কাউকে বোঝাতে পারব না।

এতদিন ডলি নামে বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের নাছিমা নিজের মাকে পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, আমি মনোয়ারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

১৯৯৭ সালে বৈমাত্রেয় বড় ভাই রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় এক বাসায় গৃহকর্মী হিসাবে রেখে চলে আসেন। তবে সেখানকার বন্দি জীবনে মেয়েটির মন টিকছিল না কোনোভাবেই।

২-৪ দিন না যেতেই ছোট্ট একটি কাজের জন্য বাসার বাইরে আসতে হয় ১০ বছরের মেয়েটিকে। ক্ষণিকের মুক্ত পরিবেশে বুক ভরা নিঃশ্বাস নিতে ভালোই লাগছিল তার।

আর এই নিঃশ্বাস নিতে গিয়েই ঘিঞ্জি শহরে হারিয়ে যায় শিশু নাছিমা। এলোমেলো ঘোরাঘুরির সময় তাকে নিয়ে যান এক নারী। দুই ছেলে ও এক মেয়ের সঙ্গে ডলি নামে আদর-যত্নে বড় করেন মেয়েটিকে।

কেটে যায় আরও প্রায় ১০ বছর। লালন-পালন করা পরিবারের উদ্যোগে মাতুয়াইলেই ডলিকে বিয়ে দেওয়া হয় পরিবহণ চালক জয়পুরহাটের শফিকুল ইসলামের সঙ্গে।

দীর্ঘ ৫-৬ বছরের সংসার জীবনে নাছিমা তার স্বামীর সঙ্গে পেছনের সব কথাই শেয়ার করেন। স্ত্রীর হারানো বাবা-মা ও স্বজনের খোঁজে স্বামী শফিকুল ইসলামও ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। পরিচিত অনেকের সঙ্গেই এ নিয়ে কথা বলেন।

শফিকুল একদিন তার বাসার পাশে টাঙ্গাইলের মধুপুরের নয়ন নামে এক গারো তরুণের সঙ্গে কথা বলছিলেন, একপর্যায়ে নয়নের সঙ্গে তার ভাব জমে যায়।

শফিকুল তার স্ত্রীর ছোটবেলার স্মৃতির পাতা থেকে গ্রামের দৃশ্য বর্ণনা করছিলেন নয়নকে। এতে নয়নও কৌতূহলী হয়ে ওঠেন, নয়ন বলে ওঠে এতে মনে হচ্ছে আমাদের গ্রামের কথাই বলা হচ্ছে।

নয়ন তার বন্ধু মধুপুরের মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। মনোয়ারও এতে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। এরই মাঝে যতই তথ্য বিনিময় হচ্ছিল ততই আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলেন শফিকুল।

শেষ পর্যন্ত মনোয়ার হোসেন এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে চষে বেড়ান মধুপুর। পেয়ে যান ডলি নামের বেড়ে ওঠা মেয়েটির নাম আসলে নাছিমা। তবে ইতোমধ্যেই তার বাবা বন্দেস আলী মারা গেছেন।

গোপালপুর উপজেলার একটি গ্রামে বিয়ে হয়ে গেছে মা হাসনা বেগমের। মাও স্মৃতি হাতড়ে ফিরে পান আদরের মেয়েকে। মা-মেয়ের মিলনের এক অভাবনীয় দৃশ্য উপভোগ করেছেন মধুপুরের মানুষ।

২৪ বছর পর শেকড়ের সন্ধান পেলেন নাছিমা

মনোয়ারের সহযোগিতায় মাকে খুঁজে পেল নাছিমা
 এসএম শহীদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) 
১৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় দুই যুগ পর নিজের নাম ও মাকে ফিরে পেলেন টাঙ্গাইলের মধুপুরের হারিয়ে যাওয়া সেই শিশুটি। তার নাম নাছিমা আর মায়ের নাম হাসনা বেগম। স্বামীর নিরলস চেষ্টা এবং মনোয়ার হোসেন নামের এক তরুণের সহযোগিতায় নাছিমা ফিরে পান নিজের পরিচয়।

মনোয়ার হোসেন জানান, জীবনের সবচেয়ে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ পেয়ে স্রষ্টার কাছে হাজারো শুকরিয়া।

প্রায় দুই যুগ আগে পরিচয় হারানো ২৬ বছরের মেয়েটিকে তার স্বজনদের মুখোমুখি করে দিতে পারার যে কী আনন্দ তা আমি কাউকে বোঝাতে পারব না।

এতদিন ডলি নামে বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের নাছিমা নিজের মাকে পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, আমি মনোয়ারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

১৯৯৭ সালে বৈমাত্রেয় বড় ভাই রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় এক বাসায় গৃহকর্মী হিসাবে রেখে চলে আসেন। তবে সেখানকার বন্দি জীবনে মেয়েটির মন টিকছিল না কোনোভাবেই।

২-৪ দিন না যেতেই ছোট্ট একটি কাজের জন্য বাসার বাইরে আসতে হয় ১০ বছরের মেয়েটিকে। ক্ষণিকের মুক্ত পরিবেশে বুক ভরা নিঃশ্বাস নিতে ভালোই লাগছিল তার।

আর এই নিঃশ্বাস নিতে গিয়েই ঘিঞ্জি শহরে হারিয়ে যায় শিশু নাছিমা। এলোমেলো ঘোরাঘুরির সময় তাকে নিয়ে যান এক নারী। দুই ছেলে ও এক মেয়ের সঙ্গে ডলি নামে আদর-যত্নে বড় করেন মেয়েটিকে।

কেটে যায় আরও প্রায় ১০ বছর। লালন-পালন করা পরিবারের উদ্যোগে মাতুয়াইলেই ডলিকে বিয়ে দেওয়া হয় পরিবহণ চালক জয়পুরহাটের শফিকুল ইসলামের সঙ্গে।

দীর্ঘ ৫-৬ বছরের সংসার জীবনে নাছিমা তার স্বামীর সঙ্গে পেছনের সব কথাই শেয়ার করেন। স্ত্রীর হারানো বাবা-মা ও স্বজনের খোঁজে স্বামী শফিকুল ইসলামও ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। পরিচিত অনেকের সঙ্গেই এ নিয়ে কথা বলেন।

শফিকুল একদিন তার বাসার পাশে টাঙ্গাইলের মধুপুরের নয়ন নামে এক গারো তরুণের সঙ্গে কথা বলছিলেন, একপর্যায়ে নয়নের সঙ্গে তার ভাব জমে যায়।

শফিকুল তার স্ত্রীর ছোটবেলার স্মৃতির পাতা থেকে গ্রামের দৃশ্য বর্ণনা করছিলেন নয়নকে। এতে নয়নও কৌতূহলী হয়ে ওঠেন, নয়ন বলে ওঠে এতে মনে হচ্ছে আমাদের গ্রামের কথাই বলা হচ্ছে।

নয়ন তার বন্ধু মধুপুরের মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। মনোয়ারও এতে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। এরই মাঝে যতই তথ্য বিনিময় হচ্ছিল ততই আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলেন শফিকুল।

শেষ পর্যন্ত মনোয়ার হোসেন এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে চষে বেড়ান মধুপুর। পেয়ে যান ডলি নামের বেড়ে ওঠা মেয়েটির নাম আসলে নাছিমা। তবে ইতোমধ্যেই তার বাবা বন্দেস আলী মারা গেছেন।

গোপালপুর উপজেলার একটি গ্রামে বিয়ে হয়ে গেছে মা হাসনা বেগমের। মাও স্মৃতি হাতড়ে ফিরে পান আদরের মেয়েকে। মা-মেয়ের মিলনের এক অভাবনীয় দৃশ্য উপভোগ করেছেন মধুপুরের মানুষ।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন